ছয় মাস পর গ্রামের বাড়ির পথে // ১০% পেআউট লাজুক খ্যাঁক-কে

in আমার বাংলা ব্লগ5 years ago


২৮-শে সেপ্টেম্বর, ২০২১


নমস্কার,

প্রায় ছয় মাস পরে বাড়ি যাবো। রাতের ট্রেন। যেহেতু হঠাৎ করেই বাড়ি আসাটা ঠিক হয়েছে সেজন্য সকাল থেকেই খুব কাজের চাপ ছিলো। অনেক কাজ মিটিয়ে গুছিয়ে তবেই নিশ্চিন্তে বাড়ি যাওয়া যাবে। তাই খুব সকাল সকাল কাজে চলে এসেছি, হাইকোর্টের দিকটাতেও যেতে হবে একটু। আশীষ ছিলো বলেই শান্তি, বাইকে করে বেরোনো গেলো।

হাইকোর্টের পথে
তবে মুশকিল হলো বারবার থামতে হচ্ছিলো, কলকাতায় আজ থেকে ফের নিম্নচাপ। থেমে থেমে বৃষ্টি আসছে। কোনোমতে হাইকোর্ট চত্বরের কাছে পৌঁছালাম, সেখান থেকে প্রথমে নবনিতার কাজের জন্যই একটু এইচএসবিসি ব্যাংকে যেতে হয়েছিল। হাইকোর্টের পাশে বলেই বিশেষ অসুবিধা হয়নি। হেঁটে হেঁটে ব্যাংকের বিল্ডিংটার কাছে আসলাম। বিল্ডিংটা দেখেই আমি অভিভূত।
ব্যাংক | w3w
কলকাতার অন্যতম জায়গায় এতো বড়ো মাপের ব্যাংক। ভেতরে গিয়ে বসার জায়গা তো পেলাম তবে আমাদের ডাক না আসায় একজন ব্যাংক কর্মী কে পাকড়াও করলাম, ওনাকে দিয়েই কাজটা করে বেরিয়ে আসলাম।

ব্যাংকের কাজকর্ম মিটিয়ে হাইকোর্টের দিকে এগোলাম। ঠিক হাইকোর্টে কাজ ছিলো তবে হাইকোর্টের ঠিক পাশেই সিটি সিভিল কোর্টে।

সিটি সিভিল কোর্ট | w3w
দুর্ভাগ্য এমনই যে কাজ আর হলো না। এতো ঝামেলা করে এসেও কাজটা হলোনা, আবার আসতে হবে। সেই ভেবেই মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। কোর্ট চত্বর থেকে বেরিয়ে একটু একটু খিদে পেয়ে গিয়েছিল। কোর্ট চত্বরেই রুটি আর চানা মশলা খেয়ে নিলাম।


চানা আর তন্দুরি রুটি

বিকেলের দিকে যখন ক্লায়েন্ট অফিসে ঢুকলাম, বৃষ্টির বেগ আরো বাড়ছিলো সাথে আমার চিন্তা। অন্যদিকে মন না দিয়ে কাজটাতেই বেশি মনোযোগী হলাম। কাজ মেটাতে মেটাতে সন্ধ্যা হয়েই গেলো, এদিকে আমার বেরোনোর সময় হয়ে গেছে। বৃষ্টি কম আছে দেখে আমি বেরোতে যাবো, এমন সময় ক্লায়েন্ট কিছু কাগজপত্র হাতে ধরিয়ে সেগুলো সর্ট আউট করে দিতে বললো। আমি পড়লাম মহা ফ্যাসাদে। আমার ট্রেনের কথা বলতে ছাড়া পেলাম, তবে চা খাইয়ে কাজ করিয়ে তবেই ছাড়লো।


চা

দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে বাসের স্টপেজে এলাম, এদিকে আবার টিপটিপ বৃষ্টি আরম্ভ হলো। আমি বেগতিক বুঝলাম। গাড়ি বদলে বদলে এসেও জ্যামের জটিলতায় সাড়েসাতটা বেজে গেল। বাড়ি ঢুকেই ঝড়ের বেগে জামাকাপড় গুছিয়ে তবেই ক্ষান্ত হলাম।

