অনুভূতির গল্প- হৃদয়ের টানে কোলকাতা (পর্ব-০২)
হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন। আজ শুরু করছি অনুভূতির গল্পের দ্বিতীয় পর্ব। আমরা যাবতীয় কার্যাদী সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে বসে আছি নির্দিষ্ট বিমানে উঠার বাসের জন্য, বিমান রানওয়েতে থাকে এবং সেখান অব্দি যাওয়ার জন্য প্রতিটি বিমান সংস্থার নির্দিষ্ট বাস থাকে। এখানে অবশ্য একটা কথা বলা হয় নাই ঢাকা হতে যাচ্ছি আমি আর সুমন ভাই আর চট্টগ্রাম হতে যাচ্ছেন আরিফ ভাই। যেহেতু আরিফ ভাইয়ের সাহস বেশী সেহেতু আরিফ ভাই একা যাচ্ছেন আর যেহেতু আমি আর সুমন ভাই বিবাহিত এবং আমাদের সাহস কম তাই আমরা যাচ্ছি একত্রে, হি হি হি। আমরা বসে গল্প করছি এবং এদিক সেদিন গিয়ে ফটোগ্রাফি করার চেষ্টা করছি। কারন সময়টাতো মূল্যবান তাকে তো আর এমনি এমনি নষ্ট করা যাবে না। শুধু আমরা না আরো যারা যাত্রী ছিলেন তারা সবাই যার যার অবস্থান হতে সেলফি এবং ফটোগ্রাফি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।
কিছুটা সময় পরই আমাদের ডাক আসলো এবং আমরা নিচে গেলাম বাসে উঠার জন্য। অল্প কিছু সময় পরই বাস থেমে গেলো এবং আমাদের নামিয়ে দিলো। তবে আমরা কিন্তু নেমেই সরাসরি বিমানের দিকে যাত্রা করি নাই। আমরা বলতে বাসে যত যাত্রী ছিলেন সবাই। সিরিয়াল ধরে সবাই ফটোগ্রাফি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলেন, বিমানের ছবি, যাত্রীর ছবি এবং নিজেদের সেলফি, সেই রকম একটা মুহুর্ত ছিলো এটা। বিমানের দরজা খোলে সুন্দরী মহিলা দাড়িয়ে আছেন সবাইকে স্বাগতম জানানোর জন্য কিন্তু কেউ সেদিকে তাকাচ্ছে না বরং নিজেদের মতো করে সুযোগটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। এদিকে সুমন ভাই দেখি ভিডিও গ্রাফি শুরু করে দিয়েছেন, আমি আর সেদিকে না গিয়ে কিছু ফটোগ্রাফি করেই সেই সুন্দরী ম্যাডামের দিকে হাঁটা ধরলাম, কারন শুভ কাজে বেশী দেরী করা ঠিক না, হা হা হা।
সুমন ভাই আমার সাথে সাথে আসলেন আমরা চিন্তা করতে লাগলেন সীট কোথায় পড়বে? দুইজন পাশাপাশি থাকবো নাকি মাঝখানে অন্য কেউ ঢুকে পড়বেন। যাইহোক সুমন ভাই আগেই ঘোষণা দিয়ে রাখলেন তাকে জানালার পাশের সীটই দেয়া লাগবে, না হলে চিৎকার শুরু করবেন কারন সুমন ভাইয়ের ভাগিনা বলে দিয়েছেন বিমান হতে ভিডিও করে আনতে হবে, না হলে বিশ্বাস করবেন না যে তার মামা বিমানে উঠেছেন, হা হা হা। আমি আবার শুরুতেই সুমনভাইকে বলে দিয়েছিলাম জানালার পাশের সীট আপনার, পাশে কোন সুন্দরী বসলেও আপনাকে দিয়ে দিবো, সুতরাং টেনশন করার কিছু নাই। হলোও তাই আমরা দুইজন পাশাপাশি সীটে বসলাম এবং জানালার পাশের সীটটি সুমনভাইকে দিলাম। হায়! সুমন ভাইয়ের মুখের উজ্জ্বল হাসিটা আর খুঁজে পেলাম না। কারন জানালার পাশেই ছিলো বিমানের পাখা, তাই নিচের দিকে কিছু দেখা গেলেও সামনের দিকে কিছুই দেখা যাচ্ছে না পাখার কারনে, তার সাথে ফ্রিতে ছিলো অদ্ভুত শব্দ।
