আবোল তাবোল জীবনের গল্প [ পিছিয়ে যাওয়া মানেই হেরে যাওয়া না ]
হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ্য আছেন। কারন সুস্থ্যতা আল্লাহ তায়ালার অন্তত্য বড় একটা রহমত, যে বা যারা সুস্থ্য আছেন সে বা তারা হয়তো বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারেন না কিন্তু যে বা যারা অসুস্থ্য আছেন তারাই সেটা সঠিক ভাবে উপলব্ধি করতে পারেন, সুস্থ্যতা কি জিনিষ ছিলো। আসলে আমরা মানুষরাই এই রকম, কোন কিছুর মর্ম ততোক্ষন পর্যন্ত বুঝতে পারি না, যতক্ষন পর্যন্ত সেই সুযোগটি নষ্ট না করি অথবা সুযোগটি না হারাই। আমরা প্রথমে হাসিতে উড়িয়ে দেই, তারপর কোন ধরনের কেয়ার করি না, একদম শেষে যখন সব শেষ হয়ে যায় তখন মাথায় হাত দিয়ে বসে পরি আর আফসোসের সাথে ভাগ্যের দোষারোপ করতে শুরু করি।
হ্যা, আমি বাস্তব জীবনে এই রকম বহু দৃশ্য দেখেছি, সুযোগ থাকা সত্বেও সেটার প্রতি কোন ভ্রুক্ষেপ করে নাই কিন্তু সুযোগ চলে যাওয়ার পর সেটা নিয়ে বেশ হতাশা প্রকাশ করতে শুরু করেছে। আমি আসলে বাস্তবতা বিশ্বাস করি, কারন বাস্তবতার নির্মম নিষ্ঠুরতা আমি খুব কাছ হতে বার বার দেখার সুযোগ পেয়েছি। হয়তো এটা আমার জন্য নিয়তি ছিলো, হয়তো আমাকে শেখানোর জন্য ছিলো, হয়তো আমাকে খুব কাছ হতে বিষয়টি উপলব্ধি করার সুযোগ দিয়েছিলো আল্লাহ। আমি না আমি কখনো নিজের জ্ঞান থাকা সত্বেও কোন ধরনের সুযোগ নষ্ট করি নাই। কারন আমি বিশ্বাস করি প্রতিটি সুযোগ আল্লাহ তায়ালার বড় রহমত এবং সুযোগের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা কিংবা দক্ষতা প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি বার বার।
বার বার এই জন্য বললাম, আমার জীবনে আমি বহু বার বহু ধরনের সুযোগ পেয়েছি কিন্তু অনৈতিকভাবে কোনটার ব্যবহার করি নাই, ন্যায় এবং নীতির উপর থেকে সবগুলো ছেড়ে দিয়েছি কারন সেগুলোর ফলাফল ছিলো অবৈধ, আর আমি নিজের অবস্থানে সর্বদা কঠোর ছিলাম। বাস্তবতা আমাকে বেশ কঠিন হতে শিখিয়েছি, কারন আমি দেখেছি সব বিজয় আবার বিজয় না, সব বিজয়ের শেষে তৃপ্ততা আসে না বরং কিছু কিছু পরাজয় হৃদয়কে সজীব রাখে, অন্যরকম একটা সুখের অনুভূতি তৈরী করে। যার কারনে আমি সেই সকল সুযোগ বার বার নষ্ট করেছি এবং পুনরায় শূণ্য হতে আবার নিজেকে তৈরী করেছি। কারন আমি বিশ্বাস করি সব পরাজয় পরাজয় না, কিছু বিজয় পরাজয়ের মাঝেও লুকিয়ে থাকে, হয়তো সেটা সবাই বুঝতে অক্ষম, হয়তো সেটা সবাই সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারে না।
একটু চিন্তা করুন, গাড়ি যখন কোন টিলা অথবা উঁচু জায়গা দিয়ে উঠে না, তখন ড্রাইভার কি করেন? জোর করে উপরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, নাকি গাড়িকে একটু পেছনের দিকে নিয়ে যান এবং তারপর পুনরায় গিয়ার বাড়িয়ে আবার সম্মুখে নিয়ে আসেন। এখন ড্রাইভার যদি চিন্তা করে আমি কেন পেছনের দিকে যাবো, আমার যাত্রা সম্মুখ পানে, সুতরাং আমি পেছনে না গিয়ে সম্মুখে যাওয়ার বার বার চেষ্টা করবো, কিন্তু সেটা কি আদৌ সম্ভব? না সেটা সম্ভব না। কারন কিছু কিছু ক্ষেত্রে পেছনে যাওয়া মানে দ্বিগুন শক্তি নিয়ে বিজয় তরান্বিত করা, কিছু কিছু সময় পেছনে যাওয়া মানে পুনরায় নিজের সামর্থ প্রকাশ করার সুযোগ তৈরী করা। সুতরাং এটা ভাবার কোন কারণে নেই যে, পেছনে গেলেই আমি হেরে যাবো, অথবা পিছিয়ে গেলে আমি আর নিজের অবস্থানে ফিরে আসতে পারবো না। বাস্তবতা মাঝে মাঝে শূণ্য হতে পুনরায় শুরু করার শিক্ষা দেয়। যারা বুঝতে সক্ষম তারা পুনরায় শুরু করতে কখনো দ্বিধাবোধ করেন না।
