ময়নামতির জীবনের গল্প দ্বিতীয় বা শেষ পর্ব
আসসালামু আলাইকুম
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগ এর সকল ভাই ও বোনেরা কেমন আছেন? নিশ্চয় মহান সৃষ্টিকর্তার রহমতে সবাই বাড়ির সকল সদস্যকে নিয়ে ভালো আছেন সুস্থ আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং আপনাদের সকলের দোয়ায় ভালো আছি, সুস্থ আছি।সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করছি।
ময়নামতির জীবনের গল্প দ্বিতীয় বা শেষ পর্ব
বরাবরের মতো আজও আমি আপনাদের মাঝে এসেছি নতুন একটা পোস্ট নিয়ে। আসলে আজ এসেছি ময়নামতি গল্পের বাকি অংশ নিয়ে। গল্প লিখতে ও পড়তে আমার কাছে অনেক ভালো লাগে। তাই তো সব সময় চেষ্টা করি সপ্তাহে একটি করে গল্প লেখার জন্য। আমাদের চারপাশে যা কিছু ঘটে যায় তাই গল্প হয়ে থাকে। আজ ও তেমন একটা বাস্তব গল্প নিয়ে এসেছি। ময়নামতির জীবনের গল্প শেষ পর্ব নিয়ে। ময়নামতি সুখ দুঃখের মধ্যে দিয়ে বিয়ের অনেক বছর পার করেছে। কিন্তু ময়নামতি তার দুটি ছেলেকে পড়াশোনা করে মানুষ করেছে। ময়নামতির বড় ছেলে একটা কোম্পানিতে চাকরি করে ছোট ছেলে তখন ও চাকরি খুঁজছে।কিন্তু ছোট ছেলে চাকরি পাওয়ার আগেই ময়নামতির স্বামী মারা গেল।
ময়নামতি স্বামী মারা যাওয়াতে একেবারে ভেঙে পড়লো।আসলে ময়নামতিকে তার স্বামী অনেক ভালোবাসত। প্রিয় মানুষকে হারিয়ে ময়নামতি যেন একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়ল। যাইহোক আস্তে আস্তে ময়নামতি শোক কাটিয়ে উঠতে লাগলো। তারপর ময়নামতির দুই ছেলে ময়নামতিকে অনেক ভালোবাসে। এভাবে কয়েক মাস কেটে গেল ময়নামতির ছোট ছেলে চাকরি পেল। চাকরির জন্য দুই ছেলে বাইরে চলে গেল। তখন ময়নামতি সিদ্ধান্ত নিল বড় ছেলেকে বিয়ে করাবে।তারপর দেখে শোনে বড় ছেলেকে বিয়ে দিল।ময়নামতি ভেবেছিল ছেলের বউ হয়তো ময়নামতির সাথে থাকবে।কিন্তু ময়নামতি বুঝতে পারলাম না তার ধারণা ভুল। বিয়ের পরে ছেলে তার বউকে ময়নামতির কাছে রেখে গেল।দুদিন থেকেই ছেলের বউ তার বাবার বাড়িতে চলে গেল। আর আসবে না তার ছেলের সাথে থাকবে।
তারপর ছেলে বাসা নিয়ে বউকে নিয়ে গেল। আসলে ময়নামতি তখন ভাবলো আমার একায় থাকতে হবে বাকিটা জীবন। তবে ময়নামতির বড় ছেলের এভাবে বউয়ের কথা শুনে সাথে সাথে বাসায় যাওয়া উচিত হয়নি।যাইহোক তারপর ময়নামতি ছোট ছেলেকে বিয়ে করিয়ে সাথে সাথে বাসায় পাঠিয়ে দিল কিন্তু কোন ছেলে ময়নামতির কথা ভাবলো না। এদিকে ময়নামতি বাড়িতে হাঁস মুরগি পালন করা শুরু করলো।কারণ ময়নামতি চায় সে সব সময় কাজে ব্যস্ত থাকবে। কিন্তু বয়স হয়ে গেলে যে সব পারা যায় না। তবে ময়নামতির দুই ছেলে ময়নামতির তেমন কোন খোঁজ খবর রাখে না। ময়নামতির টাকা পয়সার অভাব নেই তবে লোকের বড় অভাব।
