মায়ের জন্য ছোট মাছ কেনার অভিজ্ঞতা।
একটা সময় এই বাজারে শুধু নদীর মাছ পাওয়া যেতো। তবে এখন সেখানে ক্রেতা বেড়ে যাওয়ার ফলে সেখানকার বিক্রেতারাও বিভিন্ন জায়গা থেকে মাছ কিনে এনে বিক্রি করা শুরু করেছে। যাই হোক আমি সেদিন সকালেই ঠিক করে রেখেছিলাম বিকালে টেপাখোলা মাছ বাজারে যাবো মাছ কিনতে। মূলত উদ্দেশ্য ছিল ছোট মাছ কেনার। কারণ গত মাসে যে মাছগুলো কিনেছিলাম তার ভিতরে বড় মাছগুলো আমার মা খুব একটা পছন্দ করেনি। সেই কারণেই ছোট মাছ কেনার প্রতি আমার আগ্রহ ছিলো বেশি। যদিও আমি নিজে ছোট মাছ খুব একটা খাই না। যাই হোক বিকেলবেলা আসরের নামাজ পড়ে আমি চলে গেলাম টেপাখোলা বাজারে। সেখানে গিয়ে দেখতে পেলাম ইতিমধ্যে মাছ বাজার বসে গিয়েছে। বাজারের শুরুতেই দেখতে পেলাম একজন বিক্রেতা ইলিশ মাছ বিক্রি করছে। তার থেকে কিছুটা সামনে বাদবাকি সব মাছওয়ালারা বসেছিলো।
আমি প্রথমে ঘুরেফিরে সব মাছ দেখতে লাগলাম। যদিও প্রথমেই এক বিক্রেতার কাছে পুঁটি মাছ দেখতে পেয়ে সেটা কিনে নিয়েছিলাম। কারণ ছোট মাছের ভেতরে আমার কাছে পুটি মাছ ভাজা খেতে ভালো লাগে। পুটি মাছ কেনা শেষে আমি ঘুরে ফিরে পুরো মাছ বাজারটা একবার দেখতে লাগলাম। আর বিভিন্ন মাছের দাম জিজ্ঞেস করছিলাম। বেশ কিছুক্ষণ ঘোরাফেরার পর বুঝতে পারলাম সেদিন মাছ কিছুটা কম উঠেছিলো বাজারে। সাধারণত বিকালের দিকে এই বাজারটাতে প্রচুর মাছ ওঠে। তবে রমজান মাসের কারণে হয়তো মাছের পরিমাণ কিছুটা কম দেখতে পাচ্ছিলাম। যাইহোক ঘুরেফিরে বাজার দেখা শেষ হওয়ার পরে একটা ধারণা পেলাম কি কি মাছ কেনা যেতে পারে।
তারপর আমি আস্তে আস্তে আমার কাঙ্খিত মাছ গুলো কিনতে লাগলাম। আমি সেদিন কিনেছিলাম বেলে মাছ, পুটি মাছ, বাইম মাছ, টাটকিনি মাছ, আর পাবদা মাছ। অবশ্য মাছ কিনেছে খুব বেশি তৃপ্তি পেয়েছিলাম ব্যাপারটা এমন না। কারণ বাংলাদেশের এখন বেশিরভাগ মাছই চাষ হয়। আর চাষের মাছগুলো খেতে নদী বা খাল-বিলের মাছের মতো এতটা ভালো লাগেনা। তার পরেও অনেকটা বাধ্য হয়ে আমাদেরকে চাষের মাছ খেতে হয়। তাছাড়া এই চাষের মাছ খাওয়া নাকি শরীরের জন্য ক্ষতি। কারণ তারা এই মাছকে এমন কিছু উপকরণ খাওয়ায় যেগুলো মানুষের শরীরের জন্য ভালো না। তারপরেও অনেকটা বাধ্য হয়েই সেই মাছগুলো আমাদেরকে কিনতে হয়। মাছ কেনা শেষ হতে হতে দেখলাম সময় অনেকটা পার হয়ে গিয়েছে। তখন দ্রুত আমি একটা রিকশা নিয়ে বাসার দিকে রওনা দিলাম। কারণ তখন ইফতার শুরু হতে আর খুব একটা বেশি সময় ছিলো না। যাই হোক ইঞ্জিন চালিত রিকশায় রওনা দেয়ার ফলে খুব অল্প সময়ে বাসায় পৌঁছে গিয়েছিলাম। এভাবেই মায়ের জন্য ছোট মাছ কেনা শেষ হয়েছিলো।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | HONOR 90 |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
