কবিতা আবৃত্তি;( হঠাৎ দেখা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)।
আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।
আমি @emon42.
বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে
আশাকরি সবাই ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ্ আমি ভালো আছি। তবে ইদানিং একটা বিষয় নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছি। যাইহোক আশাকরি সেটা সৃষ্টিকর্তার কৃপায় দূর হয়ে যাবে। কবিতা অসাধারণ একটা জিনিস। যেটা একেবারে মনের সন্তুষ্ট এনে দিতে পারে। আজ আবার একটা কবিতা আবৃত্তি নিয়ে চলে আসলাম আপনাদের মাঝে। এটা আমার তিন নাম্বার কবিতা আবৃত্তি। আমি কিছুদিন হলো শুরু করেছি কবিতা আবৃত্তি। আশাকরি আপনাদের ভালো লাগবে। এই কবিতাটার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় সম্পর্কে আগে বলি। তখনও আমি এই কবিতা খুব একটা পড়ি না। টিভিতে মুভি দেখতে দেখছিলাম মুভিটার নাম ছিল প্রাক্তন। ভারতীয় বাংলা একটা মুভি। মুভিটাতে অভিনয় করেছেন কলকাতার সেরা দুইজন শিল্পী প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং ঋতুপর্ণা। যাইহোক ঐ মুভিতে ট্রেনের মধ্যের একটা দৃশ্যতে আমার পছন্দের একজন অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় একটা কবিতা পাঠ করেন।
রেলগাড়ির কামড়ায় হঠাৎ দেখা। প্রথমবার শুনেই কবিতা টা অসাধারণ লেগেছিল আমার কাছে। তখন আমি ভেবেছিলাম যে কবিতা টা হয়তো ঐ মুভির জন্যই লেখা। কিন্তু পরে গিয়ে জানতে পারি না ঐ কবিতা টা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা। এবং কবিতাটার নাম "হঠাৎ দেখা"। তারপর থেকে প্রায়ই কবিতা টা শুনতাম বেশ ভালো লাগত। তবে সত্যি বলতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এর কন্ঠে এই কবিতা টা শুনতে সবচাইতে বেশি ভালো লাগে আমার কাছে। যাইহোক আছ আমি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হঠাৎ দেখা কবিতা টা আবৃত্তি করার সাহস করেছি। আশাকরি আপনাদের ভালো লাগবে।
রেলগাড়ির কামরায় হঠাৎ দেখা,
ভাবি নি সম্ভব হবে কোনোদিন।
আগে ওকে বারবার দেখেছি
লালরঙের শাড়িতে
দালিম ফুলের মতো রাঙা;
আজ পরেছে কালো রেশমের কাপড়,
আঁচল তুলেছে মাথায়
দোলনচাঁপার মতো চিকনগৌর মুখখানি ঘিরে।
মনে হল, কালো রঙে একটা গভীর দূরত্ব
ঘনিয়ে নিয়েছে নিজের চার দিকে,
যে দূরত্ব সর্ষেখেতের শেষ সীমানায়
শালবনের নীলাঞ্জনে।
থমকে গেল আমার সমস্ত মনটা;
চেনা লোককে দেখলেম অচেনার গাম্ভীর্যে।
হঠাৎ খবরের কাগজ ফেলে দিয়ে
আমাকে করলে নমস্কার।
সমাজবিধির পথ গেল খুলে,
আলাপ করলেম শুরু --
কেমন আছ, কেমন চলছে সংসার
ইত্যাদি।
সে রইল জানলার বাইরের দিকে চেয়ে
যেন কাছের দিনের ছোঁয়াচ-পার-হওয়া চাহনিতে।
দিলে অত্যন্ত ছোটো দুটো-একটা জবাব,
কোনোটা বা দিলেই না।
বুঝিয়ে দিলে হাতের অস্থিরতায় --
কেন এ-সব কথা,
এর চেয়ে অনেক ভালো চুপ করে থাকা।
আমি ছিলেম অন্য বেঞ্চিতে
ওর সাথিদের সঙ্গে।
এক সময়ে আঙুল নেড়ে জানালে কাছে আসতে।
মনে হল কম সাহস নয়;
বসলুম ওর এক-বেঞ্চিতে।
গাড়ির আওয়াজের আড়ালে
বললে মৃদুস্বরে,
"কিছু মনে কোরো না,
সময় কোথা সময় নষ্ট করবার।
আমাকে নামতে হবে পরের স্টেশনেই;
দূরে যাবে তুমি,
দেখা হবে না আর কোনোদিনই।
তাই যে প্রশ্নটার জবাব এতকাল থেমে আছে,
শুনব তোমার মুখে।
সত্য করে বলবে তো?
আমি বললেম, "বলব।"
বাইরের আকাশের দিকে তাকিয়েই শুধোল,
"আমাদের গেছে যে দিন
একেবারেই কি গেছে,
কিছুই কি নেই বাকি।"
একটুকু রইলেম চুপ করে;
তারপর বললেম,
"রাতের সব তারাই আছে
দিনের আলোর গভীরে।"
খটকা লাগল, কী জানি বানিয়ে বললেম না কি।
ও বললে, "থাক্, এখন যাও ও দিকে।"
সবাই নেমে গেল পরের স্টেশনে;
আমি চললেম একা।
সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।
অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
আমি ইমন হোসেন। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি একজন ছাএ। তবে লেখাপড়া টা সিরিয়াসলি করি না হা হা। লেখালেখি টা বেশ পছন্দ করি। এবং আমি ফুটবল টা অনেক পছন্দ করি। আমার প্রিয় লেখক হলেন জীবনানন্দ দাস। আমি একটা জিনিস সবসময় বিশ্বাস করি মানিয়ে নিতে এবং মেনে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর।।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
প্রিয় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা হঠাৎ দেখা কবিতাটি আবৃতি করে আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। প্রাক্তন সিনেমা দেখে, কবিতাটি সম্পর্কে প্রথম জেনেছেন এবং আবৃতি করার সাহস দেখিয়েছেন। এজন্য ভালো লাগলো। আবৃতিটি একটু তাড়াহুড়া করে না বললে আরো ভালো লাগতো। আপনার চেষ্টা ও সাহসের জন্য সাধুবাদ। শুভ কামনা রইলো।
তোমার যে বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে আশাকরি তা খুব তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে যাবে। কবিতা আবৃত্তি একটা অসাধারণ প্রতিভা যা সবার মাঝে থাকে না। তুমি চমৎকার একটি কবিতা করে শোনালে, সত্যিই ভালো লাগলো তোমার কন্ঠে। আশাকরি পরবর্তী প্রচেষ্টা খুব তাড়াতাড়ি দেখবো আবার।