নদীর মাছের মজার রেসিপি
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগ এর ভাই ও বোনেরা, মুসলিম ভাই ও বোনদের জানাই আসসালামু আলাইকুম। সনাতন ধর্মালম্বী ভাই ও বোনদের জানাই আদাব এবং অন্যান্য ধর্ম অবলম্বনকারী ভাই ও বোনদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আশা করি মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সবাই বাড়ির সকল সদস্যকে নিয়ে ভালো আছেন সুস্থ আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং আপনাদের সকলের দোয়ায় ভালো আছি, সুস্থ আছি।
আজ আবারো ফিরে আসলাম আপনাদের মাঝে নতুন একটি রেসিপি পোষ্ট নিয়ে। আর আজকের রেসিপি হচ্ছে নদীর মাছের মজার রেসিপি। সেদিন আমি আমার অর্ধাঙ্গিনীকে তার স্কুলে রেখে আসার সময় ধরলা নদীর পাড়ে কিছুটা সময় দাঁড়িয়ে ছিলাম। আর তখন দেখলাম এক মাঝি ভাই বেশ কিছু মাছ নিয়ে নদীর পাড়ের দিকে উঠে আসছে। আমি খুব কৌতূহল বসত মাঝি ভাইয়ের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলাম। আর মাঝি ভাইয়ের কাছে গিয়ে অনেকগুলো দেশী মাছ দেখতে পেয়েছিলাম।
যে মাছগুলো তিনি সবেমাত্র নদী থেকে জাল দিয়ে মেরে নিয়ে এসেছিলেন। মাছগুলো দেখে আমার খুবই লোভ হয়েছিল। মনে হয়েছিল এই টাটকা টাটকা মাছ গুলো খেতে খুবই স্বাদ পাওয়া যাবে। আমার ধারনাটাই ঠিক ছিল, টাটকা টাটকা মাছগুলো যখন নিয়ে এসে মজার রেসিপি তৈরি করেছিলাম, তখন খেতে খুবই মজার হয়েছিল। তাই ভাবলাম এই মজার ও সুস্বাদু মাছের রেসিপিটি আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিই।
নদীর মাছের মজাই আলাদা, কথায় আছে দেশি মাছের বেশি স্বাদ। আমার রেসিপি ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। বিশেষ করে এই রেসিপিটি আমি হাতে মাখিয়ে তৈরি করেছিলাম। তাই খেতেও সুস্বাদু হয়েছিল। তো বন্ধুরা চলুন আর কথা না বাড়িয়ে, নদীর মাছের মজার রেসিপি কিভাবে তৈরি করেছিলাম তার রন্ধন প্রণালীর ধাপগুলো দেখে নেয়া যাক।
| ক্রমিক নং | উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১ | মাছ | ৫০০ গ্রাম |
| ২ | পেঁয়াজ | ৪-৫ টি |
| ৩ | কাঁচা মরিচ | ৮-১০ টি |
| ৪ | জিরার গুড়া | ২ চা চামচ |
| ৫ | শুকনা মরিচ গুঁড়া | ১ চা চামচ |
| ৬ | হলুদ গুঁড়া | ১ চা চামচ |
| ৭ | সয়াবিন তেল | পরিমাণ মতো |
| ৮ | লবণ | স্বাদমতো |
" ধাপ : ১ "
" ধাপ : ১ "১। প্রথমে মাছগুলো কেটে বেচে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। উপরে দেয়া চিত্রের মত করে।
" ধাপ : ২ "
" ধাপ : ২ "২। এবার পেঁয়াজ গুলোর খোসা ছাড়িয়ে, কুচি করে কেটে নিতে হবে। উপরে দেয়া চিত্রের মত করে।
" ধাপ : ৩ "
" ধাপ : ৩ "৩। এবার কাঁচামরিচ গুলোর বোটা ছাড়িয়ে, লম্বভাবে মাঝ বরাবর কেটে নিতে হবে। উপরে দেয়া চিত্রের মত করে।
" ধাপ : ৪ "
" ধাপ : ৪ "৪। এবার রান্না করার জন্য একটি পরিষ্কার পাত্র নিতে হবে। তারপর সেই পাত্রে কেটে নেয়া কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, জিরা গুড়া, হলুদ গুঁড়া, শুকনা মরিচ গুঁড়া ও লবণ নিতে হবে।
