শিউলির বাল্যবিবাহ
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগ এর ভাই ও বোনেরা, মুসলিম ভাই ও বোনদের জানাই আসসালামু আলাইকুম। সনাতন ধর্মালম্বী ভাই ও বোনদের জানাই আদাব এবং অন্যান্য ধর্ম অবলম্বনকারী ভাই ও বোনদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আশা করি মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সবাই বাড়ির সকল সদস্যকে নিয়ে ভালো আছেন সুস্থ আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং আপনাদের সকলের দোয়ায় ভালো আছি, সুস্থ আছি।
আজ আবারো ফিরে আসলাম আপনাদের মাঝে নতুন একটি পোষ্ট নিয়ে। আর আজকের পোষ্টটি হচ্ছে বাল্যবিবাহ কে কেন্দ্র করে। গতকাল আমি আমার অর্ধাঙ্গিনীকে স্কুলে রেখে আসার জন্য গিয়েছিলাম। তো স্কুলের কাছে গিয়ে দেখি স্কুলের পাশে ধরলা নদীতে হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধির কারণে স্কুলের আশেপাশে বেশ কয়েকটি বাড়ি প্লাবিত হয়েছে। তাই চিন্তা ভাবনা করলাম একটু সামনে গিয়ে সেই দৃশ্যগুলো স্বচক্ষে দেখে আসি। তাই আমি, আমার অর্ধাঙ্গিনী ও তার এক কলিগ সহ নদীর দিকে গিয়েছিলাম।
সেখানে গিয়ে দেখি নদীর পানি হঠাৎ করে এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে গ্রামের কাঁচা রাস্তাটাও ডুবে গিয়েছে। সেসব দৃশ্য দেখে ফিরে আসার সময় আমার অর্ধাঙ্গিনী একটি মেয়েকে দেখে তার এক ছাত্রের কথা জিজ্ঞেস করেছিল। কারন সে দু তিন দিন থেকে স্কুলে যাচ্ছে না। তাদের এই কথোপকথনের সময় ছাত্রের মা ৩-৪টি চেয়ার নিয়ে এসে আমাদেরকে তাদের বাড়ির সামনে খোলামেলা হাওয়ায় বসতে দিয়েছিল। তো যেই মেয়েকে আমার অর্ধাঙ্গিনী জিজ্ঞেস করেছিল তার ছাত্র স্কুলে যাচ্ছে না কেন, সেই মেয়ে আর কেউ নয় বরং সেই ছাত্রের বড় বোন।
আর তার নাম হচ্ছে শিউলি। আমি শিউলিকে দেখে জিজ্ঞেস করেছিলাম তুমি কোন ক্লাসে পড়? কিন্তু মেয়েটি দেখি লজ্জা লজ্জা মুখ করে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তখন তার মা কাছ থেকে বলে উঠলো আমার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। আমিতো শিউলির মুখের দিকে তাকিয়ে একদম হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। এত ছোট একটি মেয়ে যে কিনা সবে মাত্র ক্লাস সেভেনে উঠেছে, দেখতে ফুটফুটে সুন্দর, অথচ তার বাবা-মা তার এই বয়সে কিভাবে বিয়ে দিতে পারলো তা যেন আমার মাথায় আসছিল না।
বর্তমান যুগেও এই বাল্যবিবাহ চোখে পড়বে তা হয়তো ভাবতে পারিনি। শিউলি নামের মেয়েটির বয়সটা এতটাই কম যা দেখে বারবার শুধু আমার মেয়ের কথা মনে হচ্ছিল। কারণ ওই মেয়েটির বয়স আর আমার মেয়ের বয়স একদম পাশাপাশি। আমরা যখন সকলে মিলে শিউলির বিয়ে নিয়ে কথা বলছিলাম, তখন শিউলি যেন মায়া ভরা মুখে বারবার আমাদের দিকে তাকাচ্ছিল। ওর মায়াবী মুখ দেখে মনে হচ্ছিল, ওর না বলা কথাগুলো আমাদের সমাজ ব্যবস্থাকে ধিক্কার জানাচ্ছিল। এ কোন সমাজে বসবাস করে ছোট্ট এই মেয়ে শিউলি।
যে কিনা শিশুকালের অনাবিল সুখ শান্তি, আনন্দ উপভোগ করার আগেই তার বাবা মা তার স্বাধীনতাকে গলা টিপে হত্যা করেছে। আমার যেন মেয়েটির উপর ভীষণ মায়া হতে লাগলো। জিজ্ঞেস করেছিলাম তার শ্বশুরবাড়িতে তার সাথে কি রকম ব্যবহার করা হয়। তখনও শিউলি আমাদের মুখের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে ছিল, সে যেন কোন উত্তর দিতে পারছিল না। তখনো তার মা উত্তর দিয়েছিল, শশুর বাড়ি থেকে শিউলি নাকি রাগ করে চলে এসেছে, সে যেন কোনভাবেই তার শ্বশুরবাড়িতে মানিয়ে নিতে পারছিল না।
