বেশ কিছুদিন পর বন্ধু ফেরদৌসের সাথে ঘোরাফেরার অভিজ্ঞতা (দ্বিতীয় পর্ব)।
আমরা আলাপ করছিলাম ইটের রাস্তা থেকে আগেকার মাটির রাস্তাটাই ভালো ছিল। দেশের সমস্ত এলাকার রাস্তাঘাট বদলে যাচ্ছে। তবে আমাদের কাছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট গুলো পুরোপুরি পরিবর্তন না হলেই ভালো লাগে। কারণ সব রাস্তা যদি শহরের মতো পাকা রাস্তা হয়ে যায় তখন গ্রামের সেই সৌন্দর্যটা আর থাকে না। আমরা যেখানে গিয়েছিলাম সেই গ্রামটি অনেকটা ভেতরের দিকে। বলতে গেলে প্রত্যন্ত অঞ্চল বলা যায়। সেখানেও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন দেখে কিছুটা অবাক হলাম। সেখানে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে আমরা অন্যদিকে যেতে লাগলাম। তেমন কোন নির্দিষ্ট জায়গায় নয় আমরা গ্রামের ভেতরেই বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল বিকালের মনোরম পরিবেশে গ্রামীণ সৌন্দর্য অবলোকন করা।
তবে যেখানেই যাচ্ছিলাম দেখতে পাচ্ছিলাম ফসলের মাঠগুলো পানিতে ডুবে বিল সৃষ্টি হয়েছে। দৃশ্যগুলো দেখতে দারুন লাগছিলো। বিল গুলো দেখে আমি আর ফেরদৌস বলাবলি করছিলাম যে এখানে নৌকায় করে বিকালে ঘুরতে পারলে অনেক ভালো লাগতো। তাছাড়া বিকালের সময়টাতে গ্রামের রাস্তাঘাট দিয়ে ঘুরতে আমার কাছে বরাবরই ভালো লাগে। বেশ কিছুক্ষণ এভাবে উদ্দেশ্যহীন ঘোরাফেরার পরে আসরের নামাজের সময় হয়ে গেলো। আমি মনে মনে একটি মসজিদ খুঁজছিলাম। তবে এর ভেতরে হঠাৎ করে রাস্তার পাশে আমরা একটি ভাজাপোড়া দোকান দেখতে পেলাম। এই দোকানটি দেখে আমাদের কয়েক মাস আগের কথা মনে পড়ে গেলো। কারণ আমরা তখন হঠাৎ করে লোকালয়ের ভেতরে এমন দোকান দেখে কিছুটা অবাক হয়েছিলাম।
এটা কোন অন্য দোকানগুলোর মত কোন দোকান নয়। একটি বাড়ির সামনে সেই বাড়ির লোকেরা দোকানটি দিয়েছে। দোকানটি দেখে আমি আর ফেরদৌস সেখানে থাকলাম ভাজাপোড়া খাওয়ার জন্য। তবে থামার পরে দোকানদার বলল তাদের খাবার এখনো প্রস্তুত হয়নি। আরো বেশ কিছুটা সময় লাগবে খাবার প্রস্তুত হতে। এদিকে নামাজের সময় হয়ে গিয়েছে। তাই আমি ফেরদৌসকে চললাম চলো আমরা সামনের দিকে আগাতে থাকি। এভাবে বেশ কিছুদুর আগানোর পর একটি মসজিদ দেখতে পেলাম। তারপর ফেরদৌসকে সেখানে মোটরসাইকেল থামাতে বলে আমরা দুজন সেখানে নামাজ আদায় করলাম। তারপর আমরা আবার শহরের দিকে ফিরতে লাগলাম। (চলবে)
আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
| স্থান | ফরিদপুর |
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
ভাইয়া এটা খুব সত্যি কথা ই বলেছেন গ্রামের রাস্তা ও যদি শহরের মতো হয় তবে গ্রামের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। গ্রাম গ্রামের মতো না থাকলে আসলে ভালো লাগে না।আপনারা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে কিছু সময় গল্প করলেন।নদীতে পানি ভরপুর দেখে খুব ভালো লাগলো। একটি ভাজাপোড়ার দোকান দেখে সামনে গেলেন কিন্ত তখনও খাবার রেডি হয়নি।তাই আপনারা দুজন কিছুটা এগিয়ে গিয়ে মসজিদে আছরের নামাজ আদায় করলেন।আপনার শেয়ার করা ফটোগ্রাফি গুলো খুব সুন্দর লেগেছে।ধন্যবাদ ভাইয়া শেয়ার করার জন্য।
এখন আর গ্রামের রাস্তা মাটির রাস্তা নেই। সব রাস্তা গুলো কে যেন পাকা রাস্তা করে ফেলছে। বেশ অসাধারন আপনাদের এই বিলের দৃশ্য গুলো। বর্ষাকালে গ্রামের নিচু জায়গাগুলো যখন পানিতে ভরাট হয়ে যায় ঠিক তখন সেই বিলের দৃশ্যগুলো কিন্তু অপরূপ রূপে সজ্জিত হয়। আমার কিন্তু বর্ষাকালের এমন দৃশ্য বেশ ভালো লাগে। ইস্ আমার যদি ফেরদৌস ভাইয়ের মত একজন বান্ধবী থাকতো।
ভাইয়া আপনাদের ঘুরাঘুরির যে রাস্তাটা দেখলাম সেটা তো একেবারে বিলের মাঝখান দিয়ে যাচ্ছে। বর্ষা চলে গেলে হয়তো মূল রাস্তাটা পানির নিচ থেকে বের হয়ে আসবে। এত প্রত্যন্ত এলাকায় রাস্তা নির্মান দেখে আমিও আপনাদের মত অবাক হচ্ছি। আপনাদের দুুই বন্ধু ভালই ঘোরাঘুরি করছেন। সেই সাথে বিভিন্ন জিনিষ খাওয়া দাওয়া করছেন। গ্রামীন পরিবেশে ঘুরলে মনটা অনেক ফ্রেশ হয়। ধন্যবাদ।
ভাই বাংলাদেশ তো উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে। মাটির রাস্তাঘাট এখন পাকা হয়ে যাচ্ছে। বাহিরের দেশ থেকে ঋণ নিয়ে হোক, আর যেভাবেই হোক রাস্তা ঘাট উন্নত করতেই হবে। দেশের সামগ্রিক অবস্থা দেখার সময় নেই তাদের। যাইহোক বর্ষাকালে ফসলের ক্ষেতগুলোও একেবারে বিলে পরিণত হয়। চারিদিকে পানি থৈ থৈ করে,যা দেখতে সত্যিই দারুণ লাগে। এমন জায়গায় বিকেলে নৌকা দিয়ে ঘুরতে সত্যিই খুব ভালো লাগে। সবমিলিয়ে চমৎকার সময় কাটালেন সেখানে।