ছোটবেলার স্মৃতি। বন্যায় বাঁধ ভাঙার উপক্রম।।
আমি এর আগেও বলেছি আমার গ্রামের বাড়ি গোমতী নদী থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। এক কিলোমিটার শুনতে লম্বা রাস্তা মনে হলেও গ্রামে এই দূরত্ব খুবই কম। নদীর বাঁধ আমাদের বাড়ি থেকে একদম কাছে। এই বাঁধের ভেতরে প্রায় ৫০০ পরিবারের বসবাস। এই পরিবারগুলো খুব সাদামাটা জীবন যাপন করত। এর একটি প্রধান কারণ ছিল বন্যা। প্রতি বছর একবার হলেও বন্যা হত। আর বন্যা মানেই তাদের বাড়ি ঘর ডুবে যাওয়া। যেহেতু বেশিরভাগ ঘর মাটির এবং কাঠের, ফ্লোর মাটির সেহেতু বন্যা শেষ হলে অনেক কাজ। বাড়ি আবার নতুন করে সাজাতে হয়। এই বন্যার সময়গুলোতে অনেক পরিবার এসে আমাদের বাড়ি এসে আশ্রয় নিত। আর বাকিরা বাড়ির পাশের কলেজে আশ্রয় নিত।
আমি যে সময়ের কথা বলছি তখন আমি ক্লাস সিক্স এ পড়ি। নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। বাঁধের ভিতরের মানুষের চিন্তা বাড়তে শুরু করেছে। বাড়তে বাড়তে এক সময় বাঁধের কাছে চলে এসেছে। বাঁধ পর্যন্ত আসলে আমরা যারা বাঁধের এপারে আছি তাদের চিন্তা বেড়ে যায়। কারণ শুনেছি বন্যায় বাঁধ ভাঙলে সেই জায়গাগুলো আর ব্যবহার উপযোগী থাকে না। এত গর্ত হয় সেখানে ছোট নদী তৈরী হয়। প্রতি বছরই বন্যা হয় কিন্তু আমাদের তেমন চিন্তা হয় না কারণ বাঁধের মাঝামাঝি থাকা অবস্থায় আবার পানি কমে যায়।
যাই হোক আমি যখনকার কথা লিখছি সেই সময় পানি এত বেড়েছে যে বাঁধ উপচে পানি এপারে চলে আসার মত অবস্থা। তারপরও যেহেতু প্রতি বছর বন্যা দেখি তেমন চিন্তা হচ্ছে না আমাদের। বন্যার সময় একদিন গভীর রাতে আমরা ঘুমে মগ্ন। হঠাৎ চিৎকার চেচামেচি শুরু হয়ে গেল বাঁধ ভেঙ্গে গিয়েছে। আমরা ত সবাই দ্রুত উঠে বের হলাম বাঁধের উদ্দেশ্যে।
বাঁধের কাছে গিয়ে দেখি অনেক মানুষ জড়ো হয়েছে। একটু পর জানতে পারলাম বাঁধ ভাঙেনি তবে একটি ফাটল তৈরী হয়েছে যা দিয়ে পানি বের হচ্ছে। পানি বের হওয়াটা ভালো না কারণ ধীরে ধীরে ছিদ্র বড় হয় এবং এক সময় বাঁধ ভেঙ্গে যায়। দেখলাম সবাই যার যার মত মাটি কেটে বস্তায় ভরে ছিদ্রের মুখে দিচ্ছে। আমার আব্বা চাচা সবাই আঁটসাঁট বেধে নেমেছে । আমিও নেমেছি বস্তা ভরাট করার জন্য। এক সময় পানি আসা বন্ধ হল। কখন ভোর হয়ে এল টেরই পাইনি। সবাই খুবই ক্লান্ত। যে যার মত করে শুয়ে বসে আছে। কেউ বাসায় যাচ্ছে না কখন আবার পানি ছিদ্র দিয়ে চলে আসে। আমি খেয়াল করেছি যারা বাঁধের ভিতরে বাড়ি তারাও অনেকেই সারারাত ধরে মাটি কেটে বস্তা ছিদ্রের মুখে দিয়েছে। আমার দেখে খুবই ভালো লাগল।
এখনো সেই দিনের কথা মনে হলে গা শিউরে উঠে।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