শিউলি শ্বশুরবাড়ি থেকে চলে আসার প্রায় দুমাস পার হতে চলেছে, তবে এখন পর্যন্ত তার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে কেউ নিতে আসেনি। যখন আমি এসব কথা শুনছিলাম তখন যেন আমি শিউলির মুখের দিকে আর কিছুতেই তাকাতে পারছিলাম না। এমন একটি ছোট মেয়ে যার ভবিষ্যৎ হতে পারতো অনাবিল সুখ স্বাচ্ছন্দের। অথচ সেই মেয়ে এখন সাংসারিক জীবন যুদ্ধে লড়াই করে চলেছে। এ সমস্ত কিছু শুনে আমার অর্ধাঙ্গিনী শিউলির মাকে জিজ্ঞেস করেছিল, তারা যে মেয়েকে বিয়ে দিবে তা কখনো স্কুলের ম্যাডামদের সাথে পরামর্শ করে নি কেন? তখন শিউলির মা বলেছিল শিউলির বাবা নাকি কারোর সাথে পরামর্শ করতে নিষেধ করে দিয়েছিল। কেননা শিউলি বয়সে অনেক অনেক ছোট আর এই বয়সে বিয়ে দিলে বাল্যবিবাহ আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে তাই চুপিসারে বিয়ে দিয়েছিল।
শিউলির বাবা মা জানতো বাল্যবিবাহ মোটেই ভালো নয়, আবার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এত কিছু জানা সত্ত্বেও কিভাবে তার এই ছোট্ট মেয়েটিকে বিয়ে দিয়েছিল। আর এখন কেনই বা সেই মেয়েটি শ্বশুর বাড়িতে জায়গা না পেয়ে বাবার বাড়িতে এসে রয়েছে। অসহায় শিউলির মুখের দিকে তাকিয়ে আমার আর কিছুই করার নেই শুধুমাত্র মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে তার ভালো থাকার প্রত্যাশা করতে পারি এতটুকুই। তবে হ্যাঁ যদি আগে জানতে পারতাম তাহলে অবশ্যই এই বাল্যবিবাহ আটকানোর প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যেতাম।
আশা করি আমার পোস্টটি আপনাদের কাছে অনেক অনেক ভালো লেগেছে। ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই অবশ্যই আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন। আজ আর নয়, দেখা হবে আগামীতে নতুন কোন পোস্ট নিয়ে।
আমি মোঃ মাহবুবুল ইসলাম লিমন। বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি। বাংলা ভাষা আমার মাতৃভাষা। আমি এই অপরূপ বাংলার কোলে জন্ম নিয়ে নিজেকে অনেক অনেক গর্বিত মনে করি। এই বাংলায় আমার ভালো লাগে, বাংলায় চলতে, বাংলায় বলতে, বাংলায় হাসতে, বাংলায় গাইতে, বাংলায় শুনতে, আরো ভালো লাগে এই অপরুপ বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে নিজেকে হারিয়ে যেতে দিতে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন এবং আমাকে সহযোগিতা করবেন। আমি যেন আগামীতেও আরো অনেক সুন্দর সুন্দর পোস্ট নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হতে পারি। সবাই পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। এই প্রত্যাশাই সর্বদা।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আসলে যদিও বাল্যবিবাহ আমাদের চোখে অন্যায় মনে হলে জিনা থেকে অন্তত ভাল এটা।
এখন বিয়েকে খুব কঠিন থেকে কঠিনতম করে ফেলেছে ফলে জিনা বেরে গেছে।আমরা সবাই শুধু বাল্যবিবাহ নিয়ে কথাই বলতে পারি কেউ কি এর কোনো সমাধান দিতে পারবো???
