আমার প্রিয় বন্ধুগন, সবাই কেমন আছেন? সবাইকে আমার আন্তরিক মোবারকবাদ এবং অন্তরের অন্তস্থল থেকে আপনাদেরকে জানাই শুভেচ্ছা।
| সবাইকে স্বাগতম আমার নতুন পোষ্টে,আবার ও হাজির হলাম আপনাদের সামনে নতুন একটি পোষ্ট নিয়ে। |
আমার বাংলা ব্লগ" প্রতিযোগিতা - ৪৯শেয়ার করো তোমার প্রিয়, শীতের পিঠার রেসিপি। |

আমার বাংলা ব্লগের প্রতিযোগিতা মানে জমজমাট একটা বিষয়। যেখানে নিত্যনতুন অনেক কিছুই দেখতে পাওয়া যায়। যেহেতু এবারের রেসিপি প্রতিযোগিতাতে শীতের পিঠাকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। তাহলে অবশ্যই সবাই খুবই সুন্দর সুন্দর সুস্বাদু পিঠার রেসিপি শেয়ার করবে। সেই সাথে তাল মিলিয়ে আমিও চেষ্টা করেছি একটি পিঠার রেসিপি আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে। সত্যি বলতে বাংলা ব্লগের প্রতিটি কনটেস্টে জয়েন করার চেষ্টা করি। যদিও মাঝে মাঝে অতিরিক্ত চাপের কারণে দুই একটা মিস হয়ে যায়।তবে সেজন্য অনেক খারাপ লাগে।

আর মূলত প্রাইজ পাওয়ার চিন্তা করে নয় বরং সুন্দর কিছু সবার উদ্দেশ্যে শেয়ার করতে পারলে নিজের কাছেই ভালো লাগা কাজ করে।আর সবার কাছে ভালো লাগলে সেখানে আত্মতৃপ্তিও মিলে।আজকের পোস্টে ভিন্ন একটি রেসিপি নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি।রেসিপি মানেই দারুণ,কারণ নতুন আইটেমের রান্নার স্বাদ নেয়া যায়।আর যেহেতু ইউনিক কিছু করতে হয় সেই হিসেবে শুরুর দিক থেকেই চিন্তা করতে নেমে যাই।

কারণ বর্তমানে ইউটিউবে অনেক কিছুই আছে,যা আমরা কখনো খাই নি এমনও।কিন্তু তার থেকেও ইউনিক কিছু তৈরি করার চিন্তা আমার মাথায় ঘুরে।আর এটি সব কন্টেস্ট এ তবে এইবার আপনাদের মাঝে নিয়ে এলাম বাহারী কদম ফুল পিঠা রেসিপি।যেটি খেতে খুবই মজা হয়েছিলো।
তবে এখানে যদি কেউ বাসমতি চাল ব্যবহার করে করতে চান সেটাও হবে।পোলাওয়ের চাল দেয়ার কারণ হলো যখন এটি ভাপ থেকে নামানো হয় তখন এর সুগন্ধে চারদিক মো মো করে। আর খেতেও খুব ভালো লাগে। কিন্তু ভাতের জন্য যে চাল ব্যবহার করা হয় তা দিয়ে হয়তো হবেও না।যাইহোক মোটামুটি সবদিক থেকে আমার তৈরি করা পিঠাগুলো দারুণ লেগেছে,খেতেও খুব মজা হয়েছিল।একবার তৈরি করার পর চিন্তা করেছি আবারও তৈরি করব।যাইহোক এখন যদি কারো লোভ লাগে তাহলে অবশ্যই রেসিপিটা ফলো করে তৈরি করলেই হয়ে যাবে।

বাহারী কদম ফুল পিঠা রেসিপি। |

রেসিপিটি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ |
| উপকরণ | পরিমাণ |
| চালের গুড়া | ১ কাপ |
| গুড় | ১ কাপ |
| নারকেল | ১টি |
| লবণ | পরিমাণ মত |
| আতপ চাল | ১ কাপ |
| স্টিমার | ১টি |
| সয়াবিন তেল | ১চা চামচ |
| পানি | পরিমাণ মত |

প্রথমে একটি নারকেল ভেঙে নিলাম। এরপর এটি কুরিয়ে নিলাম।তারপরে বাটালী গুড়ের বড় গোলা থেকে কুচি কুচি করে কেটে নিলাম।

এইধাপে একটি কড়াইতে নারকেল কোরানো দিতে হবে। এরপর এক এক করে কুচি করা গুড়, তেজপাতা, দারচিনি দিয়ে দিলাম।সাথে সামান্য পরিমাণ লবণও দিয়ে দিতে হবে।

