ফুড রিভিউ : কলেজ স্ট্রিট কিচেন
নমস্কার বন্ধুরা,
কলকাতা-কে নিঃসন্দেহে স্ট্রীটফুডের রাজধানী বলা যায়। শহরের যেকোনো জায়গায় ভালো স্ট্রিট ফুড পাওয়া যায়। তাছাড়া কলকাতা এমন একটা জায়গা যেখানে পৃথিবীর হরেক রকম রসনার খাবার খুব স্বল্প মূল্যের মধ্যেই পাবেন। নিজেদের সংস্কৃতির সাথে অন্য সংস্কৃতি সংবন্ধনের পটু বাঙালীরা কোলকাতার বুকেই এক নতুন কুইজিন বানিয়েছে, যাকে আমরা ইন্দো চাইনিজ বলে চিনি। কলকাতা থেকে শুরু হওয়া এই ফিউশন কুইজিনটি বর্তমানে ভারতের প্রায় প্রত্যেকটা জায়গাতেই পাওয়া যায়। আর ইন্দো চাইনিজ পদ খেতে পছন্দ করেন আট থেকে আশি সকলে। তার মধ্যে চাউমিনের জনপ্রিয়তার শিখরে। বিভিন্ন ধরনের চায়নিজ খাবার বানানোর পদ্ধতির সাথে ভারতীয় টুরিস্ট দিয়ে শুরু হওয়া জনপ্রিয় ফিউশন কুইজিনটি ভারতীয়দের স্বাদ কোরকের সাথে মিশে গিয়েছে।
কাজে বেরিয়ে কুইজিনটির প্রেমে আরেকবার পড়ে গেলাম। কলেজ স্ট্রিটে গিয়ে কাজ সারতে দুপুর গড়িয়ে যাওয়ায় খুব খিদে পেয়ে যায়, ঠিক করলাম বাইরে না খেয়ে একটা রেস্টুরেন্টে যাওয়া ঠিক হবে। ভর দুপুর বেলায় অসহ্য গরমের মধ্যে দাঁড়িয়ে খাবার খাওয়া থেকে অল্প বাতানুকূলে ধীরেসুস্থে রসনা তৃপ্তি করতেই আমি রেস্টুরেন্ট খুঁজছিলাম। সেরম পেয়েও গেলাম। কলেজ স্ট্রিটের সাথে মিলিয়ে দোকানের নাম কলেজ স্ট্রিট কিচেন।
নাম দেখে মনে হয়েছিল ভেতরটা বইপত্রের সাথে জড়িত কিছু থাকবে এবং আমার ধারণাই সঠিক হলো। বাঙালি সাহিত্যিকদের বিখ্যাত সব চরিত্রদের নিয়ে ওয়াল পোস্টার ভরিয়ে রাখা সুন্দর হালকা শীতল এনভারমেন্টের রেস্টুরেন্টটি বই পাড়ার ভাবনাকে তুলে ধরেছে। দুপুর পেরিয়ে যাওয়ায় অল্প ফাঁকা পেয়ে গেলাম এবং অর্ডার করে দিলাম মিক্সড ভেজ চাউমিন এবং চিলি পনির।
গরম থাকায় বাইরে গিয়ে নিরামিষ টাকেই বেছে নিলাম। কিছুক্ষণের অপেক্ষা তারপরে চলে এলো দুটো সুন্দর ছোট কড়াই এর মত পাত্র। আমি নিজের হাতেই পরিবেশন করে নিলাম, অল্প কিছুটা চাউমিন সাথে অল্প চিলি পনির। তারপর দুটো খুব সুন্দরভাবে মাখিয়ে মুখে পুরলাম। আহা। হালকা ঝাল আর মিষ্টি স্বাদ একসাথে। স্ট্রিট ফুডের সাথে রেস্টুরেন্টের স্বাদ যে একদম ভিন্ন হয় সেটা প্রতি গ্রাসে বোঝা যাচ্ছিল।
স্বাদ এবং পরিবেশের তুলনায় দাম আয়ত্তের মধ্যে ছিল। চিলি পনির মাত্র ১৮০ টাকা এবং চাউমিন ১২০ টাকা। যা পরিমাণ পেয়েছি তাতে দুজন মানুষ আরামে খেয়ে নিতে পারবেন। তবে আমি একাই পুরোটা উড়িয়ে দিলাম।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
This post has been upvoted by @italygame witness curation trail
If you like our work and want to support us, please consider to approve our witness
Come and visit Italy Community
Hi @kingporos,
my name is @ilnegro and I voted your post using steem-fanbase.com.
Come and visit Italy Community
এই তীব্র গরমে রেস্টুরেন্টে ঢুকে লাঞ্চ করার আইডিয়াটা দারুণ ছিলো দাদা। রেস্টুরেন্টের ভিতরে একেবারে ঠান্ডা ওয়েদারে বেশ মজা করে চাউমিন এবং চিলি পনির খেয়েছেন। দেখেই বুঝা যাচ্ছে মিক্সড করে খাওয়াতে আরও বেশি ভালো লেগেছিল। তাছাড়া খাবারগুলো দেখতেও বেশ লোভনীয় লাগছে। যাইহোক বেশ ভালোই খাওয়া দাওয়া করেছেন দাদা। পোস্টটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
কলকাতা কে স্ট্রিট ফুডের রাজধানী বলা হয় এটা শুনেছি।আপনাদের কলকাতা থেকে শুরু হওয়া বিখ্যাত সব খাবার।তারপর আবার ইন্দো চাইনিজ পদ গুলো সবারই প্রিয় ।বেশ মুখরোচক কিছু খাবার খেলেন রেস্টুরেন্ট টিতে গিয়ে।যেগুলোর দাম এবং পরিমাণ সাধ্যের মধ্যেই ছিল।ভালো লাগলো পোস্টটি দাদা।ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
সত্যি এই রেস্টুরেন্ট টার এই ব্যাপার টা আমার কাছে বেশ অবাক করেছে। বাঙালি সাহিত্যিক দের একটা স্মৃতি একটা উপস্থিতি রয়েছে দেয়ালে দেয়ালে। চমৎকার একটা বিষয়। আপনার নিরামিষ খাবার নির্ধারণ করার ব্যাপার টাও যুক্তিপূর্ণ ছিল। বেশ কাটিয়েছেন সময় টা। ধন্যবাদ আমাদের সাথে মূহূর্তটা শেয়ার করে নেওয়ার জন্য দাদা।
কলকাতার স্ট্রীট ফুড গুলো যে কোনো বড় বড় রেস্টুরেন্টকে হার মানিয়ে দেবে, এটা ঠিক কথা দাদা। আর চাইনিজদের খাবার এবং বাঙালিদের খাবার মিলিয়ে মিশিয়ে কলকাতায় একটা ভিন্ন স্বাদের খাবার তৈরি হয়, যেটা সত্যিই অসাধারণ। আমি অবশ্য যখন বাইরে যাই, তখন হালকা পাতলা নিরামিষ খাবারটাকেই বেশি প্রাধান্য দেই। এতে করে পেট গরম হয় না। তুমি অল্প দামের ভেতর বেশ ভালো টেস্টি খাবার খেয়েছো যা দেখছি দাদা।