"ইয়ারমেট" নাটক রিভিউ
22-09-2022
৭ আশ্বিন ,১৪২৯ বঙ্গাব্দ
আসসালামুআলাইকুম সবাইকে
কেমন আছেন সবাই? নিশ্চয় অনেক ভালো আছেন 🌼। আসলে আমাদের ভালো থাকতে হয়। দিনশেষে কষ্টগুলো চাপা দিয়ে দীর্ঘশ্বাস নিয়েই ঘরে ফিরতে হয় আমাদের। হয়তো প্রিয়জনদের খুশি করার জন্য। এটাই বুঝি জীবন। জীবনটাকে যে যেভাবে নিয়েছে তার কাছে তো তেমনই। তবে জীবন সুন্দর। কিছু সমস্যার জন্য সব কিছু ওলটপালট হয়ে যায়। সমস্যাহীন পৃথিবীও যে হয়না। যাক, আমি আর ওদিকে গেলাম। এবার আপনাদের মাঝে একটু রোমান্টিকতা নিয়ে আসি। আজকে যে নাটকটি শেয়ার করবো সেটি নিঃসন্দেহে আপনাদের কাছে ভালো লাগবে। রোমান্টিকতার ছোঁয়া আপনার মনেও জেগে উঠবে। নাটকটির নাম হচ্ছে ইয়ারমেট। অনেকদিন আগেই রিলিজ হয়েছিল তবে আমি আজ দেখে উপভোগ করলাম।
নাটকের কিছু তথ্য
| নাম | ইয়ারমেট । |
|---|---|
| রচনা ও পরিচালনা | মাহমুদুর রহমান হিমি । |
| চিত্রনাট্য | অবয়ব সিদ্দিকি মিডি ও ইকরাম হোসাইন। |
| প্রযোজক | মুশফিকুর রহমান মঞ্জু । |
| অভিনয়ে | ফারহান আহমেদ জোভান, সাফা কবির, মুসাফির সৈয়দ, ঈশরাত জায়েন আহমেদ, শরীফুল আলম সাচ্চু |
| দৈর্ঘ্য | ৪৮ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড। |
| আবহ সংগীত | পিরান খান । |
| মুক্তির তারিখ | ১৫ ই ফেব্রুয়ারি , ২০২২ইং |
| ধরন | রোমান্টিক , ড্রামা |
| ভাষা | বাংলা। |
| দেশ | বাংলাদেশ |
চরিত্রেঃ
জায়েদঃ
ফারহান আহমেদ জোভান ।মায়াঃ
সাফা কবির।কাহিনী সারসংক্ষেপ
নাটকের শুরুতেই দেখা যায় জায়েদ তার ক্যাম্পাসের ছাত্রাদের বলছে, নতুন অনেক শিক্ষার্থী এসেছে। কেউ যেন ডিস্টার্ব করতে না পারে। বলতে বলতে একটি হলরুমে দেখতে পারে একটি ছেলে দূরবীণ দিয়ে যেন কি দেখছে জানালার পাশ। জায়েদ বিষয়টা খেয়াল করে সেখানে যায়। রুমে প্রবেশ করতেই ছেলেটি দূরবীন লুকিয়ে ফেলে। জায়েদ তখন তার ছাত্রকে জিজ্ঞেস করে দূরবীণ দিয়ে কি দেখতেছিল? তখন ছেলেটি বলে দূরবীণ দিয়ে একজন ক্রাশ। ইয়ারমেটকে দেখতেছিল। জায়েদ তখন কিছু বলেনি ছাত্রকে। কারণ জায়েদের জীবনেও যে একজন ইয়ারমেট ছিল। জানালার দিকে সেই কাহিনী বলতে থাকে তার স্টুডেন্টকে।
২২৪ নাম্বার হলরুমে থাকতো জায়েদ। ঠিক সামনে থাকতো মায়া। দুজনেই সেইম ইয়ারে পড়াশোনা করে। জায়েদ জানালা দিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে দূরবীণ দিয়ে মায়াকে দেখে। কিন্তু মায়া তা জানেনা। ভার্সিটিতে গেলে মায়ার পিছন পিছন যায় সেটা ভালোবাবেই বুঝতে পারে মায়া। মায়া তখন বলে, তার পিছনে এভাবে ঘুরাঘুরি করে কেন? তখন থেকেই ভালো লাগাটা শুরু দুজনের। হাতে একটা সাদা গোলাপ ছিল মায়াকে সেটা দিয়ে দেয়। তারপর দুজন একসাথে কথা বলতে বলতে মায়ার বান্ধবী