আমার বাংলা ব্লগ" প্রতিযোগিতা - ৪২ || ডাই কন্টেস্ট কাগজ দিয়ে ফুল তৈরি।
"আসসালামুআলাইকুম"
আমার প্রিয় বন্ধুগন, সবাই কেমন আছেন? সবাইকে আমার আন্তরিক মোবারকবাদ এবং অন্তরের অন্তস্থল থেকে আপনাদেরকে জানাই শুভেচ্ছা।
আজকে আমি আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি আমার বাংলা ব্লগের চলমান প্রতিযোগিতা - ৪২ || ডাই কন্টেস্ট কাগজ দিয়ে ফুল তৈরির পোস্ট নিয়ে। যদিও ব্যস্ততার মাধ্যমে দিন যাচ্ছিল এবং গত প্রতিযোগিতায় জয়েন করতে পারেনি ব্যস্ততার কারণে। তবে এবার চিন্তা করলাম যতই ব্যস্ততা থাকুক একটুখানি সুযোগ পেলেই জয়েন করে ফেলব।আর সেই ইচ্ছা পূরণে সাড়া দিয়ে এই প্রতিযোগিতায় জয়েন করতে যাচ্ছি।
আমার বাংলা ব্লগের প্রতিযোগিতা মানে সবচাইতে আলাদা।আর পুরো প্রতিযোগিতায় সবার মাঝে কম্পিটিশনের মনোভাব থাকে অনেক বেশি । আর আমিও যেহেতু সবসময় চাই ভালো কিছু বা ইউনিক কিছু তুলে ধরতে। সেই হিসেবে এবারও তার ব্যাতিক্রম নয়। আমার সাধ্যমত চেষ্টা করেছি ইউনিক কিছু আপনাদের মাঝে তুলে ধরতে। আর এই প্রতিযোগিতায় যে বিষয়টি আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করতে যাচ্ছি, সেটি একান্তই আমার নিজের মনের মতো করে করা। কোন প্রকার ইউটিউব বা কোন প্রকার থিওরি না নিয়েই নিজের কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিয়েই এটি তৈরি করেছি।আর আশা করছি আপনাদেরও ভালো লাগবে। তো আর বেশি ভূমিকায় না গিয়ে চলুন শুরু করা যাক।
ফুল তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ |
|---|
আঠা
গ্লু গান
কাচি
কম্পাস
পেন্সিল
পুঁতি
রঙ
গাছের শাখা
প্রথম ধাপ |
|---|
প্রথমত কাচি দিয়ে হলুদ কাগজকে ৫x৬ সেন্টিমিটার করে কেটে নিলাম।এরপর একই ভাবে হালকা লাল কাগজটিও কেটে নিলাম। এরপর হলুদ রঙের কাগজটিকে দুই ভাজ করে পেন্সিল দিয়ে পাতার আকৃতিতে এঁকে নিলাম।তারপর কাচি দিয়ে সেই আকৃতিটি কেটে নিলাম । একইভাবে হালকা লাল কাগজটিও এঁকে কেটে নিলাম।তবে এটি হলুদ পাতার চাইতে একটু ছোট করে কেটে নিলাম।
দ্বিতীয় ধাপ |
|---|
এরপর প্রথমত হলুদ পাতাটির মধ্যে আঠা ভালো করে লাগিয়ে নিলাম। তারপর হালকা লাল পাতাটি সে হলুদ পাতার মাঝখানে লাগিয়ে দিলাম যাতে করে পাশে একটা হলুদ বর্ডার দেখা যায়।একইভাবে এক এক করে সবগুলো পাতা আঠা দিয়ে লাগিয়ে নিলাম।
তৃতীয় ধাপ |
|---|
এরপর পাতা গুলোর নিচের অংশে আঠা দিয়ে পুনরায় বাঁকা করে নিলাম, যাতে করে ফুল তৈরিতে সুবিধা হয়।আর একইভাবে সবগুলো পাতা এভাবে আঠা দিয়ে বাঁকা করে নিলাম।
চতুর্থ ধাপ |
|---|
এই ধাপে প্রথমে আমি হাতের মধ্যে একটি পাঁপড়ি নিলাম।এরপর সে পাঁপড়ির মধ্যে আঠা লাগিয়ে পুনরায় আরেকটি পাঁপড়ি জোড়া লাগিয়ে নিলাম। এরপর আবারও আঠা লাগিয়ে আরো একটি পাঁপড়ি জোড়া লাগিয়ে সম্পূর্ণ একটি ফুলে পরিণত করলাম।একই ভাবে আঠা দিয়ে তিনটি পাঁপড়ির মাধ্যমে সবগুলো ফুল তৈরি করে নিলাম।
