নাটক রিভিউ// চ্যাটা চ্যাট নাটক রিভিউ
আসসালামু আলাইকুম/আদাব আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধু গন আমি @kibreay001 বাংলাদেশ থেকে বলছি আজ (২৯-০৮-২০২৪)
| নাটকের নাম | চ্যাটা চ্যাট |
|---|---|
| পরিচালক | মিশন আচার্য, হিমেল আহমেদ |
| অভিনয় | জোভান , তানজিন তিশা |
| দৈর্ঘ্য | ৪৪ মিনিট ০৩ সেকেন্ড |
| ভাষা | বাংলা |
| মুক্তির তারিখ | ১৭ ডিসেম্বর ২০২০ ইং |
নাটকের শুরুতেই নায়কা এবং নায়কার এক বান্ধবী দুজন মিলে তারা রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়েছিল। সেখানে গিয়ে তারা দুজন বেশ কিছু সময় গল্প করেছিল। নায়কা বলেছিল আজকে একটা প্রেম করতে হবে একটা ছেলে জোগাড় করতে হবে যেভাবেই হোক। তারপরে এভাবে তারা দুজন বসে বেশ কিছু সময় গল্প করতে থাকে। হঠাৎ একটি ছেলে রেস্টুরেন্ট এর মধ্যে বসে ছিল এবং সেলফি তোলার ভান করে নায়কাদের ছবি তুলতে ছিল তখন ঠিক নায়কার চোখ পড়ে যায় সেই ছেলের দিকে। বেশ কিছু সময় পরে সেই ছেলে এসে নায়কাদের টেবিলে বসে ছিল এবং নায়কা সেই ছেলের নাম জিজ্ঞেস করেছিল। সেই ছেলের নাম ছিল সুলতান সুলেমান। নায়কা তখন সেই ছেলের বেশ প্রশংসা করতে থাকে এভাবে বেশ কিছু সময় গল্প করে তারা। নায়ক তখন বলেছিল প্রায় দেশের মানুষই বেশিরভাগই ব্লাক। বাংলাদেশ ও ভবিষ্যতে ব্ল্যাক মানসিক লিড করবে। এসব কথা শুনে আমার সত্যি বেশ ভালো লেগেছিল। সত্যি যদি একটা ছেলেকে কিভাবে প্রেমের ফাঁদে ফেলতে হয় তাহলে এই নাটকটি দেখা বেশ প্রয়োজন সকলের।
এভাবেই বেশ কিছুদিন চলার পরে নায়কা একটি চাকরির খোঁজ করতে থাকে। অবশেষে নায়কা চাকরির ভাইভা দেওয়ার জন্য একটি অফিসে গিয়েছিল। সেখানে যখন অফিসের বসের সাথে অফিসের মধ্যে বসে কথা বলছিল তখন তারা দুজন বেশ দারুন চমৎকারভাবে কথা বলছিল। অফিসের বস বলছিল আপনাকে চাকরি করতে হলে অবশ্যই আমার ক্লায়েন্টদের হ্যান্ডেল করতে হবে আপনি পারবেন তো। অফিসের বস তখন বেশ কিছু প্রশ্ন করেছিল। নায়কা তখন বলে আপনার মত ট্যালেন্টেড বস এবং আমার মত সুন্দরী একটা মেয়েকে কাউকে এভোয়েড করার সাধ্য আছে নাকি। এসব কথা শোনার পরে বস নায়কার কথাই গলে যায়। তারপরে বস বলে আপনার স্যালারি এক্সপেক্টেশন কত। নায়কা তখন বলেছিল সার্কুলার এ যেটা দেওয়া আছে আমার কাজ দেখলে আপনি আশা করি এর থেকেও বেশি দিবেন। নায়কা তখন বলে আপনি যতটুকু আপনার কোম্পানিকে ভালোবাসেন আমিও ঠিক ততটুকুই আপনার কোম্পানিকে ভালোবাসবো। অবশেষে বলে আমি যদি আপনাকে পার্সোনালি ভাইয়া বলে ডাকি তাহলে কোন সমস্যা আছে নাকি। অবশেষে নায়কা চাকরিটা কনফার্ম হয়ে যায়। আসলে নায়কা অনেক ট্যালেন্ট ছিল এই বিষয়ে। সত্যি নাটকটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দেখতে আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছিল।
