হঠাৎ ঝড়ে এলোমেলো জীবন (প্রথম পর্ব)।

কেমন আছেন আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা? আমি ভালো আছি। আশাকরি আপনারা ও ভালো আছেন।


সুরুজ দোকানে বসে তার হিসাবের খাতা দেখছিলো। এর ভিতরে তার স্ত্রী সাবিহা তাদের একমাত্র মেয়েকে কোলে নিয়ে এসে সুরুজের কাছে দিয়ে বলে তুমি ওকে একটু রাখো। আমি রান্নাবান্না করে এসে আবার ওকে নিয়ে যাব। রান্নাবান্নার সময় ও খুব জ্বালাতন করে। তোমার কাছে থাকলে আমি একটু নিশ্চিন্তে রান্নাবান্না করতে পারি। সুরুজ বলে কোন সমস্যা নেই তোমার রান্নাবান্না শেষ হলে তখন তুমি ওকে নিয়ে যেও। ও ততক্ষণ আমার কাছেই থাক। এই কথা বলে সে দুহাত বাড়িয়ে মেয়েকে কোলে নেয়। মেয়েও হাসিমুখে বাবার কোলে চলে আসে। সুরুজ খেয়াল করে দেখেছে প্রতিদিন এই সময়ে তার মেয়ে খুব খুশি থাকে। বাড়িতে বন্দী থাকার থেকে বাবার দোকানে থাকতেই বোধহয় তার বেশি ভালো লাগে। যতক্ষণ সে সুরুজের কাছে থাকে ততক্ষণ সে দোকানের ভেতরে আর সামনে দিয়ে ঘোরাফেরা করতে থাকে। আর এটা ওটা খেতে থাকে।

Polish_20230509_232220104.jpg

দোকানে ঢুকেই তার মেয়ে চকলেট খাওয়ার বায়না ধরল। সুরুজ একটি ললিপপ মেয়ের হাতে দিয়ে দিলো যাতে সে চুপচাপ থাকে। মেয়েটা ললিপপ খাচ্ছিলো আর দোকান ভরে টুকটুক করে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। এর ভেতরে এক কাস্টমার এসে সুরুজের কাছে বাজারের লিস্ট দিলো। সুরুজ আস্তে আস্তে করে সেই কাস্টমারের মালপত্রগুলো রেডি করছিল। এর ভিতর মেয়ে ললিপপ ফেলে দিয়ে সুরুজের কাছে জুস খাওয়ার বায়না ধরেছে। সুরুজ তার মেয়েকে বলছিল একটু পরে দিচ্ছি। কিন্তু মেয়ে নাছোড়বান্দা। তাই সুরুজ ফ্রিজ থেকে একটি জুস বের করে তার মেয়েকে দোকানে সামনের বেঞ্চে বসিয়ে দিলো। জুস দিয়ে সুরুজ চিন্তা করছিল বাচ্চাটা জুস খেতে থাক এর ভেতরে সে কাস্টমারের বাজারগুলো রেডি করুক।

সুরুজ এবার কাস্টমারের দিকে মনোযোগ দিলো। এর ভেতরে হঠাৎ করে শুনতে পেল তার দোকানের সামনেই রাস্তার অপর পাশে বেশ কিছু ছেলে পেলে জোরে চিৎকার চেঁচামেচি করছে। সুরুজ তাকিয়ে দেখল এলাকার উশৃংখল ছেলেপেলে গুলো চিৎকার চেঁচামিটি করছে। সে মনে মনে বলল এটা তো এদের রোজগার কাজ। তারপর সে নিজের কাজে মনোযোগ দিল। হঠাৎ করে সুরুজ তাকিয়ে দেখে ছেলে পেলেগুলো নিজেদের ভেতর মারামারি শুরু করেছে। এরপর সে কয়েক রাউন্ড গুলির আওয়াজ শুনতে পায়। ঘটনার আকস্মিকতায় সুরুজ হতবাক হয়ে গিয়েছে। সে দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় দোকান করছে। কিন্তু এই ছেলেগুলোর মারামারিকে কোনদিন এই পর্যায়ে যেতে দেখেনি।

হঠাৎ করে সুরুজ সামনে তাকিয়ে দেখে তার মেয়ে বেঞ্চে নেই। পরক্ষণেই সে দেখতে পায় তার মেয়ে দোকানের সামনে ফ্লোরে পড়ে আছে। আর তার ছোট্ট শরীর থেকে রক্ত বের হয়ে ফ্লোর ভিজে যাচ্ছে। সুরুজ দোকান থেকে বের হয়ে মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরে। ইতিমধ্যে আশেপাশের দোকান থেকে আরো বেশ কিছু লোকজন চলে এসেছে। তারা সুরুজকে বলতে থাকে এখানে সময় নষ্ট না করে তাড়াতাড়ি বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালে যাও। এর ভেতর সুরুজের পাশের দোকানের রমিজ ভাই সে সুরুজ কে বলে আমি তোমার দোকান বন্ধ করে দিচ্ছি। তুমি তাড়াতাড়ি আগে হাসপাতালে যাও।

