অসময়ে অপরিপক্ক ফল কেনার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তুলি।
কয়েকদিন ধরে বাজারে যাওয়ার সময় খেয়াল করে দেখলাম বাজারে কিছু কিছু আম উঠতে শুরু করেছে। কিন্তু আমি যতদূর জানি এখনো বাংলাদেশে কোন আম স্বাভাবিকভাবে পাকার সময় হয়নি। মনে তখন প্রশ্ন এলো তাহলে এই আমগুলো এলো কোত্থেকে? যদিও আম বিক্রেতাদের কাছে জিজ্ঞেস করলে তারা একেক জন একেক রকম উত্তর দিলো। কেউ বলল এগুলো ইন্ডিয়ান আম ইন্ডিয়া থেকে এসেছে। আবার কেউ বলল এগুলো গোপাল ভোগ আম। তাদের কথাবার্তা শুনে বুঝতে পারছিলাম কোথাও একটা সমস্যা আছে।
আমি আম খেতে খুবই পছন্দ করি। আমার সবচাইতে প্রিয় ফল। সেজন্য মাঝে মাঝে ইচ্ছা হচ্ছিল কিছু আম কিনে বাড়িতে নিয়ে যায়। কিন্তু পরক্ষণে আমার অবচেতন মন বাধা দিচ্ছিলো। কারণ আমি জানি এই আমগুলো সময়ের আগেই বাগান থেকে পারা হয়েছে। তারপর বিভিন্ন রকম কেমিক্যাল ব্যবহার করে পাকানো হয়েছে। যাইহোক এভাবেই আমি বিভিন্ন রকম চিন্তা ভাবনা করে আম না কিনেই কয়েকদিন বাড়িতে ফিরছিলাম। তবে আজ সকালে আর আম কেনার লোভ সংবরণ করতে পারিনি। কারণ আজকের আমগুলো দেখে মনে হচ্ছিল আমে পাক ধরেছে। আম বিক্রেতাদের কাছে জিজ্ঞেস করলে তারা বলল ভাই আম নিয়ে যান। মিষ্টি হবে ১০০% গ্যারান্টি। আম খারাপ হলে আমাকে এসে জানাবেন।
তার কথার উপর ভরসা করে আমি অল্প কিছু আম কিনেছি। অল্প আম কেনার কারণ হচ্ছে কয়েক বছর আগে আমি এরকম অসময়ে একবারে বেশ কিছু আম কিনেছিলাম। পরে সেই আমগুলো আর খেতে পারিনি। এই কারণে এখন বাজার থেকে প্রথম দিকে আম কিনতে গেলে পরিমাণে কম কিনি। যদি ভাল হয় তাহলে পরবর্তীতে বেশি করে আম কিনি। বাজার থেকে ফিরে আমগুলো ঘরেই রেখেছিলাম। হঠাৎ করে দুপুরের দিকে ফেসবুকের একটি পোস্টে চোখ আটকে গেল। সেখানে খেয়াল করে দেখলাম এবার কোন আম কোন সময় পাকবে সে বিষয়ে মোটামুটি বিস্তারিত লেখা আছে। সেই পোস্টটি পড়ার পর বুঝতে পারলাম আমার এখন আম কেনা ঠিক হয়নি। কারণ আমাকে যে আম দিয়েছে এই আম এখনো মানুষের খাওয়ার উপযুক্ত হয়নি।
আমি মনে মনে নিজেকে গালাগাল দিতে লাগলাম। কারণ আম খাওয়ার লোভে আমি অসময়ে অপরিপক্ক আম কিনে ফেলেছি। এজন্য নিজের উপরই রাগ হচ্ছিল। চিন্তা করে দেখলাম আসলে কিছু কিছু সমস্যার জন্য আমরা ক্রেতারাও দায়ী। যেমন কোন ক্রেতা যদি নির্দিষ্ট সময়ের আগে আম না কেনে। তাহলে কিন্তু এই বিক্রেতা গুলো এই ধরনের কাঁচা আম সংগ্রহ করে বিক্রি করার চেষ্টা করবে না। আমরা ক্রেতারা এই ধরনের আম কিনি বলেই তারা বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে আসে। ফেসবুকের আরেকটি পোস্টে দেখলাম একজন ক্রেতা ভালো একটি হিসাব দিয়েছে। তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন দেশে এখন কাঁচা আম বিক্রি হচ্ছে উচ্চ মূল্যে। কিন্তু যখন গাছের আমগুলো পেকে যাবে তখন এই দামটা অটোমেটিক কমে যাবে। সেই হিসেবে কাঁচা আম বিক্রি করাই তাদের জন্য লাভজনক।
