ছোটবেলার সেই স্মৃতিময় রমজান।
♥️আসসালামুআলাইকুম♥️
আমি @bristy1, আমার বাংলা ব্লগ এর একজন সদস্য। আর আমার এই প্রিয় কমিউনিটির প্রিয় বন্ধুগণ, আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি৷সবার সুস্থতা কামনা করে আমার আজকের এই পোস্ট শুরু করলাম।
আজকে চিন্তা করলাম অনেকদিন জেনারেল রাইটিং লিখিনা।তাই আজকে একটি জেনারেল রাইটিং আপনাদের মাঝে শেয়ার করব। তবে কি বিষয় নিয়ে লিখব সেটাই মাথায় আসছিল না।তাই অনেকক্ষণ ভেবে চিন্তা করলাম যেহেতু রমজান মাস চলছে তাই রমজান মাসকে কেন্দ্র করে কিছু লিখি। তখন রমজান মাসের আগেকার যে আনন্দ ছিল সেটি এখন নেই এরকম একটি বিষয় মাথায় আসলো। আর এই বিষয়টি নির্ধারণ করলাম। তাই এ বিষয়ে আপনাদের সাথে কিছু আলোচনা করব তো কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাক।
আসলে ছোটবেলা থেকে রমজান মাসে একরকম দেখে আসছি। আর এখন বড় হওয়ার পর থেকে রমজান মাস অন্যরকম দেখতেছি।আসলে ছোটবেলা সবকিছুই ভালো ছিল সেটি এখন মনে হয়। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন রমজান মাসে অনেক শীত পড়তো।এই শীতের মধ্যে সেহরি খাওয়ার জন্য সবাই উঠতো। হাটু কাঁপা শীত তবুও, রোজা রাখবে যারা তারা উঠে ঠিকই খাওয়া-দাওয়া করত। ঠান্ডা পানিতে ওযু করে নামাজ পড়তো।
এরপর সারাদিন কাজের ফাঁকে ফাঁকে এবাদতে মগ্ন ছিল। আমার এখনো মনে আছে একদিন সেহরির সময় আমি ছোট থাকার কারণে আমাকে উঠায়নি। তবে আমার কানে শব্দ আসাতে সেহরি খাওয়ার সময় উঠে গিয়েছিলাম।উঠে যাওয়ার পরে আমাকে ভাত খেতে দিল, আর আমি অল্প স্বল্প করে ভাত খেয়ে নিলাম এরকম শীতের মধ্যে। এরপর তখন তো ফ্রিজ ছিল না এবং তখনকার সময় হিটারও ছিল না।
ভাত খাওয়া শেষে যখন পায়েস খেতে গেলাম তখন পুরো শরীরে কাপুনি ছুটে গেল,তখন এই রকম ঠান্ডা ছিল। আর এরকম ঠান্ডার মধ্যেই রমজান মাস অতিবাহিত হতো। অনেক সময় দেখতে পেতাম মা,দাদুরা সবাই তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে ছিল।তাদের দেখা দেখি আমি না পড়তে পারলেও তাদের পাশে বসতাম। আসলে সেই দিনগুলো এখন আর নেই।এখন খুব কম সংখ্যক মানুষই তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে।আর এটি মূলত রমজানের জন্য একদমই পারফেক্ট।
আর বর্তমানের সাথে মিলিয়ে দেখলে আগের মতো কিছুই নেই।সে সময় আমরা যখন ইফতার করতাম তখন খুব বেশি আনন্দ লাগতো।হয়তো এখনকার মত এত আইটেম ছিল না। খুব কম আইটেমের মধ্যে ইফতার করা হতো। কিন্তু আনন্দটা এখনকার চাইতে দশ গুণ বেশি ছিল। এখন একটা পর্যায়ে এসে দেখা যায় গরমের মধ্যে রমজান মাস অতিবাহিত হয়।আর মানুষ ইবাদতেও খুব একটা মগ্ন থাকে না।
এদিক থেকে খাওয়া-দাওয়ায় ও তৃপ্তি থাকে না। এখনকার সময়ে কতগুলো আইটেম ইফতারের সময় রাখা হয়। কিন্তু আসলে আনন্দ আগের মত নেই। তবুও এটা বলতে হয় প্রতিটি রোজাদারের জন্য ইফতারের সময় অনেক আনন্দের সময়। তবে হ্যাঁ এখনকার যে আনন্দ তখন আরো অনেক বেশি আনন্দ ছিল। আসলে কি আর করার কালের পরিবর্তনে শীতকাল থেকে ধীরে ধীরে গরমকালে পৌঁছে গেল।
তবে এই রমজান মাসের প্রথম দুটো রোজা দেখতে পেলাম কিছুটা শীতের মধ্যেই ছিল। এরপর থেকে আবার গরম শুরু হয়ে গেল। আশা করা যাচ্ছে আগামী রোজা আমরা শীতের মধ্যে পালন করতে পারবো। কারণ আরো বেশি গরমের মধ্যে আমরা অতিবাহিত করেছি, যেহেতু এ বছর দুটো রমজান আমরা একটু শীতের মধ্যে পেয়েছি, তাহলে আগামী রমজান আমরা আরো বেশি শীতের মধ্যে পাব।
যাইহোক আসলে ছোটবেলার ওই স্মৃতিগুলো মনে চলে আসলো। তাই ভাবলাম আপনাদের সাথে শেয়ার করে ফেলি। যদি আপনাদেরও এরকম কোন স্মৃতি থাকে সেটি অবশ্যই জানাতে ভুলবেন না কিন্তু। আজকে আর কথা না বাড়িয়ে এখানে বিদায় নিচ্ছি। আগামীতে ভিন্ন কোন স্মৃতিময় বিষয় নিয়ে আবার উপস্থিত হবো সে পর্যন্ত সবাই ভালো ও সুস্থ থাকবেন ধন্যবাদ।
সবাই অনেক অনেক ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন। সবার জন্য আন্তরিক ভালোবাসা রইল। সম্পূর্ণ পোস্টে আমার ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। |
