গ্রামের নৈসর্গিক সৌন্দর্য!

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

26-04-2023

১৩ বৈশাখ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ


আসসালামুআলাইকুম সবাইকে


কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই অনেক ভালো আছেন। শহর ছেড়ে গ্রামের পরিবেশও উপভোগ করছেন। তাই আজকে আমিও বেরিয়ে পড়েছিলাম গ্রামের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য! আমরা এখন এমন পর্যায়ে এসে দাড়িঁয়েছি আমাদের উপভোগ্য সময় ফোনের মধ্যেই কেটে যায়। ফোনই যেন সব! ফোন ছাড়া এক মিনিটও কল্পনা করা যায় না! অথচ আমাদের আশেপাশে একটু তাকালেই চোখে পড়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দৃশ্য! ছোট ছোট জিনিসের মধ্যে আমরা উপভোগ করার বিষয়টি যেন ভুলে যাচ্ছি।

IMG20230421175350.jpg

গ্রামের শীতল হাওয়া, শেষ বিকেলের সূর্যাস্ত, সোনালী ধানক্ষেত সবই যেন উপভোগ করার বিষয়! গ্রামে সবথেকে উপভোগ করার বিষয় হলো মুক্ত বাতাস! আপনি প্রাণভরে মুক্ত বাতাস গ্রহণ করতে পারবেন। বিশেষ করে বিকেল বেলার মৃদু বাতাস আপনাকে বাধ্য করবে অনয জগতে হারিয়ে যেতে। এখন কথা হলো আপনি যদি সেই বিষয়টুকুই উপভোগ করতে না পারেন তাহলে! আসলে একেক জনের কাছে উপভোগ করার বিষয় একেক রকম। কেউ গ্রামের সৌন্দর্য দেখেও উপভোগ করতে পারে না। কেউ আবার সোনালী ধানক্ষেতে হারিয়ে যায়। ফিরে পেতে চাই সেই সোনালী দিনগুলোর কথা!

তবে সময়ের পরিক্রমায় গ্রামও পরিবর্তন হয়নি, তা কিন্তু নয়! গ্রামের রূপ পরিবর্তন হয়েছে। আগে তো গ্রামে অনেক জঙ্গল দেখা যেত! ঝোপঝাড়ে চারিপাশ ঢাকা থাকতো! দিনের বেলায়ও মনে হতো যেন ঘুটঘুটে অন্ধকারের মতো আছি। এখন তার উল্টো। জঙ্গলের পরিমাণ কমেছে! জঙ্গল পরিষ্কার করে সেখানে তৈরি করা হচ্ছে আবাসস্থল! হারাচ্ছে গ্রামের সবুজ-শ্যামল সৌন্দর্য। মানুষ হারাচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার মুহূর্ত! আসলে সময়ের সাথে সাথে মানুষের রুচিরও ব্যাপাক পরিবর্তন হচ্ছে। এখন তো গ্রামে দালানকোঠা ছাড়া কেউ যেন সুখ খুজেঁ পায় না! সুখ বলতে দালানকোঠা আছে তো আপনি গ্রামের স্বনামধন্য মানুষ! অথচ সেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যে হারাচ্ছে তার কোনো খবর নেই!

IMG20230421175507.jpg

IMG20230421174118.jpg

এখন বৈশাখ মাস! ধান পেকে গেছে! চারিদিকে তাকালেই সোনালী ধানক্ষেত লক্ষ্য করা যায়। কৃষকেরা ধান কেটে ঘরে তুলবে। তবে পানির অভাবে এখনও বেশ কিছু ফসলি জমির ধান পাকেনি। সেচের মাধ্যমে পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যাতে কয়েকদিনের ভিতরেই যেন ধান ঘরে তুলতে পারে। কৃষকের ঘরে ধান তোলার দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। আগে পায়ের মেশিন দিয়ে ধান সংগ্রহ করা হতো। এখন উন্নত টেকনোলজির ফল পাচ্ছে কৃষকেরা! এখন নিমিষেই কয়েক কাঠার ধান সংগ্রহ করতে পারে। সময়ও কম লাগছে সেই সাথে পরিশ্রমও কম লাগছে।