প্রতিবছর পত্রপত্রিকা এবং টেলিভিশনে জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য অসময়ে ফল কিনতে সকলকে নিরুৎসাহিত করা হয়। কিন্তু আমরা সেই সমস্ত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অসময়ে আম কিনি। অবশ্য গতবছর আমি নির্ধারিত সময়ের আগে আম কিনি নাই। যাই হোক আজকে যে আম কিনে এনেছিলাম বিকালের দিকে আম কাটার পর বুঝতে পারলাম। এই আম কেমিক্যাল ব্যবহার করে পাকানো হয়েছে। কারণ সেই আমে সাদ বা গন্ধ কোনটাই ছিল না। আমের এই অবস্থা দেখে প্রতিজ্ঞা করেছি এরপরে আর কখনোই অসময়ে আম বা অন্য কোন ফল কিনব না। আর আমার পরিচিত যারা আছে তাদেরকেও অসময়ে অপরিপক্ক ফল কিনতে এর নিরুৎসাহিত করব। আমরা সকলে যদি আমাদের পরিচিত সবাইকে অসময়ে অপরিপক্ক ফল কিন্তু নিরুৎসাহিত করি। তাহলে একসময় দেখা যাবে বিক্রেতারাও আর এই অপরিপক্ক ফল বিক্রি করার চেষ্টা করবে না। আর এই সচেতনতা বাড়ানোর জন্য আমরা সকলে বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলো ব্যবহার করতে পারি। একমাত্র জনসচেতনতাই পারে আমাদেরকে এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
জি এই আম গুলো পরিপক্ক না ৷ কিছু অসাধু ব্যক্তি এসব আম পেরে মেডিসিনের মাধ্যমে পেকে নিয়েছে ৷ যা এখন খাওয়া উচিত নয় ৷ তারপরেও তো বাঙালি বোঝেনা ৷
খুব সুন্দর বিষয় নিয়ে লিখেছেন ৷ অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই
ভাইয়া, আপনার অপরিপক্ক আম কেনার অভিজ্ঞতা শুনে সত্যিই খুব ভালো লাগলো। আপনার পোস্ট পড়ে কেমিক্যাল যুক্ত অপরিপক্ক আম খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখার জন্য উৎসাহিত হলাম। সত্যি ভাইয়া এই অপরিপক্ক আমগুলো বাজারে দেখলেই কিনে খেতে ইচ্ছা করে। কিন্তু এই আম আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কখনোই উপকারী নয়। বরং স্বাস্থ্যের ভীষণ ক্ষতি করে। ভাইয়া, অসময়ে অপরিপক্ক ফল কেনার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তোলার বিষয়ে, খুব সুন্দর পোস্ট উপস্থাপন করেছেন, এজন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
ভাইয়া, আমাদের দেশের অসাধু ব্যবসায়ীরা অসময়ে অপরিপক্ক আমগুলো বিভিন্ন ধরনের ওষুধ মিশিয়ে পাকিয়ে বাজারে বিক্রয় করে। কিন্তু আমাদের সকলের মনে রাখা উচিত, গ্রীষ্ম ঋতুর ফলগুলো পাকার উপযুক্ত সময় হলো জৈষ্ঠ মাস। তবে জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুতেই যে পাকা ফল পাওয়া যায় এমনটা না। বিশেষ করে জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি থেকে গ্রীষ্ম ঋতুর ফলগুলো পাকতে শুরু করে। তাই এই বিষয়ে আমাদের সকলকেই আরো বেশি সচেতন হওয়া উচিত।