এখন সবকিছুকে একসাথে নেড়েচেড়ে নিয়ে মিশিয়ে নিতে হবে।মেশাতে মেশাতে কিছুক্ষণ পর গুড় গলে যাবে এবং নারকেলের সাথে মিশে যাবে।এভাবে কিছুক্ষণ নাড়তে নাড়তে মিশ্রণ অনেকটা আঠালো হয়ে আসবে আর রান্নাটাও হয়ে যাবে। তখন চুলা থেকে নামিয়ে নিলাম।

এবার আবারো একটি পাতিলে দেড় কাপ পানি নিয়ে গরম করতে থাকলাম।বলক এলে এরমধ্যে ১কাপ চালের গুড়ো দিয়ে দিলাম।সাথে সাথে নেড়েচেড়ে পানি মেশাতে হবে।ভালোভাবে সিদ্ধ হয়ে এলে নামিয়ে নিতে হবে।

এভাবে আমি সিদ্ধ করা আটা একটা ট্রে তে নিয়ে হাত দিয়ে ভালোভাবে মথে নিলাম যাতে একদম সফট একটি ডো হয়। ৫ থেকে ৭ মিনিট যাবৎ হাতে হালকা হালকা পানি নিয়ে ডো টা সুন্দর করে তৈরি করে নিতে হবে। তারপর সেই বড় ডো থেকে ছোট ছোট বল আকৃতির কয়েকটা বল সুন্দর করে গোল করে নিতে হবে।

এখন সেই গোল বলের ডো নিয়ে মাঝখান বরাবর ফাঁকা করে সেখানে পূর্বে তৈরি করে রাখা নারকেল গুড়ের পুর দিয়ে দিতে হবে।সেটা আবারো গোল করে সম্পূর্ণটা তৈরি করে নিতে হবে। একইভাবে সবগুলোই তৈরি করে নিতে হবে।

পূর্বে থেকে আতপ চাল পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং পানি ঝরিয়ে রাখতে হবে। পানি ঝরানো চাল একটি চালনীর মধ্যে রেখে দিতে হবে। তারপর সেই পুর ভরা বলগুলো সেই ভেজানো চালের মধ্যে গড়িয়ে নিতে হবে এবং চাপ দিয়ে ভালোভাবে চাল সেই পিঠার মধ্যে লাগাতে হবে।

এবার একটি কড়াইতে পরিমাণ মতো পানি দিয়ে দিলাম এবং স্টিমারের মধ্যে তেল ব্রাশ করে নিলাম। স্টিমার সেই পাত্রে
বসিয়ে দিতে হবে।পানি ভালোভাবে গরম হয়ে এলে এর মধ্যে চাল মোড়ানো পিঠাগুলো দিয়ে দিব। এরপর ঢাকনা দিয়ে ঢেকে ভাপ দিতে হবে। এভাবে আমি দুইবারে চারটি করে আটটি পিঠা তৈরি করে নিলাম।একধাপে প্রায় ১৫ মিনিট সময় লেগেছে চালগুলো কুক হতে।

এটা সম্পূর্ণভাবে হয়ে এলে তখন পিঠাগুলো নামিয়ে নিতে হবে। এটা বোঝার উপায় হল উপরের চালগুলো একদম ভালোভাবে কুক হয়েছে কিনা সেটা দেখা। যদিও বাসমতি চালের ক্ষেত্রে এটির ফুলগুলো আরেকটু বেশি ছড়ায়। তবে আতপ চালের ক্ষেত্রেও কিন্তু কম হয়নি দেখলেই বোঝা যায়।

তারপর একটি বাটিতে আমি লাল রঙের ফুড কালার পানিতে মিশ্রিত করলাম। আবার সবুজ রঙের ফুড কালার পানিতে মিশ্রিত করলাম। কটনের সাহায্যে ফোঁটা ফোঁটা দিয়ে এই পিঠাগুলোতে সাজিয়ে তুললাম। চারটি পিঠা লাল রং এবং চারটি পিঠা সবুজ রং দিয়ে তৈরি করলাম। তারপর তো ডেকোরেশন করে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করলাম।