বেশ কিছুদিন পর নায়ক একটি রেস্টুরেন্টে গিয়েছিল সেখানে বেশ কিছু সময় বসে ছিল। সেখানে একটি মেয়ে প্রবেশ করেছিল একটি ছেলের সাথে দেখা করার জন্য। কিন্তু সেই মেয়েটি এর আগে কখনোই সেই ছেলেটির সাথে দেখা করেছিল না। মেয়েটি রেস্টুরেন্টের মধ্যে ঢোকার পরে নায়ক কে জিজ্ঞেস করেছিল আপনি কি আদনান। তখন বলে হ্যাঁ আমি আদনান। নায়কের সাথে বেশ কিছু সময় সেই মেয়েটি বসে রেস্টুরেন্টের মধ্যে গল্প করছিল। নায়ক তখন বলছিল এইবার দিয়ে আমাদের কতবার দেখা হল সেই মেয়েটি তখন বলে এইতো আমাদের ফার্স্ট টাইম দেখা। মেয়েটির সাথে যেই ছেলেটির দেখা করার কথা ছিল মেয়েটির মোবাইলে সেই ছেলেটি ফোন দিতেছিল। মেয়েটি তখন ফোন ধরতে বলে তুমি কোথায় আমি তো রেস্টুরেন্টের নিচে দাঁড়িয়ে আছি। তখন নায়কের সাথে সেই মেয়েটির একটু কথা কাটাকাটি হয়। এরপরে নায়কের বেশ কিছু বন্ধু এসে বলে বন্ধু আমি তো তোমার ফ্যান হয়ে গেছি আমি তোমার কাছে মুরিদ হতে চাই। আসলে নাটকটি দেখতে কি যে ভালো লেগেছিল এই জায়গায় বলে বোঝানো যাবে না।
নায়ক অনেকদিন ধরে নায়কার মোবাইল ফোনে মেসেজ দিচ্ছিল কিন্তু নায়কা সেই মেসেজ সিন করেও কোন রিপ্লাই দিচ্ছিল না। অবশেষে নায়ক একদিন রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে দেখে নায়কা রাস্তার পাশে বসে আছে। সেখানে এসে নায়কা কে জিজ্ঞেস করে তোমার কি হয়েছে আমি তোমাকে এসএমএস দিচ্ছি সেখানেও পাচ্ছিনা। নায়কা তখন বলে আমার জীবনে অনেক বড় একটা দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছে। আমি যে অফিসে চাকরি করতাম সেখানে কিছু ডকুমেন্ট এবং টাকা মিসিং হয়ে গেছে সবাই আমাকে সন্দেহ করছে। কিন্তু তুমি বিশ্বাস করো টাকাটা আমি নেই। কিন্তু নায়কা তখন বলেছিল আমি অনেকের সাথে এ বিষয়ে ফান করছি কিন্তু এবার আমি কোন ফান করছি না। নায়ক তখন জিজ্ঞেস করে কত টাকা। নায়কা তখন বলে এক লক্ষ টাকার মত। নায়ক তখন বলে আমি যদি টাকাটা দিয়ে তুমি কি নিবা। নায়কা তখন বলে টাকাটা তুমি দিলে আমি তোমাকে পরে ফেরত দিয়ে দিব। তখন নায়কা বেশ খুশি হয়েছিল। টাকাটা দেওয়ার জন্য নায়ক কয়েকদিন সময় চেয়ে নিয়েছিল নায়কার কাছ থেকে। আসলে এই জায়গায় এসে নাটকটি বেশ ভালো লেগেছিল।
কিছুদিন পর নায়কা আবারো নায়কের সাথে দেখা করেছিল। নায়কা বলেছিল আজকে তোমাকে একটা খুশির সংবাদ শোনাবো। তখন নায়কা বলে আসলে অফিসের ওই টাকাগুলো আমার কলিগ নিয়েছিল ইনভেস্টিগেশন সব ধরা পড়ে গেছে। তারপরে নায়কা সেই টাকাগুলো নায়কের হাতে ফেরত দিয়ে দিয়েছিল। নায়কা তখন বলে বিপদের সময় অনেক কাছের মানুষকে ভালোমতো চেনা যায়। নায়কা তখন বলেছিল আসলে এই ধরনের কাজ আমি মানুষের সাথে অনেক করেছি আমার নিজের সাথে যখন এ ধরনের ঘটনা ঘটেছিল আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি। তারা দুজন এভাবেই বেশ কিছু