IMG20230421174942.jpg

IMG20230421175530.jpg

আজ বিকেলে বেরিয়েছিলাম গ্রামটাকে উপভোগ করার জন্য! মনটাকেও স্থির রাখতে পারছিলাম না! চলে গিয়েছিলাম চরের দিকে। গ্রামের দৃশ্যগুলো সেখানে গেলেই যেন উপভোগ করা যায়। চরে যাওয়ার জন্য তৈরি করা আছে মাটির তৈরি রাস্তা! এখনও পিচঢালা সড়ক তৈরি করা হয়নি। তবে যতদূর বুঝতে পারলাম, খুব শীঘ্রই রাস্তা তৈরি হবে। গ্রামের মানুষের যাতায়াতেরও একটা ভালো ব্যবস্থা হবে। রাস্তার দুপাশে ধানক্ষেত! যতদূর চোখ যায় শুধু ধানক্ষেত আর ধানক্ষেত। সাথে মৃদু বাতাস! তখন সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে পরেছিল। সোনালী ধানক্ষেত বাতাসে দুলখাচ্ছে। ঠিক সামনেই একটি ছোট ব্রিজ! ব্রিজের পাশে কিছুসংখ্যক মানুষ বসেছিল। তারাও সেখানে বসে হাওয়া খাচ্ছে, নির্মল হাওয়া!

রাস্তার পাশে সারি সারি কাঁঠাল গাছ। গাছে কাঁঠাল ধরেছে। বৈশাখ মাসের শেষের দিকে কাঁঠাল পেকে যায়। আর আপনারা তো জানেনই আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল। কয়েকদিন পরেই আম-কাঠালঁ খাওয়ার ধুম পরে যাবে। একটু সামনে আগাতেই আমাদের নরসুন্দা নদী! গ্রামের ভিতর দিয়েই বয়ে গেছে নদীটি। নদীর রূপ যেন পরিবর্তন হয়েছে অনেকটা! মোটামোটি ভালোই পানি রয়েছে। বৃষ্টি হয়নি তবুও নদীর পানি এতোটাও কমেনি। বর্ষাকালে নদীর পানি পাড় অবধি চলে আসে। গ্রামের মানুষদের গোসল করার শেষ সম্বল নদী। নদীতেই অনেকে গোসল করে থাকে। নদীর ওপারে আবার অনেকই জমি চাষ। জমিতে শসা, মূলা, আলু চাষ করে থাকে।

IMG20230421174124.jpg

গ্রামের এই দৃশ্যগুলো আপনাকে মুগ্ধ করবেই! আমি মাঝে মাঝে বাড়িতে সময় পেলে গ্রামটাকে ঘুরে দেখি। গ্রামের সৌন্দর্য উপভোগ করি। শহরে ত আর এমন প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায় না। ইট পাথরের শহরে নির্মল বাতাসেরও বড্ড অভাব! তাই তো মা ও মাটির গ্রামে আলাদা একটা টান সবারই থাকে। যাক, নদী পর্যন্ত এসে সেখানে এসে কিছুক্ষণ দাড়িঁয়েছিলাম। নদীতে স্রোত ছিল। পানির সাথে নদীতে ভাসমান কচুরিপানা ভেসে যাচ্ছিল। এদিকে সন্ধ্যাও ঘনিয়ে এসেছিল। আসার পথে আবারও গ্রামের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে প্রাণ জুড়িয়ে নিলাম। গ্রামের চিরচেনা রূপ যেন এমনই থাকে এমনটাই আশা করছি। গ্রামের মানুষজন যেন গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে এমনটাও প্রত্যাশা করছি।

DeviceOppo A12
Photographer@haideremtiaz
Locationw3w
Date25 April, 2023

যাক, আজ এই পর্যন্তই! আশা করছি আপনারাও গ্রামের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। আপনাদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে আজকের মতো এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ হাফেজ 🌼🍃



10% beneficary for @shyfox ❤️

C3TZR1g81UNaPs7vzNXHueW5ZM76DSHWEY7onmfLxcK2iNzq2MSXKSji21JRspt4nqpkXPR5ea7deLzvmJtuzVBwdLJUpBqtgAZ5gHtHPbayD2jR3CWqjkJ.png

ধন্যবাদ সবাইকে



WhatsApp Image 2021-12-23 at 19.46.54.jpeg


VOTE @bangla.witness as witness

witness_proxy_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

আমি কে?

