আমার বাড়িতে তৈরি সুস্বাদু খাবারের ফটোগ্রাফি
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগ এর ভাই ও বোনেরা, মুসলিম ভাই ও বোনদের জানাই আসসালামু আলাইকুম। সনাতন ধর্মালম্বী ভাই ও বোনদের জানাই আদাব এবং অন্যান্য ধর্ম অবলম্বনকারী ভাই ও বোনদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আশা করি মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সবাই বাড়ির সকল সদস্যকে নিয়ে ভালো আছেন সুস্থ আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং আপনাদের সকলের দোয়ায় ভালো আছি, সুস্থ আছি।
আজ আবারো ফিরে আসলাম আপনাদের মাঝে নতুন একটি খাবারের ফটোগ্রাফি পোষ্ট নিয়ে। আর এ সকল খাবার আমার বাসাতেই তৈরি করা হয়েছে। আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ভিন্ন ভিন্ন রকমের খাবার থাকে যা সবগুলো হয়তো রেসিপি তৈরি করে পোস্ট করা সম্ভব নয়। তবে হ্যাঁ সেই খাবারগুলোর যদি ফটোগ্রাফি করে রাখা যায়, তাহলে তা সবার মাঝে শেয়ার করা যায়। আর তাইতো আমিও চেষ্টা করেছি ভিন্ন ভিন্ন এই খাবারের ফটোগ্রাফি করে আপনাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য।
এক ঘিয়েমি খাবার কারোরই ভালো লাগেনা। আমার কাছে তো নয়ই। সপ্তাহের সাত দিনে চেষ্টা করি একদিন মাছ খেলে অন্য দিন মাংস খেতে হবে, আবার আরেক দিন ডিম খেতে হবে সেই সাথে থাকতে হবে বিভিন্ন প্রকারের শাকসবজি। ভিন্ন ভিন্ন খাবার খেলেই না মুখের রুচি ঠিক থাকে। আবার ভিন্ন ভিন্ন খাবার খেলে মুখের স্বাদ অনেকটাই বেড়ে যায়। যদি আমরা একই খাবার বারবার খাই তাহলে সে খাবারের প্রতি আমাদের ভীষণ অরুচি এসে যায়। তাই আমার বাসাতে সব সময় চেষ্টা করা হয় ভিন্ন ভিন্ন খাবার গুলো তৈরি করতে।
যাইহোক আজ আমি সেই ভিন্ন ভিন্ন খাবারের ফটোগ্রাফি নিয়ে হাজির হয়েছি। আশা করছি আমার খাবারের ফটোগ্রাফি গুলো আপনাদের কাছে ভালো লাগবে। এমনও হতে পারে আমার খাবারের ফটোগ্রাফি গুলো দেখে আপনাদের লোভও লেগে যেতে পারে হাহাহা মজা করলাম আর কি। তো বন্ধুরা আর বেশি কথা না বাড়িয়ে চলুন আমার বাসায় তৈরি ভিন্ন ভিন্ন খাবারের ফটোগ্রাফি গুলো দেখে নেয়া যাক।
" ফটোগ্রাফি : ১ "
" ফটোগ্রাফি : ১ "১। এই খাবারটির নাম আলু দিয়ে সুস্বাদু মজাদার মুরগির মাংস রেসিপি। সব সময় মুরগির মাংস ভুনা করে খেতে ভীষণ ভালো লাগে। তবে মাঝে মাঝে মুরগির মাংস আলু দিয়ে রান্না করলে খেতে কিন্তু মন্দ লাগে না। বিশেষ করে মুরগির মাংসের আলু যখন ঝোলের মাঝে ডুবে থাকে আর তখন টপ করে তুলে মুখে দেয়া যায় তাহলে তা খেতে খুব স্বাদ লাগে। এটা অবশ্য আমার মন্তব্য, আপনাদের ক্ষেত্রে নাও হতে পারে। তবে আলু দিয়ে মুরগির মাংসের এই রেসিপি খেতে কিন্তু ভীষণ স্বাদের হয়েছিল।
" ফটোগ্রাফি : ২ "
" ফটোগ্রাফি : ২ "২। এই খাবারটির নাম সুস্বাদু মজাদার মুরগির ডিমের ঝোল রেসিপি। আপনারা অনেকেই হয়তো ভাবতে পারেন মুরগির ডিমের আবার ঝোল এটা আবার কেমন রেসিপি। তবে আমাদের অঞ্চলে এই রেসিপির আঞ্চলিক একটি নাম আছে তা হচ্ছে ডিমের তেলানি। নামটি একটু অদ্ভুত শোনা গেলেও খাবারটি খেতে কিন্তু খুবই মজার হয়। আর তাই মাঝে মাঝে এই রেসিপি আমার বাসায় তৈরি করা হয়।
" ফটোগ্রাফি : ৩ "
