পর যখন বেশি আপন হয়।
হ্যালো বন্ধুরা
মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি "আমার বাংলা ব্লগ"এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সকল সদস্যগণ,কেমন আছেন সবাই? আশাকরি আপনারা সকলেই ভালো আছেন,সুস্থ আছেন?পরম করুণাময় ঈশ্বরের অশেষ কৃপায় আমিও পরিবারের সবাইকে সাথে নিয়ে ভালো আছি সুস্থ আছি।
আমি @bristychaki,আমি একজন বাংলাদেশী। আমার বাংলা ব্লগ এর আমি একজন ভেরিফাইড ও নিয়মিত ইউজার।আমি বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলা থেকে আপনাদের সাথে যুক্ত আছি। প্রতিদিনের মতো আমি আজও নতুন একটি ব্লগ নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি।আমি প্রতিনিয়ত চেষ্টা করি পোস্টের ভিন্নতা আনার।আজ তারই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আবারও নতুন একটি পোস্ট শেয়ার করতে যাচ্ছি যা আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।
মানুষ সামাজিক জীব আর তাই মানুষ দলবদ্ধ হয়ে বাস করতে পছন্দ করে।সমাজে ভালো থাকতে হলে আমাদের উচিৎ প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যাবহার করা ।প্রতিবেশী হলো আমাদের সুখদুঃখের সঙ্গী।বিপদআপদে সবার আগে প্রতিবেশীরা আমাদের সাহায্য করে থাকেন।কথায় আছে নিজের একজন প্রতিবেশীর ক্ষতি করার অর্থ নিজের বিপদের দিনে একজন সাহায্যকারী নষ্ট করা৷আমি যতোদিন ধরে বাইরে আছি ততোদিন ধরে আমার আশেপাশের সবার সাথে মিলেমিশে চলতে পছন্দ করি আর এরজন্য সবার কাছ থেকে অনেক ভালোবাসা পেয়েছি এবং এখনো পাই।
@rituamin ভাবীকে আপনারা সকলেই কমবেশি চিনে থাকবেন উনি আমারদের কমিউনিটির একজন সন্মানিত ভেরিফাইড মেম্বার।আমি আর রিতু ভাবী অনেকদিন ধরে একসাথে বসবাস করছি।আর একবছর ধরে মুখোমুখি ফ্ল্যাটে বসবাস করার সুবাদে ভাবীর সাথে আমার খুবই ভালো সম্পর্কে গড়ে উঠেছে।আমরা কাজের চেয়ে গল্পই বেশি করতাম এরকম একটা অবস্থা।ভাবীর মধ্যে কোনো গোপনীয়তা ছিলো না আমারও তাই।আমাদের দুজনের যাইহোক না কেনো না বলা পর্যন্ত মনে হয় শান্তিই লাগতো না।
ভাবীর সাথে সারাদিনে একবার দেখা না হলে খুব খারাপ লাগতো আমার চেয়ে ভাবীর বেশি খারাপ লাগতো।আমার মেয়েরা মোটামুটি ভালোই বড় হয়ে গেছে আর ওরা দুজন আমার বান্ধবীর মতো তাই আমরা গল্প হাসিতামাশা করে দিন কাটাতে পারি।কিন্তু ভাবীর কথা বলার মতো তেমন কেউ ছিলো না আমি ছাড়া তাই ভাবীর ভালো থাকা কিছুটা হলেও আমার উপর নির্ভর করতো।আমি এটা বুঝতাম তাই চেষ্টা করতাম ভাবীকে সবসময়ই মেন্টাল সাপোর্ট দেওয়ার।