কিছুটা সময় পর আরো অবাক হলাম, বিমান রানওয়েতে কিছুটা ছুটে আবার থেমে যায়, আবার ছুটে আবার থেমে যায়, মনে হচ্ছিল বিমান আমাদের শান্তনা দেয়ার চেষ্টা করছেন। কারন আমরা কিছুটা পর পর বাহিরের দিকে তাকিয়ে দেখি বিমান এখনো নিচেই আছেন। হঠাৎ বিমানের পাইলট ঘোষণা দিলেন আকাশের ট্রাফিক ব্যবস্থার কারনে বিমান উড্ডয়নে কিছুটা সময় লাগছে, আশা করছি আগামী কয়েক মিনিটের মাঝেই আমরা আকাশে উড্ডয়ন করতে পারবো, কারন আমরা সিগন্যালের অপেক্ষায় আছি সকল প্রস্তুতি নিয়ে। আমরা আবার সজ্ঞানে ফিরে আসলাম ভুলে গিয়ছিলাম যে এটা বাংলাদেশ, ট্রাফিক জ্যাম শুধু সড়কে না বরং আকাশেও আছে। কিছুটা সময় অপেক্ষা করার পর দেখলাম বিমান আকাশে উড়ার চেষ্টা করছে আর সুমন ভাই মোবাইল নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছে।
অর্থাৎ চাকাগুলো উপরের দিকে উঠার সাথে সাথে সুমন ভাই ব্যস্ত হয়ে গেলেন ভিডিওগ্রাফি করার কাজে। আমি এদিক ওদিক দেখে নিলাম একটু, যাত্রী হিসেবে কারা কারা এই বিমানে আছেন, বলাতো যায় না যে দিনকাল আসছে, কখন কোন দিক হতে কে কিডন্যাপ হয়ে যায়। বিমান উড়ছে তো উড়ছে, কিন্তু আমাদের ফিলিংস আর উড়ছে না, ধুর এটা কিছু হলো এতো শব্দ জানলে বিমানে আসতাম না। এতো টাকা খরচা করে যদি একটু রিলাক্সে ভ্রমণ করা না যায়, সেটা মোটেও সুখকর হয় না। একটু পর পর সুমন ভাই জানান দিচ্ছেন আমরা এখানে আছি, আর এখানে গিয়ে আমরা নামবো। কিছুটা সময় পর সেই সুন্দরী মহিলা আবার ফিরে আসলেন তবে এবার খালি হাতে আসেন নাই বরং সাথে দুটো প্যাকেট নিয়ে আসছেন, একটা খাবারের আর একটা খালি। প্রথমে বুঝতে না পারলেও পরে বুঝতে পারলাম যারা আবার বমি করতে ভালোবাসেন দ্বিতীয় প্যাকেটটি ছিলো তাদের জন্য বিশেষ উপহার।
তবে যেহেতু সুন্দরী মহিলা দিয়েছেন সেহেতু আমরা সেটা ফিরিয়ে দেই নাই, আফটার অল আমরা ভদ্রলোক। প্যাকেট দেখে বড় হলেও ভিতরের জিনিষটা মোটেও বড় ছিলো না, মনে হলো সেটা মিনি না সিকি বার্গার হা হা হা। পরক্ষনেই মনে হলো এটা যে দিছে সেটাই বড় কথা, না দিয়ে যদি এক প্যাকেট এনার্জি বিস্কিট ধরিয়ে দিতো তাহলেও তো কিছু বলার ছিলো না। আবার এই রকম একজন সুন্দরী মহিলা হাসিমাখা মুখ নিয়ে দিচ্ছেন আমরা খুশি মনে না নিলে কেমন দেখায়? তবে ছোট হলেও বার্গারটা খেয়ে নুর আপুর কথা মনে পড়ে গেলো, দারুণ স্বাদ আর এই জন্যই বুঝি নুর আপু এতো বার্গার পাগল হা হা হা। আমিতো আগে পিছে কিছু না ভেবেই খাওয়া শুরু করে দিলাম, খাওয়া শেষ হলে সুমন ভাই বললেন ফটো না তুলেই খেয়ে ফেললেন দেখছি। আমি সাথে সাথে প্যাকেট টা নিয়ে সুন্দর করে আবার ভাজ করে ফটো তুলে ফেললাম, কেউ তো আর বুঝতে পারবেন না ভেতরটা ফাঁকা, হা হা হা।
