দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা ?

কেমন আছেন আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা? আমি ভালো আছি। আশাকরি আপনারা ও ভালো আছেন।


গত বেশ কিছুদিন ধরে ঢাকায় একের পর এক অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। শুরু হয়েছিল সিদ্দিক বাজার থেকে। তারপর বঙ্গ বাজার তারপর নিউমার্কেট। এরপর টঙ্গী একটি মার্কেটেও আগুন লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ঘটনাগুলো যখন প্রথম শুরু হয় তখন এগুলো নিছক দুর্ঘটনা মনে হয়েছিল। কিন্তু দিন গড়াচ্ছে আর এই অগ্নি দুর্ঘটনা গুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এগুলো কি আসলেই কোন দুর্ঘটনা ছিলো নাকি পরিকল্পিত কোন নাশকতা?

Screenshot_20230416-225341.jpg

ছবি সোর্স- সময় টিভি

একেতো রমজান মাস তার উপর প্রচন্ড গরম। এদিকে ঈদ আসন্ন প্রায়। এই সময় বঙ্গবাজার এবং নিউমার্কেটের মত দুটি বড় মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের কারণে হাজার হাজার দোকানদার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু কি হাজার হাজার দোকানদার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ? মোটেই তা নয়। এই হাজার হাজার দোকানদার এবং কর্মচারীদের সাথে জড়িত তাদের পরিবারের সকলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে সমস্ত লোকজনের চোখে মুখে কিছুদিন আগেও স্বপ্ন ছিল নানা রকমের। আজ সেই সকল চোখ থেকে শুধু নির্বাক অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।

প্রথমত আমাদের দেশের স্থাপনা গুলোতে অগ্নি নির্বাপনের ভালো কোন ব্যবস্থা নেই। স্থাপনাগুলিতে নানা রকম ত্রুটি রয়েছে। যে কারণে অগ্নি দুর্ঘটনা আমাদের দেশে অন্যান্য দেশ থেকে অনেক বেশি ঘটে থাকে। আবার বঙ্গ বাজারের মতো কাঠ দিয়ে তৈরি যে সমস্ত স্থাপনা সেগুলো এমনিতেই অগ্নিকান্ডের ঝুঁকিতে থাকে। তার ওপর আবার এই রকমের পরিবেশের কারণে সেই ঝুঁকি আরো বেড়ে গিয়েছে। এখন এই দুর্ঘটনাগুলো কি শুধুই কোন দুর্ঘটনা নাকি তৃতীয় কোনো পক্ষ দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য নাশকতা করছে সেটা আমাদেরকে চিন্তা ভাবনা করতে হবে। এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খুঁজে বের করতে হবে।

গতকাল টঙ্গীর একটি মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল। কয়েকজন দোকানির চোখে সেটা পড়ে যাওয়ায় তারা দ্রুত সেই আগুন নিভিয়ে ফেলে। যার ফলে টঙ্গীর সেই মার্কেটটি অগ্নিকাণ্ডের দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যায়। কিন্তু এই ঘটনায় একজনকে সন্দেহ করা হচ্ছে। যিনি সন্দেহজনকভাবে মার্কেটের ভেতর ঘোরাফেরা করেছেন। তারপর সময় সুযোগ বুঝে একটি জায়গায় আগুন লাগিয়ে সেখান থেকে চম্পট দেন। বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডের আগে রাতের বেলায় দুজন আগন্তুক এসে বঙ্গবাজারের কাছ থেকে ঘুরে গিয়েছিল। বঙ্গবাজারের আগুনটাও এদের লাগানো কিনা সেটাও বা আমি আপনি কিভাবে বুঝবো?

এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো থেকে আরও একটি জিনিস আমাদের সকলের নজরে এসেছে। যে বিষয়টা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে কথা হচ্ছিল। সেটা হচ্ছে ঢাকা শহরের জলাশয় এর অভাব। বঙ্গবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পানির ব্যবস্থা হয়েছিল ঢাকা ভার্সিটির একটি হলে অবস্থিত পুকুর থেকে। আর নিউমার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পানির যোগান এসেছে ঢাকা কলেজের পুকুর থেকে। চিন্তা করে দেখুন যদি এই দুটি প্রতিষ্ঠানের পুকুর না থাকতো তাহলে এই অগ্নিকাণ্ডের পানির ব্যবস্থা কিভাবে করা হতো? অথচ দীর্ঘদিন থেকেই পরিবেশবাদীরা বলে আসছে ঢাকা শহরের জলাশয় গুলোকে সংরক্ষণ করার কথা। কিন্তু সরকারের সেদিকে কোন নজর নেই।

অরাজকতার মাধ্যমে ঢাকা শহরকে কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত করা হয়েছে। যার ফলে ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা আরো বাড়তে থাকবে। তখন পানির যোগান কোথা থেকে আসবে সেটা কি কেউ চিন্তা করেছে? কোন সমস্যা শুরু হলে আমরা তখন শুধু সেটা নিয়ে কথা বলি। কিন্তু সেই সমস্যা শেষ হয়ে গেলে আবার সেটা বেমালুম ভুলে যাই। যার ফলে দুদিন পরপর এই ধরনের সমস্যা আবার ফিরে আসে। ঢাকা শহরে হয়ে যাওয়া গত কয়েক দিনের এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো আমাদের জন্য একটি সতর্কবাণী। আমরা যদি এখনো সতর্ক না হতে পারি। তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড আরও ঘন ঘন ঘটবে। তখন আমাদের শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না।

আর যদি এই ঘটনাগুলো কোন ধরনের নাশকতা হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রেও আমি বলব এটা প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা। কারণ এই সমস্ত নাশকতা ঠেকানোর দায়িত্ব প্রশাসনের। তারা যদি তৎপর থাকতো থাকে তাহলে এই ধরনের নাশকতা ঘটানোর সুযোগ কেউ পাবে না। তবে নাশকতাই হোক আর দুর্ঘটনায় হোক। আমি নিশ্চিত দেশের কোন মানুষই আর এই ধরনের ঘটনা দেখতে চায় না। দেশের বড় দুটো ব্যবসায় কেন্দ্রের ব্যবসা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। কত মানুষ যে পথে বসেছে তার ইত্তা নেই। দুদিন পরে সবার জন্য খুশির ঈদ। সেই ঈদের আগে এমন ভয়াবহ ঘটনা কারোরই কাম্য নয়।

আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।


logo.png

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png

standard_Discord_Zip.gif


break .png

Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote


VOTE @bangla.witness as witness


witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png



🇧🇩🇧🇩ধন্যবাদ🇧🇩🇧🇩


@rupok

Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 3 years ago 

আসলে এরকম একটার পর একটা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা খুব সহজ বিষয় নয়, এখানে কোন বড় ধরনের চক্রান্ত থাকতে পারে। ঈদকে কেন্দ্র করে যারা কাপড়ের বড় ধরনের ব্যবসা করবে বলে স্বপ্ন দেখেছিল আজ তাদের শুধুই হাহাকার। আর একটার পর একটা ঘটনা সত্যিই মেনে নেয়ার মতো নয়।
জলাশয়ের অভাব ঢাকা শহরে সবসময়ই রয়েছে কারন সংস্কারের অভাব আর দায়িত্বহীনতা। অপরিকল্পিত নগরী হলো ঢাকা শহর, তাই এধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে বলে আমি মনে করি।

 3 years ago 

আমারও মনে হয় যে ভাইয়া এটা নিচ্ছক কোন দুঘর্টনা নয়। এটা কোন চক্রান্ত। যে চক্রান্তের বলিদান হয়েছে সাধারণ মানুষ এবং অসহায় পরিবার গুলো। সঠিক তদন্ত করলেই এই চক্রান্তের বেড়াজাল ছেদ করা সম্ভব বলে আমার বিশ্বাস।

