নানার বাড়িতে সাপ ধরার একটি ঘটনা।পর্ব-১
আমার প্রিয় বন্ধুগন, সবাই কেমন আছেন? সবাইকে আমার আন্তরিক মোবারকবাদ এবং অন্তরের অন্তস্থল থেকে আপনাদেরকে জানাই শুভেচ্ছা।
| নানার বাড়িতে সাপ ধরার একটি ঘটনা। |
|---|
টাইটেল দেখেই বুঝতে পারছেন কি বিষয়ে আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে যাচ্ছি।আমরা সকলেই জানি সাপ ধরতে গেলেই মন্ত্র পড়তে হয়। এরপর মন্ত্র পড়ে একটি কড়ি পড়া দিলে সেই সাপটি খুব সহজে ধরে নিয়ে আসা যায়। তো বন্ধুরা সেরকম একটি ঘটনা আপনাদের মাঝে আজকে তুলে ধরব। আশা করছি এই পোস্টটি হয়তো আপনাদের অনেক কিছু জানতে সহায়তা করবে। তো বন্ধুরা বেশি ভূমিকায় না গিয়ে চলুন শুরু করা যাক নানার বাড়িতে সাপ ধরার একটি ঘটনা।
আমি এবং আমার খালাতো ভাই একদিন আমার নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ একদিন শুনতে পাই যে কিছু লোক বাড়ির সামনে এসে বলছে আপনাদের বাড়িতে অনেক পুরনো সাপ রয়েছে। এগুলো না ধরলে আপনাদের ক্ষতি করতে পারে। এরপর সবাই জিজ্ঞাসা করলে আপনি কিভাবে জানেন যে এ বাড়িত পুরনো সাপ আছে। তখন লোকটি বলল আমি আপনাদের বাড়ির মাটি পরীক্ষা করে দেখেছি।
একজন বলে উঠলো মাটি পরীক্ষা করে কিভাবে বুঝলেন। তখন সে আবারো এক টুকরো মাটি তুলে বলে, এই যে এখানে সাপের গন্ধ একদমই স্পষ্ট। এ বাড়িতে অনেক পুরনো বড় বড় সাপ রয়েছে। তখন সবাই তো ভয় পেয়ে গেল।সাধারণত সবাই জানে সব বাড়িতে কিছু না কিছু সাপ রয়েছে। আর সেগুলো দেখা যায় না।কিন্তু এই সাপ ধরার লোকটি যেভাবে ভয় দেখিয়ে দিলো, তখন সবাই ভয়ে বললো ঠিক আছে তাহলে এখন কি করতে হবে।
তখন লোকটি বলল আপনাদের বাড়িতে সাপ গুলো ধরতে হবে, যাতে করে কাউকে না কামড়ায়। তখন সবাই বলে দিল ঠিক আছে তাহলে ধরে ফেলেন। সাপ ধরার আগে তারা বসার জন্য একটি বড় উঠান বেছে নিল।তারপর দেখতে পেলাম তারা এক মামাকে বলে এক গ্লাস স্বচ্ছ পানি নিয়ে আসেন। আর কিছু ধানের কুড়ো নিয়ে আসেন। এরপর মামা তার ঘর থেকে কিছু ধানের কুড়ো আর এক গ্লাস পানি নিয়ে আসলো।
তখন লোকটি সেই পানি সামনে রেখে সেখানে এক ফোঁটা কেমিক্যাল দিলো।এরপর কিছু মন্ত্র পড়লো। এরপর মন্ত্র পড়ার পরে কুড়োতে সেই পানি ছিটিয়ে দিল এবং কুঁড়ো গুলোকে ভালো ভাবে মিশিয়ে নিল কেমিক্যাল মাখা পানির সাথে। যাক এটা তো গেল তাদের প্রথম পর্বের কাজ। শুরু হল দ্বিতীয় পর্ব। এই ধানের কুড়ো মাখা গুলোকে একজনকে দিল পুরো বাড়ির সীমানায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেওয়ার জন্য।
আর বলে দিচ্ছে এটি হচ্ছে সাপ যাতে না পালাতে পারে,সেজন্য নাকি কুন্ডলী দেওয়া হচ্ছে।মূলত এখানে মন্ত্রের কিছুই নেই বরং এখানে যে কেমিক্যালটি দিয়েছে এটি কার্বোরিক এসিড। আর কার্বোরিক এসিড সাপ কে দমন করতে সহায়তা করে।যেমন আপনার পুরো শরীরে যদি কার্বোরিক এসিড মেখে সাপের কাছে যান,তখন সাপ আপনার কাছে আসবে না কার্বোরিক এসিড এর গন্ধে। বা কার্বোরিক এসিডের যে ঘ্রাণ আছে এই ঘ্রাণের জন্য সাপটার মাথা ঘুরাবে।