সুমন ভাই একটু পরই বললেন আমরা পৌঁছে গেছি, পাঁচ মিনিটের মাঝেই বিমান ল্যান্ড করবে, আমিতো অবাক হয়ে গেলাম এতোগুলো টাকা দিয়ে টিকেট কিনলাম আর এতো দ্রুত চলে আসলাম, টাকাতো উসুল হলো না। এর মাঝে আরেক ভদ্রলোক এসে একটা স্লিপ ধরিয়ে দিয়ে গেলেন আর বললেন সেটা ফিলআপ করে নিতে। আমরা পকেটে পুরে রাখলাম। বিমান হতে পাইলট ঘোষণা দিলেন সবার সীট বেল্ট বেধে রাখার কারন বিমান এখন ল্যান্ড করবে। আমরা প্রস্তুত হয়ে গেলাম আর বিমান ধীরে ধীরে নিচে নামতে লাগলো। মনে হলো বিশাল একটা ফাঁকা মাঠে বিমান ল্যান্ড করছে, কারন কোলকাতার এই বিমান বন্দরটা বিশাল এলাকা নিয়ে তৈরী। যদিও আমাদের ঢাকার বিমানবন্দর আস্তে আস্তে বড় করা হচ্ছে আর টার্মিনাল বৃদ্ধি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাকিটা পরের পর্বগুলোতে পাবেন ......
তারিখঃ মার্চ ২৫, ২০২৩ইং।
লোকেশনঃ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
ক্যামেরাঃ রেডমি-৯ স্মার্টফোন।
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah
আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।
|| আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে ||


>>>>>|| এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য ||<<<<<

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Congratulations, your post has been upvoted by @scilwa, which is a curating account for @R2cornell's Discord Community. We can also be found on our hive community & peakd as well as on my Discord Server
Felicitaciones, su publication ha sido votado por @scilwa. También puedo ser encontrado en nuestra comunidad de colmena y Peakd así como en mi servidor de discordia
দিলেন তো গোপন কথা ফাঁস করে। 😅
আসলেই বার্গারটা সেই ছিলো। ওইরকম বার্গার কোথায় পাওয়া যায় খোঁজ নিতে হবে।
আরে আপনি দেখছি গোপনে অনেক কিছুই করে ফেলছেন হা হা হা।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আসলে কলকাতা যাবার অনুভূতিটা অসাধারণ ছিল। বিশেষ করে দাদাদের সাথে দেখা করার অনুভূতি আর এটা আমাদের সবারই মনে কল্পনা দাদাদের সাথে দেখা করার। যাই হোক আপনাদের সেই কল্পনা পূরণ হয়েছে। তবে বিমান একবার রান করতে যায় আবার থেমে যায়, রান করতে গিয়ে আবহাওয়ার কারণে থেমে যেত, এই বিষয়টি আমার কাছে অদ্ভুত লেগেছে। যাইহোক ভ্রমণের মুহূর্তটা সত্যিই অসাধারণ ছিল।
