১ম পর্বঃ অভাগা

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

13-04-23

৩০ চৈত্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ


আসসালামুআলাইকুম সবাইকে



সবাইকে বাংলা নববর্ষের অগ্রীম শুভেচ্ছা! আশা করছি সবাই অনেক ভালো আছেন। আমি ভালো খারাপ মিলিয়েই আছি। কয়েকদিন ধরে অসুস্থতার মধ্যেই দিনগুলো যাচ্ছে। আশা করি আবারো আপনাদের মাঝে হাজির হতে পারবো। সময় চলে যায়। সময়ের হিসাব নিয়ে বসলে মনে হয় কত দ্রুত চলে গেল। সবাই ঈদ উদযাপনের জন্য গ্রামের বাড়িতে চলে যাচ্ছে।

অথচ সামনে ঈদ আমার বিন্দুমাত্র যেন ঈদের অনুভূতি হচ্ছে না! তাহলে কি সুখের মূল্য বাড়িয়ে ফেলেছি! তাই তো মনে হচ্ছে। ছোটবেলার ঈদ আর এখনকার ঈদের মধ্যে যেন অনেক পার্থক্য। যাক, ওদিকে না যায়। আজকে আরেকটি নতুন গল্প লেখা শুরু করলাম! বাকি গল্পগুলোর পাশাপাশি নতুন একটা লিখলাম! আশা করি এই গল্পটিও আপনারা উপভোগ করবেন এবং শেষ পর্যন্ত পাশে থাকবেন!

woman-6079961_1280.jpg

From pixabay

গ্রামের চঞ্চল মেয়ে মিলি ! সারাদিন পাড়ার এপারে থেকে ওপারে ঘুরে বেড়ায়! বাধনছুটা! মা বাবারও এ ব্যাপারে ভ্রুক্ষেপ নেই! মেয়ে যেভাবে চলছে চলুক। মা বাবার অবাধ্য মেয়ে মিলি আবার পড়াশোনায় ভালো! সারাদিন যাই করুক পড়ার বেলায় বেশ পটু! সবেমাত্র পঞ্চম শ্রেণীতে পড়াশোনা করে। ক্লাসে রোল এক! স্যার ম্যাডামদের কাছে আবার পরিচিতমুখ মিলি। আবার স্যার ম্যাডামদের কাছে দুষ্টুতে এক নাম্বার হওয়া পরিচিত মুখও মিলি! খেলাধুলা থেকে শুরু করে সব জায়গায় সে যেন এগিয়ে। শান্তিপুরের প্রত্যোকটি মানুষ তাকে চিনে। জামিল চাচার মেয়ে বললেই হয়! মিলির বাবা জামিল। গ্রামের মসজিদের মুহাজ্জিন। সেই সুবাধে সবার সাথে পরিচয়।

শৈশবের সময়টা মিলির গ্রামেই কাটে! দশম শ্রেণী পর্যন্ত গ্রামে থেকেই শান্তিপুরের একটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছে। মিলি যত বড় হতে থাকে তত যেন মানুষের নজরে আসতে থাকে! মেয়ে বড় হয়েছে, বিয়ে দিতে হবে। মিলির বাবা হুজুর হওয়ায় গ্রামের মানুষদের কথা তার শুনতেও ভালো লাগে না। তিনি আবার ইসলামী মতদর্শে বিশ্বাসী! ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের উপযুক্ত বয়স হলে বিয়ে দেয়া উচিত! যত তাড়াতাড়ি দেয়া যায় ততই ভালো। কিন্তু মিলি এখনি বিয়ে করতে রাজি না! তার আরও পড়াশোনা করার ইচ্ছে। এইস এস সি পাস করে ভালো একটি ভার্সিটিতে পড়ার স্বপ্ন মিলির! এই ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল স্বপ্নার কাছ থেকে জেনে। স্বপ্না প্রযুক্তি সম্পর্কে সব খবরাখবরই রাখে। মিলির ফোন নেই। বলতে গেলে মিলির বাবা তাকে ফোন ইউজ করতে দেয় না।

