পরিবারের সাথে হঠাৎ পছন্দের খাবার খাওয়ার অনুভূতি।
আমার পরিবারের সবাই বাইরের খাবার খেতে বেশ পছন্দ করে। তবে গত বেশ কয়েকদিন হল বাইরে তেমন একটা যাওয়া হয়নি খাওয়া দাওয়া করার জন্য। যাও একটু ঘুরতে যাওয়া হয়েছে সেখানে হালকা খাওয়া-দাওয়া হয়েছে। আর আমার মেয়ে তো বাইরের খাবার খাওয়ার জন্য রীতিমতো পাগল। তার রীতিমতো বাইরের খাবার খাওয়া একটা নেশা হয়ে গিয়েছে। যদিও এখন চেষ্টা করছি বাইরের খাবার কম খাওয়াতে। কারন একটা জিনিস খেয়াল করে দেখেছি। বাইরের খাবার অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে তার বাড়ির খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে গিয়েছে। আসলে বাইরের খাবার খেতে যতই মুখোরোচক হোক না কেন সেগুলোর ভেতর নানা রকম ক্ষতি করার উপাদান দেয়া থাকে। তাছাড়া সেগুলো তৈরি করার সময় নানারকম নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়।
ধরুন আমরা বাসায় রান্নার জন্য চেষ্টা করি সবচাইতে ভালো মানের তেল ব্যবহার করতে। কিন্তু হোটেল রেস্টুরেন্টের খাবার গুলো যে তেলে ভাজা হয় সেটা স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর। তাছাড়া টেস্টিং সল্ট এবং নিম্নমানের সস সহ আরো নানারকম নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয় রেস্টুরেন্টের খাবার তৈরিতে। এই সব কিছু জানার পরেও আমরা রেস্টুরেন্টের খাবার খাওয়া পুরোপুরি বাদ দিতে পারি না। তাছাড়া একটা সময় মানুষ বিকালের নাস্তা বাসায় তৈরি করতো। কিন্তু এখন আর সেই চল নেই। এখন মানুষজন বিকালে নাস্তার জন্য হোটেল রেস্টুরেন্ট এর উপর নির্ভরশীল হয়ে গিয়েছে।
তার পরেও এখনো আমার বাসায় মাঝে মাঝে আমার স্ত্রী কিছু নাস্তা তৈরি করে। তো বেশ কিছুদিন ধরে ঘরের খাবার খেতে খেতে কিছুটা বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। তাই কয়েকদিন আগে বিকেল বেলায় চিন্তা করছিলাম বাইরের খাবার খেতে পারলে মন্দ হতো না। কিন্তু গরমের ভেতর বাইরে যেতে ইচ্ছা করছিল না। অবশ্য এখন খাবার খাওয়ার জন্য বাইরে যাওয়া খুব একটা জরুরি না। কারণ ফুডপান্ডা সহ নানা রকম ফুড ডেলিভারী সিস্টেম চালু রয়েছে সারা দেশব্যাপী। আমি প্রথমে চিন্তা করতে লাগলাম কি খাবার অর্ডার দেয়া যায়। এর ভেতরে আমার স্ত্রী মুরগির মাংস ভিজিয়েছিলো বাসায় কিছু করার জন্য। তখন আমি তার সাথে পরামর্শ করে ঠিক করলাম সে মুরগির মাংস দিয়ে চিকেন ফ্রাই আর চাইনিজ চিকেন কারি রান্না করবে। আর আমি ফুড পান্ডায় ফ্রাইড রাইসের অর্ডার দেবো।
আমরা সবাই চাইনিজ আইটেমগুলো খুবই পছন্দ করি। বিশেষ করে ফ্রাইড রাইসের সঙ্গে বিভিন্ন রকম চাইনিজ কারি হলে আমাদের খাওয়াটা একেবারে জমে যায়। আর আমার মেয়ে তো রীতিমতো এগুলো খাওয়ার জন্য পাগল থাকে। যাই হোক আমি ফুডপান্ডায় ফ্রাইড রাইসের অর্ডার দিয়ে দিলাম। কিন্তু অর্ডার যখন দিয়েছি ততক্ষণে সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে। আমি চিন্তা করছিলাম নামাজের আগে খাবার এসে পৌছাবে কিনা। তারপর আমি আমার স্ত্রীর সাথে কথা বলে নামাজ পড়তে চলে গেলাম। নামাজ পড়ে এসে দেখি খাবার প্রায় তৈরি হয়ে গিয়েছে। যদিও সন্ধ্যার সময় ভারী খাবার খেতে খুব একটা ভালো লাগেনা। তার পরেও বেশ কিছুদিন পর পছন্দের খাবার