তারিখ-২০.০৫.২০২৩
নমস্কার বন্ধুরা
আশা করি ঈশ্বরের আশীর্বাদে সকলে খুব ভালো আছেন।আমিও বেশ ভালোই আছি। আজকে চলে এলাম আর একটা উপস্থাপনা নিয়ে। আজকে আপনাদের সামনে নিজের আঁকা একটা ছবি নিয়ে এলাম। আসলে একটু আলাদা রকম কিছু করার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু মাঝে ব্যাঘাত ঘটালো রংগুলো। অনেকদিন ধরে ছবি না আঁকায় রং গুলো সবই জমে গিয়েছিল। এত শক্ত হয়ে গিয়েছিল যে কোথাও বেশি পড়ে যাচ্ছিল তো কোথাও কম।সেই কারণে যেমন ভেবেছিলাম ঠিক সেই ভাবে উপস্থাপনাটা করতে পারিনি। আসলে ফুটিয়ে তুলতে পারিনি নিজেরই বড্ড খারাপ লাগছে। তবুও যা চেষ্টা করেছি তার সম্পূর্ণটাই আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম। আজকে অফিসের কাজ খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাওয়াতে বেশ খানিকটা সময় পেয়েছিলাম।তাই ভাবলাম একটু অন্যরকম কিছু করব। কিন্তু হিতে বিপরীত হয়ে গেল। যা ভেবেছিলাম তা হলোই না। উল্টো কি সব হয়ে গেলো। আসলে প্রথম কথা তো রঙগুলো শুকিয়ে গিয়েছিল। তারপরে আমার এক পাশের বাড়ির দাদার ছেলে এসেছিল যে কিনা ভীষণ দুরন্ত। সে এসে আমাকে রং করতে দেখে পুরো রঙের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ল।বাচ্চা মানুষ মাত্র চার বছর বয়স। সেই কারণে কিছু বলতেও পারছিলাম না। আর ওইটুকু বাচ্চাকে কি বা বলবো? ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রথমে রং করার জলের বাটি নিয়ে পুরো জলটা আমার খাটে ফেলল। আজকে আমি ঘুমাবো কোথায় সেটাই ভাবার। 😒

যাই হোক তারপরে তার থেকে জল ছিটকে আমার আঁকার খাতার উপরে পড়লো। যে কারণে আরো ব্যাঘাত ঘটলো। ছবি আঁকাতে যেহেতু শুরু করে ফেলেছিলাম।তাই ভাবলাম মাঝপথে বন্ধ করে দেব তার চেয়ে এটাকেই আরেকটু ঠিক করে কিছু করা যাক। সেই কারণে এই ছবিটা আঁকলাম। আজকে তার উপরে এত শরীর খারাপ লাগছিল গরমে যে কি বলব! দু-তিন দিন ধরে বৃষ্টি হল।আজ আবার প্রচন্ড গরম। আজকে যে ছবিটা এঁকেছি সেই ছবিটা সালসা নৃত্যরত যুগলের ছবি। অর্থাৎ সালসার নাচের সময় বডির যে পশ্চার থাকে, সেই পশ্চারের একটা অংশ তুলে ধরে ছবি এঁকেছি। আর আজকের ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডটা সাদার বদলে একটু রঙিন রাখার চেষ্টা করেছি। আসলে ব্যাকগ্রাউন্ডটা আরেকটু অ্যাট্রাক্টিভ বানানো যেত। কিন্তু অনেক রং না থাকাতে সেটা করে উঠতে পারিনি। আজকের ছবিটি ওয়ান স্ট্রোক ড্রয়িং। অর্থাৎ একটা লাইন দিয়ে সম্পূর্ণ ছবিটা কে তুলে ধরা হয়। নিচে উপকরণ এবং পর্যায়গুলো ভাগ করে নিলাম।
🌼উপকরণ🌼
❤ খাতা
❤পেন্সিল
❤জল রং
❤মার্কার
❤তুলি
🍁পদ্ধতি🍁
🌼প্রথম ধাপ🌼
খাতার মধ্যে যে যেই রং ব্যবহার করবো সেই রং গুলো টিউব দিয়ে সরাসরি বিভিন্ন জায়গায় লাগিয়ে নিলাম।

