আম কেনার সফল অভিযান (প্রথম পর্ব)।
গত কয়েক বছর ধরে আমি সব সময় চেষ্টা করি আমের সিজনে বাগান থেকে আম কিনতে। কারণটা আপনার ভালোই জানেন। বাজারে যে সমস্ত আম পাওয়া যায় সেগুলো সাধারণত নানা রকম রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে পাকানো হয়। যার ফলে এই আমগুলো আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে যায়। তাছাড়া এই আমগুলো খেতেও অতটা ভালো হয় না। এ কারণে আমি কয়েক বছর ধরে চেষ্টা করি বাগান থেকে আম কেনার জন্য। বাগানে গিয়ে নিজ হাতে যে আমগুলো ছিড়ে আনি সেগুলোতে এই ধরনের কেমিক্যাল থাকার কোন সম্ভাবনা থাকে না। আর তাছাড়া বাগান থেকে নিজ হাতে আম পাড়ার মজাই আলাদা।
গত কয়েক বছর আমি আর আমার বন্ধুর ফেরদৌস দুজন মিলে গিয়ে বিভিন্ন বাগান থেকে আম কিনতাম। তবে এবার ফেরদৌস ফরিদপুরে না থাকায় আমি এলাকার কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবের সাথে কথা বললাম আম কেনার ব্যাপারে। তারা বাগান থেকে আম কেনার জন্য খুব আগ্রহ প্রকাশ করলো। গতকাল রাতে তাদের সাথে কথাবার্তা বলে ঠিক করেছিলাম আজ সকালে আমরা আম কেনার জন্য রওনা দেবো। প্রথমে পরিকল্পনা করেছিলাম চারজন মিলে যাওয়ার জন্য। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর জানতে পারলাম একজনের পায়ের উপর বেসিন ভেঙে পড়ে তার পা কেটে গিয়েছে। তাই সে আর যেতে পারবে না। আর একজনের ফোন বন্ধ পেলাম। অথচ তাকে বারবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল সে আম কিনতে যাবে কিনা? সে প্রতিবারই সম্মতি জানিয়েছিলো। অবশ্য তার কাছ থেকে এটা অপ্রত্যাশিত ছিল না। কারণ আমাদের সেই বন্ধু ছোটবেলা থেকেই এমন। সে তার কমিটমেন্ট কখনো ঠিক রাখতে পারে না।
যাইহোক শেষ পর্যন্ত আমি আর আমার বন্ধু রাসু দুজন মিলে রওনা দিলাম আম কেনার জন্য। দুজনেই বাসা থেকে বের হয়েছিলাম অনেক সকালে। যার ফলে আমাদের বাসা থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরে ক্ষুধা লেগে গিয়েছিলো। তাই দুই বন্ধু মিলে একটি রেস্টুরেন্ট থেকে নাস্তা সেরে নিলাম। যে বাগান থেকে আম কিনব সেই বাগানের দূরত্ব আমাদের শহর থেকে বেশ খানিকটা দূরে। তাছাড়া সেখানে সরাসরি যাওয়ার কোন উপায় নেই। তাই আমরা বারবার যানবাহন বদল করে সেই বাগানে পৌঁছলাম। যদিও সেই জায়গাটা চিনতে আমার কিছুটা কষ্ট হয়েছিল। কারণ আমি সেই গ্রামের নামটি জানতাম না। তবে কয়েকবার যাওয়ার ফলে সেখানকার রাস্তাঘাট কিছুটা চীনেছিলাম। তবে জায়গাটা চিনতে কষ্ট হলেও সেখানে যাওয়ার জার্নিটা আমরা দুজনেই দারুন উপভোগ করেছি। গ্রামের ছায়াঘেরা রাস্তা দিয়ে ভ্যানে করে যাওয়ার মজাই আলাদা। যাইহোক শেষ পর্যন্ত যখন বাগানে পৌঁছলাম তখন মনটা ভালো হয়ে গেলো। সেখানে পৌঁছে দেখি বাগানের গাছগুলোতে প্রচুর আম ধরে রয়েছে।
অবশ্য কিছুদিন আগেও একবার এ বাগানে এসেছিলাম। তখন আম পাকার সময় হয়েছিলো না। যার ফলে তখন আম কিনতে পারিনি। যাইহোক বাগানে পৌঁছে বাগান মালিকদের খোঁজ করতে লাগলাম। খোঁজ করার কিছুক্ষণের ভেতরে একজন বৃদ্ধ মানুষ এসে হাজির হলো। যদিও এর আগে যতবার আমি আর ফেরদৌস এই বাগান থেকে আম কিনেছিলাম তখন অন্য লোককে দেখেছিলাম। পরবর্তীতে এই বৃদ্ধ লোকের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম আমরা এর আগে তার ছেলের কাছ থেকে আম নিয়েছিলাম। বৃদ্ধ লোকটি আমাদের কাছে আসার পর আমরা বললাম আমরা শহর থেকে এসেছি আম কিনতে। তখন তিনি আমাদের সাথে আম পারার কোটা নিয়ে রওনা দিলেন।
সেখানে তাদের মোট দুটি আম বাগান ছিলো। একটি তার বাড়ির সাথে লাগানো। আর অন্যটি তার বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে। আমরা সেই দূরের বাগানে গিয়েছিলাম। কারণ আমরা যে আম কিনতে গিয়েছিলাম সেই আমটা ওই বাগানটাতে ছিলো না। আপনাদের তো বলা হয়নি আমি মূলত আজকে গিয়েছিলাম হিমসাগর আম কিনতে। হিমসাগর আম আমার সবচাইতে পছন্দের একটি আম। এই আম পাকলে দারুন মজার হয়। যাইহোক আমরা সেই বৃদ্ধের পিছু পিছু তার আম বাগানের দিকে যেতে লাগলাম। বাগানটি বাড়ি থেকে কাছেই যার ফলে সেখানে পৌঁছতে আমাদের বেশি সময় লাগলো না। আমরা তার সাথে আম বাগানের দিকে যাচ্ছিলাম আর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ করছিলাম। তার কাছ থেকে কিছু বিষয় জানতে পেরে বেশ খারাপ লাগলো। তিনি আমাদেরকে জানালেন আম গাছ থেকে তাদের এখন খুব বেশি একটা লাভ হয় না। এর থেকে এই একই জায়গায় কলার বাগান করলে তারা অনেক বেশি লাভবান হতে পারবে। সেই কারণে তারা তাদের আমরুপালি আম গাছের যে বাগানটা ছিল সেই বাগানটা ইতিমধ্যে কেটে ফেলেছে। বাকি বাগান গুলোও এই বছরের শেষের দিকে কেটে ফেলবে।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
| স্থান | চর অযোধ্যা |
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
ভাইয়া আপনার বন্ধু রাসুর সঙ্গে নিয়ে আম কিনতে যাওয়ার মুহূর্তটুকু আপনি খুবই চমৎকার ভাবে আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন। আসলে ভাইয়া বৃদ্ধ লোকটির কথাগুলো সত্য। কারণ এ বছরে আম বিক্রয় করে তেমন একটা লাভবান হওয়া যাচ্ছে না। তবে কলাবাগানে বেশ উল্লেখযোগ্য ভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব হচ্ছে।