" ধাপ : ৫ "
" ধাপ : ৫ "৫। এবার কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, জিরা গুড়া, হলুদ গুঁড়া, শুকনা মরিচ গুঁড়া ও লবণ নেয়ার পর হাতের সাহায্যে ভালোভাবে মাখিয়ে নিতে হবে। তারপর পরিমাণ মতো সয়াবিন তেল পাত্রে ঢেলে দিতে হবে।
" ধাপ : ৬ "
" ধাপ : ৬ "৬। এবার সয়াবিন তেল ঢেলে দেয়ার পর, কেটে বেছে পরিষ্কার করে নেয়া মাছগুলো পাত্রে ঢেলে দিতে হবে।
" ধাপ : ৭ "
" ধাপ : ৭ "৭। এবার মাছ ঢেলে দেয়ার পর, সবগুলো উপকরণের সাথে মাছগুলো মাখিয়ে নিতে হবে। তারপর পরিমাণ মতো পানি পাত্রে ঢেলে দিতে হবে।
" ধাপ : ৮ "
" ধাপ : ৮ "৮। এবার পরিমাণ মতো পানি ঢেলে দেয়ার পর, চুলায় পাত্রটি বসিয়ে দিতে হবে। তারপর ঢাকনা দিয়ে ঢেকে হাল্কা আঁচে রান্না করতে হবে। এভাবে হাল্কা আঁচে রান্না করে ঢেলে দেয়া পানি কমিয়ে আনতে হবে। ঢেলে দেয়া পানি যখন মাখো মাখো হয়ে ঝোলে পরিণত হয়ে আসবে, তখন বুঝতে হবে আমাদের কাঙ্ক্ষিত রেসিপিটি সম্পূর্ণভাবে তৈরি হয়েছে।
" শেষ : ধাপ "
" শেষ : ধাপ "শেষ-ধাপ : এবার রেসিপিটি সম্পূর্ণভাবে তৈরি হয়ে যাবার পর, পরিবেশনের জন্য আলাদা একটি পাত্রে ঢেলে নিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।
আশা করি আমার রেসিপি পোস্টটি আপনাদের কাছে অনেক অনেক ভালো লেগেছে। ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই অবশ্যই আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন। আজ আর নয়, দেখা হবে আগামীতে নতুন কোন পোস্ট নিয়ে।
আমি মোঃ মাহবুবুল ইসলাম লিমন। বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি। বাংলা ভাষা আমার মাতৃভাষা। আমি এই অপরূপ বাংলার কোলে জন্ম নিয়ে নিজেকে অনেক অনেক গর্বিত মনে করি। এই বাংলায় আমার ভালো লাগে, বাংলায় চলতে, বাংলায় বলতে, বাংলায় হাসতে, বাংলায় গাইতে, বাংলায় শুনতে, আরো ভালো লাগে এই অপরুপ বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে নিজেকে হারিয়ে যেতে দিতে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন এবং আমাকে সহযোগিতা করবেন। আমি যেন আগামীতেও আরো অনেক সুন্দর সুন্দর পোস্ট নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হতে পারি। সবাই পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। এই প্রত্যাশাই সর্বদা।
ঠিক বলছেন ভাইয়া আসলে নদীর মাছগুলো খেতে খুবই ভালো লাগে। যদি হয় এমন ফ্রেশ মাছ তাহলে খেতে দারুন হয়। আপনি তো ভীষণ মজার করে রান্না করলেন পাবদা মাছের ঝোল। রেসিপিটি অনেক ভালো লেগেছে আমার কাছে। খুবই লোভনীয় দেখাচ্ছে আপনার তৈরি করা আজকের। রেসিপি।
অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু, খুব সুন্দর মন্তব্য করে আমাকে উৎসাহ দেয়ার জন্য।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