" ফটোগ্রাফি : ৩ "৩। এই খাবারটির নাম উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী সিদল ভর্তা রেসিপি। আপনারা অনেকেই হয়তো এই সিদল ভর্তা রেসিপি সম্পর্কে নাও জানতে পারেন। কেননা এটা আমাদের উত্তরবঙ্গের খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার। আর এই সিদল বেগুনের সাথে খেতে কিংবা ভুনা করে খেতে অথবা ভর্তা করে খেতে খুবই মজার হয়। সেদিন আমার মুখের রুচি একদমই ছিল না বলে ঝাল ঝাল করে সিদল ভর্তা তৈরি করেছিলাম। আর খেতে একদম অমৃত মনে হয়েছিল।
" ফটোগ্রাফি : ৪ "
" ফটোগ্রাফি : ৪ "৪। এই খাবারটির নাম মজাদার চাল কুমড়া ভাজি। চাল কুমড়া ভাজি খেতে আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। বিশেষ করে গরম গরম ভাত পাতলা মুসুরের ডাল আর সেই সাথে চাল কুমড়া ভাজি খেতে খুবই মজার হয়।বিশ্বাস না হয় একদিন খেয়েই দেখবেন কথাটা কতটা যুক্তিযুক্ত। যাইহোক আমার বাসায় সেদিন কুমড়া ভাজি রেসিপি তৈরি করা হয়েছিল। তাই ফটোগ্রাফি করে রেখেছি আপনাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য।
" ফটোগ্রাফি : ৫ "
" ফটোগ্রাফি : ৫ "৫। এই খাবারটির নাম সুস্বাদু ও মজাদার ডিমের ভর্তা রেসিপি। ঝাল ঝাল ডিম ভর্তা রেসিপি খেতে কতটা স্বাদের হয় তা আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন। আমি তো এই ঝাল ঝাল ডিম ভর্তা রেসিপি দিয়ে সেদিন পুরো এক প্লেট ভাত সাবার করে ফেলেছিলাম। খেতে কিন্তু ভীষণ স্বাদের হয়েছিল। আর সেই স্বাদের ভর্তা রেসিপি আপনাদের মাঝে ফটোগ্রাফির মাধ্যমে উপস্থাপন করেছি।
" ফটোগ্রাফি : ৬ "
" ফটোগ্রাফি : ৬ "৬। এই খাবারটির নাম মজাদার ঢেঁড়স ভর্তা রেসিপি। আর ঢেঁড়স ভর্তা খেতে আমার মেয়ে খুবই পছন্দ করে। তাই মাঝে মাঝে এই ঢেঁড়স ভর্তা রেসিপি তৈরি করা হয় মেয়ের পছন্দকে প্রাধান্য দেয়ার জন্য। সেই সাথে আমরা তো রয়েছি খুবই সুস্বাদু ও মজাদার এই ভর্তা রেসিপি খাওয়ার জন্য। কাঁচা মরিচের ফ্লেভারে ঝাল ঝাল ঢেঁড়স ভর্তা রেসিপি খেতে খুবই ভালো লাগে।
" ফটোগ্রাফি : ৭ "
" ফটোগ্রাফি : ৭ "৭। এই খাবারটির নাম সুস্বাদু ও মজাদার আলু দিয়ে লাউ শাক ভাজি রেসিপি। গরম গরম ভাত সেই সাথে গরম গরম আলু দিয়ে লাউ শাক ভাজি খেতে আমি খুবই পছন্দ করি। শাক হিসেবে লাউ শাকের জুড়িমেলা ভার। আর সেই লাউ শাকের সাথে যদি আলু ছোট ছোট করে কেটে একসাথে ভাজি তৈরি করা যায় তাহলে খেতে খুবই স্বাদ লাগে । আর সেই সুস্বাদু ও মজাদার আলু দিয়ে লাউ শাক ভাজির ফটোগ্রাফি করে রেখেছি আপনাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
| Photographer | @mahbubul.lemon |
|---|---|
| Device | Oppo A16 |
| Location | Kurigram |
আশা করি আমার ফটোগ্রাফি পোস্টটি আপনাদের কাছে অনেক অনেক ভালো লেগেছে। ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই অবশ্যই আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন। আজ আর নয়, দেখা হবে আগামীতে নতুন কোন পোস্ট নিয়ে।