IMG20210908180509.jpg

আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,ব্লগিং,কুকিং,রিভিউ,ডাই ইত্যাদি করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।

Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 3 years ago 

গ্রামের এই ধরনের পরিবেশে সময় উপভোগ করলে অন্য রকমের একটা ভালো লাগা কাজ করে। এই ধরনের সতেজ বাতাস এবং সুন্দর পরিবেশ শুধুমাত্র গ্রাম অঞ্চলেই খুঁজে পাওয়া যায়।

 3 years ago 

আপনি আজকে আমাদের মাঝে শেয়ার করছেন গ্রামের অপরূপ সৌন্দর্যের পরিবেশ। বেশ কিছুদিন গ্রামের সৌন্দর্যের পরিবেশ দেখা হয়েছিল না। আপনার পোস্টের মাধ্যমে গ্রামের সৌন্দর্যের পরিবেশ দেখতে পারলাম। এ ধরনের সুন্দর পরিবেশ দেখতে আসলে অনেক ভালো লাগে। ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা ছায়ায় ঘেরা পাখি ডাকা আমাদের এই বাংলাদেশ। রূপবয়চিত্র্যময় পরিবেশ গ্রাম অঞ্চলের যে কেউ দেখলে মুগ্ধ হয়ে যাবে। চারিদিকে ছড়িয়ে রয়েছে নদী জালের মত সবুজ শ্যামলের ঘেরা ফসলের মাঠ এক কথায় অসাধারণ পরিবেশ।।
ধন্যবাদ আপনাকে গ্রামের সুন্দর্য আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য।।

 3 years ago 

আপনি বিকেলে বেড়িয়েছিলেন প্রকৃতির সৌন্দর্য দুচোখ ভরে দেখতে।সাথে সাথে আমাদের মাঝে ও শেয়ার করলেন।সত্যি গ্রামের প্রকৃতি দেখলে মনটা অনেক সজীবতা ফিরে পায়।আপনার করা ফটোগ্রাফিগুলো দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম।গ্রামের এই সৌন্দর্য আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

 3 years ago 

গ্রামের এই সৌন্দর্য সবসময় সবাই কে মুগ্ধ করে। মনে হয় যেন যত দেখি তত বেশি আরও মুগ্ধ হয়ে পড়ি এই সৌন্দর্যে। তারজন্য আমরা যেখানেই থাকি না কেন ছুটে চলে আসি এই সুন্দর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। আপনার ফটোগ্রাফির প্রতিটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। ধন্যবাদ এত সুন্দর গ্রামের সৌন্দর্য শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

ছোটবেলা থেকে প্রকৃতি আমার সবথেকে বেশি পছন্দের। প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে ভীষণ ভালো লাগে। প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে চায় এই মন। আর সোনালী ধানের মাঝে মুহূর্ত উপভোগ করতে সবথেকে বেশি পছন্দ করি আমি। গ্রামের প্রাকৃতিক দৃশ্য অনেকেই পছন্দ করে না। কিন্তু আমার মনে হয় সেই মানুষ গুলো প্রাকৃতির সৌন্দর্যতা উপভোগ করতে জানে না। একবার প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে জানলে আর প্রকৃতির মাঝে থেকে ফিরে আসতে ইচ্ছে করে না। যাইহোক ভালো লাগলো আপনার আজকের পোস্ট।

 3 years ago 

গ্ৰাম বাংলা প্রাকৃতিক অপূর্ব সৌন্দর্য খুব সুন্দর ভাবে উপভোগ করেছেন। ফটোগ্রাফি গুলো বেশ দুর্দান্ত হয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার অনুভূতি সত্যি খুব অন্যরকম। প্রকৃতির মাঝে কেটে যাওয়া মুহূর্ত গুলো খুবই ভালো লাগে। ধন্যবাদ আপনাকে গ্ৰাম বাংলা প্রকৃতির সৌন্দর্য নিয়ে আলোকপাত করার জন্য।

 3 years ago 

আমি গ্রাম ছেড়েছি মোটামুটি চার বছর বয়সে। সত্যি বলছি ভীষণ মিস করি গ্রামের নিরিবিলি শান্ত এই পরিবেশটাকে। তবে আজকাল গ্রাম আর গ্রাম নেই। আবাদি জমির পরিমাণ যেমন কমছে তেমন যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বসবাসের ঘরবাড়ি গুলো অনেক উন্নত হয়ে গেছে। অনেক চমৎকার এবং সুন্দর একটা উপস্থাপনা উপহার দিয়েছেন গ্রাম নিয়ে ভাই।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.105
BTC 64620.43
ETH 1910.26
USDT 1.00
SBD 0.37