 3 years ago 

সত্যি এমন ঘটনাখুবই দুঃখজনক।এটা কি সত্যি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত ঘটনা সেটাই এখন ভাবনার বিষয়। সবকিছুর স্বীকার এই সাধারন মানুষের ই হতে হয়।খুব সুন্দর লিখেছেন ভাইয়া। সঠিক ভাবে বিচার বিশ্লেষন করে এর যথার্থ কারন বের করা উচিত বলে আমি মনে করি।

 3 years ago 

আসলে কয়েকদিন থেকে অগ্নিকাণ্ডের নিউজগুলো দেখতে দেখতে ভীষণ খারাপ লাগছে। একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। আসলে এটা ইচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা কিনা সেটা বুঝা খুবই মুশকিল। তবে অনেকেই ধারণা করছে হয়তো কেউ ইচ্ছে করে এগুলো করছে। তবে এই নাশকতা ঠেকানোর জন্য প্রশাসনকে আরো বেশি তৎপর হতে হবে এবং সেই বিষয়গুলোর উপর কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ভাইয়া আপনার লেখাগুলো পড়ে অনেক ভালো লাগলো।

 3 years ago 

আসলেই পরপর অগ্নিকাণ্ডগুলো ঘটেছে বিষয়টা বেশ সন্দেহজনক। জানিনা এগুলো কোন নাশকতা নাকি দুর্ঘটনা। তবে এইসব নিউজগুলো যখন চোখের সামনে আসছে তখন মনের ভিতরে বেশ খারাপ লাগে কাজ করছে। না জানি যারা এই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে তাদের এখন কি অবস্থা। যাইহোক প্রশাসনের উচিত এসব বিষয়ের উপর বেশি ভালোভাবে নজর দেওয়া। এবং ভালো করে তদন্ত করা উচিত যে এগুলো কোন নাশকতা নাকি দুর্ঘটনা। পোস্টটি পড়ে ভালো লাগলো ভাইয়া ধন্যবাদ আপনাকে এই সুন্দর পোস্টে আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

আমার কাছেও মনে হয় এগুলো কোন দুর্ঘটনা নয়। নয়তো ঈদের মাত্র কয়েকদিন আগে অগ্নিকাণ্ডে পরপর এত বড় দুটি ব্যবসায়িক কেন্দ্র একেবারে নিঃশেষ হয়ে গেল। ব্যাপারটা অবশ্যই রহস্যজনক। তাই প্রশাসনের উচিত সঠিক তদন্তের মাধ্যমে রহস্যের উদঘাটন করা। নয়তো আমাদের পুরো দেশ তথাপি অর্থনৈতিক অবস্থা একেবারে তলানিতে চলে যাবে। সময়োপযোগী একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া।

 3 years ago 

আমাদের দেশের স্থাপনা গুলোতে ত্রুটি আছে ঠিকই কিন্তু এগুলো আমার মনে হয়না দুর্ঘটনা।নির্বাচন সামনে তাই এসকল কার্যক্রম।একটিতে আগুন লাগতে পারে স্বাভাবিক ব্যপার।কিন্তু পরপর এভাবে মার্কেট গুলোতে কেন আগুন লাগবে।যাদের সন্দেহ করা হয়েছে বঙ্গবাজার এবং টঙ্গী মার্কেটে আগুন লাগার ঘটনায় আশা করি দ্রুত এর রহস্য ভেদ হবে।তবে এসকল নির্বাচনের রেষারেষির জন্য ক্ষতি হচ্ছে সাধারণ মানুষের।কয়েকবছর আগে যেমন পেট্রোল বোমার ঘটনা ঘটেছিল,বিষয়টা ওরকমই।আপনি খুব সুন্দর লিখেছেন বিষয়টি।ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য ভাইয়া।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.103
BTC 63564.47
ETH 1885.34
USDT 1.00
SBD 0.37