🌼দ্বিতীয় ধাপ🌼
এইবার জলের সাহায্যে রং গুলোকে সম্পূর্ণ খাতাতে সমানভাবে ছড়িয়ে নিলাম।

🌼তৃতীয় ধাপ🌼
এবার পেন্সিল দিয়ে নৃত্যরত মেয়েটির আউটলাইনটি এঁকে নিলাম।

🌼চতুর্থ ধাপ🌼
এবার নৃত্যরত ছেলেটির আউটলাইন পেন্সিল দিয়ে এঁকে নিলাম।

🌼পঞ্চম ধাপ🌼
এবার মেয়েটির ড্রেসটা একটা হলুদ রং দিয়ে রং করে নিলাম।

🌼ষষ্ঠ ধাপ🌼
এবার মেয়েটির আউটলাইন কে একটি মার্কার দিয়ে এঁকে নিলাম।সাথে চুলটা কালো রং করে নিলাম।

🌼সপ্তম ধাপ🌼
এবার নৃত্যরত ছেলেটির মাথার টুপিটা হলুদ রং করে নিলাম। যেহেতু মেয়েটার জামা হলুদ করেছি তাই ছেলেটি টুপিও হলুদ করলাম।

🌼অষ্টম ধাপ🌼
এবার ছেলেটির পুরো শরীরটার আউটলাইন করে নিলাম মার্কেট দিয়ে।

🌼নবম ধাপ🌼
এবার মেয়েটির জামাটা এবং ছেলেটির টুপিটা আউটলাইন করে ছবিটা শেষ করলাম।

🌼দশম ধাপ🌼
এবার নিচে নিজের নাম এবং তারিখ লিখে দিলাম।

আজ এখানেই শেষ করছি। আবার আসবো নতুন করে উপস্থাপনা নিয়ে। কেমন হয়েছে জানাবেন। সকলে খুব ভালো থাকবেন।
🌸🌸🌸ধন্যবাদ🌸🌸🌸

আমি পায়েল।ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতার কাছাকাছি ডাক্তার বিধান রায়ের স্বপ্নের শহর কল্যাণীর বাসিন্দা।একসময় যদিও চাকরী করেছি কিন্তু বর্তমানে ফুলটাইম ব্লগার এবং ভ্লগার।যদিও নিজেকে এখনও শিক্ষানবিশ মনে করি। আর তা ই থাকতে চাই ।সফল হয়েছি কিনা বা কতদিনে হব তা জানি না, কিন্তু নিজের প্যাশনকেই লক্ষ্য করে এগিয়ে চলেছি।বাকিটা আপনাদের হাতে।আশাকরি আমার সাথে যুক্ত থাকলে আশাহত হবেন না।
Facebook
Instagram
YouTube


OR
Set @rme as your proxy


Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
দিদি এই রঙগুলো এমনই হয় আমার রং গুলোও অনেকটা শুকিয়ে গিয়েছে। তবে যখন আঁকতে বসি তখন একটু পানি মিশিয়ে আঁকতে হয়। আপনার একে তো রং শুকিয়ে গেছে তার ওপর আবার পাশের বাড়ির দাদার বাচ্চা ছেলে এসে রং গুলোকে একটু নষ্ট করে দিয়ে গেল। যাই হোক এত কিছুর মাঝেও আপনি কিন্তু খুব সুন্দর আর্ট করেছেন। আপনার এই আর্ট আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। মাঝে মাঝে এমন রঙ্গিন আর্ট করতে খুবই ভালো লাগে। বিভিন্ন কালার ব্যবহার করাতে এই আর্ট খুব সুন্দর ফুটে উঠেছে। দুজন মানুষের সালসা নৃত্য করার দৃশ্য খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। ধন্যবাদ।
খুব অসুবিধা হয়েছে। ধন্যবাদ। ❤