জেনারেল রাইটিং: "বাজার সদাই"
নমস্কার
বন্ধুরা,প্রতিনিয়ত আমি ভিন্ন ভিন্ন পোষ্ট করতে ও লিখতে ভালোবাসি।তাই আজ আমি আপনাদের সামনে আবারো উপস্থিত হয়েছি সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী একটি অনুভূতি নিয়ে।আসলে অনেক দিন হলো বাড়ি থেকে কোথাও যাওয়া হয় না।শুধুই বাড়ির মধ্যে নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকা হয় আর নয়তো কলেজ কিংবা টিউশনি পড়ার সুবাদে মাঝে মাঝেই বাইরে যাওয়া হয় প্রয়োজনে।তাই কয়েক দিন আগে আমার দাদার সঙ্গে বাজার করতে গিয়েছিলাম।আজকে আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করব সেই বাজার করার অনুভূতি।
আসলে বাড়িতে কিছু সামগ্রী ফুরিয়ে গিয়েছিল।যেগুলো আমাদের সর্বদাই প্রয়োজন হয়।তাছাড়া মাঝে মাঝেই বর্ধমান শহরের আড়ৎ থেকে মাছ কিনে নিয়ে আসা হয় আমাদের।আর বর্ধমান শহর আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় 17 কিলোমিটার দূরে।কিন্তু ট্রেন থাকার সুবাদে খুবই কম সময়ে যাতায়াত করা যায়।যাইহোক আড়ৎ থেকে বাজার করতে হলে বেশ সকালে যেতে হয়।তবেই টাটকা জিনিস পাওয়া যায়, মূলত আমরা যাই ভ্যারাইটি মাছ কেনার জন্য আড়ৎ থেকে।এখানে বেশ কম দামে মাছ কেনা যায় কিন্তু পরিমাণে অনেক বেশি কিনতে হয়।আসলে সব পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখান থেকেই মাছ কিনে নিয়ে ব্যবসা করে থাকে।
তো সকাল সকাল বাজার করার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম দাদা এবং আমি।তারপর অনেক ঘোরাঘুরি করলাম কিন্তু ভ্যারাইটি মাছ তেমন আসেনি।কারন আগের দিন কোনো একটা ধর্মীয় উৎসব থাকার জন্য মাছ খুবই কম এসেছে।তবে আমরা বাজারে গেলেই সেই তালিকায় চিংড়ি মাছ সর্বদাই থাকে 1-2 কিলো করে।এইবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি ,কিনে নিলাম 1.5 কিলো বড় চিংড়ি মাছ।আমাদের বাড়ীতে চিংড়ি খুবই খাওয়া হয়, আসলে সব রকম তরকারির সঙ্গে চিংড়ি দিলে দারুণ জমে।এরপর 2 কিলোর মতো তেলাপিয়া মাছ কিনে নিলাম অন্য মাছ পছন্দ না হওয়ায়।সবশেষে কিছু সামুদ্রিক মরুল্লা মাছ নিয়ে নিলাম 1 কিলো।বাড়িতে বিড়ালের জন্য হয়ে যাবে সঙ্গে আমরাও কিছু চচ্চড়ি করে খেয়ে নেব।এরপর মাছ বাজার থেকে চলে গেলাম সবজি বাজারে।
বাড়িতে কয়েক প্রকার সবজি রয়েছে তাই বেশি প্রকার সবজি নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না।কিছু আলু,পটল ও কাকরোল কিনে নিয়ে গুড়ের দোকানে ভিড় জমালাম।বাবা বেশ গুড় খেতে পছন্দ করে তাই আখের গুড় কিনে নিলাম এক কিলো।এরপর এক কিলো ছোলা, এক কিলো কাঁচা বাদাম এবং কয়েক প্যাকেট ছোলার গণেশ ছাতু কিনে নিলাম।গণেশ ছাতু খুবই ভালো, এটা শরীরের জন্য বেশ উপকারী।তবে আমার তেমন ছাতু পছন্দ নয়,দাদা-ই খেয়ে থাকে জলের সঙ্গে মিশিয়ে।আর সকালে খালি পেটে ভেজানো কাঁচা ছোলা-বাদাম খেলে খুবই শক্তি হয় শরীরে।এছাড়া হজমের সমস্যাও দূর হয়ে যায়।আমি তো মাঝে মাঝেই ছোলা ভুনা কিংবা বাদামের সঙ্গে ভেজে খেয়ে নিই।
তবে বাজারে অনেক সামুদ্রিক কাঁকড়া এসেছিলো।আগের বার কাঁকড়াগুলির শাস খুবই কম হয়েছিল তাই আর কাঁকড়া নিই নি।এছাড়া শংকর মাছ অর্থাৎ শাপলাপাতা মাছ এসেছিলো বাজারে অনেক।কিন্তু মাছগুলো দেখেই মায়া হচ্ছিলো,কেমন ছোট ছোট বাচ্চা এক কিলো কিংবা দুই কিলোর।কেউ কেউ কিনে নিয়ে যাচ্ছে, সম্ভবত ভাজা খাওয়ার জন্য।এত ছোট শাপলাপাতা মাছ আমরা কখনোই খায় নি।তবে শুনেছি এগুলি কেমন একটা গন্ধ লাগে এবং তেমন টেস্টি হয় না।এইজন্য আমরা সবসময় 30 কিলো কিংবা 1 মণের উপরের শাপলাপাতা মাছগুলো থেকে কেটে কেনার চেষ্টা করি।যেগুলো অত্যন্ত স্বাদের হয়ে থাকে।তো সব বাজার নিয়েই ট্রেনে চেপে তারপর দাদার সাইকেল করে বাড়ি ফিরে এলুম।।
পোষ্ট বিবরণ:
| শ্রেণী | জেনারেল রাইটিং |
|---|---|
| ডিভাইস | poco m2 |
| অভিবাদন্তে | @green015 |
| লোকেশন | বর্ধমান |
| আমার পরিচয় |
|---|
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
Thanks.
