অনুভূতির গল্প- হৃদয়ের টানে কোলকাতা (পর্ব-০৩)

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

হ্যালো বন্ধুরা,

কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন এবং সময়গুলোকে উপভোগ্য রাখার চেষ্টা করছেন। আজকে শেয়ার করবো অনুভূতির গল্পের তৃতীয় পর্ব। কোলকাতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান ল্যান্ড করলো এবং কিছু সময় পর আমরা সবাই বিমান হতে নেমে গেলাম, যথারীতি সেই সুন্দরী মহিলা তাদের সংস্থার বিমানে ভ্রমণ করার জন্য শুভেচ্ছা জানালেন। আমরা নিচে নেমে আসলাম এবং তারপর পুনরায় বাসে চেপে আমরা বিমানবন্দরের মুল বিল্ডিং এ প্রবেশ করলাম। বেশ সুন্দর গোছানো এবং একদম ফাঁকা একটা পরিবেশ, বেশ অবাক হলাম সত্যি কারন আমরা যে পরিবেশের মধ্য দিয়ে আসলাম তার সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থা দেখতে পেলাম এখানে। শুরুতেই যেমন দেখলাম বিশাল রানওয়ের ফাঁকা বিমানবন্দর, ঠিক তেমনি ভেতরে প্রবেশ করেও একই অবস্থা দেখলাম। সুন্দর পরিপাটি পরিবেশ, জায়গায় জায়গায় বিমানবন্দরের কর্মকর্তাগণ অবস্থান করছেন এবং কারো কোন সমস্যা আছে কিনা সেটা আগ বাড়িয়ে জানার চেষ্টা করছেন।

আমরা ভিতরের প্রবেশ করার সময়ই সেই স্লিপের কথা মনে করিয়ে দিলেন একজন এবং সেটা ফিলআপ করা না হলে দ্রুত ফিলআপ করে নেয়ার অনুরোধ করলেন। আমরা কলম নিয়ে এক পাশে দাঁড়িয়ে গেলাম এবং সেটা পূরণ করে ফেললাম, যেহেতু আমাদের হোটেল এবং তার কর্মকর্তার মোবাইল নাম্বার ছিলো সেহেতু আমাদের তেমন সমস্যা হলো না। কিন্তু কিছুটা সময় পর এক ভদ্রলোক এসে জানালেন ওনার কাছে কোন নাম্বার সেভ করা নেই কিন্তু হোয়াটস অ্যাপে আছেন। ইতিমধ্যে একটা অফিসার এগিয়ে আসলেন এবং কোন সমস্যা আছে কিনা জানতে চাইলেন, সেই ভদ্রলোক সমস্যার কথা বললে তাকে ওয়াইফাই সেট করে নেট কানেকশন দিয়ে দিলেন এবং সেই অফিসার নিজেই তার ফরমটি পূরণ করে দিলেন, বেশ অবাক হলাম আমরা, চাকুরীর অবস্থানে থেকে জনসেবা কিভাবে করতে হয় সেটা তারা বেশ ভালোভাবেই দেখালেন।

IMG_20230325_113407.jpg

আমরা ইমিগ্রেশন কাউন্টারে আসলাম, এখানেও একদম ফাঁকা কোন ভিড় নেই, আমি গিয়ে এক জনের পিছনে দাঁড়ালাম, সাথে সাথে অন্য কাউন্টার হতে একজন অফিসার এগিয়ে এসে বললেন এখানে আসুন এটাতে কেউ নেই। আমি সেখানে গেলাম এবং খুব দ্রুত সময়ের মাঝে ইমিগ্রেশন সম্মন্ন হয়ে গেলো। সেই অফিসার তখনো আমার পিছনে দাঁড়ানো ছিলেন। তারপর বললেন আর কোন সমস্যা আছে কিনা? আমি বললাম আমাদের লাগেজ কোথায় দেয়া হবে মানে কত নাম্বার কাউন্টার হতে সেটা সংগ্রহ করতে হবে? উনি জিজ্ঞেস করলেন বিমান হতে কিছু বলা হয় নাই? আমরা বললাম না। তারপর জানতে চাইলেন কোন বিমানে এসেছি, সেটা বলার পর উনি আমাদের বলে দিলেন নিচের তলায় ওখানে গেলেই পেয়ে যাবেন।

IMG_20230325_113359.jpg

IMG_20230325_113402.jpg

IMG_20230325_114253.jpg

আমরা হাঁটা শুরু করলে সেই অফিসারও আমাদের সাথে হাঁটা শুরু করলেন এবং বললেন এই দিকে আসুন এখানে লিফট আছে। তারপর আমাদের সাথে গল্প করা শুরু করলেন, কত দিনের জন্য আসলাম, কোথা কোথা ঘুরবো ইত্যাদি। প্রসঙ্গক্রমে উনি বলেই ফেললেন উনার মার বাড়ি ছিলো বরিশাল এবং বাবার বাড়ি ছিলো ময়মনসিংহ। উনার খুব ইচ্ছে আছে আদিবাড়ি দেখার এবং ময়মনসিংহ ভ্রমণ করার। এটা ছিলো আমাদের মুগ্ধকর প্রথম অভিজ্ঞতা, অচেনা একজন মানুষ কতটা দ্রুত আমাদের আপন করে নিলেন এবং নিজের পরিচয় দিয়ে গল্প করতে শুরু করলেন। উনি বললেন বাংলাদেশ হতে যারাই আসেন তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন যতটা সম্ভব। তারপর আমাদের সাথে সাথে একদম এক্সিট ডোর পর্যন্ত আসলেন আর বললেন আর কোন সমস্যা আছে কিনা? যে হোটেলে উঠবো তাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে কিনা? বিমানবন্দরে যে কোন সমস্যায় তার সাথে যোগাযোগ করতে, উনি সহযোগিতা করার চেষ্টা করবেন।

