বাগানে ফুল ফুটতে শুরু করেছে। আপনাদের দেখতে আমন্ত্রণ দিলাম।
প্রিয় আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা,
সমস্ত ভারতবাসী এবং বাংলাদেশের বাঙালি সহযাত্রীদের আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
আশা করি আপনারা ঈশ্বরের কৃপায় সুস্থ আছেন, সব দিক থেকে ভালোও আছেন। আপনাদের সবার ভালো থাকা কামনা করে শুরু করছি আজকের ব্লগ।
খুব ছোট থেকেই ফুল গাছের শখ৷ শুধু গাছ না সুন্দর গোছানো বাগানের শখও রয়েছে। কিন্তু বাগান করার জন্য না পেয়েছি উঠোন না পেয়েছি ছাদ৷ তাও শখ কি মরে যায়? না তা যায় না৷ দেশের যেখানেই থেকেছি সব সময়ই চেষ্টা করেছি ছোট হলেও ফ্ল্যাটে যেন একটা ব্যালকনি থাকে৷ যাতে সামান্য কটা টব রাখা যায়৷ আগে যখন মুম্বাইতে থাকতাম তখন পাঁচটা টব দিয়ে শুরু করেছিলা। সেই পাঁচটা টব দিয়ে দাঁড়িয়েছিল প্রায় তেতাল্লিশটা টবে৷ ব্যালকনিতে এতো টব! ওই ফ্ল্যাটে তিনটে ব্যালকনি ছিল আসলে৷ তারপর ইনডোর৷ কত রকমের অয়াতা বাহার লাগিয়েছিলাম ঘরের কোণায় কোণায়। তবে আমার এই অস্থায়ী জীবনে কিছুই টেকে না৷ মুম্বাই থেকে যখন গোয়া গেলাম সমস্ত গাছ ট্রাকে তুলে দিয়েছিলাম কিন্তু যখ পৌঁছোলো তখন এক দু'টো গাছই বেঁচে। সেখানেও বড় বড় ব্যালকনি৷ নার্সারি থেকে বেশ কিছু গাছ কিন নে সাজিয়েছিলাম। তারপর পুণে৷ আবার যেই কে সেই৷
এই সমস্ত জায়গাগুলোতে গাছের কি ভীষণ দাম৷ তাই অনেক চারার যখন প্রয়োজন হয় আমি আমার দেশের বাড়ি থেকেই কিনে আনি৷ এবারেও তাই করেছিলাম। গরমের ছুটিতে যখন গেলাম তখন কিনে এনেছিলাম। অনেকগুলো চারা৷ তার আবার দু'তিনটে মারাও গেছে৷ আসলে ট্রেনে করে এতো রাস্তা আসা তার ওপর ট্রেন লেটও ছিল অনেক। যখন এখানে লাগালাম গাছগুলো একেবারেই মনে হয়নি বাঁচাতে পারব বলে। তাও লাগালাম৷ জল দিলাম। যত্ন করলাম গাছগুলো বড় হল৷ হঠাৎ করেই দেখলাম কুঁড়ি এসে গিয়েছে৷ প্রায় আড়াই মাস লাগল। হয়তো আগেই আসত কিন্তু আমার কাছে না ছিল জৈব সার আর না ছিল কোন ওষুধ৷ কিছু দিন আগে বাবা এসে ছিল, সব আনিয়েছিলাম দেশের বাড়ি থেকে। এখন আস্তে আস্তে ফুল ফুটতে শুরু করেছে। যদিও সব গাছে ফুল আসেনি। তাও যে কটা গাছ ভরে উঠেছে সেগুলোই আপনাদের কাছে দেখাতে নিয়ে এলাম৷
এই ফুলটি হল রেইন লিলি। বর্ষার জল পড়লেই রমরমিয়ে ফোটে৷ তবে এবারে এখনও রমরমিয়ে হয়নি৷ দু চারটেই হয়েছে। তবে কিছু হলুদ রঙেরও ফুটেছিল। তার আবার ফটো তোলা হয়নি। রেইনলিলির বাল্ব পাওয়া যায়৷ সেইগুলিই লাগিয়ে দিই৷ তবে ফুল ফোটার পর অনেক বীজ থাকে৷ সেগুলো ছড়িয়ে দিলেও আস্তে আস্তে গাছ বেরয়৷ বাল্ব লাগালে দুই থেকে তিন ইঞ্চি মাটির নিচে লাগাতে হয়৷ আর আলগা মাটি মানে ঝুরো মাটি হলে খুব ভালো হয়৷ এতে শেকড় বিস্তারিত হতে জায়গা পায়৷ ও গাছটিও শক্তপোক্ত হয়৷ যেহেতু টবে লাগানো গাছ তাই সার দিতে হয়। জৈব সারই দিই। তবে আজকাল একটা গাছের ভিটামিন দিই৷
