আমার ঈদের দিন।
আমি ছোটবেলা থেকেই দুই ঈদ বেশ মজা করে কাটাই। ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই আমার ভেতরে এক ধরনের আনন্দ কাজ করে। যদিও বয়স বাড়ার সাথে সাথে সেই আনন্দের পরিমাণ অনেকটাই কমে এসেছে। এখন অবশ্য আনন্দের থেকে নিজের দায়িত্ব-কর্তব্য নিয়ে বেশি চিন্তা করতে হয়। তবে সব কিছুর পরেও সময়টা নিজের মতো করে উপভোগ করার চেষ্টা করি। তবে এবারের ঈদটা ভালোভাবে উদযাপন করতে পারিনি। কারণ ঈদের দুই-তিন দিন আগে থেকেই আমাদের শহরে ক্রমাগত বৃষ্টি হচ্ছিলো। ঈদের দিনে মনে করেছিলাম হয়তো বৃষ্টি কিছুটা কম হবে। কিন্তু ঈদের দিনে প্রায় সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে।
অন্যান্য কুরবানী ঈদের মতো এবারও আমি সকালে উঠে গোসল করে ঈদের নামাজ পড়তে গিয়েছিলাম। প্রথমে পরিকল্পনা করেছিলাম নামাজ পড়তে আমাদের বাসা থেকে কিছুটা দূরে একটি মসজিদ আছে সেখানে বড় ঈদের জামাত হয়। সেখানে যাবো ঈদের নামাজ পড়তে। কিন্তু আকাশের অবস্থা দেখে পরে পরিকল্পনা পরিবর্তন করলাম। ঠিক করলাম ঈদের নামাজটা আমাদের এলাকার মসজিদেই পড়বো। পরবর্তীতে অবশ্য আমি এই পরিকল্পনা পরিবর্তন করার জন্য নিজের উপর অনেক খুশি ছিলাম। কারণ ঈদের জামাতের সময় বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিলো। যদি খোলা জায়গায় নামাজ পড়তে যেতাম তাহলে বৃষ্টিতে ভিজে খুবই দুর্ভোগের শিকার হতে হতো।
যাই হোক নামাজ পড়া শেষ করে বাসায় ফিরে খেয়েদেয়ে একটা ঘুম দিলাম। কারণ আগের রাতে আমি খুব একটা ঘুমাতে পারিনি। যার ফলে আমার প্রচন্ড ঘুম আসছিল। আমাদের বাসায় দীর্ঘদিন থেকেই ঈদের দিনের সকালের মেনু থাকে খিচুড়ি আর ইলিশ মাছ ভাজা বা ভুনা। ঐদিন আমার স্ত্রী খিচুড়ির সাথে ইলিশ মাছ ভুনা রান্না করেছিলো। বৃষ্টির ভিতর এর থেকে ভালো খাবার আর হতে পারে না। নামাজ পড়ে ফিরে এমন মজাদার খাবার দেখে ভর পেট খাওয়া দাওয়া করলাম। যাইহোক খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আমি ভালো একটা ঘুম দিলাম। প্রায় দু আড়াই ঘন্টার টানা ঘুম। ঘুম থেকে উঠে আমি বাসাতেই ছিলাম। এবার আমরা কোরবানি দিয়েছিলাম আমার মামাদের সাথে। মামাদের সাথে যখনই কুরবানী দিই তখন তারা সমস্ত কিছু প্রসেস করে মাংসটা দুপুরের কিছুটা পরে পাঠিয়ে দেয়।
কিন্তু এবার মামাতো ভাই ফোন দিয়ে জানালো মাংস আমাদের গিয়ে আনতে হবে। এই বৃষ্টির ভেতর এতটা দূরে যেতে হবে মাংস আনতে চিন্তা করেই মেজাজটা খারাপ হচ্ছিল। যেহেতু মাংস আনতে যেতেই হবে তাই আমি আমার খালাতো ভাইকে সাথে নিয়ে একটি অটো রিজার্ভ করে নানিবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। আমি চিন্তা করেছিলাম যেহেতু মামাতো ভাই ফোন দিয়ে মাংস আনতে বলেছে। তাই মনে হয় তাদের সমস্ত কাজ কমপ্লিট হয়ে গিয়েছে। কিন্তু নানি বাড়ি পৌঁছে দেখি সেখানে মাংস কাটাকুটি এখনো শেষ হয়নি। সবকিছু ঠিকঠাক করতে আরো প্রায় ঘন্টা খানিক সময় লাগবে। এতে করে মেজাজটা আরো খানিকটা খারাপ হলো। যাইহোক শেষ পর্যন্ত বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে মাংস নিয়ে বাসায় চলে আসলাম।