পঞ্চম ধাপ |
|---|
এই ধাপে ফুলের পাঁপড়ি গুলোকে পেন্সিলের সাহায্যে পিছনের দিকে বাঁকা করে নিলাম, যাতে করে ফুটন্ত ফুল মনে হয়। একইভাবে সবগুলো ফুল এভাবে পিছনের দিকে বাঁকা করে নিলাম।
ষষ্ঠ ধাপ |
|---|
এবার ছোট-বড় পাতা তৈরি করার জন্য সবুজ কাগজ এবং হলুদ কাগজ কে ভাজ করে তিন পাতার ডিজাইন করে একে নিলাম। তারপর কাচি দিয়ে সবগুলো পাতা একেক করে কেটে নিলাম।
সপ্তম ধাপ |
|---|
এরপর একটি গাছের শাখা ভেঙে নিয়ে, আরো অতিরিক্ত কিছু শাখা গ্লু গান দিয়ে লাগিয়ে একটি ফুল গাছের আকৃতি তৈরি করে নিলাম।
অষ্টম ধাপ |
|---|
এরপর হলুদ কাগজকে 3x3 সেন্টিমিটার করে কেটে নিলাম ছোট করে ফুল বানানোর জন্য। এরপর সেই কাগজের টুকরো গুলো ভাজ করে কাচি দিয়ে ফুলের জন্য কেটে নিলাম।
নবম ধাপ |
|---|
এরপর একইভাবে হালকা লাল কাগজকে 3x3 সেন্টিমিটার করে কেটে নিলাম।আর কাগজের টুকরো গুলো ভাজ করে কাচি দিয়ে ফুলের জন্য কেটে নিলাম।এখন হয়ে গেল দুই কালারের ছোট ছোট ফুল।
দশম ধাপ |
|---|
এরপর তিন পাতার যে ফুলগুলো বানিয়েছিলাম, সেগুলো গ্লু গানের সাহায্যে এক এক করে গাছের শাখায় জোড়া লাগাতে শুরু করলাম।এরপর সবগুলো ফুল জোড়া লাগিয়ে দিলাম।
একাদশ ধাপ |
|---|
এরপর গ্লু গানের সাহায্যে পাতাগুলো লাগিয়ে নিলাম বড় ফুলগুলোর পাশে। তারপর ছোট ছোট ফুলগুলোও ধাপে ধাপে সবগুলো শাখায় লাগিয়ে নিলাম।
দ্বাদশ ধাপ |
|---|
তারপর সবগুলো শাখায় ফুল পাতা লাগানো শেষে আবার ছোট ছোট ফুল গুলোর মধ্যে পুঁতি লাগিয়ে নিলাম। অবশেষে হয়ে গেল একটি বাহারি ফুল গাছ।
আশা করি আমার আজকের রেসিপিটি আপনাদের ভালো লাগবে। আজ আর নয়, আপনার নিকটতম এবং প্রিয়জনের সাথে নিরাপদে থাকুন, নিজের যত্ন নিন। আপনার দিনটি শুভ হোক
আমি বাংলাদেশ থেকে এমদাদ হোসেন নিভলু। আমার স্টিমিট আইডি হল @ nevlu123। আমি ফেনী জেলায় থাকি। আমার কাজ কম্পিউটার শেখানো, আমার একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে। যেখানে আমি স্টিমিট কাজের পাশাপাশি আমার সময় কাটাই। @nevlu123 নামে আমার একটি ডিসকর্ড অ্যাকাউন্ট আছে। আমার বয়স এখন 30 বছর। আমি জাতিগতভাবে মুসলিম বা আমি মুসলিম কিন্তু ভাষাগতভাবে আমি বাঙালি কারণ আমি বাংলা বলি তাই ভাষাগতভাবে আমি বাঙালি।
ফোনের ও কাজের বিবরণ
| ক্যামেরা | স্যামসাং গ্যালাক্সি |
|---|---|
| ধরণ | কাগজের ফুলের ক্রাফট |
| ক্যামেরা.মডেল | এম ৩২ |
| সম্পাদনা | রিসাইজ & সেচুরেশন |

প্রথমে ভেবে নিয়েছিলাম প্রতিযোগিতায় খুব সুন্দর ফুল দেখতে পাবো। যে ভাবা সে কাজ হলো চমৎকার রঙিন কাগজের ফুল দেখতেছি সবার কাছ থেকে। অনেকেই ইতোমধ্যে খুব সুন্দর সুন্দর ফুল শেয়ার করলো। আপনার শেয়ার করা রঙিন কাগজের ফুল অনেক সুন্দর হয়েছে। খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন আপনি দেখতে অসাধারণ লাগছে।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
