সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর জামের জুস।
ফল হচ্ছে একমাত্র খাবার যেটা খেতে সুস্বাদু হলেও এতে কোন ক্ষতি নেই। অবশ্য আজকালকার ব্যবসায়ীরা ফল পাকানোর জন্য বা সংরক্ষণ করার জন্য যে কেমিক্যাল ব্যবহার করে সেটা অনেক ক্ষতিকর। যাইহোক আমি যখন যেই ফলটা সিজনে বাজারে আসে তখন সে ফলটা খাওয়ার চেষ্টা করি। তবে মাঝে মাঝে অফ সিজনেও ফলগুলি খেতে ইচ্ছা করে। কিন্তু সেটা ইচ্ছা করলেই তো আর খাওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া অফ সিজনের কোন ফল বাজার থেকে কিনে না খাওয়াই উত্তম। কারণ অফসিজনের ফলগুলি প্রচুর পরিমাণ ক্ষতিকর কেমিক্যাল দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। যার ফলে এই ফলগুলো খাওয়া মানে টাকা দিয়ে বিষ কিনে খাওয়া।
তবে অফসিজনে ফল খেতে চাইলে সেটারও ব্যবস্থা করা সম্ভব। শুধু মাথায় একটু বুদ্ধি খাটালেই সেটা সম্ভব। এবার যেমন আমরা কিছু ফল ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করেছি। তার ভেতরে রয়েছে জাম, কাঁচা আম, পাকা আম আর ছিলো কিছু লিচু। এগুলো রেখেছিলাম যাতে অফসিজনে কখনো ফল খেতে ইচ্ছা হলে সেগুলো খাওয়া যায়। তবে সেগুলোর স্বাদ অবশ্যই সিজনের টাটকা ফলের মতো। হবে না। ফ্রিজে এই ফলগুলো থাকার কারণে এখন সেগুলো খেতে ইচ্ছা হলে একটু বের করে খেতে পারছি। যেহেতু ফ্রিজে জাম রয়েছে তাই কয়েকদিন থেকে চিন্তা করছিলাম জামের জুস খাবো। আমার স্ত্রীকে কিছুদিন ধরে বলছিলাম জামের জুস বানাতে। কিন্তু বিভিন্ন সমস্যার কারণে আর বানানো হয়ে উঠছিল না। অবশেষে গতকাল বাসায় জামের জুস বানানো হয়েছে। আজকে আমি আপনাদের সাথে সেই জামের জুসের রেসিপি শেয়ার করবো। তাহলে চলুন আর কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক।
জামের জুস
উপকরণ সমূহ
| উপকরণ | পরিমান |
|---|---|
| জাম | ১ কাপ |
| চিনি | ২ টেবিল চামচ |
| লবন | ১ চা চামচ |
| বিটলবণ | ১/২ চা চামচ |
| কাঁচা মরিচ | ১ টা |
| বরফ | ৪/৫ টুকরো |
| পানি | ২ কাপ |
প্রস্তুত প্রণালী
প্রথমে জামগুলো হাত দিয়ে চটকে বিচিগুলো আলাদা করে নেই।
বিচি ছাড়ানো জামগুলো এখন ব্লেন্ডারের ভেতর দিয়ে দেই।
এখন ব্লেন্ডারের ভেতরে বিট লবণ এবং লবণ যোগ করি।
এখন ব্লেন্ডারের ভেতরে কাঁচামরিচ এবং চিনি দিয়ে দেই।
এখন ব্লেন্ডারের ভেতরে বরফ এবং ২ কাপ সমপরিমাণ পানি দিয়ে দেই। তারপর মিনিট দুয়েক ব্লেন্ড করতে হবে।
ব্যাস তৈরি হয়ে গেল মজাদার গ্রামের জুস। আপনারা ইচ্ছা করলে এর ভিতর সামান্য লেবুর রসও যোগ করতে পারেন। তাতে একটা এক্সট্রা ফ্লেভার যোগ হবে। এই জুসটি খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি অত্যন্ত পুষ্টিকর। আশা করি সকলে বাসায় বানিয়ে চেষ্টা করে দেখবেন যদি জাম আপনাদের ফ্রিজে থেকে থাকে।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | oppo reno 8t |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @wahidasuma |
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আপনি তো দেখি আমার পছন্দের ফল গুলো ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রেখেছেন।আমার একটুও খেয়াল ছিল না যে এসব ফল একটু ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখি। যাইহোক, আমি জাম খেতে খুব পছন্দ করি।কিন্তু কখনো জামের জুস তৈরি করে খাইনি।আজকে আপনার তৈরি জামের জুস দেখে মনে হচ্ছে খেতে খুবই সুস্বাদু হবে।জামের জুস তৈরি করার এত সুন্দর একটি পদ্ধতি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি ভাইয়া।