মাংস বাসায় আনার পরে সমস্ত কিছু ভাগযোগ করে তারপর একটু বিশ্রাম নিতে লাগলাম। পরিকল্পনা করলাম সন্ধ্যার পরে পরিবার নিয়ে বাইরে ঘুরতে যাব যদি আবহাওয়া ভালো থাকে। সৃষ্টিকর্তার অপার মহিমায় সন্ধ্যার পরে আবহাওয়া বেশ ভালই ছিলো। তাই পরিবার নিয়ে রিকশা করে শহরের ভেতর ঘুরতে বের হয়েছিলাম। এই কাজটি আমরা সাধারণত প্রতি ঈদেই করে থাকি। আমার পরিবার ঈদের দিন ঘুরতে পছন্দ করে। যে সমস্ত জায়গায় কিছুটা আলোকসজ্জা করা হয়েছে এবং যেখানে মানুষজন জড়ো হয় সেই সমস্ত জায়গায় রিক্সা নিয়ে ঘুরছিলাম। রাতে এমনিতেই রিক্সায় করে ঘুরতে বেশ মজা লাগে। তারপর পুরো শহরে একটা ঈদের আমেজ বিরাজ করছিল। তাই ঘোরাফেরা টা আরো উপভোগ্য হয়ে উঠেছিলো। ঘন্টাখানেক এভাবে ঘোরাফেরার পর আমরা বাসায় চলে এলাম। আমার মাথায় তখন টেনশন বাসায় ফিরে হ্যাংআউটে জয়েন করতে হবে। যদিও তখন আমার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি ছিলো। বাসায় ফিরে আমি সেই কাজটি শেষ করে তারপর হ্যাংআউটে জয়েন করলাম। এভাবেই আমার ঈদের দিনটি কেটেছে।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
| স্থান | ফরিদপুর |
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
আশা করি ভাইয়া ভালো আছেন? ঈদের দিনে ব্যস্ততার মাঝে খুব সুন্দর মুহূর্ত অতিবাহিত করেছেন। নামাজ পড়ে এসে খিচুড়ি দিয়ে ইলিশ মাছ খেয়েছেন বাহ খুবই দুর্দান্ত। এই ধরনের মজাদার খাবার খাওয়ার পর ঘুম তো আসবেই ভাইয়া। ঈদের দিন রাত্রে রিকশায় ঘুরে বাইরের পরিবেশ চমৎকার উপভোগ করেছেন। ঈদের দিন কাটানো মুহূর্তগুলো আমাদের মাঝে সুন্দর করে উপস্থাপন করার জন্য আপনাকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
ভাই আপনি তো অনেক ব্যস্ততার মাঝে ঈদের এই দিনটি কাটিয়েছেন। আসলে ছোটবেলার আনন্দ কোন মুহূর্তগুলো বড় হলে আরো বেশি মনে পড়ে। মনে হয় যেনো ছোট ছিলাম অনেক ভালো ছিলাম। সত্যি বলেছেন ভাই বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি আর ইলিশ মাছ ভুনা এর থেকে আর ভালো খাবার হতেই পারে না। ঈদের দিনের অনুভূতি গুলো আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
ঈদের দিন সকাল বেলায় খিচুড়ি আর ইলিশ মাছ ভাজা খাওয়ার মজাই আলাদা। আর যদি বৃষ্টি ভেজা দিন হয় তাহলে তো কথাই নেই। যাইহোক ভাইয়া আসলে কোরবানির মাংস প্রসেস করা এবং সবকিছু ঠিকঠাক করা অনেক কঠিন। আপনাকে অনেক সময় দিতে হয়েছে বোঝাই যাচ্ছে ভাইয়া। সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়েছে এবার বৃষ্টি ছিলো। তাইতো এতটা পথ গিয়ে মাংস আনতে হয়েছে। আর রাতের বেলায় রিক্সায় ঘুরতে অনেক ভালো লাগে। ঈদের দিনের কাটানো মুহূর্তগুলো আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন এজন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি ভাইয়া।
ঈদের দিন আমাদের এখানেও অনেক বৃষ্টি হয়েছে প্রায় সারাদিনই। তাই এবারের ঈদটা ভালো কাটেনি। যাইহোক নামাজ শেষ করে খাওয়া দাওয়া করার পর বেশ ভালোই ঘুমিয়ে ছিলেন। তবে এতদূর থেকে মাংস আনতে যাওয়াটা আসলেই খুব ঝামেলার কাজ। অনেক সময় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যখন কিছু করারও থাকে না। রাতে পরিবার নিয়ে রিকশা দিয়ে ঘুরাঘুরি করেছেন জেনে খুব ভালো লাগলো। সবমিলিয়ে পোস্টটি পড়ে দারুণ লেগেছে ভাই। যাইহোক ঈদের দিনের অনুভূতি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।