"তিলোত্তমা", বিচার চায়
নমস্কার বন্ধুরা,
কলকাতা উত্তাল। "সিটি অফ জয়", অঝোরে কাঁদছে। কদিন ধরে সেই বিষয়টা আমাকেও কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। আপনারাও মোটামুটি জানেন বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলন চলছে। কলকাতায় ঘটে যাওয়া অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক এক ঘটনা বাঙালির ধৈর্য্যের বাঁধ দিয়ে দিয়েছে। উপমহাদেশে নারী নির্যাতন এক দুরারোগ্য ব্যাধি। যার সত্যিকারের শেষ কোথায় বা শেষ কিভাবে আমরা কেউই ঠিক জানিনা। একের পর এক ঘটনা আমাদের চোখের সামনে হয়ে চলেছে, অথচ আমরা নির্বাক হয়ে থাকি। চুপ করে সব সহ্য করি। সবাই নিজেদের জীবনে নিয়ে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছি যে সমাজের ঘটনা তো দূরের কথা, এমনকি নিজের পাশের বাড়ির ব্যাপারে ভাবার সময় নেই।
তিলোত্তমা হয়তো সেই জায়গাতেই আমাদের ভেতরের মনুষত্বকে কিছুটা হলেও নাড়িয়ে দিয়ে গিয়েছে। আজ মানুষ যেভাবে পথে নেমেছে সেটা আগে হলে, আমাদের সমাজ কিছুটা হলেও ভালো হতো। হয়তো তিলোত্তমা বেঁচে থাকতে। হয়তো আর কিছুটা মানবিক হলে আজ আমাদের এই পরিস্থিতিতে দাঁড়াতে হতো না। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে সমাজ এবং মানুষ সবাই এক নোংরা অমানবিক মানসিকতার দিকে এগিয়ে গেছি। কে কতটা অমানবিক সেটার লড়াই চলছে। একদম তলানিতে ঠেকে যাওয়া বাকি ছিল। অত্যন্ত সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা সেই মেয়েটি বাঙালি সত্তার কিছু একটা নাড়িয়ে দিল।
হাজার প্রতিকূলতা পেরিয়েও সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ দু সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করছে, তিলোত্তমা সেই শক্তি জুগিয়ে চলেছে। সবাই যে যার মত করে পথে নামছে। রাজনৈতিক হোক কিংবা অরাজনৈতিক, বেশি সংখ্যক মানুষের মুখেই এক কথা, বিচার চাই। তিলোত্তমার জন্য বিচার চাই, ভারতবর্ষের কোটি কোটি তিলোত্তমাদের জন্য। আজকের লড়াই শুধু বিচারের নয়, প্রশাসনে বসে থাকা মানুষ গুলোর অমানবিকতার চরম পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ার বিরুদ্ধেও।
তিলোত্তমা আজ হাজারো মানুষের বুকে বেঁচে উঠেছে। জানিনা আগামী পরিস্থিতি বা আগামী সময় কেমন আসতে চলেছে তবে যেভাবেই হোক আন্দোলন চলুক, আন্দোলন আরো জোরদার হোক। জয় আসবেই। জয় নিজেদের মানবিক হওয়ার। জয় সমাজকে পরিবর্তন করার। আমার দেশের মাটিকে যারা কলুষিত করছে তাদের সমূলে নির্মূল করতে হবে।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
দুই সপ্তাহ ব্যাপী আন্দোলন চলছে আপনাদের দেশে।মেয়েটির এরকম পরিণতি যারা করেছে তাদের খুব ভয়ঙ্কর শাস্তি দেওয়া উচিত যাতে দ্বিতীয় কারো সাথে এমন আর কখনোই না হয়।এই বিষয়টি নিয়ে আপনিও অনেকটা আপসেট যেটা আপনার লেখায় ফুটে উঠছে।আসলেই নারীদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কোথাও নেই।আপনার লেখাটি অনেক ভালো লেগেছে,ধন্যবাদ দাদা।
আসলেই আমরা সবাই এখন নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকি। তাইতো অন্যের বিপদে আমরা এগিয়ে যেতে চাই না। ফলশ্রুতিতে প্রতিটি সমাজে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম বেড়েই চলেছে। যাইহোক আমরা সবাই তিলোত্তমা ধর্ষণ এবং হত্যার বিচার চাই। তাছাড়া এই আন্দোলন একেবারেই যুক্তিসঙ্গত। যাইহোক পোস্টটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা।
আমার সকলেই এই ঘটনার বিচার চাই দাদা। কলকাতার মতো একটা জায়গায় এরকম নোংরা ঘটনা ঘটতে পারে, এটা আমাদের ধারণা ছিল না। বিশেষ করে গত দু সপ্তাহ ধরে যে মিছিল হয়েছে, সেটা আশা করি অনেকেরই টনক নাড়িয়ে দিয়েছে। তবে আমরা সকলে আশাবাদী, এই অমানবিক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার অবশ্যই হবে।
মানুষ বড্ড লোভী৷ এই চাই ওই চাই। কিছুতে সন্তুষ্ট নয়৷ একটা চাওয়া আরেকটা চাওয়াকে জন্ম দেয়। আর এই রিপুর খেলায় আমরা ক্রমশ অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছি। এতই অন্ধকার যেখানে কিছু দেখা যায় না কিছু শোনা যায় না৷ তাই আরও বেশি করে আমি।
খুব অসহায় লাগে। বড্ড স্বার্থপর সমাজ। কি জানি প্রতিবাদ আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে৷ তবুও বিচারের দাবী রাখি। মনে খানিকটা আশা রাখি।