বার বার আসুক এমন মূহূর্ত!!
আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।
আমি @emon42.
বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে
বেশ কয়েক মাস আগে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দেখেছিলাম সেখানে লেখা ছিল " পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দর রাত, বৃহস্পতিবার রাত"। তখন আমি এটার গুরুত্ব এতোটাও বুঝিনি। কিন্তু আজ এই সময়ে এসে সেটা খুব ভালোভাবে বুঝতে পারছি। আমার চাকরি জীবনের তৃতীয় মাস চলছে। বৃহস্পতিবার রাতে সবচাইতে সুন্দর রাত কথাটা সত্যি ঠিক। শুক্রবার ছুটি ঘুম থেকে চিন্তা নেই অফিসে যাওয়ার চিন্তা নেই একটু রাত জেগে সময় টা উপভোগ করতেও বাঁধা নেই। সত্যি বলতে এখন আমি নিজেও চেয়ে থাকি কবে আসবে শুক্রবার। বৃহস্পতিবার রাতের সেই অনূভুতি সত্যি বলে বোঝানো সম্ভব না। আগষ্ট সবেমাএ শুরু হয়েছে। আগষ্টের প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশে চলছে প্রচণ্ড বৃষ্টি।
সারাদিন চলছে বৃষ্টি। এমন বৃষ্টি অনেকদিন দেখি না। দারুণ লাগছে পরিবেশ টা। বৃহস্পতিবার রাতের কথা হ্যাংআউট থেকে একটু আগেই বের হয়ে গিয়েছিলাম আমি। বাইরের দিকে একটু খেয়াল করতেই দেখলাম ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি হচ্ছে। আহ কী শান্তি কী একটা অসাধারণ অনূভুতি। তারপর রুমে চলে আসি। মোবাইল ইন্টারনেট নিয়ে ছিলাম। ঘুমিয়েছি যখন ঘড়িতে সময় তখন রাত ২ টা। শুক্রবার সকাল ঘুম থেকে দেরিতে উঠব এটা যেন চিরন্তন সত্য। মোটামুটি দশটার দিকে সোহেল ভাইয়া আমাকে ডাক দেয়। বলে ইমন উঠ অনেক বেলা হয়েছে উঠে নাস্তা করে নে। তখন আমার চাচাতো ভাইয়ের ছেলে এসে আমাকে বলল কাকু উঠ বাবা খেতে বলছে। আর ঘুমাতে পারলাম না।
ঘুম থেকে উঠেই দেখি আকাশ পুরো মেঘাচ্ছন্ন। প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছে। দেখে বুঝতে বাকি থাকল না সারা রাত ধরে চলেছে এমন বৃষ্টি। ফ্রেশ হয়ে দ্রুত খেয়ে নিলাম। বৃষ্টির সকালে সবজি খিচুড়ি এর সাথে কোনকিছুর তুলনা সত্যি হয় না। খাওয়া শেষ করে ব্যালকনিতে গিয়ে বসলাম। সঙ্গে ছিল বই। আমার অবসর সময়ের পুরোটাই কাটে এখন বইয়ের সঙ্গে। সত্যি বলতে স্যোসাল মিডিয়া যাওয়ার প্রবণতা টা আগের থেকে কমেছে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর বিখ্যাত উপন্যাস পদ্মা নদীর মাঝি শুরু করেছি তিনদিন হলো। কিন্তু খুব একটা সময় করে উঠতে পারি না। বাইরে ঝুম বৃষ্টি ঠান্ডা বাতাস আমার শরীরে একটা শিহরণ সৃষ্টি করছে। এবং আমি বসে বই পড়ছি। সত্যি এর চেয়ে ভালো অনূভুতি হয়তো আর হয় না।
এইভাবে বই পড়তে পড়তে যে কখন দুই ঘন্টা সময় অতিবাহিত করে ফেলেছি বুঝতেই পারিনি। ঐসময় আমার মনে হচ্ছিল আমি পৃথিবীর সবচাইতে সুখি মানুষ। এটা পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দর মূহূর্ত। সাধারণত এখন নিজের চাকরি লেখাপড়া নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়। তার উপর স্টিমিট আছে। এতো কিছুর পরে ইচ্ছা থাকলেও আর বই পড়ার বিশেষ সময় করে উঠতে পারি না। এইরকম বৃষ্টিমূখর শুক্রবার পেলে বই যেন আমাকে বার বার ডাকে। এখন মনে হয় ইস যদি কোন অর্থচিন্তা না থাকত কোন লক্ষ্য না থাকত কোন প্রতিযোগিতা না থাকত এভাবে বসে বসে বই পড়তাম। জানি না এমন সুন্দর মূহূর্ত আবার কবে পাব। হয়তো অনেক দিন অপেক্ষা করা লাগবে।
সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।
অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
আমি ইমন হোসেন। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি একজন ছাএ। তবে লেখাপড়া টা সিরিয়াসলি করি না হা হা। লেখালেখি টা বেশ পছন্দ করি। এবং আমি ফুটবল টা অনেক পছন্দ করি। আমার প্রিয় লেখক হলেন জীবনানন্দ দাস। আমি একটা জিনিস সবসময় বিশ্বাস করি মানিয়ে নিতে এবং মেনে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর।।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
বৃহস্পতিবার রাতের খুব সুন্দর বর্ণনা দিলেন আপনি ছুটির দিক দিয়ে বর্ণনা দিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার আমাদের ইসলামের দিক থেকে খুব পবিত্র একটা দিন এই দিনে মানুষ অনেকে এবাদত করেন। তাছাড়া আরো অনেক কিছু করে থাকেন। তাছাড়া ও আপনার এই সুন্দর দিনটিকে নিয়ে এত সুন্দর অনুভূতি আপনি লিখেছেন যা পড়ে ভালো লাগলো। বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রবেশ না করে বই পড়াটাই অনেক উত্তম। কারণ এত আজেবাজে ভিডিও দেখে মাথা নষ্ট হয়ে যায়।
মানুষের সবচেয়ে ভালো বন্ধু হচ্ছে বই- যা মানুষ কে অনেক কিছুই শেখায়। একে তো ছুটির দিন, তার উপর বৃষ্টি -খিচুড়ি আবার সাথে দারুণ সঙ্গী -বই! সব মিলিয়ে যদি নিজেকে সবচেয়ে সুখী মানুষ বলে মনে হয়, অবাক হওয়ার কিছু নেই। এমন আরোও অনেক দিন একই অনুভূতি তৈরি হোক আপনার মাঝে, সেই দোয়া রইলো।
বৃহস্পতিবার রাত সত্যিই কর্মব্যস্ত মানুষদের জন্য একটু হাঁফ ছেড়ে বাঁচার দিন। সবারই নিজস্ব আলাদা কিছু কাজ থাকে, কিছু শখের কিংবা সপ্তাহান্তের জন্য বরাদ্দ রাখার।
এখন বাংলার আবহাওয়ায় যে ঘনঘোর বর্ষা চলছে, তাতে মানিক বন্দোপাধ্যায়ের উপন্যাসের বই হাতে, আর তা যদি পদ্মা নদীর মাঝির মতো হয়, তাহলে তো কোন জুড়ি নেই।
যা হোক,পোস্টটি পড়ে ভালো লাগলো। আপনার জন্য শুভকামনা রইলো ।