তিশার কাছে চলে যায়। কিছুক্ষণ একসাথে সবাই খুনসুটি করার পর আবার চলে যায় ক্যাম্পাসের হোস্টেলে। তিশা আর মায়া তখন পড়তেছিল। জায়েদ ঠিকই তাদের দুজনকে দূরবীন দেখছে। তিশা তখন জায়েদের কথা বলে। কিছুদিন ধরে জায়েদ খুব খেয়াল রাখছে মায়ার। হয়তো খুব ভালোবাসে জায়েদ। একজন ভালো বন্ধু যদি ভালোবাসার মানুষ হয় তাহলে তো ভালোই। মায়াকে বলে তিশা। মায়া বিষয়টা মাথায় রাখে। ঠিক কিছুক্ষণ পরই মায়ার হাত থেকে চুড়িগুলো পরে ভেঙ্গে যায়। জায়েদ ঠিকই দেখতে পায়
পরদিন ক্যাম্পাসে যায় জায়েদ। মায়া ক্যাম্পাসে একা একা বসে আছে। জায়েদ দেখে ঠিকই বুঝতে পারে মায়ার মন খারাপ। মন খারাপের কারণ জানতে চায় জায়েদ। মায়া তখন বলে যে, তার মা বাবাকে খুব মিস করছে। ঠিক তখন জায়েদ ব্যাগ থেকে নীল চুড়ি বের করে হাতে পরিয়ে দেয় মায়ার। মায়ার খালি হাত একদমই ভালো দেখায় না। চুড়ি পরিয়েই চলে যায় জায়েদ। জায়েদ আর সম্পর্কটা বন্ধুত্ব থেকে এখন ভালোবাসায় পরিণত হতে থাকে। মায়াও জায়েদকে খুব ভালোবাসতে শুরু করে। এক পর্যায়ে দুজন দুজনকে অনেক ভালোবেসে ফেলে। তারা স্বপ্ন দেখতে শুরু করে একসাথে বাকিটা জীবন পার করে দেয়ার। মায়াকে আগলে রাখবে আজীবন। কিন্তু কাল থেকে ভার্সিটি ছুটি। মায়া বাড়িতে চলে যাবে। তার বাবাকে বলেছে সে যাবে বাড়িতে। কিন্তু মায়ার ইচ্ছে ছিল ছুটির দিনগুলি জায়েদের সাথে কাটানোর। মায়া বাড়িতে চলে যাবে শুনে মন খারাপ হয় জায়েদের। জায়েদ বাড়িতে যাবে না। কারণ একটা পার্ট টাইম জব পেয়েছে, ছুটির দিনগুলি জব করে কাজে লাগানো যাবে। দুজনের ভবিষ্যৎ এর কথা চিন্তা করে জব করবে। মায়া বুঝতে পারে যে জায়েদের অনেক কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু জায়েদের তার থেকেও বেশি কষ্ট হয় যখন সে দূরে থাকে।
রাতেই চলে আসে মায়ার বাবা। সকালে বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল মায়ার কিন্তু মায়ার বাবা চাই এখনি চলে যেতে। সেই খুলনাতে যেতে হবে। মায়া তার বাবাকে দেখে প্রথমে যেতে চায়নি। পরে অবশ্য রাজি হয়। তখন পাশে জায়েদও ছিল। জায়েদের পরিচয় জানতে চায় মায়ার বাবা। জায়েদ পার্ট টাইম জব করে এটা শুনে মায়ার বাবা জায়েদকে অপমান করে। মায়া কখনো বাসে চড়েও যাতায়াত করেনি, জায়েদ বাস দিয়ে যাতায়াত করে এটা নিয়েও অপমান করে। তখন জায়েদ সেখান থেকে চলে আসে। মায়া তার বাবার সাথে খুলনা চলে যায়। বাসায় এসে মায়া জানতে পারে তার জন্য ছেলে ঠিক করা হয়েছে। ছেলে অস্ট্রেলিয়াতে থাকে। জায়েদ তা শুনে রীতিমত টেনশে পড়ে যায়। তারপর থেকে মায়ার ফোনটাও সুইচ অফ পাচ্ছে। জায়েদ তার বন্ধুকে বলে তিশাকে একটা ফোন দিয়ে জানতে মায়ার ফোন বন্ধ কেন?
