গ্রাম ভ্রমন পর্ব ০২ || মুক্ত বাতাসে মন খুলে ঘুরে বেড়ানো।
"গ্রাম ভ্রমন পর্ব ০২"
"মুক্ত বাতাসে মন খুলে ঘুরে বেড়ানো"
সবার প্রতি সম্মান প্রদর্শন পূর্বক শুরু করছি। আশাকরি সবাই ভালো আছেন। সবাই মোটামুটি জানেন আমি কুমিল্লায় শশুড় বাড়ি বেড়াতে এসেছি এবং কিছুদিন অবস্থান করছি। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ বেশ ভালো তবে কয়েকদিন বেশ ঝড় বৃষ্টি ছিল। আজ থেকে কিছুটা ভালো আবহাওয়া বিরাজ করছে। আমি কয়েকদিন আগে আমার গ্রাম ভ্রমন পর্ব ০১ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করেছিলাম। আজ গ্রাম ভ্রমন পর্ব ০২ নিয়ে হাজির হলাম। আশাকরি আপনাদের ভালো লাগবে। তো চলুন শুরু করি গ্রাম ভ্রমন পর্ব ০২।
"গ্রাম ভ্রমন"
গ্রাম মানেই হচ্ছে প্রাকৃতিক সবুজে ঘেরা পরিবেশ। যেখানে শুধু চোখ জুড়ানো সবুজের দেখা মেলে। আমরা যারা শহুরে জীবনে হাপিয়ে উঠি তাদের জন্য একটু আনন্দ জোগাতে আসলে গ্রাম ভ্রমনের বিকল্প কিছু নেই। তাই আমি সুযোগ পেলেই সবুজ প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে চাই। আমি আমার সন্তানদের সবুজের দিকে তাকিয়ে থাকতে বলি সবসময়ই কারণ সবুজের মাঝে তাকিয়ে থাকলে চোখের য্যোতি বাড়ে। তাই ওদের নিয়ে সবুজের মাঝে হারিয়ে গেলাম আর হাটলাম বেশ কিছু সময়।
কিছুদূর হাটার পর সামনে দেখলাম ধান ক্ষেতের মাঝে একটি কাকতাড়ুয়া। যা দেখে ঈলমা ভীষণ খুশি হলো। সে প্রশ্ন করেই বললো বাবা ওটা কি? আমি বললাম বাবা ওটা কাকতাড়ুয়া। পরে ও বললো বাবা ওটা তো কেমন যেন মানুষের মতো দেখতে। আমি তাকে বুঝিয়ে বললাম। এটা দিয়ে কাক কিংবা ইঁদুরকে ভয় দেখিয়ে ফসল রক্ষা করা হয়। এবার ঈলমা বললো। বাহ্ দারুন তো। বাবা আমায় একটা কাকতাড়ুয়া বানিয়ে দেবে? আমি বললাম বাবা আমরা ওটা দিয়ে কি করবো বলো? ও বললো বাবা আমাদের ছাদে টাঙিয়ে রাখবো এতে চোর আসবেনা আমাদের বাসায়। আমরা হাসতে হাসতে শেষ 😄
এবার কিছু কুকুর আমাদের খেয়াল করছিল বারবার। মনে হচ্ছিল ওরা আমাদের বলছে আমাদের এলাকায় কেন এসেছো? যাক বেশ কিছু সময় আমাদের পিছনে ঘুর ঘুর করে অবশেষে আমাদের পথ ছেড়ে দেয়।
গ্রামে এলে সারি সারি কলা গাছ দেখতে পাওয়া যায়। সবথেকে যেটা ভালো লাগে তা হলে গাছে কলা ঝুলে রয়েছে দেখতে সবথেকে বেশি ভালো লাগে আমার। মনে হয় কলা পাকলে গাছ থেকে টান দিয়ে নিয়ে খেতে পারলে আনন্দ হতো বেশি।
ইউক্লিপটাস গাছের সারি। এ গাছটি বেশ সুউচ্চ হয়ে থাকে। কিছু কিছু গাছ তো অনেক বড় হয়ে থাকে। আমরা বেশ কিছু ইউক্লিপটাস গাছ দেখতে পেলাম। গ্রামের মানুষ এই গাছগুলো একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য লাগিয়ে পরবর্তিতে টাকার জন্য বিক্রি করে দেয়। এর কাঠ বেশ দামী বলেই আমি জানি।
গত কয়েকদিনের ঝড় বৃষ্টিতে কৃষকের ধান শুয়ে পরেছে। আসলে এই সময়টিতে ঝড় বৃষ্টি বেশি হলে ফসলের বেশ ক্ষতি হয়। এদিকে বেশ অনেক ক্ষেতের ধান শুয়ে পরতে দেখেছি। এই ফসলগুলো যার সে নিশ্চয়ই ভীষণ কষ্ট পেয়েছে।