মেয়ের জন্য আমাকে নিজ এলাকা ছেড়ে বগুড়ায় আসার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিলো।আমি আগে থেকেই চিন্তা করেছি মেযেকে পারতপক্ষে কখনোই আলাদা রাখবো না যতদূর সম্ভব নিজের কাছে রেখেই পড়ানোর চেষ্টা করবো।তাই ওর ভর্তির সাথে সাথে আমাকেও বগুড়ায় আসতে হবে ভেবে আগেই বাসা নিয়েছি কলেজের পাশে যাতে করে পায়ে হেঁটে বাসা থেকে কলেজে যাওয়াআসা করতে পারে।
আমার বগুড়ায় আসার দিন যতোই ঘনিয়ে আসছিলো রিতু ভাবী ততোই কষ্ট পাচ্ছিলো।আমার আসার সাতদিন আগে থেকেই ভাবীর কান্নাকাটি শুরু হয়ে গেছিলো।আমি যখনি ভাবীর পাশে যাই ভাবী তখনই কান্নাকাটি শুরু করে দেয়।আমি ভাবীকে বলতাম ভাবী আপনি এভাবে কান্নাকাটি করবেন না তাহলে আমার খুব খারাপ লাগে। আমার আবার একটা সমস্যা তা হলো মনের মধ্যে যদি কোনো বিষয় নিয়ে একবার চিন্তা ঢুকে যায় তাহলে আমি অসুস্থ না হওয়া পর্যন্ত সেই চিন্তা মন থেকে বের হয় না।ভাবীর কান্নাকাটি দেখে খুবই খারাপ লাগতো কিন্তু নিজের মন কে শক্ত করে বোঝাতাম যে আমি একটা উদ্দেশ্য নিয়ে যাচ্ছি আমাকে কোনোভাবেই দূর্বল হওয়া যাবে না।
শেষের দিকে এমন অবস্থা হলো ভাবী সারাদিন কান্নাকাটি করতো বাড়ি থেকে তার বাবা মা শাশুড়ী যেই ফোন করুক না কেনো ভাবীসহ সবাই একসাথে কান্নাকাটি করতো কি যে একটা অবস্থা তা বলে বোঝানো যাবে না।ভাবীর ছোট ভাই রেদোয়ান যে কখনো আমার সাথে কথা বলতো না সে পর্যন্ত আমার সাথে কথা বলে কান্নাকাটি করতো আর আন্টির কান্নার কথা বলতো।আমি জীবনে অনেক জায়গায় থেকেছি অনেক জনের সাথে মিশেছি।সেখান থেকে চলে আসার সময় আমি খুবই কান্নাকাটি করতাম তারপর যখন দেখলাম এটাই আমার জীবন আজ এখানে তো কাল ওখানে তাই নিজে নিজে অনেক টা শক্ত হলাম তখন আর খুব একটা খারাপ লাগলেও কান্নাকাটি করতাম না।
এবার অনেক দিন পর ভাবীর কান্না দেখে সেই পুরোনো দিনের কথাগুলো মনে পড়ে যাচ্ছিলো।আসলে মাঝে মাঝে এমন কিছু মানুষ জীবনে আসে যারা আমরাদের রক্তের সম্পর্কের চেয়েও অনেক বেশি আপন মনে হয় যা নিজের চেয়েও অনেক বেশবকিছু মনে হয়।আমি ভাবীকে খুব ভারোবাসতাম কিন্তু হয়তো ভাবী আমার চেয়েও অনেক বেশি আমাকে ভালোবাসতো বা আপন ভেবেছিলো তাই তার আবেগ অনুভূতি গুলো সে কিছুতেই ধরে রাখতে পারছিলো না যা চোখের জল হয়ে বেড়িয়ে আসতো।
আমার জীবনের সাথে জড়িয়ে থাকা সকল ভালোবাসার মানুষ গুলো সবসময়ই ভালো থাকুক
ধন্যবাদ।
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আসলে দুনিয়াতে পর বলে কিছুই নাই। একসাথে চলাচল ওঠাবসা করলে পর মানুষ আপনের চেয়ে আপন হয়। আর আপন মানুষের সাথে ওঠা-বসা না থাকলে তারাই পর হয়ে যায়। তবে দারুণ একটি টাইটেল দিয়ে সুন্দর পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। যেখানে বেশ কিছু জানার ছিল।