পেয়ে আমরা সবাই বেশ তৃপ্তি সহকারে খেলাম। আমরা সাধারণত রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে দুপুরের দিকে যাই। সব সময় চেষ্টা করি দুপুরের খাবারটা রেস্টুরেন্ট থেকে খাওয়ার জন্য। তবে আজ একটু অন্য সময় খেয়ে বেশ ভালোই লাগলো। যদি খাওয়া দাওয়ার পর মনে হচ্ছিল খাওয়াটা একটু বেশি হয়ে গিয়েছে। খাওয়া-দাওয়া শেষ হলে কোল্ড ড্রিংসের ক্লাসে চুমুক দিতে দিতে পরিকল্পনা করছিলাম কয়েকদিন পরে আবার এমন একটা খাবারের আয়োজন করতে হবে। এভাবেই সেদিন পরিকল্পনা ছাড়াই ভালো এক দফা খাওয়া-দাওয়া হয়ে গেলো। মাঝে মাঝে ব্যতিক্রমধর্মী কোন কিছু হলে সেটা ভালই লাগে। সেদিনের খাওয়া-দাওয়া টা তেমনই ছিলো।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
| স্থান | ফরিদপুর |
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
বাইরের খাবারগুলো ভীষণ মুখরোচক হয়। তাই খেতে ভীষণ ভালো লাগে। তবে না খেতে পারলেই ভালো।কিন্তু বাইরে বের হলে কিছু না খেয়ে পারা যায় না।সেদিন বাসায় অর্ডার করে চাইনিজ খাবার খেয়েছেন। চাইনিজ খাবার গুলো আমারও ভীষণ পছন্দ। তবে নিজের হাতে করে ই খাওয়া হয়।পরিবারের সবাই বাইরের খাবার খেতে পছন্দ করলেও আমি খাই না।আপনারা তো সবাই মজা করে সেদিন বাসায় বসে খেয়েছেন।সুন্দর মূহুর্তগুলো শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে। অনেক অভিনন্দন রইলো আপনার আর আপনার পরিবারের উপর।
পরিবারের সাথে যে কোন খাবার খেতেই খুব ভালো লাগে, আর সে যদি হয় পছন্দের খাবার তাহলে তো ভালো লাগার আর সীমা থাকে না। আপনি ঠিকই বলেছেন ভাইয়া, রেস্টুরেন্টের খাবারগুলো খুবই মুখরোচক হলেও তেমন একটা স্বাস্থ্যসম্মত হয় না। বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকারক উপাদান দিয়ে খাবারগুলো তৈরি করে। যদিও বা আমরা এসব কিছুই জানি তবুও আমাদের রেস্টুরেন্টের খাবারের প্রতি আলাদা দুর্বলতা কাজ করে। আর সেজন্যই তো আপনার মেয়েও বাইরের খাবারের জন্য পাগল। শুধু ভাইয়া আপনার মেয়ে নয়, বরং ছোট ছোট সোনা মনিরা এখন চাইনিজ ও ফাস্টফুড খাবারের প্রতি খুবই আকৃষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যাইহোক ভাইয়া, পরিবারের সাথে হঠাৎ পছন্দের খাবার খাওয়ার অনুভূতি খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
কি করবো বলেন ভাইয়া জীববে তো মানায় না। এইমাত্র খেয়ে আসলাম মুখরচোক খাবার। বাইরে গেলে এসব খাবার না খেয়ে আর ঘরে ফিরতে মনে চায় না। আপনারা দেখছি ঘরেই চাইনিজের আয়োজন করেছেন। বেশ ভালো একটি উদ্যোগ। রাইসটা বাসায় তৈরি করলেও ভালো হতো। তবে চিকেন এর রেসিপি দুটো কিন্তু বেশ সুন্দর লাগছে এবং ইয়ামি হয়েছে বুঝাই যাচ্ছে।
আমি ঠিকই বলেছেন দাদা বাইরের খাবার-দাবার আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর কিন্তু তার পরেও আমরা এটি কমাতে পারি না। কারণ একটাই বাড়ির এক ঘেয়েমি খাবার খেতে খেতে আমরা বিরক্ত হয়ে যাই তার জন্য আমাদের বাইরে খেতে খুব ইচ্ছা করে। প্রিয় মানুষদের সাথে মজাদার পছন্দের খাবারগুলো খেতে খুবই দারুণ লাগে। দেখে বোঝাই যাচ্ছে আপনারা খুব ভালো একটি সময় কাটিয়েছেন। ধন্যবাদ দাদা আপনাকে সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।