সবুজের মাঝে হারিয়ে যাওয়ার সময় আমাদের একটি ছবি। আসলে সবুজের মাঝে এলাম ঘুরতে আর ছবি তোলা হবেনা তা কি হতে পারে। তাই মনের ইচ্ছে মতো সবার ছবি তুললাম আর ঈলমা যে কি খুশি কি বলবো। মেয়েটার আনন্দ দেখে সত্যিই ভালো লাগছিল।
মা মুরগি তার বাচ্চাদের তা দিচ্ছে। এটা গ্রাম বাংলার বেশ কমন একটি চিত্র হলেও আমাদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। আমি বেশ কাছ থেকে মুরগির ছবি তুলতে চাইছিলাম। আমি যতই ক্যামেরা কাছে নিয়ে যাচ্ছিলাম মুরগিটি বেশ গজগজ করছিল। একটা সময় পর মনে হচ্ছিল এই বুঝি লাফ দিয়ে এসে আমাকে ঠোকর দেবে 😄 তাই তাড়াতাড়ি মোবাইল নিয়ে কেটে পরলাম ওখান থেকে।
"নিজস্ব কিছু কথা"
দেখুন আমরা যারা শহরে বসবাস করি তাদের একটু সময় সুযোগ করে গ্রামে আমাদের আত্বীয় স্বজনের কাছে যাওয়া উচিত। এতে করে আমরা নিজেরাও কিছুদিন মানসিকভাবে একটু ভালো থাকতে পারবো আর গ্রামের মানুষজন ভীষণ খুশি হয়। তবে গ্রামে আরো একটি জিনিস রয়েছে তা হলো পোকামাকড়। আমরা পোকামাকড়ের উপদ্রবে মোটামুটি একটু হিমসিম খাচ্ছি😄 যাক আগামী পর্বে পোকা মাকড়ের উপদ্রবের উপর লিখবো ইনশাআল্লাহ। আজকের মতো বিদায় নিলাম।
| ছবি যন্ত্র | রিয়েলমি সি-২৫ |
|---|---|
| ছবির কারিগর | @emranhasan |
| ছবির অবস্থান | লাকসাম, কুমিল্লা |
গেলেন শ্বশুর বাড়ি দাওয়াত খেতে দিলে নাকি ভ্রমণ কাহিনী 😜😜 যাইহোক গ্রামের অনুভূতিগুলো আমাকে অনেক টানে। সত্যি শহরের এই যান্ত্রিক জীবনে আমি ভীষণ ক্লান্ত। ইট পাথরের দেয়াল আর ভালো লাগেনা। গ্রামের মুক্ত ও বিশুদ্ধ বাতাসে প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিতে চাই। পরিবারের সাথে গ্রামে কি আপনি দারুন সময় অতিবাহিত করছেন। ইলমা মামণির কাকতাড়ুয়ার বিষয়টি আমার খুব ভালো লেগেছে আপনি অবশ্যই তাকে বানিয়ে দেবেন। কুকুরের ছবিগুলো হয়তো দূর থেকে জুম করে তুলেছেন। কারণ বাচ্চাদের সাথে ছিল কাছে থেকে ছবি তোলাটা রিস্ক। যাইহোক খুব সুন্দর ফটোগ্রাফি মধ্য দিয়ে আপনি আপনার অনুভূতি গুলো আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। আপনার ঈদ আনন্দ শুভ হোক এই কামনা করি।
প্রথমেই বলি খাওয়ার একটি পোস্ট করেছি আগেই ঐটা দেখলে বুঝবেন কিভাবে খাচ্ছি 😄
আর আসলে আমি ঘুরতে ভীষণ পছন্দ করি আর তাই গ্রামের ভেতর ঘুরে বেড়িয়েছি একটু আনন্দের প্রত্যাশায়। আপনিও সবুজ পরিবেশ ভালোবাসেন জেনে খুশি হলাম 🤗
https://twitter.com/emranhasan1989/status/1522645965093879808?t=mQthVP9nMSL9e-dohWXuEQ&s=19
আর এজন্য প্রত্যেকটা গ্রামকে খুব পরিচিত মনে হয় আমার কাছে😍।আর কাকতাড়ুয়া দেখি শুয়ে পড়েছে বেচারা কতই আর দাড়িয়ে থেকে পাহারা দেয় হিবি।আর কিছুদিন আগে তো ঝড়ের সাথে বেশ পাথর পড়েছে আমাদের এইদিকে।এবার জমিতে ধান নেই বললেই চলে।
অনেক ধন্যবাদ ভাই ভীষণ চমৎকার মন্তব্যের জন্য।
সত্যিই গ্রাম বাংলার প্রতিটি গ্রাম একই মনে হয়।
সত্যি বলতে এ ধরনের পরিবেশ আমার ভীষণ ভালো লাগে।
