ফুপুর সাথে কাটানো কিছু সুন্দর সময়
আসসালামু আলাইকুম,
আমার বাংলা ব্লগের সকল সদস্যরা কেমন আছেন সবাই? নিশ্চয়ই সবাই ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আজ আমি আপনাদের সাথে নতুন একটি ব্লগ নিয়ে হাজির হয়েছি।আশা করি আজকের ব্লগটি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।
একজন ফুপুর কথা শুনে হয়তো ভাবছেন আমার শুধু একজন মাত্র ফুপু। আসলে ব্যাপারটা সেরকম নয় আমার চারজন ফুপু ছিল। বাকি তিনজন না ফেরার দেশে চলে গেছেন। তাদেরকে চাইলেও আর কাছে পাবো না। কাছে পাওয়ার আর কোন সুযোগ নেই। একজন মাত্র ফুপু আমার বেঁচে আছেন।আসলে খালা ফুপুদের আদর ভালোবাসার সবটাই অন্যরকম হয় চারজন ফুপু তাদের অনেক ভালোবাসা আদরে বড় হয়েছি।আমার তিন ফুপুর ১৪ বছরের ছোট হচ্ছে আমার বাবা এজন্য আমার ফুফু দেখে দেখলে অনেকটা বেশি বয়স বলে মনে হয় আমার দাদী আমাকে ছেড়ে চলে গেছেন প্রায় চার বছর বয়সে। তারপর থেকে আরো একটু বেশি ভালোবাসতো যেহেতু দাদি ছিল না। চার ফুপুর একমাত্র ভাতিজি ছিলাম। আমার জেঠুর আর কোনো মেয়ে নেই আর আমার নিজেরও কোন বোন নেই তাই একমাত্র বংশের মেয়ে হিসেবে একটু বেশি আদর পেতাম। ফুপুরা ভাই-বোনরা যে কোন জায়গায় গেলেই বলতো আমাদের একমাত্র ভাতিজি একমাত্র বোন ভালই লাগতো শুনতে।
আমার এই ফুপু হচ্ছেন মেজ ফুপু। ছোটফুপু বছরখানেক আগে আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেছেন। সেজপুকুর সবার আগে চলে গেছেন। আমার এই ফুপুর সব ফুফুদের মধ্যে সুন্দরী ছিলেন। উনি যতক্ষণ আমার সামনে থাকতেন ছোটবেলা থেকে আমি শুধু উনার দিকে তাকিয়ে থাকতাম এত সুন্দর গায়ের রং এত সুন্দর চেহারা চোখ ফেরানো যায় না কিন্তু আমার এই ফুপুর ভাগ্যটা অনেকটা খারাপ ছিল। আমার ফুপা তাকে ছেড়ে চলে গেছেন মুক্তিযুদ্ধের ও নয় বছর আগেই।তারপরা তার চারমেয়েকে একাই বড় করেছেন।একা একা সংসার সমলানো অনেক বেশি কষ্টের। ফুপুর কাছে গল্প শুনতাম তার শ্বশুর সেই সময়ে ৫০০ বিঘা জমির মালিক ছিলেন।
এখন ফুপু আর তার শ্বশুর বাড়িতে থাকেন না।বয়স হওয়ার কারণে একা আর ঠিকমতো চলাফেরা ও করতে পারেন না তাই তার ছোট মেয়ের কাছে থাকেন।বেশ কয়েকদিন আগে বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তাই আমরা সবাই দেখতে গিয়েছিলাম। সবাই বলতে আমি,আমার মেয়ে,আমার ছেলে,আমার ছোট ভাই,আমার শ্বাশুড়ি সবাই মিলে।সবাই এক সাথে ট্রেনে করে যেতেও বেশ ভালো লাগছিল। আর এটা ছিল আমার ছেলের প্রথম ট্রেন ভ্রমণ।
ফুপুকে দেখে খুব খারাপ লাগছিল।একসময় কত কাজ করতো কত রান্না করতো।আমাদের জন্য কতো মজার রান্না করা শিখাতো।এখন সে আর তেমন চলাফেরা টাও করতে পারে না।আমার মেয়ে ছেলে কে দেখে এতো খুশি হয়েছিল বলে বোঝাতে পারব না।যতক্ষণ ছিলাম তার বেশিরভাগ সময় আমার হাত ধরে বসেছিল।কতরকম গল্প করছিলাম।বিশেষ করে আমার শ্বাশুড়ি কে দেখে বেশি খুশি হয়েছে।
ভালো লাগার সময় গুলো খুব বেশিক্ষণ থাকে না।আমরা সেদিন থাকতে পারিনি।বিকেলবেলা চলে আসতে হয়েছে।আসার সময় বুক ফেটে কান্না আসছিল।কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে সেদিনই চলে আসি।আবারও বিকেলবেলা ট্রেনে করে চলে আসি।
এই ছিল আমার আজকের আয়োজন। আজকের মতো এখানেই বিদায় নিচ্ছি।ধন্যবাদ সবাইকে।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
ঠিক বলেছেন আপু ভালো লাগার সময়গুলো বেশিক্ষণ থাকে না। কিভাবে যে সময়টা চলে যায় বোঝা যায় না। আপনার চারজন ফুপু তার মধ্যে আর একজন বেঁচে আছে। আপনার চারটি ফুফুর জন্যই অনেক অনেক দোয়া রইল আপু। বাড়ির একমাত্র মেয়ে হবার কারণে সবাই আপনাকে একটু বেশি আদর করত। আর আজকে আপনার ফুপু অসুস্থ থাকায় আপনার শাশুড়িসহ অনেক জন মিলে তাকে দেখতে গিয়েছেন জেনে বেশ ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপু সুন্দর মুহূর্ত আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
এখনকার ফটো দেখেও আসলে বোঝা যাচ্ছে যে বয়সকালে আপনার ফুফু কত সুন্দরী ছিলেন। আসলে আপু এটাই বাস্তব যে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের সৌন্দর্য এবং বাকি সবকিছু ধীরে ধীরে শেষ হতে থাকে। যাইহোক, আপনি আপনার ফুফুর কাছে গিয়ে সুন্দর সময় কাটিয়েছেন এবং গল্প করেছেন, সেটা জেনে অনেক ভালো লাগলো। তাছাড়াও আপনি এখানে বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরেছেন, যেগুলো পড়েও অনেক বেশি ভালো লেগেছে।
সময়ের সাথে সাথে সবাই হারিয়ে যায়। এটাই দুনিয়ার নিয়ম। আপু আপনার ফুফু যে অনেক সুন্দরী ছিলেন এটা বুঝতে পারছি। এখনো উনি অনেক সুন্দর। ফুফুর সাথে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দী করেছেন দেখে ভালো লাগলো আপু।
আন্দাজ হোক এই ছিল আমার আজকের সবচেয়ে ভালো আয়োজন। ধন্যবাদ সবাইকে! 😊