এই ফুল গাছটির নাম হল ব্লিডিং হার্ট। দেখুন সাদার মত ফুলটা থেকে লাল রঙের আরেকটা ফুল বেরিয়ে এসেছে। যেন হৃদয় থেকে রক্ত পড়ছে। বহুদিন ধরে এই ফুল গাছটা আমি গুগলে দেখেছি। তাই অনেক খুঁজে এবারে একটা লাগিয়েছি। আমি ঠিক জানিনা গাছটির পরিচর্যা কেমন। তাও নিজের মতো জৈব সার তার দিয়েছি। গাছটি যখন লাগিয়েছিলাম একেবারেই মরে যাচ্ছিল আমি ভাবিনি গাছটা বেঁচে যাবে। আসলে মা বলেছিলেন যে গাছের কান্ড যেহেতু সবুজ আছে তাই লাগিয়ে দিলে পাতা কচিয়ে যেতেও পারে। পাতা তো হলই এবং ফুল হলো তবে দুঃখের বিষয় ফুলটা হওয়ার পর পাতা গুলো আবার শুকিয়ে যাচ্ছে। দেখা যাক আবার নতুন করে পাতা কচায় বা অন্য কিছু হয় নাকি।
বেগুনি রঙের জবা ফুল বলে এই গাছটি আমাকে দিয়েছিল নার্সারীর কাকু। যখন গাছটি এনেছিলাম খুবই ছোট আর ফুলও ফোটেনি। ফুল ফোটার পর দেখলাম জবার মতো দেখতে হল এটিকে ঠিক জবা বলা যায় না। রংটা তো অপূর্ব সেটা অস্বীকার করি না। তবে খানিকটা স্থলপদ্মের মতো দেখতে। আপনাদের কেমন লাগছে ফুল গাছটি? মাঝে অন্য রঙ থাকার জন্য নাকি একে এঞ্জেল হিবিসকাস বলে৷ এক বন্ধুর থেকে শুনেছি৷
এই ফুলটিকে কে না চেনে? এ হল স্থলপদ্ম। অনেক আগে লাগিয়েছিলাম গোলাপী স্থল পদ্ম। এবারেও ভেবেছিলাম গোলাপী। কিন্তু দেখা গেল সাদা৷ সাদা ফুল আমার ভীষণ ভালো লাগে যদিও। তাই গোলাপীর বদলে সাদা ফুল হচ্ছে দেখে আমার বেশ আনন্দই হয়েছে৷ দুটো ছবি দুই দিনের। প্রথম ফুটেছিল একটি ফুল দ্বিতীয়দিন দুটো এক সাথে৷ এরপর আরও অনেক কুঁড়ি এসেছে৷ এটাই আনন্দের৷
আমি বিশ্বাস করি ফুল ঈশ্বরের পরম দান৷ সামনের আমার গোপাল পূজো আছে সেইদিন দুটো ফুল ফুটলে বড় আনন্দ পাব৷ দেখা যাক কি হয়। তবে যা হবে তা আপনাদের জানাব৷
অন্যান্য গাছগুলিতেও ফুল ফোটাতে পারব আশাকরি৷ আর আপনাদের কাছে নিয়েও আসব সে সব ছবি৷ আজ এখানেই শেষ করছি আমার বাগান প্রদর্শনী। আপনারা ভালো থাকবেন৷ আবার আগামীকাল আসব অন্য কিছু নিয়ে৷ আজ আসি।
টা টা
| পোস্টের ধরণ | লাইফস্টাইল ব্লগ |
|---|---|
| ছবিওয়ালা | নীলম সামন্ত |
| মাধ্যম | স্যামসাং এফ৫৪ |
| লোকেশন | পুণে,মহারাষ্ট্র |
| ব্যবহৃত অ্যাপ | ক্যানভা, অনুলিপি |
৫% বেনেফিশিয়ারি এবিবি স্কুলকে এবং ১০% বেনেফিশিয়ারি লাজুকখ্যাঁককে
~লেখক পরিচিতি~
আমি নীলম সামন্ত। বেশ কিছু বছর কবিতা যাপনের পর মুক্তগদ্য, মুক্তপদ্য, পত্রসাহিত্য ইত্যাদিতে মনোনিবেশ করেছি৷ বর্তমানে 'কবিতার আলো' নামক ট্যাবলয়েডের ব্লগজিন ও প্রিন্টেড উভয় জায়গাতেই সহসম্পাদনার কাজে নিজের শাখা-প্রশাখা মেলে ধরেছি। কিছু গবেষণাধর্মী প্রবন্ধেরও কাজ করছি। পশ্চিমবঙ্গের নানান লিটিল ম্যাগাজিনে লিখে কবিতা জীবন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি৷ ভারতবর্ষের পুনে-তে থাকি৷ যেখানে বাংলার কোন ছোঁয়াই নেই৷ তাও মনে প্রাণে বাংলাকে ধরে আনন্দেই বাঁচি৷ আমার প্রকাশিত একক কাব্যগ্রন্থ হল মোমবাতির কার্ণিশ ও ইক্যুয়াল টু অ্যাপল আর প্রকাশিতব্য গদ্য সিরিজ জোনাক সভ্যতা।
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সব্বাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন৷ ভালো থাকুন বন্ধুরা। সৃষ্টিতে থাকুন।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
