নাটক রিভিউ-উড়াল পাখি|
আসসালামু আলাইকুম/নমস্কার
আমি@monira999। আমি একজন বাংলাদেশী। আজকে আমি "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটিতে একটি নাটক রিভিউ শেয়ার করতে যাচ্ছি। এই নাটকটি কয়েকদিন আগে দেখেছিলাম। কিন্তু রিভিউ শেয়ার করা হয়নি। নাটকটি দেখার পর আমার অনেক ভালো লেগেছিল। তাই তো আজকে রিভিউ শেয়ার করতে যাচ্ছি।
| নাম | উড়াল পাখি |
|---|---|
| পরিচালনা | জাকারিয়া সৌখিন |
| প্রধান সহকারী পরিচালক | শাহজাদা কবির শুভ |
| সহযোগি পরিচালক | জাহিদুল ইসলাম সুজন |
| অভিনয়ে | তৌসিফ মাহবুব,কেয়া পায়েল ও আরো অনেকে |
| দৈর্ঘ্য | ১ঘন্টা ২৫মিনিট |
| মুক্তির তারিখ | ৬ জুলাই ২০২৩ |
| ধরন | ড্রামা |
| ভাষা | বাংলা |
| দেশ | বাংলাদেশ |
চরিত্রেঃ
- তৌসিফ মাহবুব(জীবন)
- কেয়া পায়েল(পাখি)
নাটকের শুরুতে দেখতে পাই নাটকের নায়ক জীবন কাবাডি খেলছে। আর অন্যদিকে নাটকের নায়িকা পাখি দুষ্টুমি করে গ্রামের পথে ঘুরে বেড়াচ্ছে । এরপর জীবন যখন পাখিদের গ্রামে আসে তখন হঠাৎ করেই তার কপালে কিছু একটা ঢিল লাগে। পাখি বাটন দিয়ে পাখি মারতে গিয়ে জীবনের কপালে মেরেছে। এরপর পাখি জীবনের কাছে যায় আর কথা বলে। এরপর যখন পাখি বাড়ি ফিরে আসে তার কিছুক্ষণ পরেই দেখে জীবন তাদের বাড়ির উঠোনে এবং তার বাবার সাথে কথা বলছে। তখন পাখি মনে করে হয়তো জীবন তার বাবাকে বিচার দিতে এসেছে। এরপর পাখি কিছুটা ভয় পায়। পাখির বাবা জীবনকে জিজ্ঞাসা করে তার কপালে কি হয়েছে। তখন জীবন অন্য কিছু বলে কথা কাটিয়ে দেয়। এরপর পাখির বাবা পাখিকে ডাকে জীবনের কপালে ওষুধ দেওয়ার জন্য। এবার পাখি সুযোগ পেয়ে যায় জীবনের সাথে কথা বলার জন্য। পাখি বলে আমি যে আপনার কপালে মেরেছি এটা কাউকে বলবেন না। না হলে আপনার খবর আছে।
পাখির বাবা এলাকার চেয়ারম্যান। এলাকায় একটি কাবাডি খেলার আয়োজন করেছে। আর জীবন এই কাবাডি খেলার জন্যই পাখিদের গ্রামে এসেছে। সেই সুবাদে চেয়ারম্যানের বাড়িতে জীবন এবং তার বন্ধুর থাকার সুযোগ হয়েছে। পাখিদের বাড়িতে যেহেতু জীবন থাকতে শুরু করেছে তাই দুজনের মধ্যে ধীরে ধীরে সুন্দর একটি সম্পর্ক তৈরি হয়। আর মনে মনে দুজন দুজনকে পছন্দ করতে শুরু করে। এভাবেই দুষ্টু মিষ্টি খুনসুটির মধ্য দিয়ে তাদের দিন কেটে যাচ্ছিল। দেখতে দেখতে কাবাডি খেলা শেষ হয়ে যায়। আর জীবন বাড়ি ফেরার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। জীবন চলে যাবে শুনে পাখির খুবই মন খারাপ হয়। এমনকি যাওয়ার সময় পাখি দূরে গিয়ে বসে থাকে। যাওয়ার সময় জীবন পাখির সাথে দেখা করে যায়। আর পাখিকে বলে সে যেন মন খারাপ না করে। এরপর জীবন বাড়িতে ফিরে গিয়ে শুধু পাখির কথাই ভাবতে থাকে। অন্যদিকে পাখিও জীবনের কথা ভাবতে থাকে।
এরপর জীবন তার বন্ধুকে নিয়ে আবারো পাখিদের গ্রামে আসে। পাখি কলেজে যাচ্ছিল এমন সময় রাস্তায় পাখির সাথে দেখা করে। জীবনকে দেখে পাখি অনেক খুশি হয়। আর তারা কথা বলে। এরপর দুজনের ফোন নম্বরের আদান-প্রদান হয়। এরপর থেকেই শুরু হয় তাদের কথা বলা। পাখি আর জীবন দুজন দুজনার সাথে কথা বলতো লুকিয়ে লুকিয়ে। ফোনে কথা বলতো আর মাঝে মাঝে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখা করতো। এভাবেই কেটে যাচ্ছিল তাদের দিনগুলো। এর মাঝে জীবন তার দাদিকে সবকিছুই জানায়। তার দাদি পাখির সাথে কথা বলে আর পাখিকে ভীষণ পছন্দ করে। এরপর জীবন তার দাদীর হাতে তৈরি আমের মোরব্বা খাচ্ছিল এমন সময় পাখির সাথে কথা বলে। আর পাখি বলে মোরব্বা তার অনেক পছন্দের। এবার সেই রাতে জীবন পাখিকে মোরব্বা দিতে তার বাসায় যায়। আর ফেরার সময় কেউ একজন দেখে ফেলে। এরপর এই কথা পাখির বাবার কানে চলে যায়।
