ভূতের যত ভয় মনে
হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো এবং সুস্থ্য আছেন। কিছু আগে দাদা একটা উদ্যোগের কথা বলেছিলেন পোষ্ট সংক্রান্ত, সেটা ছিলো আমাদের শৈশব স্মৃতি নিয়ে। যদিও অনেকেই তখন বিষয়টিকে ভালোভাবে গ্রহণ করেছিলো কিন্তু কয়জন সে বিষয়ে নিজেদের স্মৃতি বা অনুভূতি উপস্থাপন করেছেন সেটা হয়তো দেখা হয় নাই। কিন্তু আজকে দাদার ভূতের গল্পটা শুনে কিছুটা আগ্রহী হলাম আমার শুনা একটা গল্প শেয়ার করার জন্য। যদিও আমি ছোট বেলা হতেই ভূতের কথা শুনলেই বেশ ভীত হয়ে যাই এবং রাতে ভুলেও বাড়ি হতে বের হতে চাই না। হ্যা, গ্রামের বাড়িতে গেলে তো ভুলেও রাতে ঘুম হতে উঠবো না, যত যাই হয়ে যাক। কারন ভয়কে জয় করার সাহস আমার কাছে নেই সেটা আমি ভালোই জানি হি হি হি।
দেখুন সকলের মাঝেই একটা দুর্বলতা থাকে, কেউ হয়তো সেটাকে জয় করতে পারে আবার কেউ হয়তো সেটা পারে না। এটাই হয়তো বাস্তবতা, সবাই যে সবটা পারবে এমনতো কোন কথা নেই। হ্যা, পারার জন্য চেষ্টা করবে সেটা ঠিক আছে। কিন্তু আমি সত্যি এই ব্যাপারে একটু ব্যতিক্রম, ভয়কে জয় করার ব্যাপারে আমি কখনোই আগ্রহী ছিলাম না এবং হওয়ার চেষ্টাও করি নাই। এটা নিয়ে কিন্তু আমাদের বাড়িতে সব সময়ই আলোচনা করা হতো এবং আমার ভাই বোনেরা মাঝে মাঝে আমাকে পচাঁনোর চেষ্টা করতো।
একবার এইভাবে আমাদের বাড়িতে সবাই মিলে আমার পিছে লাগলো, সাথে আমার এক খালাও ছিলো, যদিও খালা বয়সে আমার চেয়ে কিছুটা ছোট ছিলো কিন্তু বেশ মিশুক ছিলো। তখন রাত প্রায় ৯.৩০, চারপাশ বেশ অন্ধকার। অবশ্য তখন এতো বেশী টিভি ছিলো না চারপাশে, আমাদের বাড়িতে যেটা ছিলো সেটা সাদা-কালো টিভি ছিলো, ডিস লাইনের তো প্রশ্নই উঠে না। সঙ্গত কারনেই তখন এই সময়টায় অনেকেই ঘুমিয়ে যেতো। তখন সবাই বললো রাতে নাকি আমাদের বাড়ির চালের উপর দিয়ে সাদা কাপড় পড়ে কেউ একজন হেঁটে যায়। ব্যস এটা শুনার পর তো আমার গাঁ কিছুটা নির্জীব হয়ে আসলো। সাথে সাথে আমার সেই খালা সাহস যোগানোর জন্য বললো আমি উঠতে পারবো এখন বাড়ির চালে, আমার চোখে মুখে কিছুটা আতংক ছড়িয়ে পড়লো।
একটু পরই সত্যি সত্যি আমার খালা বাড়ির চলে উঠে গেলো এবং আমাকে ঢাকতে লাগলো, আসলে খালার উদ্দেশ্য ছিলো আমার ভয় দূর করার কিন্তু কে শুনে কার কথা আমি ভয়ে আর বেরই হলাম না রুম হতে। যাইহোক, সেদিন হতে খালাকে খুবই সাহসি মনে হতো কিন্তু আমি আমার মতোই থাকতে পছন্দ করলাম এবং সাহসি হওয়ার কোন চেষ্টাই করলাম না।
এরপর আরেক দিন আমার বড় দুলাভাই বললেন এসবে ভয় পাওয়ার কিছুই নেই, আমিতো এর চেয়ে ভয়ানক কিছু দেখেছি, কই আমিতো ভয় পাই নাই। এই কথা বলে তার ছোট বেলার একটা ঘটনা শেয়ার করলেন। ছোট বেলায় আরবি পড়ার জন্য মসজিদে যেতে হতো, তখন ফজর নামাজের পরেই হুজুররা আরবি পড়াতেন। সামনে বসার জন্য সবাই ফজর নামাজের আগেই মসজিদে চলে যেতেন খুব ভোরে উঠে। তো আমার দুলাভাই তার পছন্দের জায়গায় বসতে পারতেন না বলে একদিন সবার আগে গিয়ে মসজিদের দরজায় বসে ছিলেন। বসে থাকতে থাকতে কখন ঘুমিয়ে পড়ছেন সেটা বুঝতে পারেন নাই।
