দুই বন্ধুর আম বাগানে অভিযান।
গরমের কারণে বছরের এই সময়টা আমার কাছে খুব একটা পছন্দনীয় নয়। তবে অন্য একটা কারণে আবার বছরের এই সময়টা আমার কাছে খুবই পছন্দের। যদিও কথাটা একেবারেই বিপরীত ধর্মী শোনাচ্ছে। কিন্তু এটাই সত্য। আমি গরম বেশি সহ্য করতে পারি না। এই কারণেই বছরের এই সময়টা আমার কাছে খারাপ লাগে। তবে আমি বিভিন্ন রকম ফল খেতে পছন্দ করি। সেই কারণেই বছরের এই সময়টা আমার কাছে অত্যন্ত পছন্দেরও বটে। কারণ আর কিছুদিন পর থেকেই বাজারে হরেক রকমের রসালো ফলের আগমন ঘটবে। আম, লিচু, জাম, জামরুল, কাঁঠাল নানা রকমের ফলে বাজার ভর্তি হয়ে যাবে। আমার পছন্দের ফলগুলো এই সময়েই পাওয়া যায়। ফলের ভেতর আমার কাছে সবচাইতে বেশি পছন্দ আম আর লিচু। সেই কারণেই গরম পছন্দ না হলেও এই সময়টা আমার কাছে বেশ পছন্দের।
যাইহোক গত কয়েক বছর থেকে আমি চেষ্টা করছি বাজারের কেমিক্যাল মেশানো আম না কিনে বিভিন্ন বাগান থেকে আম সংগ্রহ করার। তাতে যেমন ভালো মানের আম পাওয়া যায়। তেমনি কেমিক্যাল এর মাধ্যমে শরীরের ক্ষতি হওয়ার সুযোগটাও থাকে না। এই কারণেই আমি আর বন্ধু ফেরদৌস দুজনে ফরিদপুর শহরের একটু বাইরে অবস্থিত বিভিন্ন আমবাগানে খোঁজখবর নিয়ে বেড়ায়। যদিও আগে আমাদের জেলাতে এত আম বাগান ছিল না। কিন্তু আম বাগান লাভজনক হওয়ায় এখন অনেক কৃষকই খেতে ফসলের চাষ না করে আম বাগান করছে। তাতে আমাদের জেলার ফলের চাহিদা যেমন পূরণ হচ্ছে। তেমনি কৃষকেরাও লাভবান হতে পারছে।
কয়েকদিন থেকেই চিন্তা করছিলাম আমাদের পরিচিত একটি আম বাগান থেকে ঘুরে আসবো। সেই মোতাবেক ফেরদৌসের সাথে পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু ফেরদৌস ব্যস্ত থাকার কারণে আমাদের সেই পরিকল্পনা সহজে বাস্তবায়ন হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত দুদিন আগে আমি আর ফেরদৌস গিয়ে সেই আমবাগান থেকে ঘুরে এসেছি। প্রথমে আমাদের পরিকল্পনা ছিল সকালের দিকে আম বাগানে যাওয়ার। কিন্তু আমি একটি ব্যক্তিগত কারণে সকালে বাসা থেকে বের না হতে পারায় পরিকল্পনা পরিবর্তন করে সময় নির্ধারণ করেছিলাম বিকাল বেলা। ফেরদৌসের সাথে কথা হয়েছিল বেলা চারটার দিকে দুজনে একটি চায়ের দোকানে মিলিত হব। তারপর সেখান থেকে একসাথে আম বাগানের উদ্দেশ্যে রওনা দেব।
আমি দুপুরের দিকে আমার স্ত্রীকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। এর ভেতরে ফেরদৌস ফোন দিয়ে বলল চলো একটু তাড়াতাড়ি রওনা দেই। কারণ আমাদের ফিরতে তো সময় লাগবে। তখন আমি ফেরদৌসকে বললাম ঠিক আছে তুমি অপেক্ষা কর আমি কিছুক্ষণের ভিতরেই তোমার ওখানে আসছি। কথা মতো আমি সময় মতো ফেরদৌসের কাছে পৌঁছে গেলাম। তারপর দুই বন্ধু মিলে আম বাগানের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। দুজন মোটরসাইকেল করে যাচ্ছিলাম আর নানা বিষয় নিয়ে গল্প করছিলাম। গল্পের মূল বিষয় ছিল ফেরদৌস আর দুদিন পরে রাজশাহী চলে যাবে একটি প্রজেক্ট এর কাজে। সেখান থেকে ফিরলে আমরা ট্যুরে যাব সেটা নিয়েই কথা হচ্ছিল। যাইহোক এভাবে গল্প করতে করতে আমরা একসময় সেই আম বাগানে পৌঁছে গেলাম।
কিন্তু সেখানে পৌঁছে দেখি বাগানে কোন লোকজন নেই। অবশ্য তাতে আমাদের কোন সমস্যা হয়নি। আমরা দুজন মোটরসাইকেল থেকে নেমে বাগানের ভেতরে ঘুরে ফিরে দেখছিলাম। কিন্তু একটি বিষয় দেখে আমার কাছে খুবই খারাপ লাগলো। খেয়াল করে দেখি গাছের তলাগুলো আম পড়ে ভরে গিয়েছে। বুঝতে পারলাম আগের দিন শিলা বৃষ্টিতে বাগানের মালিকের এই ক্ষতিটা হয়েছে। খেয়াল করে দেখলাম প্রত্যেকটি গাছেই প্রচুর আম ধরেছে। এতগুলো আম পড়ে যাওয়ার পরেও এখনো গাছে অনেক আম রয়েছে। আমরা বেশ কিছুক্ষণ বাগানের ভিতর ঘোরাফেরা করলাম। একটি আম উঠিয়ে অবশ্য আমি খাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু সেটা এতটাই টক ছিল যে মুখে দিয়েই ফেলে দিতে হয়েছে।
