আজকের প্রাত ভ্রমন।

কেমন আছেন আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা? আমি ভালো আছি। আশাকরি আপনারা ও ভালো আছেন।


আপনারা জানেন আমি সকালে ঘুম থেকে উঠে হাটাহাটি করার চেষ্টা করি। তবে কখনোই আমি নিয়মিত হাটাহাটি করতে পারিনা। দেখা যায় কিছুদিন পরপর কোন না কোন সমস্যার কারণে হাঁটাহাঁটি কিছুদিন বন্ধ রাখতে হয়। এবারও তাই হয়েছিলো। কিছুদিন আগে যখন হাটাহাটি শুরু করলাম তখন হঠাৎ করে আমার ঠান্ডা লেগে গেলো। এখন সকালের দিকে যেহেতু হালকা কিছুটা কুয়াশা পড়ে তাই সকালে হাটাহাটি কয়েকদিন বন্ধ রেখেছিলাম। কয়েকদিন বন্ধ রাখার পর গত পরশুদিন এবং গতকাল এই দুদিন সকালে বাড়ির ছাদে হাঁটাহাঁটি করেছি। গতকাল রাতে ঠিক করেছিলাম আজকে সকালে বাইরে হাঁটতে বের হবো। সকালে ঘুম থেকে উঠে ফজরের নামাজ পড়ে কিছুক্ষণ পর হাঁটতে বের হয়েছিলাম।

IMG_20231111_065944.jpg

আজকে উদ্দেশ্য ছিলো প্রথমে পদ্মার পাড়ের দিকে যাবো। তবে বেশ কিছুদিন বিরতির পর হাঁটতে বের হলে একবারে বেশি সময় হাঁটা উচিত নয়। তাহলে সেটা নানা রকম সমস্যা তৈরি করতে পারে। এই কারণে আমি ঠিক করলাম প্রথমে তিন কিলোমিটার আমি হেঁটে যাবো। তারপর সেখান থেকে রিক্সা করে বা অটো রিক্সা করে পদ্মার পাড়ে পৌঁছাবো। যাই হোক সেই পরিকল্পনা মোতাবেক আজ সকালে আমি হাঁটতে বের হয়েছিলাম। আপনারা যারা সকালে হাটাহাটি করেন তারা এই বিষয়টা বুঝতে পারবেন শীতের সকালে হাঁটার একটা আলাদা মজা রয়েছে। গরমের দিনের থেকে শীতের দিনে হেঁটে বেশি মজা পাওয়া যায়। আজকে সকালে যখন হাঁটতে বের হয়েছিলাম তখন বাইরে বেশ ঠান্ডা ছিলো। আমি এই জন্য টি-শার্টের উপর একটা পাতলা সোয়েটার পড়েছিলাম।


IMG_20231111_073604.jpg

বেশ কিছুদিন পর বাইরে হাঁটতে বের হয়ে বেশ ভালোই লাগছিলো। হাঁটতে হাঁটতে যখন তিন কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করলাম। তখন চিন্তা করলাম এখন অটো রিক্সা করে পদ্মার পাড়ে চলে যাই। অবশ্য ততক্ষণে আমার কিছুটা ক্ষুধা লেগেছিলো। সামনে দেখতে পেলাম একটি হোটেল। তখন চিন্তা করলাম নাস্তা করে তারপরে পদ্মার পাড়ে যাই। সাথে সাথেই আমি সেই হোটেলে ঢুকে পড়লাম। এই হোটেলটি থেকে আমি মাঝে মাঝে নাস্তা করি। এখানকার সকালের নাস্তাটা বেশ ভালো। মূলত এটি একটি মিষ্টির দোকান। এখানে সকালে শুধু নাস্তার ব্যবস্থা করে। আমি সেখানে বসে পরোটা, সবজি আর ডিম দিয়ে নাস্তা সেরে নিলাম। নাস্তা শেষ হতেই আমি অটো রিক্সা করে পদ্মার পাড়ে পৌঁছে গেলাম। আমি যখন পদ্মার পাড়ে এসেছিলাম তখন নদীতে প্রচুর পানি ছিলো। আজ সকালে যখন আমি পদ্মার পাড়ে পৌঁছলাম তখন নদীর অবস্থা দেখে অবাক হয়ে গেলাম। এই মাসখানেকের ভেতরে দেখি নদীতে পানি অনেক কমে গিয়েছে। যার ফলে নদীর ভেতরে বিশাল আকারের চর আবার জেগে উঠেছে।


IMG_20231111_073700.jpg

তবে চরের অবস্থা দেখে বুঝতে পারলাম পানি নেমেছে খুব একটা বেশিদিন হয়নি। কারণ চরের বেশিরভাগ জায়গার মাটি এখনো ভেজা। অবশ্য এই চর জেগে ওঠার কারণে চরের মানুষজনের জন্য কষ্ট বেড়ে গিয়েছে। কারণ তাদেরকে এখন এই পুরো চরটা হেঁটে পাড়ি দিয়ে তারপর নৌকায় উঠতে হবে নদীর অপর পাড়ে যাওয়ার জন্য। যাইহোক অনেকদিন পরে পদ্মার পাড়ে গিয়ে বেশ ভালো লাগছিলো। একবার মনে করেছিলাম হেঁটে চরটা পার হয়ে নদীর পানি পর্যন্ত পৌঁছে দেখি। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় কাদা থাকার কারণে সেটা আর করার সাহস পায়নি।


