ফিরে দেখা শৈশব
05-10-2023
২০ আশ্বিন , ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
আসসালামুআলাইকুম সবাইকে
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো ও সুস্থ্য আছেন। আজকে আসলে সকাল থেকেই গুড়িগুড়ি বৃষ্টি! চারিদিকে থমথমে একটা অবস্থা! গ্রামের অনেক মানুষই কাজে যেতে পারেনি। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই শ্রমজীবী মানুষ। দিন আনে দিন খায়। তাদেরকে দেখলে বুঝা যায় কতটা পরিশ্রম করে। আজকে সারাদিন বৃষ্টি হচ্ছে। সকাল থেকে এখন অবধি। আমি যখন লিখতে বসলাম তখন ঘড়িতে চারটা বেজে চল্লিশ মিনিট! এমন ওয়েদারে আসলে শরীরে অলসতা কাজ করে অনেক। সকাল থেকে শুয়ে শুয়ে কাটিয়ে দিতে হচ্ছে। মূলত প্লেনিং করে রেখেছিলাম আজ কিছু কাজ শেষ করবো কিন্তু শরীরে অলসতা কাজ করছে, অর্ধেক করতে পেরেছি। আরও কিছু কাজ বাকি।
আসলে ছোট বেলায় এমন দিনে শিম ভাজা অথবা বাদাম ভাজা খাওয়া হতো। পরিবারের সবাই মিলে জমিয়ে আড্ডা দেয়া হতো। পাশাপাশি চুর পুলিশের খেলা তো আছেই! যেহেতু বাড়ির বাইরে যাওয়া হতো না, তাই এমন দিনে এসব খেলা হতো। তাছাড়া লুডু খেলা হতো আছেই। পরিবারের বড় আপুদের কাছ থেকে শুনা হতো মজার মজার সব গল্প! শেয়াল মামা আর টুনটুনির গল্প বেশি শুনেছি। এগুলো শুনতেও ভালো লাগতো।। মাঝে মাঝে গল্প শুনে ভয় হতো। এই বুঝি শেয়াল বাঘকে বিপদে ফেলে দিবে! সবচেয়ে ভালো লাগতো যখন বিটিভিতে শেয়াল মামার কার্টুন দেখা হতো। মিনা রাজুর কার্টুন আমার তখন খুব প্রিয় ছিল। বিকেলের দিকে সম্ভবত হতো মিনা রাজুর কার্টুন।
তবে কার্টুন থেকেও বেশি মজা পেতাম বিটিভির এডস দেখে, হাহা! একবার এডস শুরু হলে একটার পর একটা চলতেই থাকতো। আমরা আঙুলে গুণে গুণে হিসাব রেখে দিতাম। প্রায় ত্রিশ মিনিটের মতো এডসই হতো!! প্রাণ মিল্ক ক্যান্ডি আর ম্যাংগো চকলেটের এডস তখন খুব ভালো লাগতো আসলে।
আজ এক দশকেরও বেশি সময় হয়ে গেছে! বিটিভি দেখা হয় না! মিনা রাজুর কার্টুন ও দেখা হয় না। ছোট বেলার মিনা আর রাজু এখন হয়তো অনেক বড় হয়ে গিয়েছে। শৈশবে যারা আমাদের হাসিতে মাতিয়ে রাখতো, মিনার সেই টিয়াটা কি এখনও বেচেঁ আছে! একদশকেরও বেশি সময় ধরে কি টিয়া বেচেঁ থাকতে পারে। মিনার সব কথা শুনতো টিয়া পাখিটা। আজ হয়তো নেই। কিন্তু আমাদের শৈশবটা টিয়া পাখির দুষ্টু কথা শুনেই কেটেছে। তাছাড়া ১,২,৩ সিসিমপুরের কথা নিশ্চয় আপনাদের মনে আছে। ইকরি, শিকু, হালুম, টুকটুকি তাদের মজার মজার সব কথা আমাদের আনন্দ দিতো। বিশেষ করে শিকুর বুদ্ধি ছিল বেশি। যেকোন কিছু সে খুব সহজেই বের করে নিয়ে আসতো। আর ইকরির সেই পুতুলের রাজার কাহিনী! এসবই ছিল আমাদের শৈশবে দেখা কিছু শিক্ষামূলক কার্টুন!