খেয়াল করে দেখলাম আম বাগানের এক পাশে কিছু লিচু গাছও লাগানো হয়েছে। ছোট ছোট সেই লিচু গাছে বেশ ফল ধরেছে। বাগানে যখন গেলাম তখন চিন্তা করেছিলাম যদি কোন আম পাকে তাহলে সেটা একটি ব্যাগে করে নিয়ে আসব। কিন্তু গিয়ে বুঝতে পারলাম আম পাকতে এখনো বেশ কিছুটা সময় লাগবে। তবে ফেরদৌসের সাথে এবার অবশ্য কথা হয়েছে যে এবার আমের সিজনে আমরা কয়েক বন্ধু মিলে রাজশাহীতে যাবো। রাজশাহী যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ঘুরে ফিরে রাজশাহী শহরটা আর রাজশাহীতে অবস্থিত বড় বড় আম বাগান গুলো দেখা। এই পরিকল্পনা করে দুজন বাড়ির দিকে ফিরতে লাগলাম।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
| স্থান | চর অঝোধ্যা |
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
ভাই এবছর আমারও চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাওয়ার ইচ্ছা আছে শুধুমাত্র আম নিয়ে আসার জন্য 😀। দুই ভাইয়ের আম কেনার গন্তব্য অনেকটাই মিলে গেছে দেখছি। তবে হঠাৎ করেই প্রচন্ড শিলাবৃষ্টিতে ভীষণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আম বাগানিদের। একটা স্বস্তির ব্যাপার এটা যে, বর্তমানে আগের মতো আর কেমিক্যাল মেশানো আম বোধহয় বাজারে বিক্রি করে না। যাই হোক গাছ ভরা এমন আমের ছবি দেখতে ভীষণ ভালো লাগছে।
আমারও এ বছর রাজশাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাওয়ার ইচ্ছা আছে আম কেনার জন্য। দুই ভাইয়ের দেখা হয়ে যেতে পারে। হা হা হা....
ভাইয়া, আপনি এবং আপনার বন্ধু ফেরদৌস মিলে আমবাগানে অভিযান চালানোর মুহূর্তটুকু আপনি দারুণভাবে শেয়ার করেছেন। বিশেষ করে আম বাগানে অভিযান চালাতে গিয়ে লিচুর উপর আপনাদের নজর পড়াটা জানতে পেরে বেশ ভালো লেগেছে আমার। আসলে ভাইয়া এ ধরনের অভিযান চালানোর অভিজ্ঞতা আমারও রয়েছে। কিন্তু এখন আর এ ধরনের অভিযান চালানো হয় না। অতি চমৎকার একটি মুহূর্তের কথাটুকু আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আমরা অবশ্য প্রতিবছরই এই সময়টাতে শহরের আশেপাশের বিভিন্ন আমবাগানে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করি। ফলের বাগান আমার কাছে এমনিতেই অনেক ভালো লাগে।
ঠিক বলেছেন ভাই, গরম পছন্দ না হলেও এই সময়েই অনেক ধরনের ফলের বাহারে বাজার ভর্তি হয়ে যাবে। সেই জন্য আমারও এই সময়টি খুবই পছন্দের। আমারও আপনার মত লিচুটা খুব প্রিয় একটি ফল ।আমাদের বাড়িতে তো এই সময়ে যেই আসুক না কেন আমার জন্য লিচু নিয়ে আসবেই, হি হি হি। আপনি আর আপনার বন্ধু দুইজন মিলে বিকেলের দিকে তো ভালোই আমবাগান পরিদর্শন করেছেন দেখছি। তবে বাগানের মালিকের শিলাবৃষ্টির কারণে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জেনে খারাপ লাগলো। লিচু গাছের দেখা পেয়ে আমি তো খুব খুশি হয়ে গেলাম।
এই বাগান থেকে আমি গত কয়েক বছর হল আম কিনছি। তবে এখন পর্যন্ত লিচু কেনা হয়নি। এবার চিন্তা করেছি যদি লিচুর ফলন ভালো হয় তাহলে আমের সাথে কিছু লিচুও কিনবো। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
আমাকেও কটা লিচু প্যাকিং করে পাঠিয়ে দেবেন ভাই, অনেক বেশি খুশি হবো 😁।