একজন বিশ্বাসী মানুষ অন্যদের থেকে বেশি সুখী হয়
আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা, কেমন আছেন আপনারা সবাই। চলে আসলাম আপনাদের মাঝে সুন্দর একটি জীবন পরিবর্তন করার মত গল্প নিয়ে।
আজকে যে গল্পটি আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চলেছি এই গল্পে একজন বিশ্বাসী মানুষ অন্যদের থেকে কেন বেশি সুখী হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
তাই মনোযোগ সহকার গল্পটি পড়বেন, আমার মনে হয় গল্পটি আপনাদের ভালো লাগবে। যেহেতু গল্পটি কাল্পনিক, তবে বাস্তবতার সাথে এই গল্পের অনেক বেশি মিল রয়েছে। তাহলে চলুন আর বেশি কথা না বলে গল্পে ফেরা যাক।
অচেনা এক শহর যেখানে ছিল একটি সুন্দর গ্রাম, গ্রামের নাম ছিল শ্যামপুর। এই গ্রামের মানুষরা খুবই সাধারণ আর সহজ-সরল জীবন যাপন করত। তাদের জীবনের প্রধান আকর্ষণ ছিল গ্রাম্য মেলা, পুকুরের ধারে সন্ধ্যায় বসে গল্প করা, আর কৃষি কাজ করে পাকা ধান কাটার পরে হাসিখুশি ভাবে আনন্দ করা। আর এই গ্রামে ছিল একটি ছেলে, যে ছেলের নাম সবার মুখ থেকেই সব সময় শোনা যেত ,ছেলেটির নাম ছিল মোহন।
মোহন ছিল একজন অতি সাধারণ মানুষ। সে ছিল একজন কৃষক, কৃষি কাজ করে তার দিন যাপন হত। অন্য কোন পথ ছিল না তার কাছে ওই কৃষি কাজ করা ছাড়া। কিন্তু তার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তার বিশ্বাস। সে সবসময় বিশ্বাস করত যে আমাদের জীবন সুন্দর এবং এই জীবনে আমাদেরকে প্রতিটি মুহূর্ত ভালোভাবে উপভোগ করতে হবে। আর তার এই বিশ্বাস তাকে অন্য সবার থেকে আলাদা করে তুলত। তাইতো গ্রামের মানুষ সবাই তাকে অনেক বেশি পছন্দ করত ভালোবাসতো।
তবে মোহনের জীবন মোটেও সহজ ছিল না। অনেক কষ্ট করে কৃষি কাজ করত কিন্তু তার ফসল মাঝে মাঝে ভালো হতো আবার কিছু কিছু সময় ভালো হত না, কৃষি কাজ করতে হলে পানির প্রচুর প্রয়োজন হয় তাই বেশিরভাগ সময় বৃষ্টির অভাবে অনেক কষ্ট করতে হত তাকে। তবু সে কখনও হতাশ হত না। সে বলত, "উপরওয়ালা যা দেন, ভালোর জন্যই দেন। সব সময় একটি কথা বলতো খারাপ সময়ের পর ভালো সময় আসবেই। আর এই বিশ্বাসই তাকে শক্তি দিত সব সময়।
দেখতে দেখতে একটা সুন্দর সময় এসে গেল ওই গ্রামে, গ্রামের কৃষকরা যখন তাদের ফসল ঘরে নিয়ে আসলো, তখন ওই গ্রামের প্রত্যেকটি কৃষক অনেক বেশি খুশি এবং আনন্দিত তাই তারা একটা মেলা বসানোর চিন্তা-ভাবনা করল। আর দেখতে দেখতে ওই গ্রামে একটা সুন্দর কৃষি মেলার আয়োজন করা হলো। ওই মেলায় অনেক জায়গার মানুষের আনাগোনা শুরু হয়ে গেল দেখতে দেখতে মেলার মাঠ ভরে গেল। এদিকে মোহনও তার পরিবার নিয়ে মেলায় চলে আসলো। সে মেলায় এসে দেখল ওই মেলায় অনেক রকমের দোকান বসেছে, নানান ধরনের খেলাধুলা আর আনন্দের ব্যবস্থা রয়েছে, এটা দেখে মোহন মনে মনে অনেক আনন্দ উপভোগ করতে থাকলো। যখন মোহনের স্ত্রী মোহনের দিকে তাকাল, মোহনের স্ত্রী বলল, তুমি মনে মনে দেখি অনেক খুশি তাহলে চলো আমরা আরো মেলায় জিনিসপত্র ঘুরে ঘুরে দেখতে থাকি, তোমার আরো বেশি ভালো লাগবে।
মোহন হাসিমুখে বলল, "অবশ্যই, আমরা সব দেখব। জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করতে হবে একটাও মিস করলে হবে না। মোহন তার সন্তানদের হাত ধরে মেলার সব আনন্দ উপভোগ করতে থাকলো। সে সবসময় বিশ্বাস করত যে সুখ পাওয়া যায় না, সুখ সৃষ্টি করতে হয়। তাই সে তার পরিবারের সাথে মেলার প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করার চেষ্টা করছে যেন সে এবং তার পরিবার আনন্দ উপভোগ করে।
মেলা শেষে যখন সবাই বাড়ি ফিরছিল, তখন গ্রামের কিছু মানুষ মোহনের কাছে এসে বলল, মোহন, তুমি সবসময় এত খুশি থাক কিভাবে? মোহন বলল, আমি বিশ্বাস করি যে জীবনে সবকিছু সম্ভব যদি আমরা মন থেকে চেষ্টা করি। প্রতিটা কষ্টের মধ্যে সুখ খুঁজে পাওয়া যায়। বিশ্বাস আমাদেরকে শক্তি দেয়, আর এই বিশ্বাসই আমাদের সুখী করে তোলে। তাই আমি সবসময়ই হাসি খুশি থাকার চেষ্টা করি শত কষ্ট শত বাধার পরেও চেষ্টা করি নিজেকে শান্ত করার নিজেকে হাসিখুশি রাখার।
গ্রামের মানুষরা মোহনের কথা শুনে মুগ্ধ হল। তারা বুঝতে পারল যে সুখ আসলে আমাদের নিজের মনের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে। বিশ্বাস আমাদেরকে সেই সুখ খুঁজে পেতে সাহায্য করে। এইভাবেই মোহন তার বিশ্বাস আর সুখের মাধ্যমে গ্রামের মানুষের মনে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। সবাই শিখল যে একজন বিশ্বাসী মানুষ অন্যদের থেকে বেশি সুখী হয়। কারণ সে জানে, বিশ্বাসই জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
আমি আমার এই পোস্টের ১০% বেনিফিশিয়ারি @shy-fox কে দিলাম
নিজের সম্পর্কে ছোট্ট কিছু বর্ণনা

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আপনার পোস্টটি পড়ে মনে হলো এটি অনেক অনুপ্রেরণামূলক এবং হৃদয়স্পর্শী। মোহনের গল্প এবং তার জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের শেখায় যে বিশ্বাস এবং ইতিবাচক মনোভাব কতটা শক্তিশালী হতে পারে। আপনার লেখার মাধ্যমে আপনি সেই বার্তাটি খুব সুন্দর করে তুলে ধরেছেন। এই ধরনের গল্প পড়ে মনে হয়, জীবনে সত্যিই সুখ খুঁজে পাওয়া সম্ভব, এবং তা আমাদের নিজেদের মনের মধ্যেই লুকিয়ে আছে। ধন্যবাদ এমন সুন্দর পোস্টের জন্য।