পাখির বাবা পাখির বিয়ে ঠিক করে ফেলে। এই কথা শুনে পাখি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে। অন্যদিকে পাখি জীবনকে সব কিছু বলে যে তার বিয়ে ঠিক করা হয়েছে। এমনকি পাখির কাছ থেকে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। পাখি তার বান্ধবীর মাধ্যমে জীবনের সাথে যোগাযোগ করে আর জানায় সে যেন পাখিকে নিয়ে যায়। আর কিছু একটা করে। জীবন কি করবে বুঝে উঠতে পারছিল না। এরপর পাখিকে বলে তার সাথে পালিয়ে যেতে। পাখি সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে জীবনের সাথে পালিয়ে যায়। জীবন পাখিকে নিয়ে তাদের বাড়িতে যায়। কিন্তু জীবনের বাবা বলে এভাবে পালিয়ে বিয়ে করা ঠিক নয়। আমি তোমাদের সাথে করে নিয়ে যাবো আর চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে কথা বলবো। এরপর তারা ফিরে আসে পাখিদের বাড়িতে। চেয়ারম্যান সাহেব অর্থাৎ পাখির বাবা জীবনকে মেনে না নিয়ে নিজের মেয়েকে তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। আর বলে সে কিছুতেই জীবনের সাথে পাখির বিয়ে দিতে পারবে না। এরপর অনেক অপমান করে তাদেরকে তাড়িয়ে দেয়।
এই অবস্থায় জীবন মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। অন্যদিকে পাখির বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। পাখির বাবা-মা পাখিকে বলে সে যদি বিয়ে না করে তাহলে তারা আত্মহত্যা করবে। এই কথা শুনে পাখি বিয়ে করতে রাজি হয়। আর তার বাবা-মার কথা চিন্তা করে নিজের ভালোবাসা বিসর্জন দেয়। জীবন পাখিকে আবারো নিতে আসে। কিন্তু সেদিন পাখি যায় না। বলে তুমি চলে যাও। এরপর পাখির বিয়ে হয়ে যায়। জীবন অনেক কষ্টে এদিক-ওদিকে ঘুরে বেড়ায়। পাখির শ্বশুরবাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এরপর পাখি বলে তুমি আর কখনোই এখানে এসো না। এরপর হঠাৎ একদিন পাখি তার বাবার সাথে বাড়ি ফিরছিল আর তখন দেখে কারো লাশ নিয়ে যাচ্ছে। এরপর পাখি জানতে পারে জীবন আত্মহত্যা করেছে। পাখি জীবনের কবরের কাছে গিয়ে চিৎকার করে কাঁদতে থাকে। এরপর নাটকটি শেষ হয়ে যায়।
গল্পের শেষটা যদি কষ্টের হয় তাহলে অনেক খারাপ লাগে। একটি সত্যিকারের ভালোবাসা পূর্ণতা পায়নি। অপূর্ণ ভালোবাসা নিয়ে জীবন বাঁচতে পারেনি। তাই তো নিজের জীবন শেষ করে দিয়েছিল। আর তার পাখিকে একা করে দিয়ে চলে গিয়েছিল। অন্য দিকে পাখি পরিস্থিতির কারণে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিল। সব মিলিয়ে নাটকটি ভালো লেগেছে।
আমি মনিরা মুন্নী। আমার স্টিমিট আইডি নাম @monira999 । আমি ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স কমপ্লিট করেছি। গল্প লিখতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। মাঝে মাঝে পেইন্টিং করতে ভালো লাগে। অবসর সময়ে বাগান করতে অনেক ভালো লাগে। পাখি পালন করা আমার আরও একটি শখের কাজ। ২০২১ সালের জুলাই মাসে আমি স্টিমিট ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করি। আমার এই ব্লগিং ক্যারিয়ারে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো আমি "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির একজন সদস্য।