IMG_20230325_114240.jpg

IMG_20230325_114247.jpg

IMG_20230325_114257.jpg

উনার সাথে গল্প গল্প করতে করতে আমরা একদম বাহিরে চলে আসি কিন্তু আরিফ ভাইয়ের কথা একদমই ভুলে যাই। তারপর বাহিরে আসার পর আরিফ ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা করতে থাকি, বাহিরের পরিবেশটা বেশ ভালোভাবে দেখার জন্য আমি আর সুমন ভাই বেশ কিছুটা সময় এপাশ হতে ওপাশ পুরোটা ঘুরে দেখি। বিশাল বড় জায়গা জুড়ে এই বিমানবন্দর, পুরোটাই একদম ফাঁকা, কোথায় কোন জটলা নেই কিংবা মানুষ সৃষ্ট জট নেই। একেকজন আমাদের সামনে এগিয়ে আসছেন আর জিজ্ঞেস করছেন গাড়ি লাগবে কিনা? টাকা এক্সচেঞ্জ করবো কিনা? চারপাশে যথেষ্ট পরিমানে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন এবং সবাই টহল দিচ্ছেন, কোন প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরী করার কোন সুযোগ নেই। কিছুটা সময় আমরা সেখানে বসলাম এবং ডিসপ্লেতে লক্ষ্য করলাম, চট্টগ্রাম হতে বিমান ল্যান্ড করেছে। আরো কিছুটা সময় অপেক্ষা করার পর যখন দেখলাম আরিফ ভাই বাহিরে আসতেছেন না, তখন সুমন ভাই পুনরায় ভিতরে প্রবেশ করলেন আর আমি বাহিরে দাঁড়িয়ে রইলাম। হঠাৎ দেখি স্মার্টবয় আরিফ ভাই বাহিরে আসছেন। হাত ইশারা করলাম এবং উনি কাছে আসলেন। তারপর সুমন ভাইও ফিরে আসলেন।

IMG_20230325_124726.jpg

IMG_20230325_124728.jpg

IMG_20230325_124815.jpg

IMG_20230325_124825.jpg

আমরা আগেই শুনে আসছি ভিতর হতে ট্যাক্সি ভাড়া না করে বাহিরে এসে নেয়ার জন্য। তাই আমরা হেঁটে হেঁটে বাহিরে চলে আসলাম তারপর সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে হাত উঁচু করার সাথে সাথে একটা ক্যাব এসে থামলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন কোথায় যাবো? আমরা জায়গার নাম বলে ভাড়ার কথা জিজ্ঞেস করে উঠে পড়লাম। এখানেও অবাক হলাম, ড্রাইভার জিজ্ঞেস করলেন যেখানে যাবেন তাদের সাথে কোন যোগাযোগ হয়েছে কিনা? আমরা বললাম না, নতুন সিমকার্ড না নেয়া পর্যন্ত সেটা সম্ভব হবে না। আমরা হোটেলের নাম বললাম কিন্তু উনি চিনতে পারলেন না, তারপর আমাদের জিজ্ঞেস করলেন কারো নাম্বার আছে কিনা? নাম্বার দিলে উনি নিজেই ফোন করলেন এবং তাদের সাথে কথা বললেন, হোটেল এবং ঠিকানা দুটোই নিশ্চিত হলেন। কি চিন্তা করছেন? আমাদের দেশে হলে কি অবস্থা হতো, সেটা একটু কল্পনা করেন। না না না আমাদের দেশে যে ভালো ড্রাইভার নেই কথা বলছি না।

IMG_20230325_124914.jpg

IMG_20230325_125013.jpg

IMG_20230325_130239.jpg

IMG_20230325_130347.jpg

তারপর তার সাথেও আমাদের খাতির হয়ে গেলো অর্থাৎ ড্রাইভারের সাথে। এক পর্যায়ে উনি অবাক হয়ে গেলেন আমরা রোজা না সেটা শুনে। তারপরই বুঝতে পারলাম উনিও মুসলমান, তাই আমরা রোজা না শুনে বেশ অবাক হলেন। তারপর আমাদের অনেক বিষয়ে পরামর্শ দিলেন, কোথা হতে সিমকার্ড কিনবো, কোথায় খাবো ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। যেহেতু আমরা প্রথমবার এসেছি সেহেতু অনেক বিষয়ই আমরা জানি না। উনার সাথে গল্প করতে করতে আমরা কাংখিত স্থানের দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করি। কথার ফাঁকে ফাঁকে বাহিরের দৃশ্যগুলো দেখছি এবং মাঝে মাঝে ফটোগ্রাফি করছি। বাকিটা পরের পর্বগুলোতে পাবেন ......