এই কথা বলে সে বাজারের আরো দু চারজন দোকানদারকে বলে তোরাও সুরুজের সাথে যা। সাথে সাথে সুরুজ তার মেয়েকে নিয়ে একটি অটো রিক্সায় করে হাসপাতালে রওনা দেয়। হাসপাতালে পৌঁছে সে ইমারজেন্সি ওয়ার্ডে গিয়ে বলে তাড়াতাড়ি আমার মেয়ের চিকিৎসা করেন। না হলে ও বাঁচবে না। এমারজেন্সি ওয়ার্ড এর ডাক্তার জিজ্ঞেস করে আপনার মেয়ের কি হয়েছে। তখন সে বলে তার গায়ে গুলি লেগেছে। তখন ডাক্তার বলে এটাতো পুলিশ কেস। পুলিশ না আসলে তো আমরা চিকিৎসা শুরু করতে পারবো না। তখন সুরুজ অনেক অনুনয় বিনয় করে তাদের কাছে। তারপর ডাক্তার তার চিকিৎসা শুরু করতে রাজি হয়। তবে সে এটা বলে আপনারা তাড়াতাড়ি পুলিশকে খবর দিন। পুলিশের এখানে আসাটা জরুরী।

সুরুজের সাথে থাকা দোকানদারেরা বলে স্যার আপনি চিকিৎসা শুরু করেন। আমরা এখনই থানায় খবর দিচ্ছি। ডাক্তার সুরুজকে বলে তাড়াতাড়ি মেয়েকে নিয়ে অপারেশন থিয়েটারে আসেন। ওকে ইমারজেন্সি অপারেশন করতে হবে। তারপর সুরুজ সামনে একটি ট্রলি দেখে সেই ট্রলিতে মেয়েকে রেখে ট্রলি নিয়ে অপারেশন থিয়েটারের সামনে যায়। সেখান থেকে ওয়ার্ড বয় সুরুজের মেয়েকে ভিতরে নিয়ে যায়। একটু পরে ডাক্তার বাইরে এসে বলে তাড়াতাড়ি কয়েক ব্যাগ রক্তের ব্যবস্থা করুন। আপনার মেয়ের শরীর থেকে বেশিরভাগ রক্ত বেরিয়ে গিয়েছে। তাকে দ্রুত রক্ত দিতে হবে। সুরুজ চিন্তা করে পায় না এখন সে কোথা থেকে রক্ত জোগাড় করবে ? (চলবে)

ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইসহুয়াই নোভা 2i
ফটোগ্রাফার@rupok

logo.png

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png

standard_Discord_Zip.gif


break .png

Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote


VOTE @bangla.witness as witness


witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png



🇧🇩🇧🇩ধন্যবাদ🇧🇩🇧🇩


@rupok

Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 3 years ago 

আসলে আমাদের জীবনে অনেক সময় অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে যায়। এই গল্পে অন্যদের মারামারির জন্য সুরুজের মেয়ে তথাপি সুরুজের পরিবার আজ ভুক্তভোগী। হাসপাতালের ডাক্তাররা পুলিশ আসার আগেই চিকিৎসা শুরু করে দিয়েছে সেজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। শেষ পর্যন্ত সুরুজ রক্তের ব্যবস্থা করতে পেরেছে কিনা, এবং সুরুজের মেয়ে সুস্থ হয়েছে কিনা সেটা জানার আগ্রহ অনেক বেড়ে গেল। যাইহোক পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম ভাইয়া। এই পোস্টটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।

 3 years ago 

ভাইয়া আপনার গল্পের প্রথম পর্বটি পড়ে বেশ ভালো লেগেছে আমার। গল্পটি বেশ জমে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, সুরুজ তার গুলি লাগা আহত মেয়ের চিকিৎসার জন্য কিভাবে রক্ত জোগাড় করে। ভাইয়া আপনার গল্পের দ্বিতীয় পর্বটি পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।

 3 years ago 

বেশ টান টান উত্তেজনা রয়েছে! পরের পর্ব টাও পড়বো আজকে। তবে সম্পূর্ণটা আজ শেষ করতে পারবো না।সুরুজ তার মেয়ের জন্য কিভাবে অবশেষে রক্ত জোগাড় করতে পারলো পরের পর্বে জানতে পারবো। তাই পরের পর্বটা পড়বো।একজন প্রকৃত বাবা ই হয়তো এত দরদ দিয়ে এইভাবে একটা গল্প নামাতে পারে।খুব সুন্দর হয়েছে গল্পটা দাদা।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.098
BTC 63858.62
ETH 1839.66
USDT 1.00
SBD 0.38