ফাইনাল আউটলুক।









প্রথমেই আমার বাংলা ব্লগ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
আপনি অত্যন্ত সুস্বাদু এবং ইউনিক একটি পিঠা রেসিপি নিয়ে হাজির হয়েছেন। সত্যি বলতে এ ধরনের পিঠার নাম আমি কখনো শুনিনি তবে আপনার তৈরি প্রণালী দেখে বোঝা গেল এটা অত্যন্ত সুস্বাদু একটি পিঠা তৈরি হয়েছে। আর আপনার ডেকোরেশন এবং উপস্থাপনার কথা যদি বলতে হয় তাহলে সব মিলিয়ে এটা একটা ইউনিক পিঠা রেসিপি পোস্ট। আশা করছি আপনার পোস্টটি তার যোগ্য অবস্থানে থাকবে। অনেক ধন্যবাদ ভাই চমৎকার পিঠা রেসিপিটি আমাদের সাথে ভাগ করে নেয়ার জন্য।
আপনার কথা যাতে লাগে ভাই।।❤❣❤
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
🙏💪💪🙏😅💐
পিঠা উৎসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আপনি ইউনিক একটি পিঠার রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন।
এরকম পিঠার নাম প্রথমবারের মতো শুনলাম আপনার মাধ্যমে।
তবে পিঠার প্রস্তুত প্রণালী এবং ফটোগ্রাফি দেখে জিভে জল চলে এলো খেতে নিশ্চয়ই খুব মজা হবে।
প্রতিটা ধাপ অনেক সুন্দরভাবে উপস্থাপনা করেছেন শুভেচ্ছা রইল ভাইয়া আপনার জন্য।
জি ভাই খুব মজা হয়েছে।।।
https://x.com/Nevlu123/status/1731145783507120326?s=20
বাপরে বাপ যে বাহারি পিঠা নিয়ে আজ আপনি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলেন। আমার তো মনে হয় এবার প্রথম আপনি হবেন। দারুন একটি আনকমন রেসিপি ছিল ভাইয়া। দেখেই তো এখান থেকে নিয়ে খেতে মন চাচ্ছে। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
আপু আপনার জন্যও শুভকামনা রইল।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য। আপনি এই প্রতিযোগিতা উপলক্ষে খুবই ইউনিক ভাবে পিঠা তৈরি করেছেন, এই পিঠা তো আমার কখনোই খাওয়া হয়নি। বাহারি কদম ফুল পিঠা দেখেই বুঝা যাচ্ছে এটা অনেক বেশি সুস্বাদু ছিল। শেষের ডেকোরেশন টা অনেক সুন্দরভাবে করেছেন আপনি। ফাইনাল আউটলুক দেখে তো আমি মুগ্ধ হলাম। যারা এই পিঠা খায়নি, তারা কিন্তু আপনার উপস্থাপনা টা দেখে এই পিঠা তৈরি শিখে নিতে পারবে এবং তৈরি করে খেতে পারবে। আপনার অংশগ্রহণটা দেখে সত্যি খুব ভালো লেগেছে।
জি আমিও তাই মনে করি যারা এই পিঠা খায়নি, তারা কিন্তু উপস্থাপনা টা দেখে এই পিঠা তৈরি শিখে নিতে পারবে এবং তৈরি করে খেতে পারবে।
ভাইয়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য অনেক অভিনন্দন আপনাকে। আপনি খুব ইউনিক একটি পিঠার রেসিপি নিয়ে হাজির হলেন।আপনার শেয়ার করা পিঠার রেসিপি দেখে ভীষণ ভালো লাগলো।আপনার উপস্থাপনা দারুন লেগেছে ভাইয়া।ধন্যবাদ আপনাকে মজার একটি পিঠার রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ আপু💐💐
ভাইয়া এই প্রতিযোগিতাটিতে আপনার অংশগ্রহণ টা দেখে আমার কাছে সত্যি অনেক বেশি ভালো লেগেছে। অপেক্ষায় ছিলাম এরকম সুন্দর এবং ইউনিক পিঠা দেখার জন্য। প্রতিযোগিতা মানেই হচ্ছে নতুন কিছুর সাথে পরিচিত হওয়া। তেমনি আপনার মাধ্যমে নতুন একটা পিঠার সাথে পরিচিত হতে পারলাম। মনে হচ্ছে এটা অনেক বেশি সুস্বাদু হয়েছিল। আসলে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলে নিজের কাছেই খুব ভালো লাগে, কোন স্থান অর্জন করার কোন কিছু ছাড়া।
ঠিক প্রতিযোগিতা মানেই হচ্ছে নতুন কিছুর সাথে পরিচিত হওয়া।
খুব চমৎকার এবং সুস্বাদু খাবার শেয়ার করলেন আপনি। সত্যি দেখতে কদম ফুলের মত হয়েছে আপনার তৈরি করা পিঠা। এত সুন্দর করে কালারিং করে আপনি পিঠা তৈরি করলেন খেতেই নিশ্চয়ই মজার হবে। যেহেতু অনেক মজার করে নারকেল পুর দেওয়া হয়েছে পিঠার ভিতরে। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য এত সুন্দর একটি রেসিপি নিয়ে।
খেতে মজা হয়েছে।।
খুবই সুস্বাদ একটি পিঠার রেসিপি তৈরি করে আপনি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন। আপনার এই পিঠা তৈরীর প্রক্রিয়াটি আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। বিশেষ করে কালার করে দেওয়াটা নিঃসন্দেহে চমৎকার হয়েছে।
ধন্যবাদ ভাইজান।।