ছোট বেলার এক যন্ত্রনা দায়ক ঘটনা
হে লো আমার বাংলা ব্লগ বাসী। কেমন আছেন সবাই। আশা করি ভালো আছেন। আমিও অনেক ভালো আছি। আবার ও হাজির হলাম একটি পোস্ট নিয়ে। আশা করি সবার ভালো লাগবে।
সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আমার আজকের পোস্ট। আশা করি সকলেই ভালো আছেন। আপনাদের সকলের দোয়াতে আমিও খুবই ভালো আছি। আজ সকালে একটু ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব লেগেছে। দুপুরে আবার গরম লাগলো। এখন বিকালের দিকে আবার একটু শীত শীত ভাব লাগছে। আর ঠান্ডা আবহাওয়া আমার ভালো লাগে। তো আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করবো আমার ছোট বেলাকার একটি ঘটনা। এই ঘটনাটি ঈদ এর দিন ঘটে ছিলো। যা কখনো ভোলা সম্ভব নয়। তো আর কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করি।
তখন আমি ৩য় কি ৪র্থ শ্রেনীতে পড়ি। হুবহু মনে নেই। তবে যেটুকু মনে আছে তার আলোকে বলার চেস্টা করছি। আমাদের জীবনে তো কত রকমের ঘটনাই থাকে। কিছু হাসির কিছু কান্নার। কিছু সুখের কিছু আবার দুঃখের। কিছু যেমন আনন্দের আবার কিছু রয়েছে কষ্টের বা যন্ত্রনার।
সময়টা ছিলো সে সময়ের কুরবানির ঈদ। যেহেতু ছোট ছিলাম ঈদের দিন। কত ভাবেই না কাটাতাম আমরা ঈদের দিনটি। কত হই হই উৎসবের মধ্যে পালন করতাম। সেদিন নরমাল ভাবেই দিন কেটেছিল আমাদের। আর যেহেতু আমি ছোট ছিলাম তাই শুধু ঘুরে ঘুরে পশু কোরবানি দেখতাম। ঈদের আগে সময়টাও এভাবেই কাটাতাম আমরা। এলাকা এলাকায় ঘুরে দেখতাম কার কুরবানীর পশু কত বড়। যেহেতু ছোট ছিলাম তাই পরশুর কুরবানীর দায়িত্ব আমাদের ঘরে পড়তো না। ওটা বড়রাই সামলাতে। আমরা শুধু মজা করতাম। তো সেদিন সকাল দুপুর নরমাল ভাবেই কাটলো আমাদের। বিকেল বেলা আম্মু কোরবানির পশুর মাংস কাটতে বসেছিল আমি শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতাম। তখন অবশ্য এত গান বাজনার দিকে এতো ঝুকতাম না।
তো যেমনটা বলেছিলাম, আম্মু সেদিনও মাংস কাটতে বসেছিল। আমাকে কি যেন আনার জন্য বলল। তো সেটি ছিল আমাদের ওয়ারড্রব এর নিচে। তো আমাদের এইদিকে সব বাসায় যেটা করা হয় সেটা হচ্ছে ইট বিছিয়ে তার উপর ওয়ারড্রব রাখা হয়। তারপর সমান করার জন্য চারা বা টাইলস এর টুকরো ব্যবহার করা হয়। চারা হচ্ছে মাটির কোনো হাড়ি বা পাতিল বা কলস এর ভাংগা ছোট অংশ। আর টাইলস এর টুকরা তো চিনেনই আপনারা।
তো আমাদের সেই ওয়ারড্রব এর নিচেও একটি ইট ও টাইলস এর টুকরো ছিলো। আমি আম্মুর চাওয়া জিনিশ নিচ থেকে নিতে যেয়ে অসাবধানতা কারনে আমার ডান হাতের তর্জনী আংগুল এর নিচের দিকে রগ কেটে যায়। আর রক্ত ঝোড়তে থাকে। এতো রক্ত ঝোড়ে যে আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারিনি। মুহুর্তের মধ্যে ঘরের মেঝে রক্তে ভরে যায়। আম্মু কে ডাকলাম। আব্বুও পাশে ছিলো দৌড়ে এসে আগে আমার হাতের কাটা অংশ চেপে ধরলো রক্ত বন্ধ হওয়ার জন্য।
আমার পুরো হাত রক্তে ভরে যায়। আর শরীর খুব দুর্বল হয়ে পরে। আমাকে ডাক্তার এর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর ডাক্তার দেখে ভালো মতন মেডিসিন দিয়ে ব্যান্ডেজ করে দেয়। আমি অবশ্য ডাক্তার এর কাছে যেতে ভয় পাচ্ছিলাম। যদি সেলাই করে দেয়। তবে আল্লাহর রহমতে এখন পর্যন্ত আমার সেলাই লাগার মতন ইনজুরি হয়নি। ঈদটা অবশ্য সেদিন মাটি হয়ে গিয়েছিলো। তবে পরে আর সমস্যা হয়নি। ঘা শুকাতে সময় লেগেছিলো। কয়দিন তো আংগুল এর ওই অংশে কিছু অনুভব হতোনা। তারপর সেটাও ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যায়।
তো এই ছিলো আমার ছোট বেলার এক যন্ত্রনা দায়ক ঘটনা। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। পড়ে অনুভুতি জানাতে ভুলবেন না। চাইলে আপনার ছোট বেলার এমন কোনো ঘটনা ছোটো করে শেয়ার করতে পারেন। পড়লে পারলে ভালো লাগবে আমার।