সত্যি ভাইয়া আগের অনেক জায়গায় এমন ছিল, লোকজন বাঁধ দিত।বন্যাকবলিত এলাকায় বন্যা শেষ হলে কাজ তো আরো বেশি থাকা স্বাভাবিক। আর এই পানির বাঁধ ঠেকানোর জন্য সবারই চোখে ঘুম হারাম হবে এটাই স্বাভাবিক। আর এসকল কথা ভুলার মতো নয়। ধন্যবাদ আপনাকে ছোটবেলার বাঁধ ভাঙার উপক্রম আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
খুবই এক দূর্বিসহ জীবন যাপন করতে হয় বন্যার সময়। আর সেই বন্যায় বাধঁ ভাঙ্গা নিয়ে তো দেখি আপনাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিল। যাক তবুও সারারাত জেগে আপনার বাবা চাচা আর আপনারা মিলে বাধঁ এর ছিদ্র বন্ধ করতে পেরেছেন। ধন্যবাদ ভাইয়া।
বন্যার সময় নদীর পাড়ের বাড়িগুলো একেবারেই ডুবে যায়। কতই না দূর্বিসহ জীবন যাপন করতে হয় বন্যার সময় মানুষদেরকে। একবার যদি বাঁধ ভেঙে পানি চলে আসে তাহলে অনেক বড় সমস্যা হয়। মানুষের জীবন যাপন করা একেবারেই নির্মম হয়ে ওঠে এরকম বন্যার সময়। এদিক ওদিক ছোটাছুটি করে থাকি মানুষজন। কে কোথায় আশ্রয় নেবে এটা নিয়েই চিন্তাভাবনা থাকে তখন। আপনার এই পোস্টটা পড়ে আমার ঘা শিউরে উঠেছিল। যদি ওই সময় বাঁধ ভেঙে যেত আল্লাহই জানে কি হত। তবে গ্রামের সবাই মিলে বাঁধ দিয়েছিল এটা জেনে ভালো লাগলো।
আসলে যাদের বাড়ি ঘর প্রতি বছর বন্যায় ডুবে যায় তাদের কষ্টের শেষ নেই। তাছাড়া বাঁধের পাড়ের লোকজনের আরো বেশি চিন্তা থাকে । বন্যার সময় বাঁধ ভেঙে গেলে বড়সড়ো বিপদ হত জন্যই সবাই যে যার মত বা বালির বস্তা দিয়ে বাঁধের ছিদ্র বন্ধ করার চেষ্টা করেছে। যাই হোক আপনাদের চেষ্টা সফল হয়েছিল জন্য সে যাত্রায় বেঁচে গিয়েছিলেন।
আগে নদীর বাঁধ গুলো ভেঙে পড়ে যেত এবং গ্রামের মানুষগুলো এসে দিন-রাত পরিশ্রম করে আবারো বাঁধ গুলো ঠিক করতো। বন্যার সময় এরকম বাঁধ ভেঙে গেলে, সবাই অনেক বেশি ভয় পেয়ে যেত, কারণ এর মাধ্যমে ঘরবাড়িগুলোতে পানি ঢুকে যেত। ওই সময় সাথে যদি পানি ঢুকে যেত আপনাদের ওখানে জানি না কি হতো। সত্যি বন্যার সময় জীবন যাপন করা অনেক কষ্টের। যতই বিপদ আসুক না কেন সবকিছুকে পেরিয়ে আমাদের উচিত সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। সম্পূর্ণটা খুবই সুন্দরভাবে লিখেছেন। খুব সুন্দর ভাবে সম্পূর্ণটা পড়লাম
আসলে এই ধরনের ঘটনা সত্যিই ভুলবার মতো নয়। আপনাদের কপাল ভালো ছিলো তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। কারণ বাঁধ ভেঙে গেলে অনেক বড় ধরনের বিপদ হয়। যাইহোক আপনাদের প্রচেষ্টায় সেই যাত্রায় আপনারা বেঁচে গিয়েছিলেন। পোস্টটি শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।