এবার আপনাকে নিয়ে চিন্তা করুন, একটু পেছনের কথা ভাবুন, এই রকম কত দৃশ্য রয়েছে আপনার জীবনে? যেখানে আমি একটু বেশী সময় নিলে কিংবা একটু পিছনে গিয়ে পুনরায় শুরু করলে নিজের সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করতে পারতেন কিংবা নিজের বিজয় ভিন্নভাবে উদযাপন করতে পারতেন? আমাদের সকলের জীবনে এই রকম কিছু দৃশ্যপট রয়েছে, আমরা হয়তো সব সময় সেগুলোকে সামনে আনতে চাই না কিংবা সেগুলোর স্মৃতি মনে রাখতে চাই না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমরা যদি সেখানে একটু চিন্তা করতাম এবং নিজের অবস্থান কিংবা জেদ ছেড়ে পুনরায় চেষ্টা করতাম তাহলে হয়তো দৃশ্যপটটা ভিন্ন হতে পারতো, হয়তো নিজের বিজয়টা আরো বেশী আনন্দের হতে পারতো কিন্তু আফসুস আমরা সেটা করতে ব্যর্থ হয়েছে। যার কারনে আমাদের মাঝে এটা বদ্ধমূল হয়ে গেছে যে, পেছনে যাওয়া মানেই হেরে যাওয়া কিংবা পরাজয় মেনে নেয়া।
আসুন একটু ভিন্নভাবে কিংবা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সবটা চিন্তা করি, বাস্তবতাকে সামনে রেখে নতুন ভাবে সব শেখার চেষ্টা করি। হতে পারে সময়ের প্রয়োজনে মাঝে মাঝে পিছনে সরে যাওয়ার মাঝেই অধিক বিজয় নিহিত রয়েছে, হতে পারে শূণ্য হতে নতুন করে শুরু করার মাঝে দ্বিগুন আনন্দ রয়েছে কারন শূণ্য মানেই শেষ হয়ে যাওয়া না, পেছনে তাকানো মানেই সম্মুখ ভুলে যাওয়া না। আশা করছি আমি কি বলতে চাইছি কিংবা কি বুঝাতে চাইছি সেটা আপনারা সবাই বুঝতে পেরেছেন।
Image taken from Pixabay 1 and 2
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah
আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।
|| আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে ||


>>>>>|| এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য ||<<<<<

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
ভাই আপনি যেভাবে কথাগুলোকে গুছিয়ে লিখেছেন এবং বিশ্লেষণ করেছেন সেভাবে একদম সবার পক্ষেই বোঝা সম্ভব। আর সত্যি বলতে আমার কাছে এই কথাগুলো খুব বেশি মনে লেগেছে। কারণ আমি নিজেও এরকম মন মানসিকতা নিয়ে চলার চেষ্টা করি। সব সময় পরাজয় কিন্তু দুঃখের হয় না। কিছু কিছু সময় পরাজয় হলেও মনের তৃপ্তি মিটে। কারণ হয়তোবা যোগ্য স্থানে থেকেও প্রাপ্তি হয়নি। সত্যি বলতে আপনার প্রত্যেকটি কথার মর্মার্থ বুঝে আমার খুব ভাল লাগছে,, যে একটা সময় আমিও শূন্য থেকেই এতদূর পর্যন্ত এগিয়ে আসতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ।
অনেক ধন্যবাদ ভাই, সত্যি বলতে আজকাল মানুষ নীতি কথা খুব একটা বুঝতে চান না কারন সবাই বাস্তবতাকে ভয় পান।
বাস্তবিক প্রেক্ষাপট চিন্তা করে এবং উপলব্ধি করে আপনি যেভাবে কথাগুলো উপস্থাপন করেছেন প্রত্যেকটি কথার মধ্যে যুক্তি রয়েছে। আর সবগুলো কথা আমার খুবই ভালো লেগেছে পড়ে। বিশেষত যখন বললেন সুযোগের ব্যবহারের কথা। সব সময় আমাদের উচিত সুযোগ সৎ ভাবে ব্যবহার করা। অনৈতিকতার পথে গিয়ে সফলতা সম্ভব হলেও মনের তৃপ্তি মেটে না। আর আমাদের সব সুযোগই আল্লাহ তাআলার একটা রহমত অবশ্যই সেটা বিশ্বাস করতে হবে। কারণ আমরা আমাদের সফলতার জন্য সৎ ভাবে চলে ভালো একটা ফলাফল পাবোই। খুব ভালো লাগলো ভাইয়া, কথাগুলো পড়ে একদম মন ভরে গেল।