░▒▓█►─═ ধন্যবাদ ═─◄█▓▒░
VOTE @bangla.witness as witness
OR
আসলে এখনকার আবহাওয়া টাই এরকম। সকালে যেমন শীত শীত লাগে। আবার বিকেল টাইম একটু শীত শীত লাগলেও দুপুরবেলা প্রচন্ড গরম।তবে আপনার ছোটবেলার গল্প পড়ে কিছুটা অবাক হয়ে গেলাম।মায়ের দেয়া কাজ করতে গিয়ে,,কি ঘটনা টাইনা ঘটিয়েছিলেন।হাতের রগ কেটে সে কি অবস্থা।তবে এটাও সত্য যে, ছোটবেলায় এরকম ঘটনা আমাদের অনেক আছে। ঘটনাটা পড়ে নিজের ছোটবেলার অনেক কথা মনে পড়ে গেল। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।♥♥
হুম আপু। এই ধরনের আবহাওয়া আমার কাছে সেরা লাগে। দারুণ হয়ে থাকে এই ধরনের আবহাওয়া গুলো।
আপনার ছোটবেলার যন্ত্রণাদায়ক ঘটনাটি শুনে খুবই খারাপ লাগছে। একই রকম একটি ঘটনা আজ দুপুরে আমার ভাগ্নের ঘটেছে ।ও খাটের উপর থেকে নিচে পড়ে দত্তের সাথে ঠোঁট কেটে অনেক রক্ত বের হয়েছে। আসলে ছোটবেলায় এমন অসাবধানতার কারণে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে যায়। সেই দিন ঈদের দিন ছিল তাই আপনার আনন্দটাও নষ্ট হয়ে গেছে।
আহা। আসলে হঠাত এমন দুর্ঘটনা ঘটে যায়। যা বুঝতেও সময় লেগে যায়।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
জি ভাই এখনো আবহাওয়া বেশ পরিবর্তন হচ্ছে ৷সকালে ঠান্ডা অনুভুতি হয় ৷ আবার দুপুরে গরম আর দুপুরের পরে শীত পরে ৷ এই সময়টা আবার বেশ ভালোই লাগে ৷
যা হোক আপনার শৈশবের যন্ত্রণা দায়ক লেখা গুলো পড়লাম ৷ আসলে এখনো গ্রামের বাড়িতে যে কোবো বাক্স বা ওয়ারড্রব যা নিচে সার্পোট দিয়ে রাখে ৷
আপনার ঈদের দিন এই ঘটনা ঘটেছে ৷ যা হোক খুব বেশি আহত হোন নি এটাই বড় বিষয় ৷
হুম ভাই। অল্পের উপর দিয়ে গেছে এটাই ভালো।
ঘটনাটা বেশ হৃদয় বিদারক ছিল। আমাদের সবার জীবনেই এইরকম দূর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু ঈদের দিন কখনো ঘটেনি আমার সঙ্গে।
এর আগে কখনো এমন ঘটেনি আমার সাথে। সেবার ঈদ এই এমনটা ঘটেছিলো।
এখন আবহাওয়াটাই এরকম সকালবেলা শীত শীত লাগে দুপুরে গরম আবার বিকেলবেলা ঠান্ডা ঠান্ডা লাগে। শীতের দিন আমার কাছেও অনেক ভালো লাগে গরমের থেকে। এতো ছোটবেলার ঘটনা আপনার মনে আছে এটাই জেনে আমি অবাক হলাম। আমার তো ছোটবেলার কিছুই মনে নাই। ছোটবেলায় কোরবানি ঈদের সময় আসলে মজাই হতো ঘুরে ঘুরে দেখা ছাড়া তো আর কোন কাজ থাকতো না। তারপরে আপনার আম্মু আপনাকে একটা কাজ করতে বলল আর আপনি তার উল্টোটা করে বসলেন, হাতের রগ কেটে একাকার অবস্থা করে ফেললেন নিজেও কষ্ট পেলেন অন্যদের ঈদটাও নষ্ট করলেন। ভালই লাগলো ভাইয়া আপনার ছোটবেলার কাহিনীটি পড়ে।
আর বলবেন না আপু। টাইলস এর টুকরা টা এমন ভাবে ছিলো যে দেখাই যাচ্ছিলোনা।
আপনার ছোটবেলার যন্ত্রণাদায়ক ঘটনাটি শুনে খুবই খারাপ লাগলো ৷ ছোট বেলায় মায়ের কাজ করতে গিয়ে হাতের রক কেটে গেলো আপনার জেনে খারাপ লাগলো ৷ আসলেই এমন ঘটনা কম বেশি সবার জীবনেই আছে ৷ এগুলো সত্যিই ভোলা যায় না৷
হুম একদম ঠিক বলেছেন। এমন ঘটনা আমাদের জীবনে কম বেশি সবারই আছে।
আপনার সেই ঘটনার সাথে মিল রেখে, ছোটবেলার আমারও এরকম একটা ঘটনা আছে।আমার বুড়ো আঙ্গুলের একটা অংশ কেটে গিয়েছিল তাল কাটতে গিয়ে। তিনটার মত সেলাই দিতে হয়। এখনো সেই ক্ষত জায়গাটা রয়েছে। যদি এখন আর বোঝা যায় না তেমন একটা। তবে আপনার ছোটবেলার দুর্ঘটনার কথা শুনে বেশ খারাপ লেগেছে। আপনার এবং আপনার পরিবারের ঈদটাই মাটি হয়ে গিয়েছিল।
আমার অবশ্য সেলাই লাগেনি। এমনিতে ঔষধ লাগানোর পরে ধীরে ধীরে সেরে যায়।
আহারে ঈদের আনন্দটাই মাটি তাই না। আমার মনে হয় ছোটবেলায় আমাদের সবার জীবনেই বিশেষ করে ছেলেদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা কম বেশি ঘটেছে। ঘটনাটি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
অতটা মাটিও হয়নি। কারণ ঐ ঘটনা ঘটেছিলো বিকেল বেলা।