সময় বসে থাকে এবং গল্প করেছিল। নায়ক তখন বলে আমিও মেয়েদের সাথে অনেক ফ্লাট করেছি। অনেক মেয়ে আমাকে উপহার দিত এত এত উপহার গিফট আমি কি করবো বলো। তাদের গিফট বিক্রি করে তাদেরকে খাবার খাওয়াতাম তাদের কাছ থেকেও খাবারের বিল নিতাম। অবশেষে তারা দুজন প্রমিস করে আর কারো সাথে এই ধরনের বিহেভ কখনোই করবেনা। তাদের দুজনের ভুল দুজন বুঝতে পারে এই কারণেই নাটকটি সবথেকে বেশি ভালো লেগেছিল আমার কাছে। শেষ মুহূর্তে এসে নাটকটি বেশ চমৎকার ছিল।
চ্যাটা চ্যাট নাটকটি দেখতে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দেখতে আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছিল। আসলে এই নাটকটি দেখে আমি অনেকটাই শিক্ষা অর্জন করতে পেরেছি। আসলে নিজে কখনো চিট করলে সেই চিটের আওতায় যদি নিজে না পড়া যায় তাহলে বোঝা যায় না মানুষ কতটা কষ্ট পায়। নায়ক এবং নায়কা দুজন অনেক মানুষের সাথে চিট করেছিল অবশেষে নায়কা যখন সেই ফাঁদে পড়েছিল তখন সে বুঝতে পেরেছিল আসলে মানুষ কতটা কষ্ট পায়। সব থেকে ভালো লাগার বিষয় হচ্ছে অবশেষে তারা দুজন যখন তাদের ভুল বুঝতে পারে আবারও সৎ পথে ফিরে আসে। এটাই সবথেকে আমার কাছে বেশি ভালো লেগেছিল।
এই নাটকটিতে আমি আমার ব্যক্তিগত রেটিং পয়েন্ট দিতে চাই ১০/৯.০০
আমি মোঃ কিবরিয়া হোসেন। আমি বাংলাদেশ খুলনা বিভাগে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানা কামারখালী গ্রামে বসবাস করি। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমি বর্তমানে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র। আমার মাতৃভাষা বাংলা। আমি বাংলা ভাষায় কথা বলতে এবং লিখতে অনেক ভালোবাসি। সব থেকে আমি বেশি পছন্দ করি ফটোগ্রাফি করতে। আমি বেশিরভাগ সময় বিভিন্ন জায়গা ঘোরাঘুরি করে থাকি। কয়েকটি শখের মধ্যে আমার প্রধান শখ হচ্ছে বিভিন্ন জায়গা ভ্রমণ করা। সংক্ষিপ্ত আকারে আমি আমার নিজের পরিচয় শেয়ার করলাম আপনাদের মাঝে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইল।
(১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য )
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
x-promotion
নাটকের শেষে তারা দুজনে দুজনের ভুল বুঝতে পেরেছে এটা দেখে ভালো লাগলো। শেষ মুহূর্ত আসলেই সুন্দর ছিল নাটকের। আপনি পুরো নাটক রিভিউটা চমৎকার ভাবে উপস্থাপন করেছেন আমাদের মাঝে। বেশ ভালো লাগলো দেখে। নাটকটা আগে দেখা হয়নি চেষ্টা করব নাটকটি দেখার। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটা নাটক রিভিউ শেয়ার করার জন্য।
আমার কাছে এটা সবথেকে বেশি ভালো লেগেছে শেষ মুহূর্তে তারা দুজন দুজনের ভুল বুঝতে পেরেছিল বলে।