শাপলা পাতার মাছ অনেক বড় সাইজের হয়। যদিও কখনো খাওয়া হয়নি। তবে আমার কাছেও মনে হয় ছোটগুলো খেতে ভালো লাগবে না। প্রয়োজনীয় বাজার সদাই করেছেন জেনে ভালো লাগলো দিদি। আপনার দাদা এবং আপনি মিলে দুজনে সকাল সকাল বেরিয়ে পড়েছিলেন এবং বাজার করার অনুভূতি তুলে ধরেছেন এজন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি দিদি।
হ্যাঁ ভাইয়া, শাপলাপাতা মাছ ছোটটা খেতে ভালো লাগে না তবুও ইচ্ছা আছে খাওয়ার।ধন্যবাদ আপনাকে।
সকাল সকাল বাজার করার উদ্দেশ্যে আপনিও আপনার দাদা দুজন মিলে বেরিয়ে পড়লেন। বিভিন্ন রকমের মাছ কিনেছেন দেখছি। চিংড়ি মাছ আমার খুব পছন্দের মাছ আর মাছগুলো দেখতে অনেক টাটকা মনে হচ্ছে।গুড় , ছাতু,ছোলা ও পয়োজনীয় বাজার সদাই করেছেন জেনে ভালো লাগলো।অনেক ধন্যবাদ বাজার সদাই করার অনুভূতি তুলে ধরার জন্য।
সকালে বাজারে গেলে বেশ টাটকা মাছ পাওয়া যায় আপু,আর সেদিন আমরা কোনো বড় মাছ কিনি নাই যদিও।অন্য সময় অবশ্য কেনা হয়, ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনার দাদার সাথে বাজারে গিয়ে তো অনেক কিছুই কিনেছেন আপু। আমিও গতকাল বিকেলে ১ কেজি বড় চিংড়ি সহ কয়েক ধরনের মোট ৬ কেজি মাছ কিনেছিলাম। যাইহোক চিংড়ি মাছ বাসায় থাকলে বেশ সুবিধা হয়। কারণ চিংড়ি মাছ দিয়ে যেকোনো রেসিপি তৈরি করা যায়। আপনার মতো আমিও মাঝেমধ্যে ছোলা ভুনা খেয়ে থাকি। যাইহোক এতো সুন্দর অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।
আসলে ভাইয়া, সপ্তাহে যখনই মাছের বাজার করা হয় তখনই 4-5 কেজি ভ্যারাইটি মাছ কেনা হয়।আর চিংড়িটা সর্বদা রাখার চেষ্টা করি, ধন্যবাদ আপনার এত সুন্দর অনুভূতি শেয়ার করার জন্য।
বাজার করার খুব সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন আপনি। যেখানে বেশ কিছু কেনাকাটা করেছেন দেখলাম। বাড়িতে কয়েক প্রকার সবজি রয়েছে তাই বেশি কিছু না লাগলেও অনেক কিছু কিনেছেন দেখলাম। যাহোক কেনাকাটা খুব সুন্দর মুহূর্ত আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন দেখে ভালো লাগলো।
হ্যাঁ ভাইয়া, অনেক কিছু কিনেছিলাম।যদিও আমি সবজির ছবিগুলি তুলিনি,ধন্যবাদ আপনাকে।