আমি মোঃ মাহবুবুল ইসলাম লিমন। বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি। বাংলা ভাষা আমার মাতৃভাষা। আমি এই অপরূপ বাংলার কোলে জন্ম নিয়ে নিজেকে অনেক অনেক গর্বিত মনে করি। এই বাংলায় আমার ভালো লাগে, বাংলায় চলতে, বাংলায় বলতে, বাংলায় হাসতে, বাংলায় গাইতে, বাংলায় শুনতে, আরো ভালো লাগে এই অপরুপ বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে নিজেকে হারিয়ে যেতে দিতে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন এবং আমাকে সহযোগিতা করবেন। আমি যেন আগামীতেও আরো অনেক সুন্দর সুন্দর পোস্ট নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হতে পারি। সবাই পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। এই প্রত্যাশাই সর্বদা।
" ধন্যবাদ সবাইকে "
" ধন্যবাদ সবাইকে "
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
এত সুস্বাদু খাবারের ফটোগ্রাফি দেখে তো লোভ সামলাতে পারছি না ভাই। ঝাল ঝাল ডিম ভর্তা রেসিপিটি এক্ষুনি খেতে ইচ্ছে করছে। ফটোগ্রাফি গুলো সত্যি অসাধারণ হয়েছে ভাই। এত মজাদার রেসিপি ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
ঝাল ঝাল ডিম ভর্তা রেসিপি খেতেও দুর্দান্ত হয়েছিল ভাই। আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
বাড়িতে বানানো অনেক গুলো সুন্দর সুন্দর খাবারের দারুন ফটোগ্রাফি আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন ভাই দেখেই তো লোভ লাগছে ধন্যবাদ আপনাকে আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য।
অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাই,খুব সুন্দর মন্তব্য করে উৎসাহ দেয়ার জন্য।
আপনার বাসায় তৈরি খাবারের খুব সুন্দর ফটোগ্রাফি করেছেন। আপনার প্রতিটা রেসিপির ফটোগ্রাফি দেখে জিভে জল চলে আসলো। আপনার রেসিপি গুলো দেখা হয়নি কিন্তু ফটোগ্রাফি দেখতে লোভনীয় দেখাচ্ছে। আমার কাছে সিদল ভর্তার ফটোগ্রাফি অনেক ইউনিক লেগেছে। কারণ আমি সিদল কি সেটাই চিনিনা। যাই হোক এত সুন্দর খাবারের ফটোগ্রাফি শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
আপু শীদল আমাদের উত্তরবঙ্গের খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার। আর খেতেও দারুন লাগে।আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
এরকম খাবার আমি বেশিরভাগ সময়ই বাইরে থেকে খেয়ে থাকি। তবে আপনার কাছ থেকে বাড়িতে তৈরি করে দেখতে পেয়ে আমিও এই খাবারটি বাড়িতে তৈরি করে দেখার চেষ্টা করব৷ আপনি যেভাবে এই খাবার তৈরির ধাপগুলো প্রকাশ করেছেন প্রত্যেকটি ধাপ খুবই সুন্দরভাবে প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন৷ আপনি এই খাবারের যে ডেকোরেশন করেছেন সেটির প্রশংসাও অতুলনীয়৷
ভাই আপনি খুব সম্ভবত আমার পোস্ট ভালোভাবে দেখেননি। কেননা আমি কোন খাবারের রেসিপি শেয়ার করিনি বরং খাবারের ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছি। যাইহোক ভাই, আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
ভাই আপনি আপনার বাড়িতে দেখছি খুবই সুন্দর সুন্দর কিছু খাবার তৈরি করেছিলেন। আপনার তৈরি করা খাবার গুলো দেখতে ভীষণ ভালো লাগছিল। নিশ্চয়ই খাবার গুলো খেতে অনেক সুস্বাদু ছিল। এত সুন্দর খাবারের ফটোগ্রাফি গুলো তুলে আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
হ্যাঁ ভাই, আমার বাড়িতে তৈরি প্রত্যেকটি খাবার খুবই সুস্বাদু হয়েছিল। আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।