তারিখঃ মার্চ ২৫, ২০২৩ইং।
লোকেশনঃ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কোলকাতা।
ক্যামেরাঃ রেডমি-৯ স্মার্টফোন।

ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah

break .png
Leader Banner-Final.pngbreak .png

আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।

break .png

Banner.png

Sort:  
 3 years ago 

বাহ্ স্মার্টবয়, রোমান্টিক বয় আর স্টিমিট পুলিশ তিনজন মিলে বেশ ভালই ঘুরতে গেলেন। হুম আমার মনে হচেছ বাংলাদেশের বিমানবন্দরের পরিবেশ এর চেয়ে ওখানকার বিমানবন্দর আর ড্রাইভার সবই বেশ ভাল। কিন্তু ভাইয়া যতই আমার এই ভ্রমন কাহিনী পড়ছি ততই যেন কলিকাতায় যাওয়ার আগ্রহটা বেড়েই যাচেছ। হি হি হি

 3 years ago 

হা হা হা সব একজায় হলে যা হয় আরকি। হুম সামনের পর্বগুলো আরো মজার হবে কিন্তু।

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 3 years ago 

খুব ভাল লাগলো ভাইয়া আপনার কলকাতা যাওয়ার অনুভূতি গুলো পড়ে। আপনারা তিনজন সব বাঁধা পেরিয়ে খুব সুন্দর ভাবে সেখানে গিয়ে পৌঁছালেন।এরপর ভাল একজন ড্রাইভারের সন্ধান ও পেলেন।আসলে ভাল মন্দ সব জায়গাতেই আছে।যাক পরের পর্বের অপেক্ষা করছি। ধন্যবাদ ভাইয়া অনুভূতিগুলো শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

হ্যা, এটা দারুণ একটা অভিজ্ঞতা ছিলো এবং অনুভূতির ভ্রমণ ছিলো সত্যি।

আমি আপনার পোস্ট পড়ার সময় শুধু একটা জিনিসই খেয়াল করছিলাম, যে কলকাতায় এসে আপনাদের কোন সমস্যা হয়েছে কিনা বা কোন মানুষ কোন ধরনের বাজে ব্যবহার করেছে কিনা। তবে পোস্ট পড়ে যতটা বুঝতে পারলাম আপনারা সবাই খুব ভালোভাবে হোটেলে পৌঁছাতে পেরেছেন। এখানকার সব মানুষই যে ভালো সেটা আমি বলছি না, তবে অধিকাংশ মানুষই যথেষ্ট ভালো।আর এয়ারপোর্টের ভিতরে যারা থাকেন তারা সবসময়ই প্রত্যেককে সাহায্য করার চেষ্টা করেন। এটা আমি অনেকবারই দেখেছি। খুব ভালো লাগলো হাফিজ ভাই পোস্টটা পড়ে। আগামী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

 3 years ago 

জ্বী ভাই আমাদের সাথে কেউ খারাপ ব্যবহার করেন নাই, বরং সকলের ব্যবহারে বেশ মুগ্ধ ছিলাম আমরা, যাদের সাথে মিশেছি সবাই বেশ আন্তরিক ছিলেন।

 3 years ago 

আপনার কোলকাতা ভ্রমণের দুই পর্ব পড়েছিলাম ভাইয়া,ভালো লেগেছিল।এই পর্ব টিও অনেক ভালো লেগেছে।অফিসার যিনি,তিনি মিশুক ছিলেন অপরিচিত লোকদের অনেকটাই সাহায্য করেছেন এজন্য।বাইরে এসে ক্যাব নিয়ে আপনারা রওনা করলেন।ড্রাইভারের সাথেও খাতির হয়ে গেল উনি আপনাদের বিভিন্ন বিষয়ে হেল্প করলেন।ভালো লেগেছে ভাইয়া পোস্টটি।পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।ধন্যবাদ সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

আসলেই এটা দারুণ একটা অভিজ্ঞতা এবং অনুভূতি ছিলো, কম বেশী সবাই দারুণভাবে সহযোগিতা করেছেন আমাদের।

 3 years ago 

কলকাতায় যাওয়ার তৃতীয় পর্বটি পড়ে মুগ্ধ না হয়ে থাকতে পারলাম না। আসলে ভাইয়া আপনার লেখাগুলোর প্রতিটি লাইনে এবং প্রতিটি শব্দের মধ্যে দারুন একটি মজা লুকিয়ে থাকে। যাহোক ভাইয়া আমাদের দেশেও এরকম ভালো মানের ড্রাইভার পাওয়া যায়। যারা ওই ট্যাক্সি ড্রাইভার এর মতো নিজ দায়িত্বে যাত্রীদের সেবা করতে পছন্দ করে। অনেক সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.105
BTC 65335.22
ETH 1948.43
USDT 1.00
SBD 0.37