ট্রেন সেই ১০ টা বেজে ১৫ মিনিটে। বৃষ্টির কারণে একটু আগেই বেরোতে হলো, ভাগ্যিস হাতে একটু সময় নিয়েই বেড়িয়েছিলাম। ৪৫ মিনিটের রাস্তা ৬০ মিনিট লাগলো, স্টেশনে এসে পৌছালাম তখন বাজে ৯:৩৫। ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি হচ্ছে, কোনোমতে ছাতার ভরসায় কাঙ্খিত প্লাটফর্মে পৌঁছানো গেলো। ট্রেনে উঠে বসলাম, ব্যাগ পত্র গুছিয়ে বাইরে এসে কিছুক্ষন দাঁড়ালাম। একটু পরেই ট্রেনের বাঁশি বাজলো, ট্রেন ছাড়বে।

স্টেশন চত্বর | w3w
চললাম বাড়ি | w3w

এবার বাড়ি যাবার পালা...

১০% পেআউট @shy-fox কে

Sort:  

সারাটা দিন আপনে খুব ব্যস্ততার মধ্যে কাটিয়েছেন। আশা করি সুস্থ এবং ভালোভাবে বাসায় ফিরবেন। শুভ কামনা রইল।

 5 years ago 

ব্যস্ততা শেষ হয় না ভাই! কবে যে একটু ঘুমাবো 😆

🤔🤔আপনে কি তার মানে ঘুমান না?

 5 years ago 

ঘুমাই, তবে ৫ ঘন্টার বেশি হচ্ছে না। যখনই শুতে যাই, ৫ ঘন্টা পরে ঘুম ভেঙে যায় 😭

😥😥কি আর করবেন। ব্যস্ততম জীবন। কষ্ট শিকার করতেই হবে।

খুব সুন্দর ও মার্জিত ভাষায় আপনার পোস্টটি উপস্থাপন করেছেন ভাই।অনেক সুন্দর সময় পার করেছেন আপনি।চায়ের ফটোগ্রাফি খুব সুন্দর হয়েছে ভাই।শুভ কামনা রইলো আপনার জন্য।
ধন্যবাদ আপনাকে আপনার পোস্টটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।

 5 years ago 

বৃষ্টির মধ্যে চা, দারুন লাগে। ধন্যবাদ ভাই 🤗

 5 years ago 

ওইযে ঐদিন ট্রেনে বসে ছিলেন না, মেসেজ পড়ছিলেন। ওই দিনের কথাই তো তাই না।
আপনার এই মাটির পাত্রে চা খেতে দেখলেই আমার খুব লোভ লাগে কারণ আমার কখনো খাওয়া হয়নি।
ভালোই ব্যস্ত আজকাল তা বুঝা যাচ্ছে।

 5 years ago 

হ্যাঁ, রাতের দিকে ট্রেনে উঠলাম আর সবাইকে কাশির আওয়াজ শুনিয়ে দিলাম। লোল 😆

 5 years ago 

নিম্নচাপের কিছুটা প্রভাব বাংলাদেশসহ রয়েছে তাই হালকা বৃষ্টি এখানেও হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত আপনার কাজটি হলো না এবং আরেকবার যাওয়া লাগবে এটি দুঃখজনক। তবে দিনটি অনেক চমৎকার ছিল এবং বর্ণনা টা খুব সুন্দর লেগেছে।

 5 years ago 

এবার যেন বর্ষা থামতেই চায় না, গ্রামের দিকে চাষ আবাদে বৃষ্টির দরকার তবে শহর ডুবে যাচ্ছে। ধন্যবাদ দাদা আমার পোস্ট পড়ার জন্য

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.098
BTC 64555.14
ETH 1916.97
USDT 1.00
SBD 0.38