দীর্ঘদিন পর জাহিদ ভাইয়ের সাথে দেখা ও কথা বলার অভিজ্ঞতা।
যাই হোক অন্যান্য দিনের মতো আজকেও আমি মোটামুটি দ্রুত হাঁটছিলাম। প্রায় ২০ মিনিট হাঁটার পরে চিন্তা করছিলাম এখন বাসার দিকে ফিরতে হবে। তাহলে আমার আজকের দিনের মতো চল্লিশ মিনিট হাটা হয়ে যাবে। এর ভিতরে হঠাৎ করে এক পরিচিত লোককে দেখতে পেলাম। পরিচিত লোক বলতে যে খুব ঘনিষ্ঠ পরিচয় তার সাথে ছিলো ব্যাপারটা তেমন নয়। আমরা যখন স্কুলে পড়তাম তখন স্কুলের কাছে এক সারিতে বেশ কিছু দোকান ছিলো। সেখানে ওনার একটা বইয়ের দোকান ছিলো। উনার দোকান থেকে মাঝে মাঝে বই খাতা কেনা হতো। অবশ্য উনার সাথে পরিচয় হয়েছিল আমার প্রাইভেট টিউটরের মাধ্যমে। আমাদের এক প্রাইভেট টিউটর ছিলেন যিনি আমাদের পরিবারের প্রায় সকলকেই পড়িয়েছেন। এই বইয়ের দোকান মালিক আমাদের সেই প্রাইভেট টিউটরের এলাকার বড় ভাই হয়। সেই সূত্রেই তার সাথে পরিচয় হয়েছিলো।
যদিও উনি প্রথমে আমাকে চিনতে পারেনি। কারণ ২০ বছর যাবত ওনার সাথে আমার তেমন দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি। আমার আগের চেহারার সাথে বর্তমান চেহারার অনেক পার্থক্য থাকার কারণে হয়তো উনি আমাকে চিনতে পারেননি। তবে পরিচয় দেয়ার সাথে সাথেই চিনতে পারলেন। তো কুশলাদি বিনিময়ের এক পর্যায়ে উনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন আমি কি করি? যখন উনি আমার কাছ থেকে শুনলেন আমি অনলাইন ভিত্তিক কোন একটা প্লাটফর্মে কাজ করি তখন বেশ আগ্রহ প্রকাশ করলেন। উনি তখন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন এখন আমি কোন দিকে যাবো। আমি তখন বললাম আমি আরও কিছুক্ষণ হেঁটে তারপর বাড়ির দিকে ফিরবো। তখন উনি আমার সাথে হাঁটতে লাগলেন।
তারপর আমার কাজ সম্বন্ধে খুঁটিনাটি অনেক কিছু জিজ্ঞেস করলেন। একপর্যায়ে উনি জানালেন উনার একটা ছোটখাটো অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। আসলে উনি অর্গানিক কিছু পণ্য বিক্রি করেন উনার ফেসবুক পেজের মাধ্যমে। সেখানে কিভাবে উন্নতি করা যায় বা বিক্রি বাড়ানোর জন্য কি করা যেতে পারে সে ব্যাপারে আমার পরামর্শ চাইলেন। পরে আমি তাকে বুঝিয়ে বললাম আসলে এই ব্যাপার গুলি আপনাকে কোন ডিজিটাল মার্কেটার ভালো বোঝাতে পারবে। আমার এই ব্যাপারে খুব একটা অভিজ্ঞতা নাই। তারপরও আমি যতটুকু বুঝি উনাকে কিছু পরামর্শ দিলাম। উনি বয়সে আমার থেকে বেশ বড়। একপর্যায়ে উনি আমাকে বলতে লাগলেন আসলে আমাদের বয়সি লোকদের তথ্যপ্রযুক্তির এই ব্যাপারগুলি সম্বন্ধে খুব একটা খুব একটা ভালো ধারণা থাকে না। আমরা সবসময় খাতা-কলমে কাজ করে এসেছি। কিন্তু আজকালকার জেনারেশনের ছেলেরা এসব ব্যাপারে খুবই দক্ষ।
উনি বললেন আমি আমার প্রতিষ্ঠানের জন্য একজন চুক্তিভিত্তিক লোক নিয়োগ দিতে চাচ্ছি। আমাকে জিজ্ঞেস করলেন এই ধরনের লোকজন কোথায় পাওয়া যেতে পারে? তখন আমি তাকে পরামর্শ দিলাম যেহেতু আপনার ছেলে রয়েছে তাই আপনার আর নতুন কাউকে টাকা দিয়ে রাখার দরকার নেই। আপনার ছেলে যদি দিনে ২-১ ঘন্টা সময় আপনার ফেসবুক পেজের পেছনে দেয় তাহলে আশা করি আপনার ব্যবসায় উন্নতি হবে। তারপর আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে কিছু পরামর্শ দিলাম তাকে। এভাবে কথা বলে বলতে একসময় আমি আমার বাসার কাছাকাছি পৌছালাম। তারপর তার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিলাম। হাটাহাটির সময় পুরনো পরিচিত লোকদের সাথে মাঝে মাঝে দেখা হয়। তবে তাদের সাথে এত কথা বলার সুযোগ খুব কমই হয়। আজকে দীর্ঘদিন পর জাহিদ ভাইয়ের সাথে দেখা হয়ে কথাবার্তা বলতে পেরে বেশ ভালো লাগছিলো। মনে মনে চিন্তা করেছি এরপরে উনার সাথে দেখা হলে উনার ব্যবসার ব্যাপারে আরো কিছু খোঁজ খবর নেবো। যদি ওনার কোন সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজন হয় যেটা আমি করতে পারি সেটা করার ও চেষ্টা করবো। এই চিন্তা করতে করতে বাসায় ফিরে এলাম।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
| স্থান | ফরিদপুর |
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আসলেই ভাই প্রতিদিন সকালে ৩০/৪০ মিনিট দ্রুত গতিতে হাঁটাহাঁটি করলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ সহ বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন পর কারো সাথে দেখা হলে কথা বলতে বলতে কিভাবে সময় চলে যায় সেটা টের পাওয়া যায় না। যাইহোক জাহিদ ভাইকে অনলাইন বিজনেস এর ব্যাপারে সুপরামর্শ দিয়েছেন, এটা জেনে ভীষণ ভালো লাগলো। পোস্টটি পড়ে খুব ভালো লাগলো ভাই। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
সকালে হাঁটাহাঁটি সত্যি ই খুব ভালো।এতে অনেক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আমি বন্ধের দুই দিন ছাড়া প্রতিদিনই হাঁটি।তবে হাঁটার সময় একা হাঁটলেই ভালো। তাতে এক তালে হাঁটা হয়।আপনি অনেকদিন পর জাহিদ ভাইকে পেলেন।তিনি অনলাইন বিজনেস করেন।তাকে বেশকিছু পরামর্শ দিয়েছেন।আসলে আলোচনার মধ্যে দিয়ে অনেক কিছু জানা যায়। সুন্দর এই পোস্টটি শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।