|---|
♥️আল্লাহ হাফেজ♥️ |
|---|
মোবাইল ও পোস্টের বিবরণ
| ক্যামেরা | স্যামসাং গ্যালাক্সি |
|---|---|
| ধরণ | জেনারেল রাইটিং |
| ক্যামেরা.মডেল | জে৫ প্রাইম |
| ফটোগ্রাফার | @bristy1 |
| লোকেশন | ফেনী |
আমি তাহমিনা আক্তার বৃষ্টি। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি বাংলায় কথা বলি,আমি বাংলায় নিজের মনোভাব প্রকাশ করি। আমি নিজের মত করে সবকিছু করার চেষ্টা করি। আমি অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী। পড়ালেখার পাশাপাশি আমি বিভিন্ন জিনিস আঁকতে পছন্দ করি। বিভিন্ন ধরনের ছবি আঁকা, রঙ করা, নতুন নতুন কিছু তৈরি করা আমার পছন্দের কাজ। তবে রান্নাবান্না আমার ভালোলাগা, চেষ্টা করি সবসময় নিজে নতুনভাবে কিছু রান্না করার। ভ্রমণপ্রেমীদের মত আমিও ঘুরতে পছন্দ করি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
ছোটবেলার যেকোনো মুহূর্তগুলোই বেস্ট হয়ে থাকে। কারণ ছোটবেলার স্বাধীনতার অনুভূতি প্রত্যেকটা জিনিসের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যেত। যেমনটা আপনি রোজা থাকতে চাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও আপনার পরিবার থেকে বাধা দেয়া হতো কারণ বয়সটি ছিল খুবই কম। শীতকালীন সময়ে রোজা থাকা এবং রোজা শেষে ঈদের নামাজ আদায় করতে যাওয়া। পুকুরে গোসল করা ঠান্ডা পানিতে সেই মুহূর্তগুলো আমিও খুব মিস করি ভালো লাগলো।
আসলে আপু আপনি যে সময়ে তথা শীতকালীন সময়ের রোজা রাখার কথা বলছিলেন, আসলে আমার মনে হয় আমার ওই সময় জন্মই হয়নি। আমার পরিবার ও যথারীতি ইসলামিক বিধি-বিধান মেনে চলে। কিন্তু আমি যখন থেকে বুঝি তখন থেকেই রোজা রাখি এবং নামাজ পড়ি। শীতকালে আমি কখনো রোজা পাইনি। যেহেতু আপনি আমার থেকে অনেক বেশি সিনিয়র, তাই অবশ্যই আপনি এটি পেয়েছিলেন। কিন্তু এটা আশা করা যায় সামনে রমজান গুলো আমরা শীতের মধ্যেই পাব। আর আপনি ঠিকই বলেছেন আপু রোজাদারদের জন্য ইফতারের সময় খুবই আনন্দদায়ক। আসলে একটা সময় ছিল যখন রোজা ইফতার সেহরি সব বিষয়গুলো একদম আনন্দে উৎফুল্ল ছিল ছোট সময়ে। কিন্তু এখন বড় হওয়ার সাথে সাথে সব যেন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। যাইহোক আপু ছোটবেলার দারুন একটি স্মৃতিময় দিক আজকে আপনি আপনার লেখার মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। তার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
শীতকালে রমজান আমরা ও অতিবাহিত করেছি এবং সে সময় অনেক মজা হত। তবে এটা ঠিক সে সময় যদিও ইফতার আইটেম কম ছিল কিন্তু আনন্দ ভরপুর ছিল। আর এখন ইফতার আইটেম অনেক বেশি হয়,কিন্তু আগের মতো সেই আনন্দ পাওয়া যায় না। অনেক ধন্যবাদ চমৎকার একটি বিষয় শেয়ার করার জন্য ভালো থেকো।
আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন রমজান মাস শীতের সময় হতো আর এই সময় ঈদের নামাজের জন্য গোসল করতে বেশ ভয় লাগতো। গায়ের ঠান্ডা কাটানোর জন্য পুকুরে লাফ দিতাম। কারণ গায়ে পানির ঢালতে হয় লাগবে। যাইহোক এবার রমজানের দুইটা দিন শিত পেয়েছি। বিস্তারিত আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন দেখে খুব ভালো লাগলো।
আসলে আপু শৈশবের স্মৃতি গুলো সব সময় মধুর হয় আপনার পোস্ট পড়ে সেই শৈশবে ফিরে গিয়েছিলাম কিছু সময়ের জন্য। সত্যি আপু আগের দিনে ইফতারে এত কিছু ছিল না কিন্তু আনন্দ ছিল অনেক। ধন্যবাদ আপু পোস্টটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আসলেই আপু, রোজার মাসে যদি গরম পড়ে যায় তাহলে সেটা অবশ্যই যথেষ্ট কষ্টের রোজাদারদের জন্য। আপনার এই পোস্ট পড়ে বুঝতে পারলাম, আপনি যখন ছোট ছিলেন তখন রোজার মাসটা খুব সুন্দর এবং আনন্দের সাথে কাটাতেন। তবে এটা সত্যি কথা যে, সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের আনন্দ গুলোও কেন জানিনা দিন দিন গায়েব হয়ে যাচ্ছে। হয়তো আমাদের কাঁধে থাকা দায়িত্ববোধ কিংবা বাহ্যিক কিছু টেনশন, সেই আনন্দ গুলো নষ্ট করে দেওয়ার জন্য দায়ী।