| স্থান | ফরিদপুর |
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
হ্যাঁ ভাই আপনার পোস্ট পড়ে আগেই জানতে পেরেছি, আপনার মা দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশে ফিরেছেন। যাইহোক আন্টির জন্য তো মোটামুটি বেশ ভালোই মাছ কিনেছেন। নদীর মাছ এখন খুব কম পাওয়া যায়। মাছ বাজারে গেলে চারিদিকে শুধু চাষের মাছের ছড়াছড়ি। চাষের মাছের প্রতি মানুষের তেমন আগ্রহ না থাকলেও, এক প্রকার বাধ্য হয়েই কিনতে হয়। যাইহোক এতো সুন্দর অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
এই বিষয়টা আমিও দেখেছি আমার মা এখন বড় মাছ খুব একটা খেতে চাই না। ছোট মাছ বেশি পছন্দ করে। পুটি মাছ ভাজি আমার অনেক পছন্দের। খেতে বেশ সুস্বাদু লাগে। ছোট বেশ অনেক প্রকার মাছই কিনেছেন। তবে এটা ঠিক ছোট চাষের মাছ এবং নদীর মাছের স্বাদের বিস্তর পার্থক্য থাকে।
সত্যি ভাইয়া এখন বেশীর ভাগ চাষের মাছ। যা খেতে একদম ভালো লাগে না। কিন্তু কি আর করার খেতে তো হয়ই।আপনি আপনার মায়ের জন্য মাছ কিনতে গেলেন।তিনি ছোট মাছ বেশী পছন্দ করেন।তাইতো আপনি মায়ের জন্য বেশ কিছু মাছ কিনলেন।পুঁটি মাছ ভাজা মনে হয় সবারই খুব পছন্দের। আপনিও খুব পছন্দ করেন বললেন।আপনার অনুভূতি গুলো পড়ে খুব ভালো লাগলো ভাইয়া। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর কিছু অনুভূতি শেয়ার করার জন্য।
খুব সম্ভবত আপনার মা দেশের বাইরে যেখানে ছিলেন ওখানে হয়তো এমন ছোট মাছ পাওয়া যেত না। আর এই কারণেই হয়তো ছোট মাছের প্রতি আকর্ষণ টা ওনার বেশি বেড়ে গেছে । আপনি তো দেখছি আপনার মায়ের জন্য অনেক প্রকার মাছ কিনেছেন দাদা। তবে এটা সত্যি কথা যে, এখন মাছ সব চাষের মাধ্যেমে করার কারণে সেই টেস্ট এবং পুষ্টি গুনাগুন নেই। ভালো লাগলো দাদা আপনার এই পোস্ট টি পড়ে।
কি আর করার ভাইয়া? এখন তো বাজারে রমজান মাসের জন্য মাছের পরিমান বেশ কম। আসলে সত্য কথা বলেছেন ভাইয়া। এখন আর বাজারের মাছ কিনে তৃপ্তি পাওয়া যায় না। বেশীর ভাগ মাছই এখন চাষের মাছ। মায়ের জন্য মাছ কেনার অনুভূতি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
আপনার মা বড় মাছ কম পছন্দ করেন, তার জন্য আপনি ছোট মাছ কেনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।সত্যি বলতে মার জন্য কোন কিছু কিনতে পারলে মনে অনেক শান্তি পাওয়া যায়। তাই আপনি আছরের নামাজ পড়ে চলে গিয়েছিলেন টেপাখোলা বাজারে এবং ছোট মাছ কিনে বাসায় আসলেন। আপনার পোস্ট ভিজিট করে খুবই ভালো লাগলো। আপনার মা এবং আপনার জন্য শুভকামনা রইল ভাই ভালো থাকবেন।