রক্তের সম্পর্কের বাইরের মানুষ গুলো ই আসলে অনেক আপন হয়ে যায় পাশাপাশি থাকার কারনে।রিতু আপু একা মানুষ বলে আপনাকে অবলম্বন করে সুখ-দুঃখ গুলো ভাগ করে নিয়েছিল।তাই আপনার চলে যাওয়াটা তার জন্য বেদনাদায়ক হয়েছিল।একদিন আশাকরি আপু ও নিজেকে বুঝাতে পারবে।দুজন সব সময় যোগাযোগ রেখে চলবেন তবে আর কষ্ট লাগবে না।অনুভূতি গুলো পড়ে ভালো লাগলো। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে অনুভূতি গুলো শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ আপু ভাবী আমাকে অনেক বেশি আপন মনে করতো তাই সবকিছু ভুলে যাওয়াটা তার পক্ষে অনেকটাই কষ্টদায়ক।প্রতিদিন একবার হলেও তার সাথে কথা হয়।আমি ব্যস্ততার মধ্যে থাকি কিন্তু ভাবী কল করতে ভোলে না তাই কথা রোজ হয় দেখা হয় এভাবেই চলছে আশাকরি সবসময়ই এরকই থাকবো।ধন্যবাদ আপু।
আপনার লেখা পোস্ট পড়ে খুব ভালো লাগলো আমার। আসলে আমরা মিলেমিশে চলতে পারলে কত না সুন্দর মিলবন্ধন সৃষ্টি হয়। দুনিয়াটা দুদিনের। তাই আমাদের সবার উচিত সবার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলা। আর এখানে সার্থকতা রয়েছে।
আপন ভাবতে পারলেই দুনিয়ায় এমন অনেক মানুষ আছে রক্তের সম্পর্ক ছাড়াই আপন হয়ে যায়। আমিও দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকি৷ কত বন্ধুই তৈরি হয়ে গেছে। কত জায়গা বদলেছি বন্ধু ছেড়ে ছেড়ে। আগে খুব মন খারাপ হতো। এখন সবটাই অভ্যেস।
ঠিক বলেছেন দিদি। আমিও বিভিন্ন জায়গা ঘুরে ঘুরে অনেক মানুষ কে ভালোবেসে তাদের ছেড়ে অন্য জায়গায় গিয়ে আবারও নতুন করে শুরু করাটা অনেক কষ্টের ছিলো কিন্তু এখন এটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে।সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ দিদি।
রক্তের সম্পর্কে বাদেও এমন কিছু সম্পর্ক তৈরি হয় যেগুলো হয়তো রক্তের সম্পর্কের চেয়ে বেশি মূল্যবান মনে হয়ে ওঠে এবং এসব মানুষকে আমরা কখনই আমাদের জীবন থেকে হারাতে চাই না। রিতুআমিন আপুর কথা শুনে অনেক বেশি ভালো লাগলো, আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।
জ্বি আপু অনেক সময় রক্তের সম্পর্কের চেয়ে অন্য মানুষেরা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে আমাদের জীবনে।ধন্যবাদ আপু।
একটা মানুষ আপনার জন্য কান্নাকাটি করছে, তার মানে সেই মানুষটা নিঃসন্দেহে আপনাকে অনেক ভালোবাসে দিদি। আসলে পাশাপাশি থাকতে থাকতে এমন একটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায় যে, রক্তের সম্পর্কের থেকেও অনেক আপন মনে হয় সেই মানুষগুলোকে। যাইহোক, তারপরেও আমাদের বিভিন্ন জায়গায় থাকতে হয় তাই মায়া যত কম হয় তত ভালো। তাছাড়া অনেকদিন একসাথে থাকলে আসলে এই ব্যাপারটা হবেই।