ভাই নদীর মাছের কথা শুনলেই খেতে ইচ্ছে করে। আমরা তো নিজেদের পুকুরে চাষ করে মাছ খেয়ে থাকি। আসলে নদীর মাছ খেতে অনেক সুস্বাদু। প্রাকৃতির মধ্য দিয়ে সব মাছগুলো তৈরি হয় বলে এগুলো খেতে ভারি ভালো লাগে। আপনি আজকে নদীর মাছের চমৎকার রেসিপি তৈরি করেছেন। রেসিপি ধাপগুলো সুন্দরভাবে আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে শেয়ার করার জন্য।
আপনি ঠিক বলেছেন ভাই, নদীর মাছের রেসিপি খেতে সত্যিই খুব স্বাদ লাগে। আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
খুবই সুস্বাদু ও চমৎকার নদীর মাছের রেসিপিটি এবার আপনার মাধ্যমে দেখতে পেলাম ভাই। আসলে নদীর মাছ সবসময়ই চাষের মাছের চেয়ে বেশি সুস্বাদু হয়ে থাকে।আর আপনার রেসিপি কালারটিও দেখতে চমৎকার লাগছে। অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই, এত সুস্বাদু ও মজাদার নদীর মাছের রেসিপিটি তৈরি করে আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
ঠিক বলেছেন ভাই, চাষের মাছের চাইতে নদীর মাছের স্বাদ অনেক অনেক বেশি। আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
নদীর মাছের টেস্ট অন্যরকম হয়।খুব সুস্বাদু লাগে নদীর মাছ খেতে৷ নদীর মাছের মজাদার এবং লোভনীয় রেসিপি আজ শেয়ার করলেন। খুব ভালো লাগলো রেসিপিটি। ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর রেসিপিটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
আপু নদীর মাছের রেসিপিটি দেখতে যতটা লোভনীয় হয়েছিল, খেতেও ঠিক ততটাই মজার হয়েছিল। আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
নদীর মাছের স্বাদই আলাদা,খেতে অনেক মজার।আপনি মাঝি ভাইদের কাছ থেকে টাটকা মাছ কিনে রেসিপি করেছেন জেনে ভালো লাগলো।আসলেই টাটকা মাছ খেতে অনেক ভালো লাগে।আর এই মাছগুলো অনেক উপকারীও হয়ে থাকে।আপনার রেসিপিটি সুন্দর হয়েছে, ধন্যবাদ ভাইয়া।
আপু, আমার তৈরি রেসিপিটি আপনার কাছে ভালো লেগেছে এজন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
নদীর মাছ খুব মজার হয়।মাছগুলো খুব তাজা।আপনি দারুন মজা করে রান্না করলেন। এভাবে সবকিছু ভালো মতো মিশিয়ে রান্না করলে খেতে ভীষণ মজার হয়। রেসিপিটি খুব লোভনীয় লাগছে। মজার এই রেসিপিটি শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে।
ঠিক বলেছেন আপু, হাতে মাখিয়ে এভাবে মাছের রেসিপি করলে খেতে বেশ ভালই স্বাদ লাগে। আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
নদীর মাছ একদমই পুষ্টিকর হয়ে থাকে। একই সাথে এর কিছু ভালো গুণাগুন রয়েছে৷ শরীরের বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে এরকম নদীর মাছ অনেকেই খেয়ে থাকি। আর আজকে আপনি যেভাবে এরকম সুন্দর একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন তা সকলেরই ভালো লাগবে। আমারও এটি অনেক ভালো লেগেছে।
ভাই আমার তৈরি রেসিপিটি আপনার কাছে ভাল লেগেছে এজন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।