ঠিক বলেছেন ভাইয়া, অফসিজনে বাজার থেকে ফল কিনে খাওয়া মানে টাকা দিয়ে বিষ কিনে পান করা। আপনারা বুদ্ধি খাটিয়ে বিভিন্ন ফল ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। আর এখন মন চাইলেই সেখান থেকে বের করে খেতে পারছেন। আসলেও বুদ্ধিটা অনেক কাজের। আপনি এই অফ সিজনে জামের সুস্বাদু জুস তৈরি করেছেন। যা দেখতে আসলে ও অনেক লোভনীয় লাগছে। সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর জামের জুসের রেসিপি টা আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
এই জামের জুস খেতে যেমন মজা হয়েছিলো তেমনি শরীরের জন্যও অনেক উপকারী। আপনারাও বিভিন্ন রকমের ফল ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণের এই বুদ্ধিটা প্রয়োগ করতে পারেন। তাতে করে অফসিজনের যে কোন ফলের স্বাদ নিতে পারবেন। ধন্যবাদ আপু আপনাকে।
ভাই আপনি ঠিকই বলেছেন ফল একটি সুস্বাদু খাবার যা খেলে কোন ক্ষতি হয় না। বরং শরীরের জন্য বেশ উপকারী হয়। তবে আপনার আজকের জামের জুসের রেসিপি দেখে অবাক হয়ে গেলাম। ভাইয়া জাম অনেক খেয়েছি এবং কিন্তু এমন জুস করে কখনো খাওয়া হয়নি। তবে আপনার পোস্ট দেখে একটা অনুভূতি আসলো এবার জামের সময় আসলে এভাবে জুস করে খেয়ে দেখা যাবে। ধন্যবাদ ভাইয়া পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
পছন্দের ফলগুলো ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখলে অনেকদিন পরে ইচ্ছে হলে খাওয়া যায়। তবে স্বাদ একটু নষ্ট হয়। টাটকা ফলের স্বাদ সবচেয়ে বেশি। আর বাজারে যেগুলো অফ সিজনাল ফল বিক্রি করা হয় সেগুলো খাওয়া সত্যি অনেক ক্ষতিকর। টাকা দিয়ে বিষ কিনে খাওয়ার মতই। জামের জুস কোনদিন খাইনি ভাইয়া। একদিন ট্রাই করে দেখতে হবে।
ঠিকই বলেছেন ফ্রিজে সংরক্ষণ করা ফলে হয়তো টাটকা ফলের মতো স্বাদ পাওয়া যাবে না। তবে অসময়ে বিভিন্ন রকমের ফলের স্বাদ নেয়া যাবে। ধন্যবাদ আপনাকে আপনার মন্তব্যের জন্য।
জাম ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখা যায় কথাটি আমার মাথায় ছিল না।যদি কথাটি স্মরণ থাকতো তাহলে আপনার মত করে আমিও সংরক্ষণ করতাম। কারণ আমিও কিছু ফল সংরক্ষণ করি ফ্রিজে।আপনার জামের জুস দেখতে অসাধারণ লাগছে। এরকম এক গ্লাস জুস মনে এনে দেয় পরিপূর্ণ তৃপ্তি। জামের সিজন এলে আপনার মত করে আমিও ফ্রিজের সংরক্ষণ করব। অনেক ভালো লাগলো আপনার রেসিপিটি দেখে। ধন্যবাদ ভাই সুন্দর একটি রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
জামের আবার জুস হয় নাকি ভাইয়া হাহাহা।আমাদের এদিকে কতো জাম কখুনো জুস খাইনি।অফ সিজনে দারুন একটি বুদ্ধি বের করেছেন ফল খাওয়ার দারুন রেসিপি শিখলাম ধন্যবাদ আপনাকে।
অফসিজনে আমার কখনো ফল কেনার সত্যি ই ইচ্ছে হয়না।আপনি আম,জাম ডিপ ফ্রিজে রেখে দিয়ে ভালো ই করেছেন।স্বাদ কম হলেও খাওয়া তো যাচ্ছে।আজ বাসায় জামের জুস করলো ভাইয়া।দেখেই খেতে ইচ্ছে করছে।ঝাল,মিষ্টি,টকের স্বাদের জুস খুবই মজার খেতে।মজার স্বাদের এই রেসিপিটি শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
কই এখন কি জামের সিজন নাকি? জানিনা তো। কিন্তু জাম দিয়েও যে এত সুস্বাদু করে জুস বানানো যায় তা তো আজ প্রথম দেখলাম। বেশ দারুন একটি ইউনিক রেসিপি দেখলাম কিন্তু আজ। আর এমনিতেই জাম আমার বেশ প্রিয় একটি ফল। তাহলে তো এখন থেকে একবার হলেও বানানো যাবে। ধন্যবাদ ভাইয়া এত সুন্দর একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।