এখনকার জেনারেশন মটু পাতলু এসব নিয়েই ব্যস্ত এখন! তাছাড়া ওগীর কার্টুন। আমাদের সময়ে ডরিমন কার্টুনটাও বেশ চলতো। সেটা অবশ্য বিটিভিতে দেখা যেত না। যাদের বাসায় ডিশ লাইন ছিল তারাই এটি বেশি দেখেছে। টম এন্ড জেরির ঝগড়া তো আছেই। এটা অবশ্য বিটিভিতে দিত। টম আর জেরির ঝগড়া দেখতেই আমরাই বসে থাকতাম বিটিভির পর্দায়! টম আর জেরি হয়তো এখন আর সেভাবে ঝগড়া করে না। তারাও বড় গিয়েছে সম্ভবত! শৈশবে যারা আমাদের সবসময় আনন্দ মাতিয়ে রাখতো সবসময়।
আজ সাদাকালো টিভিটা নেই! ঘরের এক কোণে নষ্ট হয়ে পরে আছে। ঠিক করার প্রয়োজনও মনে করা হয় না। শৈশবে ১৪ ইঞ্চি সাদাকালো টিভিটাই যে আমাদের আনন্দে মাতিয়ে রাখতো! এখন স্মার্টফোনই একেকটা টিভি! ঘরে বসেই সব দেখা যায়। এখনকার জেনারেশন টিভি দেখার ফিলটা মোবাইল দিয়েই পেয়ে যাচ্ছে। তবে সত্যিকার অর্থে তারা কতটুকুই পাচ্ছে! আমাদের সময় দেশাত্মবোধক গান ছাড়া আর কিছুই শুনতাম না। রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, এন্ড্রু কিশোর প্রমুখ তখনকার সময়ে আমাদের প্রিয় শিল্পী! আর এখনকার জেনারেশনের সেরা সিঙ্গার বিটিএস! ছোট থেকেই তারা অপসংস্কৃতির শিক্ষা পাচ্ছে! আসলে এ দায়ভার আপনি কাকে দিবেন? আমরা চাই এই জেনারেশন সঠিক সংস্কৃতি চর্চাটাই করুক।
যাক, অনেক কথাই বলে ফেললাম। সকলের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে আজকের মতো এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ হাফেজ 🌼☘️
10% beneficary for @shyfox ❤️
ধন্যবাদ সবাইকে
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। সম্প্রতি আমি ইলেকট্রিক্যাল থেকে ডিপ্লোমা ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছি। এখন বিএসসি এর জন্য প্রিপারেশন নিচ্ছি। পাশাপাশি লেখালেখি করে আসছি গত দু বছর ধরে। ভালো লাগার জায়গা হলো নিজের অনুভূতি শেয়ার করা, আর সেটা আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। যাক,
নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,ব্লগিং,কুকিং,রিভিউ,ডাই ইত্যাদি করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
twitter share link
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আপনার পোস্ট পড়ে অনেক ভালো লাগলো। সত্যি আমাদের শৈশব ১৪ ইঞ্চি সাদা কালো টিভিতে এডস গুলো অনেক ভালো লাগতো। সত্যি এখন সেই মিনা রাজুর কার্টুন গুলো কোথায় যে হারিয়ে গেছে। কিন্তু মাঝে মাঝে আমার মেয়ে ফোনে দেখলে অনেক ভালো লাগে। সত্যি আপনার পোস্ট পড়ে শৈশবের কথা মনে পড়ে গেল। ধন্যবাদ আপনাকে পোস্টটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
অতীতের স্মৃতিগুলো স্মরণ করিয়ে দিলেন সুন্দর এই পোষ্টের মধ্য দিয়ে। এমন একটা দিন ছিল সাদাকালোর টিভির কথা তো আপনি প্রকাশ করলেন আমি বলতে চাই রেডিও বেতারের কথা যেখানে প্রত্যেকদিন সিনেমার ভালোলাগা গানগুলো না শুনলে পেটের ভাত যেন হতো না। সেই সমস্ত গানগুলো মোবাইলে শুনলে যেন আগের মতো ভালো লাগা কাজ করে না। কোথায় হারিয়ে গেল সে মধুর দিন।