প্রথমে জানাই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য অনেক অনেক অভিনন্দন। আপনি খুবই কালারফুলি অসাধারণ ফুল তৈরি করেছেন। আমার কাছে বিশেষ করে শুকনো ঢালের মধ্যে পাতা আর ফুলগুলো লাগিয়েছেন দেখে আরো ভালো লাগলো। তাতে আপনার ফুলের আকর্ষণটা আরো বেশি বেড়ে গিয়েছে। ফুল তৈরি করার প্রত্যেকটি ধাপ ও অনেক সুন্দরভাবে আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। প্রতিযোগিতার জন্য শুভেচ্ছা রইল।
যেকোনো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার আনন্দই অন্যরকমের।প্রতিযোগিতা মানুষের জীবন কে উন্নত করে এবং সেখানে থেকে অনেক শিক্ষা নেওয়া যায়। ভাইয়া আপনি সবসময়ই সব ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন এবং বিজয়ীও হয়ে থাকেন এটা আমার খুবই ভালো লাগে।আপনার দক্ষতা গুলো সত্যিই চোখে পড়ার মতো।আপনি আসলেই একজন ক্রিয়েটিভ মানুষ তা আজ আবারও প্রণাম হলো।আপনি বরাবরই নতুন কিছু করে দেখানোর চেষ্টা করেন আজকেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।রঙ্গিন কাগজ দিয়ে বানানো ফুল গুলো একেবারে ইউনিক লেগেছে আমার কাছে।আপনি অনেক পরিশ্রম করে পুরো প্রজেক্ট টি শেষ করেছেন তা আপনার উপস্থাপন করা প্রতিটি ধাপ দেখেই বোঝা যাচ্ছে।অনেক সুন্দর ও ইউনিক একটি ফুলের ডিজাইন শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া। অনেক অনেক শুভকামনা রইলো।
এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য অনেক অনেক অভিনন্দন। এটা সত্য যে প্রতিটি কাজেই তুমি ইউনিক খোঁজো। সেটি হোক রেসিপি, সেটি হোক ডাই, সেটি হোক যে কোন কিছু। আর এ বিষয়টি অনেক ভালো লাগে। যাইহোক নিজের আইডিয়া থেকে দুর্দান্ত একটি ফুলদানি সহ ফুল গাছ বানিয়েছো ধন্যবাদ।
https://twitter.com/Nevlu123/status/1694164613355712951?s=20
৪২ তম প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য প্রথমেই আপনাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য আপনি রঙিন কাগজ ব্যবহার করে চমৎকার একটি ফুল তৈরি করেছেন। যা দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। আপনি অনেক সময় নিয়ে এবং ধৈর্য সহকারে এই ফুল তৈরি করেছেন যা দেখেই বোঝা যাচ্ছে। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল ভাইয়া।
প্রথমেই আপনাকে কনটেস্ট ৪২ এর জন্য শুভকামনা জানাই।আপনি খুব সুন্দর একটি ফুলের ডাই শেয়ার করেছেন আমাদের সাথে।ডাই তৈরির প্রক্রিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উপস্থাপনা চমৎকার ছিল।ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।