যাত্রা বিড়ম্বনা
28-08-2023
১৩ ভাদ্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
আসসালামুআলাইকুম সবাইকে
কেমন আছেন সবাই? নিশ্চয় সবাই ভালো আছেন। বরাবরের মতো আপনাদের মাঝে আবার চলে এলাম কিছু কথা, কিছু অনুভূতি শেয়ার করার জন্য! আপনাদের একটা কথা বলি! জীবনে আর যায় করেন, মহিলাদের সাথে কোথাও বেড়াতে যায়েন না! কেন বললাম এ কথা একটু পরেই বুঝতে পারবেন!
গত চারমাস ধরে বাড়িতে যাওয়া হয় না। মা বাবাকেও দেখা হয় না! ডুয়েট পরীক্ষা দিয়ে ভেবেছিলাম একবারেই বাড়িতে যাবো। কিন্তু বাড়িতে যাওয়ার আগে আমার আপু বলে তাকে ঢাকা থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। সেও অনেকদিন ধরে বাড়িতে যায় না। এছাড়া ভাগ্নীর স্কুলও বন্ধ। তো আমি বরাবরই ট্রেন দিয়ে বাড়িতে যায়। ট্রেনে যাতায়াত করলে আরামদায়ক অনুভব হয়। আমার আপু আবার বাসে যাতায়াত করে অভ্যস্ত! কিন্তু এবার সে ট্রেনে করে বাড়িতে যাবে বলে সিদ্ধান্ত নিল। কখনো ট্রেনে যাতায়াত করেনি। তো আমি ভাবলাম তাহলে দুটো ট্রেনের টিকিটই কিনে নেয়, বাড়িতে যেহেতু যাবো।
তো আমি বলেই রেখেছিলাম ঢাকায় গিয়ে বেশিদিন থাকবো না। সর্বোচ্চ একদিন! অনলাইনে টিকিটও দেখলাম! বাহ!! দেখলাম সিট আছে! আপুকে ফোন দিয়ে কনফার্ম করলাম যে ট্রেনের টিকেট কিনেছি। ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ পর্যন্ত! ২৪ তারিখের টিকেট কেটে ফেলি। কিন্তু আমি যখন বাসায় আসলাম তখন আবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন! ভাগ্নীর স্কুলে নাকি পরীক্ষা চলছে। এই মুহূর্তে গেলেও সমস্যা! এখন কি করা! অনলাইনে চার্জসহ ৩৪০ টাকা কেটেছে টিকেটের। উপায় না পেয়ে করতে হলো টিকেট ক্যানসেল! ভেবেছিলাম টিকেট ক্যানসেল করলে টাকা কিছু ফেরত আসবে, কিন্তু আজ নিয়ে চারদিন হয়ে গেলো এখনও টাকা আসেনি!
তারপর আবার অনলাইনে টিকেট কাটতে হলো! টিকেট কাটলাম ২৬ তারিখের! এখন আরও দুদিন থাকতে হবে। এদিকে আমার বোন তো ট্রেনে কখনো যায়নি কিছুটা ভয়ও পাচ্ছিল। বাসে যাতায়াত করে অভ্যস্ত যেহেতু। শনিবার সকালে ট্রেন। ১০:৪৫ মিনিটে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে যাবে কিশোরগঞ্জ এর উদ্দেশ্য! কিশোরগঞ্জ এক্সেপ্রেস ট্রেন! যেতে বেশিক্ষণ লাগে না! আপুর বাসা থেকে আবার রেলওয়ে স্টেশন অনেকটা দূরে! রিকশাভাড়া ১৫০ টাকা করে। গেণ্ডারিয়া থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত! যাওয়ার পথে ঘটল আরেক কাহিনী! আপু আর ভাগ্নীর জামা কাপড়ে ব্যাগ ভর্তি! সাথে আমার ব্যাগ! নিতে হলো দুই রিকশা! কি করা ব্যাগের সব কিছু আমার ঘাড়ে এসে পড়ল!
রিকশা নিয়ে আমি আগে যাত্রা শুরু করে দেয়! রাস্তার মাঝে এসে আপুদের রিকশা আর খুঁজে পায় না! কি এক ঝামেলা! রিকশাচালককে বলে কমলাপুর এসে পড়লাম আমি! ব্যাগ সামলাতে সামলাতে আমার জীবন শেষ! পকেট থেকে ফোন বের করে দেখি ১৫ টা মিসডকল! তাড়াতাড়ি ফোন দিলাম আপুকে! বুঝতেই পারছেন তখন কি অবস্থা! কিছুক্ষণ বকাঝকা খেলাম। আপুদের রিকশাও তখন রেলওয়ে স্টেশনের কাছে এসে হাজির! আমি ব্যাগ নিয়ে গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে। ঠিক তখন আপুদের রিকশাও গেইটের সামনে এসে হাজির!