কথাগুলো বুঝতে পেরেছেন এটা শুনে খুশি হলাম কারন আজকাল কেউ বাস্তবধর্মী লেখাগুলো পড়তে চান না।
বাস্তবতা মানুষকে অনেক কিছু শেখায় ভাইয়া।আর আপনার লেখাগুলো সেই বাংলা ব্লগে আসার পর থেকেই পড়ি,সেই থেকেই খুব ভালো লাগে।কারণ মনের অনুভূতিটা আপনি খুব সুন্দর করেই প্রকাশ করেন।
আপনি একদম বাস্তবিক বিষয়গুলো তুলে ধরেন ভাইয়া। আপনার এই কথাটা আমার সব থেকে বেশি ভালো লেগেছে জীবনে বহুবার বিভিন্ন ধরনের সুযোগ পেয়েও কিন্তু কোন অনৈতিক কাজের সাথে যুক্ত হননি। আসলে এরকম কঠোর হওয়াটা সবার পক্ষে সম্ভব না। আর সবার পক্ষে সম্ভব না বলেই অনেকের জীবনের দুর্ভোগ নেমে আসে। সত্যি বাস্তবতা বেশ কঠিন হতে শেখায়। আমিও আপনার মতই চলার চেষ্টা করি। আর এটাও ঠিক সুযোগ আল্লাহ তাআলার অনেক বড় নেয়ামত। যাইহোক আপনার লেখাটি পড়ে ভীষণ ভালো লাগলো।
এটা কিন্তু সবাই পারে না, কারন সুযোগ পেলে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়েন চাই সেটা অনৈতিক হোক।
ভাইয়া আপনার আবোল তাবোল গল্প মানেই হল ভিন্ন কিছু।বাস্তবতা খুব সুন্দর ফুটে ওঠে আপনার লেখায়।এই ব্যাপারটাই খুব ভাল লাগে। এটা ঠিক অসুস্থ হলে সুস্থতা কি সবাই তা ভালভাবে উপলব্ধি করতে পারে। আল্লাহ আমাদের সত্যি ই খুব সুযোগ দান করেন। তাই আমাদের উচিত সেই সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়া।শুন্য থেকে আবার শুরু করা এই পথচলা।ধন্যবাদ ভাইয়া।সুন্দর কিছুকথা আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য। অনেক অভিনন্দন রইলো আপনার জন্য।
ঐ যে একটা কথা আছে না, দাঁত থাকতে কেউ দাঁতের মর্ম বুঝে না, সুযোগ হচ্ছে আমাদের নিকট ঠিক তেমনই একটা বিষয়। ধন্যবাদ
আমাদের এই ক্ষুদ্র জীবনে হয়তো আমরা অনেক কিছুই চাই। কিন্তু অনেক কিছুই আবার হেলায় হারিয়ে ফেলি। হয়তো সুযোগ আসে কিংবা চলে যায়। আমরা সেই সুযোগটা কাজে লাগাই না। কিংবা তখন সেটার মূল্য বুঝতে পারিনা। আসলে যখন কোন সুযোগ পাশে থাকে তখন সেটাকে খুবই ক্ষুদ্র মনে হয়। যখন সেটা হারিয়ে যায় তখন নিজের ভুল বুঝতে পারা যায়। ভাইয়া আপনার লেখাগুলো পড়ে অনেক ভালো লাগলো। জীবনকে নতুনভাবে সাজাতে এবং বাঁচতে আপনার লেখাগুলো অনুপ্রেরণা জোগাবে। অসাধারণ লিখেছেন আপনি।
জীবনে সত্যি চাওয়া-পাওয়ার কোন শেষ নেই, এটা আমাদের অন্যতম একটা বৈশিষ্ট্য। অনেক ধন্যবাদ আপু, আপনাদের উৎসাহে লেখার সাহস পাই।
আপনার আজকের পোস্টটিতে বোঝার অনেক বিষয় রয়েছে। আমি নিজেও যেন আপনার কথাগুলো নিজের সাথে মিলিয়ে দেখছিলাম। সত্যি বলতে, আমি নিজেও অনেক ভালো সুযোগ ছেড়ে আসতে বাধ্য হয়েছি, একমাত্র নিজের বিবেকের তাড়নায়। হ্যা আমি আজ অনেক কঠিন পরিস্থিতিতে রয়েছি তবে বলতে পারি সৎভাবে চলতে পারছি। তবে বার বার পিছিয়ে পরেছি অর্থনৈতিক দিক থেকে। তবে সত্যিই হাল ছেড়ে দেয়ার পাত্র আমি না, একদিন ইনশাআল্লাহ সঠিক অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হবো। ধন্যবাদ ভাই, ভেতর থেকে পোস্টটি অনুভব করলাম।
ভাই বাস্তবতা মাঝে মাঝে আমাদের এক জায়গায় দাঁড় করিয়ে দেয় আবার মাঝে মাঝে বিস্তর ফারাক করে দেয় কিন্তু নীতির বিষয়ে তারাই এক থাকতে পারেন যারা ভেতরের দিক হতে সৎ থাকতে পারে।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
Congratulations, your post has been upvoted by @dsc-r2cornell, which is the curating account for @R2cornell's Discord Community.