খুব ভালো লাগলো ভাই আপনার গ্রাম ভ্রমণ পর্বটি ।আসলে এরকম গ্রামের পরিবেশে ঘুরতে মনটা ফ্রেশ হয়ে যায়।অন্য রকম একটা প্রশান্তি কাজ করে মনের ভিতর। আপনার গ্রামের ভ্রমণ আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে।খুব সুন্দর করে সবকিছু তুলে ধরেছেন আমাদের মাঝে।বিশেষ করে কাকতাড়ুয়া, মুরগির ছানা যা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ আপনাকে এরকম সুন্দর একটি মুহূর্ত আমাদের সাথে ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
ধন্যবাদ ভাই আমার গ্রাম ভ্রমণ পর্ব-০২ আপনার কাছে ভালো লেগেছে জেনে ভীষণ খুশি হলাম।
সত্যিই ভীষণ উপভোগ করেছি পুরো পরিবেশটা।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

Please check my new project, STEEM.NFT. Thank you!
বাংলাদেশের গ্রামের সৌন্দর্য সবকিছুকেই যেন হার মানায়। সবুজ শ্যামল শস্য দেখতে খুব সুন্দর লাগছে আর মায়ের কোলের নিচে মুরগিছানা যেন আপন ঠিকানায় অবস্থান করছে।
ঘোরাঘুরি করার পাশাপাশি সবুজ পরিবেশের মাঝে অনেক সুন্দর সময় পার করে সেগুলো আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
ধন্যবাদ ভাই ভীষণ চমৎকার মন্তব্যের জন্য।
সবুজ শ্যামল প্রকৃতি সত্যিই আমাদের মুগ্ধ করেছিল। আর মুরগি আর মুরগির ছানাগুলো সত্যিই সুন্দর ছিল।
শস্য-শ্যামল ফসল ভরা গ্রামের সুন্দর প্রকৃতি ও পরিবেশের ফটোগ্রাফি করেছেন, সত্যি দেখে খুবই ভালো লাগলো। গ্রামের সৌন্দর্যময় পরিবেশের ফটোগ্রাফি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ ভাই আমার ছবি এবং পোস্টটি আপনার ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম 🤗
আপনার শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে এসে গ্রাম বাংলার সৌন্দর্য গুলো পরিবারের সবাইকে নিয়ে দারুণভাবে উপভোগ করেছেন । আসলে গ্রাম মানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমাহার আমি যেহেতু গ্রামে থাকে সেহেতু গ্রামের সৌন্দর্য প্রতিনিয়তই উপভোগ করতে পারি । আপনার পোষ্টটি যতই পড়েছিলাম ততই যেন ভাল লাগছিল অনেক গুছিয়ে পোস্টটি আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ ভাই 🧡
আমার পোস্টটি আপনার কাছে ভালো লেগেছে জেনে ভীষণ খুশি হলাম 🤗
সত্যিই পরিবেশটা মনমুগ্ধকর।।।
ছোটবেলায় যখন নানু বাসায় যেতাম তখন দেখতাম নানির মুরগি ছিলো, তখন দেখতাম মুরগী এভাবে ডিমে তা দিচ্ছে। এখন আর নানীর মুরগি নেই তাই এরকম দৃশ্য দেখা হয়না। আজ অনেকদিন পর এরকম একটি দৃশ্য দেখলাম। গ্রামীন পরিবেশের দৃশ্য গুলো অনেক সুন্দর। আরভআপনি অনেক সুন্দর ভাবে দৃশ্যগুলো ক্যামেরাবন্দী করেছেন। ঈলমা মামনির খুশি হয়েছে শুনে ভালো লাগলো।
আপনাদের জন্য শুভ কামনা রইলো।
ধন্যবাদ আপু।
সত্যিই এখন এরকম অনেক জিনিস এখন আমরা আর দেখতে পাইনা। আমার সৌভাগ্য এবার গ্রামে এসে এবার সব দেখলাম আর বেশ উপভোগ করলাম।
ধন্যবাদ চমৎকার মন্তব্যের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত করার জন্য 🥀