অনেকদিন পর ফেরদৌসের সাথে ঘুরতে যাওয়া সাথে হালকা খাওয়া-দাওয়া।
গত কয়েকদিন আগে ফেরদৌস ফরিদপুরে ফিরেছে। যেদিন আমি বন্ধু রাফসানের সাথে রাজবাড়ী বেড়াতে গিয়েছিলাম সেদিনই ফেরদৌস ফরিদপুর এসেছে। ফেরদৌস আসার পরে প্রথম দুদিন আর বাসা থেকে বের হওয়া হয়নি। ফেরদৌস নিজেও কাজে ব্যস্ত ছিলো। আর এদিকে আমার শরীর কিছুটা দুর্বল লাগছিল এজন্য বাসাতেই ছিলাম। দুদিন পরে ফেরদৌসের সাথে যোগাযোগ করে দুজন বিকালে বের হলাম। অনেকদিন পর একসাথে ঘুরতে বের হয়ে বেশ ভালো লাগছিলো। দুজনে ঠিক করেছিলাম বেলা পাঁচটার দিকে এক জায়গায় মিলিত হবো।
কিন্তু ফেরদৌস আসতে কিছুটা লেট করেছিলো। যার ফলে আমি নামাজ পড়তে মসজিদে গিয়েছিলাম। মসজিদ থেকে বের হয়ে দেখি ফেরদৌস আমাকে ফোন দিয়েছিলো। তারপর ওর সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারলাম ও ইউসুফ ভাইয়ের চায়ের দোকানে আছে (যেখানে আমরা সব সময় সাধারণত আড্ডা দেই)। আমি যে মসজিদে নামাজ পড়েছিলাম সেখান থেকে ইউসুফ ভাইয়ের দোকানের দূরত্ব খুব একটা বেশি না। যার ফলে নামাজ শেষ করে কয়েক মিনিটে সেখানে পৌঁছে গেলাম। সেখানে পৌঁছে দুজন চিন্তা করছিলাম কোথায় যাওয়া যায়? সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিলাম রাফসানের এলাকার দিকে যাবো।
সিদ্ধান্ত নেয়ার সাথে সাথেই আমি ফেরদৌসের মোটরসাইকেলে উঠে বসলাম। তারপর দুই বন্ধু গল্প করতে করতে রাফসানের এলাকার দিকে যাচ্ছিলাম। কিছুদূর যাওয়ার পরে হঠাৎ করে ফেরদৌস বলল সেই সিঙ্গারা খেতে যাবো কিনা? আমারও কয়দিন ধরে মনে হচ্ছিল ফেরদৌস আসলে আমাদের পছন্দের একটা সিঙ্গারার দোকান আছে যেটা আমাদের শহর থেকে বেশ কিছুটা দূরে সেখানে যাবো সিঙ্গারা খেতে। তাই ফেরদৌসের এই প্রস্তাবে আর দ্বিমত করিনি। সাথে সাথেই আমি রাজি হয়ে গিয়েছিলাম। এরপরই ফেরদৌস মোটরসাইকেলের স্পিড কিছুটা বাড়ালো। কারণ সেই সিঙ্গারার দোকানটি আমাদের শহর থেকে বেশ কিছুটা দূরে।
এরপরে দুই বন্ধু রাফসানের এলাকায় না থেমে সরাসরি সেই সিঙ্গারের দোকানের দিকে যেতে লাগলাম আর নানা বিষয় নিয়ে গল্প করতে লাগলাম। এভাবে চলতে চলতে এক সময় সেই সিঙ্গারার দোকানে পৌঁছলাম। একটা পর্যায়ে আমার মনে হচ্ছিল পথ যেন আর শেষ হচ্ছে না। যাই হোক সেখানে দোকানে পৌঁছে দেখতে পেলাম অনেক সিঙ্গারা ভেজে রাখা আছে। আমরা দুজন দোকানে ঢুকে হাত ধুয়ে টেবিলে বসে সিঙ্গারার অর্ডার দিলাম। আমাদের সামনে এক প্লেট সিঙ্গারা নিয়ে এলো। সাথে ছিল পেঁয়াজ, বিট লবণ আর কাঁচামরিচ। আমরা দুজন সেই সিঙ্গারা গুলো অতি অল্প সময়ে শেষ করে ফেললাম। পরবর্তীতে আমি বললাম আরো কিছু সিঙ্গারা দিতে। পরবর্তীতে তারা আরো আটটা সিঙ্গারা দিলো। একবার চিন্তা করছিলাম এতগুলো সিঙ্গারা খাওয়া ঠিক হবে কিনা? পরবর্তীতে ভাবলাম দেখা যাক খেতে পারি কিনা। এই চিন্তা মাথায় থাকতে থাকতেই সিঙ্গারা দুজন শেষ করে ফেললাম।
আসলে এই দোকানের সিঙ্গারাটা খেতে মজা হলেও সাইজে একেবারেই ছোট। যার ফলে এখানে এলে সিঙ্গারাটা সংখ্যায় একটু বেশি খাওয়া হয়। যাইহোক খাওয়া-দাওয়া শেষ হতে বিল মিটিয়ে দুজন সেই দোকান থেকে বের হয়ে এলাম। তারপর বাড়ির দিকে ফিরতে লাগলাম। পথের মধ্যে যখন রাফসানের এলাকা এলো তখন ফেরদৌস জিজ্ঞেস করল যে থামবো কিনা। তখন আমি ফেরদৌস কে বললাম আজ আমার বেশ কিছু কাজ আছে। আজকে আর থামার প্রয়োজন নেই। অন্য আরেকদিন আসবো। তারপর দুজন সরাসরি এলাকার দিকে রওনা দিলাম।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
| স্থান | মৌলভিরচর |
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
যদি সময়-সুযোগ আর ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়, তাহলে ইচ্ছে আপনাদের দুজনের সঙ্গে দেখা করার। দুজনের জন্যই শুভেচ্ছা রইল। অমলিন থাকুক আপনাদের বন্ধুত্ব। 🙏
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
অনেক দিন পর পোস্টের টাইটেলে ফেরদৌস ভাইকে পেলাম।আর পোস্টের ভেতর গিয়ে সেই মজার সিঙ্গারা দেখে এই রাতে লোভ লেগে গেলো।সাইজে ছোট হলেও সিঙ্গারা গুলো যে ভীষন মজার তা দেখেই বুঝতে পারছি।তাইতো এতো ক্ষুদ্র সিঙ্গারা ৮/১০ টা খাওয়া কোন ব্যাপারই নয়।খুব ভালো লাগলো আপনাদের দুজনের গল্প পড়ে। বন্ধুত্ব অটুট থাকুক সব সময় এই কামনাই করি।ধন্যবাদ ভাইয়া অনুভূতি গুলো শেয়ার করার জন্য।
সিঙ্গারা খুবই লোভনীয় একটি খাবার। সেই সিঙ্গারা খাওয়ার প্রস্তাব পেয়ে না করা যায় না। ফেরদৌস ভাইয়ার মটর সাইকেল থাকার কারনে যখন যেখানে ইচ্ছা যেতে পারেন। আমার জামাল পুরের এক বন্ধ ছিল। সিঙ্গারা পেলে আর কিছু লাগতো না। যার ফলে ওর নাম দিয়েছিলাম সিঙ্গারা শান্ত,হা হা হা। ধন্যবাদ ভাইয়া।