https://x.com/Monira93732137/status/1800617708922589633?t=vagxFAx29iIV3IpbfpUY3g&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
উড়াল পাখি নাটকটা কিন্তু আমার কাছে প্রথম দেখে পড়তে অনেক বেশি ভালোই লাগছিল। কিন্তু শেষের দিকটা পড়ে চোখে জল চলে এসেছে। বিশেষ করে জীবনের মৃত্যুর বিষয়টা দেখে অনেক খারাপ লেগেছে। শেষের দিকটা সত্যি অনেক বেশি কষ্টের ছিল। ভালোবাসা পূর্ণতা না পেলে সত্যি তার থেকে কষ্ট আর কিসে হতে পারে। তাদের সত্যিকারের ভালোবাসা পূর্ণতা পায়নি। অপূর্ণ ভালোবাসা নিয়ে বাঁচতে চায়নি, তাই সে এরকম ভাবে নিজের জীবনটা শেষ করে দিয়েছে দেখে খারাপ লেগেছে। এখানে তো পাখিরও কোন দোষ ছিল না। কারণ পরিস্থিতির কারণেই তাকে এটা মেনে নিতে হয়েছে। এই নাটকের কাহিনী সুন্দর করে শেয়ার করেছেন এজন্য ধন্যবাদ।
আমার নাটক রিভিউ পড়ে আপনার ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো। সত্যি আপু যখন ছেলেটি মারা গিয়েছে তখন অনেক কষ্ট লেগেছে।
আপনি আজকে অনেক সুন্দর একটা নাটকের রিভিউ পোস্ট আমাদের মাঝে ভাগ করে নিয়েছেন আপু। নাটকটা পড়তে ভালই লেগেছে। তবে নাটকের শেষটা এত কষ্টের হবে এটা ভাবতেই পারিনি। অপূর্ণ ভালোবাসা সত্যি মানুষকে প্রচুর কষ্ট দেয় যেটা অনেকেই মেনে নিতে পারে না। তেমনি জীবনও মেনে নিতে পারেনি। আর সেজন্য সে নিজেকে এরকম ভাবে শেষ করে দিয়েছে। পুরোটার রিভিউ ভাগ করে নেয়ার জন্য ধন্যবাদ।
ভাইয়া আমি নাটকটি দেখে কষ্ট পেয়েছিলাম আর আপনাদের মাঝে রিভিউ শেয়ার করেছি। আর নাটকটির শেষ দৃশ্যটা সত্যি অনেক কষ্টের ছিল। ধন্যবাদ আপনাকে।
নাটক দেখতে বেশ ভালোই লাগে আমার কাছে। সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ শেয়ার করেছেন আপনি। যদিও নাটকটি দেখা হয়নি। তবে রিভিউ পড়ে আমার কাছে নাটকটি বেশ ভালো লেগেছে। সময় করে নাটকটি দেখার চেষ্টা করব। ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
নাটক দেখতে আপনার ভালো লাগে জেনে ভালো লাগলো আপু। আমিও সময় পেলে নাটক দেখার চেষ্টা করি। তাইতো এই নাটকের রিভিউ শেয়ার করেছি।
আপনি অনেক সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ শেয়ার করেছেন।কেয়া পায়েলের নাটকের অভিনয় গুলো আমার কাছে অনেক ভালো লাগে। আপনার শেয়ার করা নাটকটি এখনো দেখা হয়নি। তবে নাটকের রিভিউ টা পড়ে অনেক ভালো লাগলো। সময় পেলে নাটকটি দেখে নেওয়ার চেষ্টা করব। আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ নাটক টির রিভিউ শেয়ার করার জন্য।
এই নাটকটি সত্যি দারুন ছিল। তবে শেষে যখন ছেলেটি মারা যায় তখন অনেক খারাপ লাগে। ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য।
খুবই সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ শেয়ার করেছেন আপনি৷ আপনার কাছ থেকে এই সুন্দর নাটক এর রিভিউ দেখে খুবই ভালো লাগছে৷ এই নাটক আমি এখনো দেখে নিতে পারিনি৷ তবে আপনার এই রিভিউ থেকে নাটকটি সম্পর্কে অনেক ধারণা পেয়ে গেলাম৷ সময় পেলে অবশ্যই এই নাটকটি দেখে নেওয়ার চেষ্টা করব৷