আর সাপ চাইবে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে।মূলত কার্বোরিক এসিড কেমিক্যাল কুড়াতে মেশানো হয়েছে। আর মানুষকে দেখাচ্ছে মন্ত্র পড়ছে। আর সে কুড়া যখন বাড়ির সীমানায় দিবে তখন সাপ যখন পালাতে যাবে তখন কার্বোরিক এসিডের ঘ্রাণ পেয়ে সে আবার ফিরে আসবে পালাতে পারবেনা। মূলত তাদের বুদ্ধি ছিল এটা। কিন্তু আমরা ভেবে নিয়েছি বা অনেকে ভেবে নিয়েছে যে কুড়াতে মন্ত্র পড়ে দিয়েছে, তাই মন্ত্রের কারণে এই সাপ গুলো কুন্ডলী ছেদ করে যেতে পারবে না।
তার মানে কি বুঝলেন এটা হচ্ছে একান্তই কার্বোরিক এসিডের কারসাজি, যেটা মানুষের সামনে মন্ত্র বলে চালিয়ে দিচ্ছে তারা।যাইহোক প্রথম পর্ব এখানেই শেষ করলাম। তবে আগামী পর্বে বাকি ঘটনা গুলো দেখতে পাবেন।এই বলে আজকের মত এখানে বিদায় নিবো।আশা করছি আপনাদের ভালো লাগবে। তো বেশি কথা না বলে এখানে বিদায় নিলাম আল্লাহ হাফেজ।
তো বন্ধুরা এই ছিল আজকের ব্লগ যেটি আমার মত করে আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম। যদি ভালো লেগে থাকে অবশ্যই মন্তব্য করে জানাবেন।আর কষ্ট করে ব্লগটা যারা পড়েছেন তাদেরকে মনের অন্তস্থল থেকে জানাই অনেক অনেক ধন্যবাদ।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
ফোনের বিবরণ
| ক্যামেরা | স্যামসাং গ্যালাক্সি |
|---|---|
| ধরণ | সাপ ধরার গল্প। |
| ক্যামেরা.মডেল | এম ৩২ |
| ক্যাপচার | @nevlu123 |
| সম্পাদনা | রিসাইজ &সেচুরেশন। |
| অবস্থান | বাংলাদেশ |
আমি বাংলাদেশ থেকে ইমদাদ হোসেন নিভলু।আমার স্টিমিট আইডি হল @nevlu123।আর Nevlu123 নামে আমার একটি ডিসকোর্ড অ্যাকাউন্ট আছে।বর্তমানে আমার তিনটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, আর সেই তিনটি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আমি স্টিমিট এ কাজ করি।জাতিগতভাবে আমি মুসলিম। কিন্তু ভাষাগতভাবে আমি বাঙালি। কারণ আমি বাংলা ভাষায় কথা বলি, তাই ভাষাগতভাবে আমি বাঙালি।আমার সবচাইতে বড় শখ হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরি করা।এ পর্যন্ত আমার তিনটি দেশ ভ্রমণ করা হয়েছে যদিও আরও ইচ্ছে রয়েছে অন্যান্য দেশ ভ্রমণ করার।যাইহোক শখের মধ্যে আরো রয়েছে গান,ভিডিও ইডিটিং ফটোগ্রাফি, ভিডিওগ্রাফি আর্ট এবং টুডি থ্রিডি ডিজাইন এর কাজ।


আসলে আমরা সাপুড়েকে মনে করি অনেক শক্তিমান কেউ। মূলত তারা আমাদের চোখে ধুলো দেয়। কার্বোরিক এসিডের এর তীব্র প্রভাবে সবগুলো ছুটে আসে। এ সম্পর্কে আমি অবগত আছি। যাই হোক পরবর্তী পর্বগুলো দেখতে চাই।
জি আপু।।্
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
সাপোর্ট করার জন্য ধন্যবাদ,, ্