স্বপ্নার কাছ থেকে ভার্সিটি সম্পর্কে জানতে পেরে সেদিন থেকেই মিলির মনে স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার। কিন্তু পরিবার, সমাজ কি আর মিলির স্বপ্ন পূরণ করতে দিবে! দুদিন পরেই মিলির বাবা সম্বন্ধ খোজঁ করে। ছেলে বিবিএ শেষ করে এখন ফ্রিল্যান্সিং করছে! ফ্রি ল্যান্সিং সম্পর্কে মিলির বাবারও তেমন আইডিয়া নেই! শুধু জেনেছে ডলার আয় করতে পারে। আর সেটা শুনেই মিলির বাবা ছেলেটাকেও পছন্দ করে বসে। শান্তিপুরের পাশেই একটি গ্রামে বাড়ি! মিলির বাবা ছেলেদের বলে রেখেছিল এসে দেখে যেতে। গ্রামে একটা নিয়ম আছে! বিয়ের সম্বন্ধের ক্ষেত্র ঘটকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কাদীর কাকা মিলিদের গ্রামের ঘটক! গ্রামের প্রত্যেকটা মেয়ের বায়োডাটা যেন তার কাছে মুখস্থ! কোনো ভালো ছেলের সম্বন্ধ পেলেই বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে। গ্রামের মানুষজনও ছেলের অবস্থা ভালো দেখে তার মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেয়।

মিলির সেদিন অঝোরে কান্না হচ্ছিল! মনে হচ্ছিল যেন চোখে এক সমুদ্রের জল জমে আছে। স্বপ্ন ভাঙ্গার কান্না! পরিবারের অমতে যেখানে বিয়ে করতে হবে। তার স্বপ্নগুলোকে খুন করে!
-তুই কাদিঁস না মা! ছেলেটা ভালো আছে। (মিলির মা)
-আমাকে বিয়ে দিতে পারলেই তোমরা খুশি! আমার এতো স্বপ্ন ছিল সেগুলোর কি হবে!
-তোর বাবা বলেছে বিয়ের পরে পড়াশোনা করতে পারবি। জামাই বাবা তোকে পড়াশোনা করাতে রাজি!
-বিয়ের পর পড়াশোনা আর হয়!! সংসার সামলাতেই জীবন যাবে।
-মন খারাপ করিস না। তোর ভালোর জন্যই তো আমরা এসব করছি।
-আমার ভালোটা দেখলে এখনি বিয়ে দেয়ার চিন্তা করতে না। (মিলি কাদঁছে)
-শাড়িটা পরে নে! মেহমানরা চলে আসবে।

ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে শুধুমাত্র মা বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে মিলি শাড়িটা পরে। জীবনে প্রথমবার শাড়ি পরছে। সেটাও আবার কারো জন্য! নিজের ইচ্ছের যেন কোনো মূল্য। মেয়েদের কি কোনো ইচ্ছের দাম নেই!! মিলি ভাবতে ভাবতে শাড়ির আচঁল ভাজ করতে থাকে। যে মেয়েটি চোখে কাজল দিতো না কখনো, সে মেয়েটি আজ চোখে কাজল দিয়েছে! চোখের অনেকটা অংশে কাজল লেপটে আছে। কপালে ছোট করে একটা কালো টিপ! চুলগুলো অগোছালোভাবেই আছে। চোখের জলে যেন কাজলটাও মুছে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর মেহমানরা চলে আসে। মিলির বুক যেন ধুক ধুক করতে থাকে। এতো ভয় তার কখনো হয়নি। মনে হচ্ছে কি যেন হারিয়ে ফেলছি!!

চলবে.....



10% beneficary for @shyfox ❤️

C3TZR1g81UNaPs7vzNXHueW5ZM76DSHWEY7onmfLxcK2iNzq2MSXKSji21JRspt4nqpkXPR5ea7deLzvmJtuzVBwdLJUpBqtgAZ5gHtHPbayD2jR3CWqjkJ.png

ধন্যবাদ সবাইকে



WhatsApp Image 2021-12-23 at 19.46.54.jpeg


VOTE @bangla.witness as witness

witness_proxy_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

আমি কে?

IMG20210908180509.jpg

আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,ব্লগিং,কুকিং,রিভিউ,ডাই ইত্যাদি করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।

Sort:  

Thank you, friend!
I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
image.png
please click it!
image.png
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)

The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.099
BTC 63947.25
ETH 1846.06
USDT 1.00
SBD 0.38