হঠাৎ করে পরিবার নিয়ে বাইরে খেতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা।
তাই গতকালকে চিন্তা করছিলাম বাইরে থেকে খাওয়া-দাওয়া করতে পারলে মন্দ হতো না। আমার স্ত্রীকে কথাটা বলার সাথে সাথে সে খুশি হয়ে গেলো। আমরা সাধারণত দুপুরেই বাইরে খাওয়া দাওয়া করি। দুপুরে খাওয়া-দাওয়া করতে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে দুপুরে বাইরে খেতে গেলে আর বাসায় রান্নাবান্না করতে হয় না। আমার স্ত্রী রান্না বান্নার ঝামেলা থেকে বেঁচে যায়। আর রান্নাবান্না থেকে তাকে ছুটি দিলে, সে সবচাইতে বেশি খুশি হয়। এই কারণে আমি সবসময় চেষ্টা করি রেস্টুরেন্টের খাওয়া দাওয়ার পর্বটা দুপুরের দিকে করতে। যাতে করে সে একটা দিন একটু রিলাক্স থাকতে পারে। যাইহোক গতকালকে তাকে রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়ার পরে আর আমি তেমন কিছু বলিনি।
আজকে সকালে এসে সে আমার কাছে জিজ্ঞেস করছিল সত্যি সত্যি বাইরে খেতে যাবো কিনা? আমি কিছুক্ষণ এই ব্যাপারটা নিয়ে তার সাথে মজা করলাম। তারপর বললাম আজকে দুপুরে আমরা বাইরে খাবো। অবশ্য বাইরে খাবারের বিল দেওয়ার সময় সে মাঝে মাঝে আমার সাথে বিল শেয়ার করে। তো বাইরে খেতে যাওয়ার কথা বলাতে সে বলল মেয়ের জন্য সে টুকিটাকি কিছু জিনিসপত্র কিনবে। তখন আমি তাকে বললাম তাহলে এক কাজ করা যায়। আমরা সাড়ে বারোটার দিকে বাসা থেকে বের হই। তারপর কেনাকাটা শেষ করে রেস্টুরেন্টে গিয়ে তোমাদের বসিয়ে আমি নামাজ পড়ে আসবো। আমি নামাজ পড়ে ফিরতে ফিরতে রেস্টুরেন্টের খাবার রেডি হয়ে যাবে। পরিকল্পনা মোতাবেক আমরা ঠিক সাড়ে বারোটার দিক বাসা থেকে বের হলাম মার্কেটের উদ্দেশ্যে। মার্কেটে পৌঁছে প্রথমে মেয়ের জন্য টুকিটাকি কিছু জামা কাপড় কেনাকাটা করা হলো। জামা কাপড় কেনা হলে তারপর আমরা মার্কেটের দোতালায় গেলাম মেয়ের জন্য একটা ঘড়ি কিনতে। দুটি দোকান ঘুরে আমরা একটি দোকান থেকে মেয়ের জন্য ঘড়িটি কিনে ফেললাম। ঘড়ি কেনা হলে আমরা সবাই রেস্টুরেন্টের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
যে রেস্টুরেন্টে আমরা যাওয়ার কথা ঠিক করেছিলাম সেটার অবস্থান ছিলো নিউমার্কেটের একেবারে কাছাকাছি। নিউ মার্কেট থেকে সেখানে হেঁটে যেতে চার পাঁচ মিনিট মতো সময় লাগে। সেখানে পৌঁছে আমি দ্রুত খাবার অর্ডার করলাম। ততক্ষণে দেখি প্রায় ১:২২ বেজে গিয়েছে। তাই আমি দ্রুত খাবারের অর্ডার দিয়ে ওদেরকে বসিয়ে চলে গেলাম কাছের একটি মসজিদে নামাজ পড়তে। নামাজ পড়ে এসে দেখি তখনো খাবার পরিবেশন করেনি। অথচ খাবার যখন অর্ডার করেছিলাম তখন ওয়েটার জানিয়েছিল খাবার পরিবেশন করতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগবে। এদিকে সকলেরই ক্ষুধা লেগে গিয়েছিলো।
যাইহোক আমি ওয়েটারকে একটু তাড়া দিতে সে জানালো খাবার প্রায় তৈরি হয়ে গিয়েছে অল্পক্ষণের ভেতরেই আমরা পরিবেশন করছি। এই কথা বলার কয়েক মিনিটের ভেতরেই টেবিলে খাবার দিয়ে গেলো। খাবার গুলো দেখে মনে হচ্ছিল খেতে বেশ ভালই হবে। তবে আমার কাছে পরিমাণ কিছুটা কম মনে হয়েছিলো। আমরা অর্ডার করেছিলাম চাইনিজ সেট মেনু। সেখানে ছিল ফ্রাইড রাইস, চিকেন মাসালা কারি, চাইনিজ ভেজিটেবল, চিকেন কাটলেট আর সাথে ছোট্ট এক গ্লাস ড্রিংকস। খাবার মুখে দিতেই বুঝতে পারলাম ধারণাটা সঠিক ছিলো। খাবারগুলো খেতে বেশ ভালই ছিলো। তবে খাবার খাওয়ার পর বুঝতে পারলাম পরিমাণে আসলেই কম ছিল খাবারটা। যাই হোক খাবার শেষ হলে আর সময় নষ্ট না করে বিল দিয়ে দ্রুত রেস্টুরেন্ট থেকে বাড়ির দিকে রওনা দিলাম।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
| স্থান | ফরিদপুর |
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আপনি মাসে অন্তত দুবার করে বাইরে খেতে যান ভাইয়া পরিবার নিয়ে।আপনার পরিবারের সবাই বাইরে খেতে পছন্দ করে এজন্য।আর দুপুরে খেতে গেলে ভাবিও রান্নার ঝামেলা থেকে বেঁচে যায়।এটা শুনে ভালো লাগলো যে,বিল ভাবিও শেয়ার করে থাকেন।শপিং সেরে আপনারা রেস্টুরেন্ট এ গিয়ে পছন্দের খাবার খেলেন।সব মিলিয়ে সুন্দর সময় কাটিয়েছেন।ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
রান্না বান্না করা সত্যিই অনেক ঝামেলার কাজ। তাইতো বাহিরে খেতে গেলে সেই ঝামেলা আর পোহাতে হয় না। একদিকে খাওয়া-দাওয়া হয় অন্যদিকে আপু অনেক খুশি হয়ে যায়। আর একটি সংসার সুখের হয় তখনই যখন দুজনের বোঝাপড়া ভালো হয়। আপনি যেমন আপুকে একটু রিলাক্স দেওয়ার চেষ্টা করেন তেমনি আপুও নিজের সাধ্যমত বিল শেয়ার করার চেষ্টা করে। সত্যি ভাইয়া আপনার পোস্ট পড়ে অনেক ভালো লেগেছে। খাবারের পরিমাণ কম হলেও খাবারটা মজার ছিল জেনে ভালো লাগলো।