IMG_20231111_073651.jpg

আমার আরো একটা বিষয় নিয়ে কৌতুহল ছিলো সেটা হচ্ছে পদ্মার পাড়ে একটি রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছিলো। এই রেস্টুরেন্টে লোকজন আসতো কারণ যখন নদীতে পানি থাকতো। তখন এই রেস্টুরেন্ট থেকে নদীর একটা চমৎকার ভিউ পাওয়া যেতো। এখন সে রেস্টুরেন্টের কি অবস্থা সেটাও দেখার ব্যাপারে আমি আগ্রহী ছিলাম। তবে সেখানে গিয়ে বুঝতে পারলাম রেস্টুরেন্টের অবস্থা বুঝতে হলে আমাকে সেখানে বিকালে যেতে হবে। কারণ সেই রেস্টুরেন্টে লোকসমাগম হোতো বিকালের দিকে। পদ্মার পাড়ে যাওয়ার আগে চিন্তা করেছিলাম যদি সময় থাকে তাহলে একবার সিএনবি ঘাট মাছের বাজার থেকে ঘুরে আসবো। কিন্তু বেলা বেশি হয়ে যাওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাতিল করে আমি চলে গেলাম ফরিদপুর মাছ বাজারের দিকে। সেই গল্প অন্য আরেকদিন করবো।

আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।


ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইসহুয়াই নোভা 2i
ফটোগ্রাফার@rupok
স্থান


🇧🇩🇧🇩ধন্যবাদ🇧🇩🇧🇩


@rupok

Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 3 years ago 

আমিও প্রত্যেকদিন চেষ্টা করি সকালে একটু হাঁটার। শুধু শরীরের ওজনের জন্যই নয় সুস্থ মানুষকেও শরীর চর্চা করা প্রয়োজন। তাই চেষ্টা করি ফজরের নামাজের পর একটু হাঁটতে বের হওয়ার। কিন্তু মাঝে মাঝে ব্যাঘাত ঘটে। এক ঘন্টা হেঁটে আসার পর সংসারে কাজ করা অনেক কষ্টের। পদ্মা নদীর পাড়ে কখনো যাওয়া হয়নি। এরকম সুন্দর চর কখনো নিজের চোখে পরিদর্শন করার সৌভাগ্য হয়নি।

 3 years ago 

সকালে হাঁটার মজা তো জানি। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠাই হয় না। আর সকালে পরোটা এবং সবজি হলে আর কী লাগে বলেন ভাই। সকালে পদ্মার পারে। আর মাছ বাজারের গল্প না হয় অন্য কোন পোস্টে শুনব। সকালে হাটাহাটি টা চালিয়ে যাইয়েন ভাই।

Posted using SteemPro Mobile

 3 years ago 

আমিও বেশ কয়েকদিন ধরে ভাবছি সকালে হাঁটতে বের হবো,কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠতেই পারি না। সেজন্য ফজর নামাজ কাজা আদায় করতে হয় এবং বাকি চার ওয়াক্ত নামাজ পড়া হয়। আসলেই শীতের দিনে সকালবেলা হাঁটার মজাই আলাদা। যাইহোক সকাল সকাল তিন কিলোমিটার পথ হেঁটে হোটেলে নাস্তা করে, তারপর অটোরিকশা দিয়ে পদ্মার পাড় গিয়ে চমৎকার সময় কাটিয়েছেন ভাই। ফটোগ্রাফি গুলো দেখে এবং পোস্টটি পড়ে সত্যিই খুব ভালো লাগলো। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।

Posted using SteemPro Mobile

 3 years ago 

সকালে হাঁটাহাঁটি করা সত্যি ই খুব ভালো। সকালে হাঁটলে মনটা ফুরফুরা হয়ে যায়। আপনি হাঁটাহাঁটি করে নাস্তা করলেন।এরপর পদ্মার পাড়ে গিয়ে সুন্দর সময় কাটিয়েছেন। আর ফটোগ্রাফি ও চমৎকার হয়েছে।ধন্যবাদ আপনাকে অনুভূতি গুলো শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

আপনি বেশ কয়েকদিন পর আজকে আবারো বাইরে হাঁটতে বের হয়েছিলেন যেন ভালো লাগলো। আসলে হাঁটাহাঁটি করার আমাদের শরীরে পক্ষে বেশ উপকারী। যদিও বা আমার এখন আর আগের মতো হাঁটা হয় না। তবে তারপরেও কিছুটা হলেও হাঁটা হয়ে থাকে। যাই হোক আপনি ঠিক বলেছেন অনেকদিন পর হাঁটা শুরু করে একদিনে অনেক বেশি হাঁটা ভালো নয়। তাই ভালো করেছেন তিন কিলোমিটার হেঁটে তারপর একটা গাড়িতে করে পদ্মার পাড়ে গিয়ে। যাইহোক ধন্যবাদ আপনাকে আপনার সকালে হাঁটাহাঁটি করার সুন্দর মুহূর্তটা আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.079
BTC 61368.35
ETH 1616.94
USDT 1.00
SBD 0.41