কুরবার দিঘীতে কিছু সময় । পর্ব ১
আমার প্রিয় বন্ধুগন, সবাই কেমন আছেন? সবাইকে আমার আন্তরিক মোবারকবাদ এবং অন্তরের অন্তস্থল থেকে আপনাদেরকে জানাই শুভেচ্ছা।
| ** কুরবার দিঘীতে কিছু সময় ।** |
|---|
সবার সুস্থতা কামনা করে আজকের নতুন ব্লগে সবাইকে স্বাগতম। টাইটেল দেখেই বুঝে গিয়েছেন কি বিষয়ে আজকে পোস্ট করতে যাচ্ছি। আজকে আমাদের পাশের গ্রামের একটি দিঘীর সম্পর্কে বা ঐতিহাসিক একটি গল্প আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে যাচ্ছি। তো কথা না বাড়িয়ে চলুন সরাসরি মেইন পয়েন্টে ফিরে যাই।
পাশের এলাকায় একটি দিঘী রয়েছে যার নাম কুরবার দিঘী। দিঘীটি অনেক পুরনো এবং ছোটবেলা থেকেই এই দিঘীটি দেখে আসছি। গত বছর শীতের সময় সেই কুরবার দিঘীর মাঠে গিয়েছিলাম ঘুরাঘুরি করতে। মাঠ বলতে সেটা একটা সময় পাড় ছিল কিন্তু এখন ঈদ জামাতের জন্য ঈদগাহ ময়দান বানিয়েছে। ঈদগাহ ময়দানের জন্য অনেক বিশাল একটি জায়গা তারা তৈরি করে নিয়েছে। আর বাকি সাইড গুলোতে অনেক বড় মাটির পাহাড়ের মত পাড় রয়েছে।
মাঝে মাঝে সেখানে গিয়ে গল্প করি এবং সেখানে বসে আড্ডা দিতে ভালোই লাগে। শীতের সময় এই কুরবার দিঘীর পাড়ে বসে আড্ডা দিতে ভালো লাগার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে অতিথি পাখি। অতিথি পাখি সেখানে আসে আর এদিক ওদিক উড়া উড়ি করে এবং ডাকাডাকি করে। ওই সময়টা বেশ চমৎকার লাগে। চারিদিকে মুক্ত এরিয়া তাই বাতাস অনেক বেশি, তবে গরমের দিনে আরো বেশি আরাম অনুভূত হয়।
যাইহোক সেখানে গিয়ে দেখতে পাই দিঘীটি আগের মত নেই পুরো দীঘিতে ফেনায় ভরপুর হয়ে আছে। অল্পস্বল্প জায়গা খালি আছে ফেনা ছাড়া বাকি সব ফেনায় একদম ভরপুর। এই দিঘীটি অনেক পুরনো। আর এই দিঘীতে নাকি অনেক আগে একটি ছেলে এক ডুব দিয়ে এপার থেকে ওপার যেতে মাঝখানে কিছুর সাথে আটকে যায় এবং সেখানে মারা যায়।
এটার মূল বিষয় হচ্ছে একটি লোক বেট ধরে যে সে এক ডুবে এপার থেকে ওপারে চলে যাবে। এই অবস্থায় সে এপার থেকে ডুব দিলো এবং ওপারে যাওয়ার আগেই হঠাৎ করেই সে নিখোঁজ হয়ে গেল। সবাই ধারণা করছে কিছু একটা তাকে টেনে নিয়ে গেছে অথচ পরবর্তীতে মানুষ খুঁজে দেখে কিছু ঝোপ ঝাড়ের সাথে আটকে গিয়ে লোকটি মারা গেছে।
যাইহোক সেটার আরো অনেক কাহিনী আছে। তবে বিষয়টি মানুষের মুখে শুনা এটা আমরা নিজেরা দেখিনি। তাই কতটুকু সত্য সেটা এখনো সন্দেহ রয়ে গেল। তবে এই দিঘীটি অনেক বড়। যদিও ক্যামেরায় ছোট মনে হচ্ছে, কিন্তু না এটি অনেক বিশাল একটি দিঘী। এই দিঘীটিকে কখনো শুকাতে দেখিনি। সব সময় পানি দেখেছি এই দিঘীতে।
তবে এই দিঘীতে মাছ ধরতে দেখেছিলাম ছোটবেলায়। মানুষ এটাকে ভাঙ্গিয়ে চারদিকে মাছ ধরতে নেমে যেত এবং অনেক বড় বড় মাছ ধরতে পারতো। দিঘীটি আমার ফুফুর বাড়ির পাশে থাকাতে আমার ফুফা যখন মাছ ধরতে ছিল তখন আমি দেখতে গিয়েছিলাম। তবে এখন আর আগের মত মানুষ মাছ ধরতে নামে না। সত্যি বলতে এটি এখন নেতাদের দখলে থাকে। যার কারণে সাধারণ মানুষের সেখান থেকে মাছ ধরা নিষেধ এবং নেতারা সিন্ডিকেট করে সেখানে মাছ চাষ করে।
যাইহোক বাকিটা আগামী পর্বে। আশা করছি হয়তো পোষ্টটি পড়লে ভালো লাগবে। আর যদি কারো খারাপ লেগে থাকে সেটা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আজকে আর কথা বলব না, আগামীতে ভিন্ন কোন বিষয়বস্তু নিয়ে আবারো উপস্থিত হবো। সে পর্যন্ত সবাই ভালো ও সুস্থ থাকবেন এই কামনায় বিদায় নিলাম আল্লাহ হাফেজ।