আগ্রহ আর ভালোবাসায় সব সম্ভব হয় ভাই, আমিও কোন দিন কল্পনা করি নাই দাদার সাথে সাক্ষাত করবো।
কলকাতা তো কাছে তাই চোখের পলকে চলে গেলেন।সত্যি ভ্রমনের জার্নিটা পড়ে খুব ভাল লাগলো। অবশেষে কলকাতা পৌঁছে ই গেলেন।পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষায় রইলাম। ধন্যবাদ ভাইয়া শেয়ার করার জন্য।
একদমই আপু, মনে হলো এই উঠলাম আর এই নামলাম, হুম আসবে আসবে সবগুলো পর্বই ধারাবাহিকভাবে আসবে।
ভাইয়া এই জন্যই তো বলি যে রোমান্টিক বয়। যেখানে যায় শুধু সুন্দরী রমনীর দেখা পায়। হা হা হা। তা ভাইয়া সুন্দরীর রূপ দেখে এতই মুগ্ধ হলেন যে, বার্গারের ছবি তোলার কথা ভুলেই গেলেন। হুম বেশী টাকার টিকেট কেটে বিমানে উঠে যদি দেখি অল্প সময়ের মধ্যে পৌছে গেছি তাহলে তো মনটা টাকার জন্য হুহু করারই কথা। যাই হোক ভাল জার্নি করে আর সুন্দরী রমনী দেখে দেখে অবশেষে কলকাতায় পৌছে গেলেন এই বা কম কিসে।
হা হা হা, আরে না ধুর আমি কোনদিনও রোমান্টিক ছিলাম না, একটু মজা করি আপনাদের সাথে এই যা।
ভাইয়া আপনার এই পোস্ট টি পড়তে পড়তে যত শেষের দিক গিয়েছি তত বেশি উপভোগ করেছি। ভাইয়া গিয়েছেন উড়তে উড়তে তাই সময় কম লেগেছে, যার কারণে হয়তো আপনার পয়সা উসুল হলো না কিন্তু জায়গায় মতো পৌঁছাতে পেরেছেন। কলকাতায় যাওয়ার দ্বিতীয় পর্বটি পড়ে খুবই আনন্দ পেয়েছি ভাইয়া। তবে সুমন ভাইয়ের জন্য মনটা আমার একটু খারাপ হয়ে গেল।
Congratulations, your post has been upvoted by @dsc-r2cornell, which is the curating account for @R2cornell's Discord Community.
কোলকাতা ভ্রমণের প্রথম পর্ব পড়েছিলাম,সেখানে আপনাদের অনেকটা ভোগান্তির কথা জেনেছিলাম।আহা বেচারা জানালার পাশে সিট পেয়েও শান্তি পেলেননা পাখা আর শব্দের জন্য।তারপরেও ভিডিও করতে পেরেছিলেন,তার ভাগ্নেকে হয়তো বিশ্বাস করাতে পেরেছিলেন বিমানে ভ্রমণের কথা।বমি করতে ভালোবাসা লোকগুলোর ভ্রমণে যাওয়াই ঠিক না,বিরক্তির ব্যপার এগুলো।এতো টাকা দিয়ে টিকেট কেটে এতো তাড়াতাড়ি পৌঁছলেন,ঠিকই তো ভাইয়া টাকা উসুল হয়নি।আমারও মাঝে মাঝে এরকম মনে হয়,কোথাও লস করলে বা টাকা অনুযায়ী সুবিধাটা না পেলে।এই পর্ব টি ভালো লেগেছে মজার মজার বিষয় ছিল।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
নতুন কোনো দেশে গেলে তার অনুভূতিটা ভিন্নরকম থাকে সবসময়।তাছাড়া আপনারা তিনজন আলাদা আলাদা গিয়েছিলেন এটা আরিফ ভাইয়ের পোস্ট পড়ে জেনেছিলাম।যাইহোক সুমন ভাইয়ের ভাগিনা তো তাহলে বড় দায়িত্ব দিয়েছিল।দ্বিতীয় প্যাকেটের সম্পর্কে জানার আগে আমার ও কৌতূহল হচ্ছিল।শব্দ শুনে দ্রুত ল্যান্ড করেছেন জেনে ভালো লাগলো, ধন্যবাদ ভাইয়া।