ভাই আপনার মন্তব্য পড়ে ভীষণ কষ্ট পেলাম। একে তো এখানে আমরা ভাই বোন অনেকেই রয়েছি, সেখানে মনে হয় এত খোলামেলা ভাষার ব্যবহার করা ঠিক হয়নি। অন্যদিকে আবার বাল্যবিবাহ কখনোই সুফল বয়ে আনতে পারে না অথচ আপনি বাল্যবিবাহের সমর্থন করলেন, কিছু বুঝতে পারলাম না ব্যাপারটা। যাই হোক ভাই আমার পোস্ট পড়ে মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
বর্তমান আমাদের সমাজে বাল্যবিবাহ অনেক বেশি বেড়ে গেছে। বাল্যবিবাহের প্রধান কারণ হচ্ছে আজ কালকার ছেলে মেয়েরা হারাম কাজে বেশি লিপ্ত হচ্ছে। তাই বাপ মা তাদের মান সম্মান রক্ষার্থে অল্প বয়সের ছেলে মেয়েদেরকে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে।
ভাই শিক্ষিত পরিবারে বাল্যবিবাহের প্রচলন খুব কমই দেখা যায়। আমার মনে হয় শুধু বাবা মায়ের মান সম্মান রক্ষার্থে অল্প বয়সের ছেলেমেয়েদেরকে বিয়ে দিচ্ছে না। বরং এক্ষেত্রে রয়েছে শিক্ষার অভাব। যাইহোক ভাই আপনার মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
জি আপনার কথাই যুক্তি আছে। ধন্যবাদ ভাই।
বর্তমান সময়ে এরকম অসংখ্য ঘটনা রয়েছে বাল্যবিবাহের কারণে কিছুদিন পর দেখা যায় তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে । তাদের জীবন এভাবে ঝরে পড়ে আসলে যে কোন ক্ষেত্রে ভেবেচিন্তে করতে হয়। অল্প বয়সে একটি মেয়েকে বিবাহ দেয়া কোনোভাবে ঠিক নয় তারও একটা ভবিষ্যৎ আছে বাবা-মায়ের এই ভুল সিদ্ধান্ত একটি সন্তানের সারা জীবনের কান্না হয়ে দাঁড়ায়। সে রকম একটি ঘটনা শুনতে পেলাম আপনার কাছ থেকে।
ভাই আপনি ঠিকই বলেছেন বাবা মায়ের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ছোট্ট একটি মেয়ের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়। তাই আমার কাছেও বাল্যবিবাহ একদমই পছন্দ নয়। পারলে আমি এই বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাই। আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
আসলে প্রত্যেকটা বাবা মা জানে বাল্য বিবাহটা কত বড় অপরাধ, তবুও তারা চুপিসারে হলেও নিজের সন্তানকে বিয়ে দিয়ে দেয়। তারা একটাবার এটা চিন্তা করে না তাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ রয়েছে। তাদের সন্তান বড় হয়ে অনেক কিছুই করতে পারবে। আসলে আমাদের প্রত্যেকের উচিত এই বাল্যবিবাহ টা আটকানো। যদিও এগুলো আমাদের চোখের সামনে দেখা যায় না, তবে আমাদের প্রত্যেকের এই কাজটা করা উচিত। মেয়েটার কথা শুনে আমার কাছেও খুব খারাপ লেগেছে।
আপু আমার চোখের সামনে বাল্যবিবাহ যদি পড়ে তাহলে অবশ্যই আমি তার বিরোধিতা করবো। তবে এই বাল্যবিবাহ গুলো বেশিরভাগ সময় চুপিসারে হয়, যার কারণে সেইসব বাল্যবিবাহ আমাদের অগোচরেই থেকে যায়। আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
সত্যি ভাইয়া শুনে অনেক খারাপ লাগলো। এতো ছোট মেয়েকে বিয়ে দিল অনেক খারাপ একটা কাজ করলো। কিন্তু আমাদের গ্রামে গঞ্জে গেলে দেখা যায় এখনো বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়নি। আদৌ আমাদের দেশ থেকে বাল্য বিবাহ বন্ধ হবে কিনা সেটা নিয়ে আমরা এখনো অনিশ্চিত। অনেক ধন্যবাদ বিষয়টা আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
ঠিক বলেছেন আপু, আমাদের দেশ থেকে আদৌ বাল্যবিবাহ কখনো বন্ধ হবে কিনা এটা বলা অনিশ্চিত। আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
আজ পর্যন্ত আমাদের দেশ থেকে বাল্যবিবাহ কথা দূর হয়নি। এখনো গ্রাম গঞ্জে অনেক বাল্যবিবাহ চলে। আর এই বাল্যবিবাহের ফলে অনেক মেয়ের জীবন ধ্বংস হয়ে যায়। যেখানে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের নতুন পরিবারের সঠিকভাবে মিলতে পারে না এবং বিভিন্নভাবে নতুন পরিবেশে টিকতে পারে না। যেহেতু বাংলাদেশের বাল্যবিবাহ রোধ আইন রয়েছে সেগুলো কিন্তু সঠিকভাবে মানুষের মেনে চলে না তাই আজ অনেক সমস্যা হচ্ছে এরকম। আপনার এই শিউলির ঘটনাটা পড়ে আমার খুবই কষ্ট লাগলো।
হ্যাঁ ভাই আপনার কথার সাথে আমিও সহমত পোষণ করছি, এই অল্প বয়সের মেয়েদেরকে বিয়ে দিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে ফেলছে। কম বয়স হওয়ার কারণে তারা শশুর বাড়িতে গিয়ে মানিয়ে নিতে পারে না বলে আবার বাবার বাসায় ফিরে আসে। যাইহোক ভাই আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।