আবোল তাবোল জীবনের গল্প [ অতীতকে অস্বীকৃতি ]
হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি ভালো আছেন এবং ভালো থাকার পরিবেশ তৈরিতে নিজেকে আরো বেশী সচেষ্ট রাখছেন। আসলে আমরা ভালো আছি সেটাই কখনো কখনো বিশ্বাস করতে চাই না, আমরা ভালো অবস্থানে পৌঁছেছি সেটাও কখনো ককনো মানতে চাই না, এই যে নিজের অবস্থান এবং নিজের ভালো থাকাটা আমরা অস্বীকার করি বা করার চেষ্টা করি, সেটাও কিন্তু আমাদের মানসিকতাতে ভিন্ন দিকে নিয়ে যায় এবং সঠিক মানসিকতার অস্তিত্ব বিলীন করে দেয়। কারণ না করতে করতে একটা সময় সত্যিটা আমরা আর ভালো চোখে দেখার চেষ্টা করি না এবং মিথ্যাটাকে আর মিথ্যা বলে বিশ্বাস করতে পারি না, নির্মম হলেও এটাই আমাদের বাস্তবতা। জ্বী আজকে পুনরায় আবারও কিছু কথা বলবো আবোল তাবোল জীবনের গল্প নিয়ে, হয়তো তাতে আপনার উপলব্ধি কিছুটা পরিবর্তন হবে, হয়তো আগে যেখানে ছিলো সেখানেই থেকে যাবে।
কারন আমরা না চাইলে কিংবা চেষ্টা না করলে আমাদের উপলব্ধির মাঝে কোন পরিবর্তন আসবে না, দেখুন আপনি যদি চিনি খেয়ে সেটাকে লবন বলেন আর আপনার চারপাশের সবাই যদি জোর গলায় বলেন এটা চিনি, তাতে কি হবে? আপনার উপলব্ধির কোন পরিবর্তন হবে? না একদমই হবে না, কারন আপনি মিথ্যার আবরণে ঢাকা পড়ে গেছেন, আপনার মুখের রুচির পরিবর্তন হয়ে গেছে, তাই চিনিকে আর এখন চিনি মনে হয় না বরং এই স্বাদটাই আপনাকে বলে এটা লবন। আমরা নির্মমভাবে এই রকম অজস্র সত্যকে মিথ্যার চাদরে ঢেকে দিচ্ছি, আমরা ক্রমাগত ভাবে অন্যায়গুলোকে সঠিক কাজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছি, আমরা নানা ভাবে ন্যায়কে অন্যায় বলে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করছি, যার কারনে আমাদের স্বাদ এবং উপলব্ধি দুটোই দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অবশ্য এর অন্যতম একটা কারণ হলো, আমরা অতীত হতে অনেক দূরে সরে আসছি, আমার খুব সহজ ভাবে আমাদের অতীতকে মুছে ফেলেছি, অতীতকে ভুলে যাওয়া কিংবা মুছে ফেলার মানে হচ্ছে আমরা আমাদের শিকড়কে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছি। আর যে কোন বস্তুর শিকড় যখন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তার অবস্থান কিংবা রং খুব দ্রুততার সাথে সজীবতা হারায় এবং বিবর্ণ হয়ে যায়। ঠিক সেই অবস্থানে আমরা এখন দাঁড়িয়ে আছি, শিকড় বিহীন অবস্থায়, নিজেদের প্রকৃত রং হারিয়ে বিবর্ণ অবস্থায়, নিজের পূর্ব পুরুষদের পথ হতে বিচ্ছিন্ন অবস্থায়। যার কারনে আমরা নিজেদের প্রকৃত অবস্থান চিনতে বা বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছি, যার কারনে আমরা আমাদের উপলব্ধিকে সঠিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হচ্ছি। দেখুন বাস্তবতা কতটা নির্মম, আমরা যতটা সুন্দর ও সহজভাবে আমাদের অতীতকে জীবন হতে মুছে ফেলেছি, প্রকৃতি ঠিক ততোটা নির্মম ভাবে আমাদের বিবর্ণ করে দিয়েছে।
যার কারণে আমরা যেমন নিজের সঠিক অবস্থান নির্ণয়ে ব্যর্থ হচ্ছি, নিজের বিজয়কে বিজয় হিসেবে স্বীকার করতে পারছি না, নিজের অর্জনকে সফলতা হিসেবে প্রচার করতে পারছি না। এই যে প্রকৃত অবস্থান নির্ণয়ে আমাদের দুঃখজনক অবস্থান, যা ধীরে ধীরে আমাদেরকে আরো বেশী অসহায় করে তুলছে এবং অন্ধকারের ভিতর নিজেদের লুকিয়ে রাখতে উৎসাহিত করছ। এখন যে নিজ হতে নিজেকে অন্ধকারে ঢাকতে চাইবে, তার সম্মুখে যতই আলোর মশাল নিয়ে আসেন না কেন? সে কখনোই নিজেকে আলোকিত করতে চাইবে না, পকৃত সত্যটা স্বীকার করে নিবে না। বরং সে পেঁচার মতো দিনের আলো, মশালের আলোকে আরো বেশী ভয় পাবে এবং আলো দেখলেই নিজেকে লুকাতে চেষ্টা করবে। বর্তমান আমাদের অবস্থান অনেকটাই সেই রকম অবস্থায় আছে।