ঘড়িতে তখন ১০ টা বেজে ২০ মিনিট! আরও ২৫ মিনিট সময় বাকি! এতো ব্যাগ নিয়ে ট্রেন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়াও পসিবল না! একজন লোক দেখলাম মালপত্র নেয়ার জন্য গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। একশ টাকা বলে ঠিক করলাম, একদম ট্রেন পর্যন্ত তুলে দিবে! আমাদের ট্রেন ৪ নাম্বার প্লাটফর্মে ছিল! ড বগীতে আমাদের সিট! ড বগী শেষের দিকেই ছিল। তাড়াতাড়ি ট্রেনে উঠে পড়ি। ট্রেনের ভিতরের পরিবেশটা ভালো। ভাগ্নী তো ভীষণ খুশি ট্রেনে উঠে। আপু ও বুঝতে পারে যে ট্রেনের জার্নিটা ভালো হবে। যেহেতু বাসে গ্যাস ছাড়ে সেটার গন্ধ মারাত্মক বলতেই হয়! সব বাসই না আবার! মাথা প্রচন্ড রকমের ব্যাথা করে। যাক, কিছুক্ষণ পরেই ট্রেন ছেড়ে দেয়!
ট্রেন রাস্তায় কয়েকবার ক্রসিং পরায় আপু খুব বিরক্ত হয়ে পরে! ভাগ্নী তো আমাকে বারবার বলতে থাকে, কখন নানুর বাড়িতে যাবো? মিথ্যা সান্তনা দিয়ে ভৈরব পর্যন্ত আসার পর ভাগ্নী ঘুমিয়ে পরে! ভৈরব এসে আবার ট্রেন ত্রিশ মিনিট লেইট করে। কারণ এবার কিশোরগঞ্জ এর দিকে যাবে। ট্রেনের ইঞ্জিন পরিবর্তন করে সেখানে এসে! অবশেষে ট্রেন ছাড়ে এবং কিশোরগঞ্জ আসতে আসতে সাড়ে তিনটা বেজে যায়!
| Device | Oppo A12 |
|---|---|
| Photographer | @haideremtiaz |
| Location | Mithikandi, Narsingdi, Bangladesh |
| Date | 26 August, 2023 |
যাক, আজকের মতো এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আবারো হাজির হবো নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে সেই পর্যন্ত ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন। আল্লাহ হাফেজ 🌼🦋
10% beneficary for @shyfox ❤️
ধন্যবাদ সবাইকে
VOTE @bangla.witness as witness
OR
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,ব্লগিং,কুকিং,রিভিউ,ডাই ইত্যাদি করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।
twitter share link
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
একদম ঠিক বলেছেন ভাই মেয়েদের নিয়ে কোথাও গেলে ঝামেলা শেষ নেই । তবুও কিছু কিছু ঝামেলা নিজেকে সামলাতে হবে যেমনটা আপনি আপনার আপুকে নিয়ে যাত্রা পথে অনেক ভোগান্তি শিকার হয়েছেন । যেগুলো আপনাকেই সব দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করতে হয়েছে। এমনিতেই জার্নি করা অনেক কষ্টের আবার তার সাথে এক্সট্রা ভোগান্তি।
হুমম ভাই! সবকিছু ঘুছাতেই সময় পার করে দেয়! যায়হোক, যেতে তো পারলাম। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ
ভ্রমণ করার মধ্যে ট্রেন ভ্রমন সব থেকে সেইফ আর আরাম দায়ক।বেশ বিরম্ববনার শিকার হয়েছেন দেখছি আপনি।গুছিয়ে ফটোগ্রাফি সহ উপস্থাপন করেছেন আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো।
ট্রেন জার্নি, বাস জার্নি থেকে ব্যাটার। তবে লং জার্নির ক্ষেত্রে আবার বাস ভালো।
যাত্রা পথে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন জেনে খুব খারাপ লাগলো। আসলে যাত্রাপথে এ ধরনের ভোগান্তিরতে পড়লে খুবই খারাপ লাগে। আপনার প্রাকৃতিক ফটোগ্রাফি বেশ দুর্দান্ত হয়েছে। এত চমৎকার পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
পরিস্থিতিতে পড়ে এমন অবস্থা হলো ভাইয়া। ধন্যবাদ আপনাকে
বাংলাদেশে কখনো ট্রেন ভ্রমণ করা হয়নি আমার। কারণ অনেকের মুখ থেকে শুনি ট্রেন জার্নি খুবই বিরক্তিকর। তবে আপনার পোস্ট পড়ে মনে হচ্ছে ট্রেন জার্নি বেশ আরামদায়ক। আমার ওয়াইফ এর জন্য বেশ ভালো হবে। কারণ বাসে তো গ্যাসের গন্ধ থাকে। সে আবার মাঝে মধ্যে বমি করে দেয়। যাইহোক এতো বিড়ম্বনার পর আপনারা অবশেষে বাসায় পৌঁছাতে পেরেছেন, এটা জেনে ভীষণ ভালো লাগলো। পোস্টটি শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
ট্রেন জার্নি ভালো হবে আমি মনে করি! বাসে এই গ্যাসের গন্ধের জন্য আমি যেতে চাই না।