তো বন্ধুরা এই ছিল আজকের ব্লগ যেটি আমার মত করে আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম। যদি ভালো লেগে থাকে অবশ্যই মন্তব্য করে জানাবেন।আর কষ্ট করে ব্লগটা যারা পড়েছেন তাদেরকে মনের অন্তস্থল থেকে জানাই অনেক অনেক ধন্যবাদ।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
ফোনের বিবরণ
| ক্যামেরা | স্যামসাং গ্যালাক্সি |
|---|---|
| ধরণ | জেনারেল রাইটিং। |
| ক্যামেরা.মডেল | এম ৩২ |
| ক্যাপচার | @nevlu123 |
| সম্পাদনা | রিসাইজ &সেচুরেশন। |
| অবস্থান | বাংলাদেশ |
আমি বাংলাদেশ থেকে ইমদাদ হোসেন নিভলু।আমার স্টিমিট আইডি হল @nevlu123।আমি আমার বাংলা ব্লগের একজন ভেরিফাইড মেম্বার।২০১৮ সালের জানুয়ারি মাস থেকে আমি স্টিমিট এ কাজ করি।আর এই প্লাটফর্মে জয়েন করি শখের বসে। আর সে থেকেই আজ অব্দি ভালোলাগা থেকেই কাজ করি।জাতিগতভাবে আমি মুসলিম। কিন্তু ভাষাগতভাবে আমি বাঙালি। কারণ আমি বাংলা ভাষায় কথা বলি।আমার সবচাইতে বড় শখ হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরি করা।এ পর্যন্ত আমার তিনটি দেশ ভ্রমণ করা হয়েছে যদিও আরও ইচ্ছে রয়েছে অন্যান্য দেশ ভ্রমণ করার।যাইহোক শখের মধ্যে আরো রয়েছে গান,ভিডিও ইডিটিং, ফটোগ্রাফি, ভিডিওগ্রাফি,আর্ট এবং টুডি থ্রিডি ডিজাইন এর কাজ।


Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
🙏💥❤️🔥
SteemPro মোবাইল এ্যাপটির ব্যানার আপনার পোষ্ট হতে সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ করছি।
ঠিক আছে ভাইয়া ধন্যবাদ আপনাকে।
কোন দীঘি যদি নেতাদের দখলে থাকে, তাহলে সেখানে মাছ ধরার কোন প্রশ্নই ওঠেনা। হা হা হা... তবে ভাই শুধু এই দিঘী না, প্রত্যেকটা দিঘীকে ঘিরে রয়েছে অনেক ইতিহাস এবং অনেক ভয়ঙ্কর ঘটনা। আমার জানা মতে, এরকম অনেক দিঘী রয়েছে যেখানে অনেক বড় বড় এক্সিডেন্ট হয়েছে। তবে আপনি যে কথাটা বললেন যে, অতিথি পাখি যখন দীঘিতে এসে বসে, তখনকার সৌন্দর্য কিন্তু সত্যিই মনোমুগ্ধকর হয়। খুব ভালো লাগলো ভাই, আপনার এই পোস্ট টি পড়ে।
একদম ঠিক ভাই ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য,।
https://x.com/Nevlu123/status/1823630920651591738
আসলে এই ধরণের দিঘী গুলো কিছুটা ভয়ানক হয়ে থাকে। কারণ ভয়ানক কিছু ঘটনা এসব দিঘীর সাথে জড়িত থাকে। যাক আমি দুই বারের মত সেই দিঘীতে গিয়েছি। তবে দিঘীটা আসলেই মনোরম পরিবেশে ভালোই লাগে ধন্যবাদ।
হুম একবার তো আমার সাথে।।
কুরবার দিঘীতে খুব সুন্দর কিছু সময় কাটিয়েছেন। এই দিঘির পেছনের ইতিহাসটা জেনে ভালো লাগলো। তবে যেহেতু মুখে শোনা তাই একটু সন্দেহ হয়। জায়গাটা খুব সুন্দর এবং নিরিবিলি জায়গা। আপনার কাটানো সুন্দর মুহূর্ত গুলো শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
জি আপু ঠিকই বলেছেন।
কুরবার দীঘিতে খুব সুন্দর একটি সময় উপভোগ করেছেন আপনি।প্রত্যেকটা দিঘীকে ঘিরে রয়েছে অনেক ইতিহাস, এই দিঘির পেছনেও ঘটে যাওয়া ইতিহাসটা জেনেও অনেক ভালো লাগলো। তবে জায়গাটা খুবই সুন্দর এবং নীড়িবিড়ি জায়গা দেখে বোঝাই যাচ্ছে। যাই হোক, খুব ভালো লাগলো আপনার শেয়ার করা পোস্টটি পড়ে।ধন্যবাদ ভাইয়া আপনার কাটানো সুন্দর একটি মুহূর্ত আমাদের সাথে ভাগ করে নেয়ার জন্য।
জি আপু আমাদের দেশে প্রত্যেকটা দিঘীকে ঘিরেই রয়েছে অনেক ইতিহাস।
ভাইয়া আমি ঠিক এই বিষয়টা জানতাম না। আপনার পোষ্টের মাধ্যমে আমি জানতে পারলাম যে আমাদের দেশের প্রত্যেকটা দিঘি ঘিরে রয়েছে অনেক ইতিহাস। ধন্যবাদ আপনাকে।