কিছুদিন পর জায়েদ মায়ার কাছে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হয়। ঠিক তখন তিশা ফোন দিয়ে বলে যে মায়ার বিয়ে হয়ে গেছে। এটা শুনে জায়েদ ভেঙে গেছে। কিন্তু পরিাবারের দিকে চেয়ে আবার বাচঁতে শেখে। এখন সে ভার্সিটির একজন শিক্ষক। কিন্তু তার প্রথম ভালোবাসা মায়ার কথা এখনো ভুলেনি জায়েদ। নাটকের সমাপ্তি ঘটে এখানেই।
ব্যক্তিগত মতামত
নাটকটি আমার কাছে ভালো লেগেছে। যদিও নাটকটি রোমান্টিক ধরনের ছিল। তবে নাটকের শেষে এসে খুব খারাপ লাগলো। সেইম ইয়ারের বুঝি এই একটাই সমস্যা। একজন প্রতিষ্ঠিত হতে হতে আরেকজনকে বিয়ে দিয়ে দেয়। সেইম ইয়ারের রিলেশনগুলা যদিও অনেক ভালো আন্ডারস্ট্যান্ডিং থাকে। তবে শেষে যেন না পাওয়ার আকাঙ্খাটাই থেকে যায়। জোভান এবং সাফা কবির চমৎকার অভিনয় করে। আর জোভানের অভিনয় আমার কাছে ভালোই লাগে।
ব্যক্তিগত রেটিং
নাটকটির লিংক
10% beneficary for @shyfox ❤️
ধন্যবাদ সবাইকে
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,ব্লগিং,কুকিং,রিভিউ,ডাই ইত্যাদি করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।
Hello friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
জীবন আপনাকে প্রতিনিয়ত চ্যালেন্জ করবে, কখনো অর্থের অভাবে, কখনো অযাচিত অপমানে আবার কখনোবা কষ্টের তীব্র জ্বালাতে। তবুও সংগ্রাম করে এগিয়ে যেতে হবে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত মানুষকে। শুধু আপনি একা না আমরা সবাই ঠিক এই সংগ্রাম করে যাচ্ছি। আশাকরি বুঝতে পেরেছেন।
নাটকটাতে শেখার অনেক কিছু আছে। এখানেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রেমের মিলন হয়নি। ভালো রিভিউ ছিল।
জি মধ্যবিত্তরা আসলে স্বপ্ন নিয়েই বেচেঁ থাকে। বুকের ভিতরে চাপা দিয়ে কষ্টগুলো সহ্য করে। 🙂
আমাদের মতো মধ্যবিত্তরা প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যাচ্ছি
আপনি সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ শেয়ার করেছেন। নাটকটি এখনো দেখা হয় নি।তবে আপনার রিভিউ পড়ে মনে হলো নাটকটি থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। আপনার রিভিউ টি ভালো ছিল। আপনার জন্য শুভকামনা।