ওহ অসাধারণ অনেক গুলা ফুলের ফটোগ্রাফি আজকে আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন।এত সুন্দর সুন্দর ফুলের ফটোগ্রাফি দেখে মনটা ভরে গেলো। জবা ফুল সহ বেশ কয়েকটা ফুল আমার অনেক ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ অনেক সুন্দর সুন্দর ফুলের ফটোগ্রাফি শেয়ার করার জন্য।
সব কটাই আমার বাগানে ফোটা ফুল। আপনার ভালো লেগেছে জেনে খুব খুশি হয়েছি৷ ধন্যবাদ জানবেন৷ ভালো থাকবেন ভাইয়া৷
নিজের বাগানের ফুল যখন ফোটে সেই সময়ের অনূভুতি বলে বোঝানো যাবে না। শুকরিয়া আপু আপনিও ভালো থাকবেন।
স্থলপদ্ম গুলো আগে কখনো দেখা হয়নি। আপনার বাগানে অনেক সুন্দর ফুল ফুটেছে। ভালো লাগলো আপনার বাগানের ফুলের ফটোগ্রাফি গুলো দেখে। ব্লিডিং হার্ট ফুলটা দেখেও ভীষণ ভালো লাগলো। দারুন কিছু ফটোগ্রাফি ক্যাপচার করেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি শেয়ার করার জন্য।
স্থলপদ্মর এইটা একটা রঙ৷ এছাড়াও গোলাপী হয়, আর একটা হয় থোকা। আর একধরনের আছে যা সকালে সাদা হয় বিকেলে গোলাপী হয়ে যায়। সেই গাছগুলো খুব বড় বড় হয়৷
সব ছবিগুলো ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম আপু। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ৷
https://x.com/neelamsama92551/status/1827265882017468800?t=JmN51JDR1A6NzoqQzfZruQ&s=19
আপনার বাগানে ফুল ফুটতে শুরু করেছে দেখে ভীষণ ভালো লাগলো আপু। প্রতিটি ফুলের ফটোগ্রাফি দেখে মুগ্ধ হলাম। বিশেষ করে জবা ও স্থলপদ্ম ফুল দেখতে অনেক সুন্দর হয়েছে। ধন্যবাদ আপু আপনাকে দারুণ কিছু ফটোগ্রাফি আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য।
বাগানচর্চা তখনই সার্থক হয় যখন ফুল ফোটে। আপনার ভালো লেগেছে জেনে খুব খুশি হয়েছি। এমন সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানাই।
যখন আমরা কোন কিছু শুরু করি তখন অল্প কিছু দিয়েই শুরু করি। ধীরে ধীরে সবকিছুর সংখ্যা বেড়ে যায়। আপু আপনার বাগানের দৃশ্যগুলো দেখে খুবই ভালো লাগলো। আর ফটোগ্রাফি গুলো খুবই সুন্দর হয়েছে। সত্যি আপু এত সুন্দর ফটোগ্রাফি দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারছি না।
সত্যিই আপু। আমি ভাবতেই পারিনি আমার এতোগুলো টব হবে৷ এগুলো ছাড়াও আরও কিছু গাছ আছে যেগুলো কম রোদেও হয়। সেগুলো একদিন দেখাব।
ভালোবাসা নেবেন মনিরা আপু৷ খুব ভালো লাগল আপনার মন্তব্য।
ইস্ দেখেতো চোখ মন জুরিয়ে যাচ্ছে। আপনার বাগানের এত চমৎকার ফুলগুলো দেখে আমিতো মুগ্ধ হয়ে গেলাম আপু।আমারও বাগান করার অনেক শখ। আজ আপনার বাগানের প্রতিটি ফুল অসাধারণ লেগেছে। অনেক না জানা না চেনা ফুল দেখে নিলাম। ভাবছি স্থলপদ্দ ফুলটি আমিও আমার বারান্দায় লাগাবো। আমন্ত্রন দিয়ে ভালোই করেছেন।
অবশ্যই লাগাবেন। বড় হয়ে যখন ফোটে তখন কী যে ভালো লাগে আমি বলে বোঝাতে পারব না৷
বাগান করলে খুব মন ভালো থাকে৷ আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আপু।