এভাবে ময়নামতির দুই ছেলের ঘরে নাতি নাতনি এসেছে কিন্তু ময়নামতিকে দেখার মতো কেউ নেই। তবে ময়নামতি একা জীবন বেশ ভালোই পার করছে। কিন্তু হঠাৎ করে ময়নামতি অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ে, তার ছেলেরা এসে ঢাকায় বড় হসপিটালে ভর্তি করে। ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরে জানতে পারে ময়নামতির ক্যান্সার হয়েছে । সে আর বেশিদিন পৃথিবীতে বাঁচবে না।এখন ময়না মতির একাই চলাফেরা করা অনেক সমস্যা। তাই ছেলেরা তাদের বাসায় নিয়ে যেতে চেয়েছিল তাদের মাকে। কিন্তু কোন ভাবে তার মাকে বাসায় নেবে না টাকা পয়সা দেবে কিন্তু তাদের কাছে রাখবে না। ময়নামতি ছেলে ও ছেলের বউয়ের কথা শুনে সে বলল আমি বাড়িতেই থাকব তোমাদের কাছে থাকবো না। তারপর ময়নামতির বাড়িতে রেখে যায়। ময়নামতির দূর সম্পর্কের এক বোন ময়নামতি কে একটু দেখাশোনা করত। তার বোন একদিন বাড়িতে ছিল না। আর তখন ময়নামতি বিছানা থেকে নামতে পারছিল না।তারপর পানি খাবার জন্য নেমে আসতেই মেঝেতে পড়ে মারা গিয়েছে। মারা যাবার কথা শোনে ছেলে ও তার বউয়েরা এসেছে। আসলে ময়নামতির কিন্তু টাকা পয়সা অভাব ছিল না কিন্তু টাকা পয়সা সব কিছু দিতে পারে না।আর একজন মা কতটা কষ্ট করে ছেলেমেয়েদের মানুষ করেছে। কিন্তু সন্তানেরা মার কষ্ট কখনো দেখে না। সত্যি এমন সন্তান থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো।
| প্রয়োজনীয় | তথ্য |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @parul19 |
| ডিভাইস | redmi note 12 |
| লোকেসন | ফরিদ পুর |
আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আবার দেখা হবে অন্য কোন ব্লগে অন্য কোন লেখা নিয়ে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।
আমি পারুল। আমার ইউজার নেম@parul19। আমার মাতৃভাষা বাংলা। বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি।আমি ফরিদ পুর জেলায় বসবাস করি।আমার দুটি মেয়ে আছে। আমি বাংলাই লিখতে ও পড়তে ভালোবাসি। আমি নতুন নতুন রেসিপি তৈরি করতে ও ঘুরতে পছন্দ করি।এই অপরুপ বাংলার বুকে জন্ম নিয়ে নিজেকে ধন্যবাদ মনে করি
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
এই গল্পের আগের পর্ব পড়েছিলাম। ময়নামতির জন্য আসলেই খুব খারাপ লাগলো। ময়নামতির ছেলেরা খুবই অন্যায় করেছে ময়নামতির সাথে। ময়নামতির ক্যান্সার ধরা পরেছে জেনেও,তারা নিজেদের সাথে রাখলো না ময়নামতিকে। অন্তত মৃত্যুর আগের শেষ কয়েকটি দিন যদি ময়নামতি সবার সাথে থাকতে পারতো,তাহলে কিছুটা হলেও শান্তি পেতো। এমন কুলাঙ্গার সন্তান থাকার চেয়ে না থাকা অনেক ভালো। যাইহোক এতো সুন্দর একটি গল্প আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আপু সিদ্ধান্ত বানান এভাবে হবে। আশা করি ঠিক করে নিবেন।
ধন্যবাদ আপনাকে ভুল ধরিয়ে দেওয়ার জন্য।