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
ধন্যবাদ 💐।।
আসলে এভাবে যে তারা কত লোকে বোকা বানায় তার কোন শেষ নাই। আর যারা এগুলো সম্পর্কে ধারণা রাখেনা তাঁরা তো মনে করবে যে তারা হয়তো বা মন্ত্র পড়ে এরকমটা করছে। যাই হোক পরবর্তীতে তারা কি আসলেই সাপ ধরতে পেরেছিল জানার জন্য অপেক্ষায় রইলাম।
মূলত কার্বোরিক এসিডের সাপকে কিছুটা দুর্বল করে ফেলে।।
কার্বোরিক এসিড ব্যবহার করে এর আগে অনেকে সাধারণ মানুষের চোখ ফাঁকি দিয়ে সাপ ধরার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এতে সাধারণ মানুষগুলো এমনিতে মনে করত যে সাপ ধরা মানুষগুলো খুবই গুণী মানুষ হয় এবং তাদের মন্ত্রী সাপ এমনিই বশে পতিত হয়। যাহোক, আপনার নানা বাড়ি সাপ ধরার ঘটনার পরবর্তী পর্বটি পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।
হাহাহ ঠিক ভাই।।
আমি এর আগেও শুনেছি এই ধরনের ক্যামিকেল দিয়ে বেশ সাপুড়েরা সাপ ধরে। তবে আপনার পোস্ট যতক্ষন পড়ছিলাম ততক্ষন কেন জানি ভয় ভয় লাগছিল। তবে আমি কিন্তু ভাবছি সেই লোক কি করে বুঝলো যে আপনাদের বাড়িতে সাপ আছে। এ ও কি সম্ভব? বেশ ভয়ঙ্কর একটি পোস্ট শেয়ার করলেন আজ।
বলে পুরানা বাড়ি, আর মাটিতে নাকি সাপের ঘ্রাণ।।
https://x.com/Nevlu123/status/1733661898921652581?s=20
অনেকদিন পর সাপের গল্প জানতে পারলাম আপনার এই পোষ্টের মধ্য দিয়ে। খুব সুন্দর ভাবে আপনি সাপ ধরার এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘটনা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। ঠিক এমন ভাবে একদিন আমাদের বাড়িতে সাপ ধরার কার্যক্রম চলেছিল। কারণ আমাদের এখানে প্রচুর সাপের সমস্যা ছিল। গল্পটা পড়তে বেশ ভালো লাগলো আমার।
জি ভাই, আগামি পর্বও ভালো লাগবে।।
আমিও মনে মনে এটাই ভেবেছিলাম যে,কার্বোরিক এসিডের কারসাজি
যাইহোক আপনার নানা বাড়িতে সাপ ধরার এই ঘটনাটি পড়ে খুবই ভালো লাগলো আসলে খুব কাছ থেকে এরকম ভাবে কখনো সাপ ধরা দেখা হয়নি। ভেবেই রীতিমতো অবাক হলাম যে মাটি পরীক্ষা করে এসে কিভাবে বলতে পারল যে এই বাড়িতে সাপ আছে। তারপরে অনেক রকম প্রসেস অবলম্বন করে মন্ত্র পড়ে অবশেষে এক পর্যায়ে মানুষকে বিশ্বাস করিয়েছে যে সে মন্ত্র পড়েই সাপকে আটকে রেখেছে কিন্তু মূলত পুরো ব্যাপারটাই অন্যরকম। প্রথম পর্বটি পড়ে খুবই ভালো লাগলো খুব শীঘ্রই দ্বিতীয় পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম। আসলেই সাপ পেয়েছিল কিনা সেটা জানার খুব ইচ্ছে।
ভাই মূলত কার্বোরিক এসিডের সাপকে কিছুটা দুর্বল করে ফেলে।।
সেই দিনের ঘটনা এখনো মাঝে মাঝে মনে পড়ে।আমাদের ঘরের পাশ থেকেই একটা বড় সাপ ধরেছিল। আর বাড়ি পাহারাদার সাপের কথা মনে পড়লেই ভয় লাগে।তবে সেদিন সবাই মিলে এক উঠোনে সাপ ধরার পুরো প্রসেসিং দেখেছিলাম।
হুম ঠিক ঠিক।।।