আপনার শেয়ার করায় নাটকের রিভিউ আসলেই অনেক বেশি সুন্দর ছিল। আর আমার কাছে পুরো নাটকের রিভিউটা পড়তেও অনেক বেশি ভালো লেগেছে। আমার কাছে এই নাটকের রিভিউ শুরু থেকেই পড়তে ভালো লাগছিল। তবে শেষের দিকটা পড়ে একটু বেশি ভালো লেগেছে। কারণ নায়ক-নায়িকা নিজেদের ভুলগুলো শেষে বুঝতে পেরেছে। আর দুজনে পরবর্তীতে অনেক ভালো হয়ে গিয়েছিল। ধন্যবাদ সুন্দর একটা নাটকের রিভিউ শেয়ার করার জন্য।
ঠিক বলেছেন আপু দুজন পরবর্তীতে সত্যি অনেক ভালো হয়ে গিয়েছিল।
বন্ধু তুমি আজকে আমাদের মাঝে খুবই সুন্দর একটি নাটক রিভিউ শেয়ার করেছো। তোমার শেয়ার করা নাটকটি বেশ ভালো লাগলো। যদিও এই নাটকটি আমার এখনো দেখা হয়নি। তোমার পোষ্টের মাধ্যমে নাটকটি দেখতে পেয়ে দেখতে ইচ্ছে করছে। অসংখ্য ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ গঠনমূলক মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।
দারুন লাগলো তো এই নাটকটার রিভিউ। এই নায়ক নায়িকাগুলো আমার অনেক বেশি পছন্দের। তাদের নাটকগুলো আমার কাছে অনেক ভালো লাগে দেখতে। তাদের অভিনয় অনেক দারুন হয়ে থাকে। এই নাটকটা অসম্ভব ভালো লেগেছে কিন্তু আমার কাছে। এই নাটকের কাহিনী একটু বেশি সুন্দর। এই নাটকটা দেখা না হলেও রিভিউ পড়ে কাহিনীটা জেনে নিতে পারলাম। আর আমি নাটকটা দেখার জন্য ও চেষ্টা করবো। খুব সুন্দর করে তুলে ধরেছেন পুরোটা।
ধন্যবাদ ভাই মূল্যবান মতামত শেয়ার করে উৎসাহ দেওয়ার জন্য।
ভাইয়া আপনি সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ আমাদের মাঝে শেয়ার করছেন।জোভান ও তানজিন তিশার অভিনয় আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে।যদিও নাটকটি এখনো দেখা হয়নি তবে নাটকের রিভিউ পড়ে অনেক ভালো লাগলো।ধন্যবাদ ভাই পোস্টটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
চেষ্টা করেছি ভাই আমি আমার জায়গা থেকে সুন্দর ভাবে নাটকটি রিভিউ করে আপনাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
নাটক দেখতে আমার কাছে খুব ভালো লাগে।চ্যাটা চ্যাট নাটকের আজকে আপনি রিভিউ করেছেন। তবে জোভান এর নাটক আমার কাছে খুব ভালো লাগে। আসলে বাস্তব অর্থ কারো সাথে চ্যাটিং বাজি করলে সেই ফাঁদে যদি নিজে পড়ে তাহলে বুঝে কষ্টটা কি জিনিস। তবে এই নাটকের কাহিনী পড়ে আমার কাছে ভালো লাগলো। চেষ্টা করব নাটকটি দেখার জন্য।
আমার কাছেও জোভানের নাটক সব থেকে বেশি ভালো লাগে ভাই।
খুব সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ শেয়ার করেছেন আপনি৷ এই নাটকের মধ্যে আপনি অনেকগুলো বিষয় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন এবং নাটকের মধ্যে ঘটে যাওয়া সবগুলো ঘটনাই আপনি খুব সুন্দরভাবে এখানে ফুটিয়ে তুলেছেন৷ আমি অবশ্যই এই নাটকটি দেখে নেওয়ার চেষ্টা করব৷ ধন্যবাদ এই নাটকের রিভিউ আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য৷
চেষ্টা করেছি আমি আমার জায়গা থেকে নাটকের বিষয়গুলো ফুটিয়ে তোলার জন্য।