তাহলে আমাদের করণীয় কি? ফিরে আসার কোন পথই কি নেই? এভাবেই কি আমরা নিজেদের অন্ধকারে লুকিয়ে রাখবো? উপলব্ধির পরিবর্তন কি কোন ভাবেই সম্ভব না? অবশ্যই সম্ভব, কারন রোগ যত নতুন হবে, তার ঔষধও ততো বেশী শক্তিশালী হয়ে নতুন রূপে ফিরে আসবে, এটাই প্রকৃতির নিয়ম। তাহলে আমাদের করণীয় কি মানে কি করতে হবে আমাদের সঠিক অবস্থায় ফিরে আসার জন্য। এই ক্ষেত্রে একমাত্র এবং সহজ উপায় হলো অতীতকে আঁকড়ে ধরা। কারন অতীত হলো আমাদের প্রকৃত শিক্ষক, অতীত হলো আমাদের আসল শিকড়, অতীত হলো আমাদের বর্তমান সময়ের পথ প্রদর্শক। আমরা যত বেশী অতীতকে স্বীকৃতি দিব এবং সেটাকে মেনে বর্তমানকে আলোকিত করার চেষ্টা করবো, ততো বেশী বাস্তব জীবনে নিজেকে সঠিক অবস্থানে ধরে রাখতে পারবো। ভুলে গেলে চলবে না যে, আমাদের অতীত আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো শিক্ষক।
চিন্তা করে দেখুন, আমি কোন কথা ভুল বললাম কিনা? একটু বসে নিরবে ভাবুন আমরা অতীতকে স্বীকৃতি দিচ্ছি কিনা? চারপাশের পরিবেশের দিকে দৃষ্টি রাখুন অজস্র উদাহরণ দেখতে পাবেন, যারা নিজের অতীতকে খুব সহজেই মুছে ফেলছেন, যারা নিজের শিকড়কে বিচ্ছিন্ন করতে দ্বিধা বোধ করছেন না। সত্যি বাস্তবতা কনোদিনও আমাদের ক্ষমা করে না এবং করবে না, কারন আমরা নিজের অতীত হতে সরে গেছি, কারন আমরা নিজের শিকড় হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছি। নিজের বিবেককে প্রশ্ন করে দেখুন উত্তরটা পাওয়া যায় কিনা? নিজেকে সঠিক ভাবে-সঠিক মানসিকতা নিয়ে তৈরী করতে প্রস্তুত কিনা? যদি প্রস্তুত থাকেন তাহলে অতীতকে আঁকড়ে ধরুন এবং অতীতের শিক্ষায় বর্তমানকে আলোকিত করুন। আজকে তাহলে এখানেই শেষ করলাম, পরবর্তীতে নতুন কোন অভিজ্ঞতা নিয়ে নতুন ভাবে আবার ফিরে আসবো।
Image taken from Pixabay 1 and 2
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah
আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।
|| আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে ||


>>>>>|| এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য ||<<<<<

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
চিনি আর লবণের উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টা আরো ক্লিয়ার করে দিয়েছেন। আসলে আজকে এই পরিস্থিতির জন্য আমরা নিজেরাই দ্বায়ী। কারণ আমরা আমাদের উপলব্ধি খুলে বলতে ভুলে গেছি।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
,অতীত বা শিকড় থেকে সরে আসলে ভাল থাকা যায় না।যারা অতীতকে ভুলে যায় তারা আর বেশিদুর এগিয়ে যেতে পারে না। অতীতকে নিয়েই এগিয়ে যেতে হয় ভবিষ্যতের দিকে। অনেক সুন্দর সুন্দর কিছু কথা লিখেছেন আজ আবোল - তাবোল জীবনের গল্পে। খুব ভাল লাগলো ভাইয়া। ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
আমাদের জীবন কেমন আমরা কীভাবে উপলব্দি করব সেটা নির্ভর করে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির উপর। হয়তো আমরা এখন নিজেদের ব্যর্থ ভাবতেই বেশি পছন্দ করি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি হা হা। আপনার কথাগুলো একেবারে ঠিক ছিল ভাই। ভবিষ্যতে ভালো কিছু করতে পারব এই ধারণাটার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মাঝে একটা ভয় চলে আসে। আমি কী পারব এমনটা। যাইহোক চমৎকার আলোচনা ছিল আপনার ভাই। যাই করি না কেন অতীত কে অস্বীকৃতি কোনোভাবেই সম্ভব না।।
Congratulations, your post has been upvoted by @dsc-r2cornell, which is the curating account for @R2cornell's Discord Community.
ভাইয়া, সময়ের বিবর্তনের ফলে আমরা আমাদের অতীত স্মৃতি এবং অতি বংশকে ভুলে যাচ্ছি। আর বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আমাদের অর্জন গুলো নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারছি না। যার কারণে আবার আমাদের অর্জন কিংবা বিষয়গুলো প্রচারে ব্যর্থ হচ্ছি। কিন্তু আমরা যদি আমাদের অতীত দিকগুলো ভালোভাবে পর্যালোচনা করি, তাহলে আমরা আমাদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে অবশ্যই সন্তুষ্ট থাকতে পারবো। তাই আমরা যে পরিস্থিতিতে থাকি না কেন, আমাদের উচিত হবে অতীত জীবন স্মরণ করে বর্তমান সময়ের সাথে নিজেদেরকে খাপ খাওয়ানো।