কিন্তু যখন চোখ খোললেন তখন নিজেকে দেখতে পেলেন মসজিদের পুকুরের সিঁড়িতে উনি শুয়ে আছেন, পুকুরের মাঝে বিশাল আকৃতির একটা বক পাখির মতো কিছু দেখা যাচ্ছে, যার এক পা পুকুরের মাঝে আর এক পা আসমানের দিকে, এটা দেখে উনি আবার অজ্ঞান হয়ে গেলেন এবং তারপর মসজিদের মুসুল্লিরা এসে তার জ্ঞান ফিরালেন। এই ঘটনা শুনার পর হতে তো আমি রাত হলে আর পুকুর পাড়েই যেতাম না। ফজর নামাজের সময় বের হলে কখনো একা বের হতাম না, হি হি হি। সাহস বাড়বে কি এটা শুনার পর হতে ভূতের ভয় যেন আমার মনে আরো বেশী শক্ত হয়ে বসছে।
Image taken from Pixabay
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah
আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।
|| আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে ||


>>>>>|| এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য ||<<<<<

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
Congratulations, your post has been upvoted by @dsc-r2cornell, which is the curating account for @R2cornell's Discord Community.
ভুত নামের এই শরীরবিহীন আত্মা সর্বস্ব জিনিসটা আমরা মুখে যতই বলি না কেন ভয় পাই না কিন্তু ভয় ঠিকই পাই। আমি নিজেও ভুত আছে বলে বিশ্বাস করি না তবে এটা শুধুই দিনের জন্য বলা।রাত হলেই বিশ্বাস করি এই ভুত বেটাকে।
তখন মনে হয় এই বুঝি কেউ পাশেই আছে কিংবা অন্ধকার থেকে ড্যাবড্যাবিয়ে আমার দিকেই তাকিয়ে আছে।
আসলে আমাদের অনেকের সাথেই এমন কিছু ঘটনা ঘটে যার কোন যুক্তি নেই। আমার নিজের বাসায় এমন অনেক কিছুই ঘটে যার সাক্ষী আমাদের বাড়ির প্রতিটি সদস্যই।মাঝ রাতে হঠাৎ করেই একটা কলিং বেল, নাম ধরে ডাক যা কিনা আমরা একই সাথে শুনি,ঘরের ভেতর মানুষের মতো দাঁড়িয়ে থাকা.... এমন অনেক কিছুই। অনেক বার ভেবেছি বাসাই ছেড়ে দিব। কিন্তু আবার তেমন কিছু হয় না বলে ছাড়াও হয় না।
তবে ভুত বলে যদি সত্যিই কিছু থেকে থাকে সে মানুষ থেকে ভালো এটা বিশ্বাস করি।
যাই হোক আপনার লেখাটা আসলেই চমৎকার হয়েছে।
ভালো থাকবেন সবসময় এই শুভকামনা রইলো আপনার জন্য
হাহাহা!! আপনার দেখছি সেই লেভেলের ভূতের ভয়! আপনাকে রাতে শ্মশান ঘাটে পাঠালে এসব ভয়ডর কবেই চলে যেত 😂। আপনার খালা যে সাহসী বুঝতে পারলাম, রাতেই উনি টিনের চালে উঠে গেল! আর আপনার দুলাভাইয়ের কাহিনীটা শুনে হাসিই পাচ্ছে বেশি।
ভাই আপনার ভূতের ভয় কাটানোর জন্য আপনার খালা এবং আপনার দুলাভাই দারুণ পদ্ধতি প্রয়োগ করেছিল দেখছি। কিন্তু কে শোনে কার কথা। আপনি তো ভয় দূর করবেন দূরে থাক,উল্টো ভয় পেয়ে আপনার অবস্থা আরো খারাপ। পোস্ট পড়ে তো আমি হাসতে হাসতে শেষ। আসলে এতো ভয় পেলে সবাই মজা নেয় এটা নিয়ে। যাইহোক এতো সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।