শৈশবের ফেলা আসা দিনগুলির স্মৃতি - "বিষাদময় এক সকাল।"
♥️আসসালামুআলাইকুম♥️
আমি @bristy1, আমার বাংলা ব্লগ এর একজন সদস্য। আর আমার এই প্রিয় কমিউনিটির প্রিয় বন্ধুগণ, আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি৷সবার সুস্থতা কামনা করেই আজকের পোস্টটি শুরু করতে যাচ্ছি।
source
দাদার একটা পোস্টে পড়েছিলাম শৈশবের স্মৃতিগুলোকে সবার মাঝে তুলে ধরার বিষয়ে।সেখানে তিনি নিজের এক মধুর মুহূর্ত সবার মাঝে তুলে ধরেছিলেন। খুব ভালো লেগেছিল সেটা পড়ে।আর তাই ভাবলাম আজ আমি আমার শৈশবের একটা মুহূর্ত শেয়ার করি। যদিও আমার আবছা মনে আছে,কিন্তু আমি সেটা শুনেছি আমার আম্মুর কাছে।
বয়স মনে হয় আড়াই বছর হবে,তখন চট্টগ্রামেই থাকতাম।বাসায় অসুস্থ দাদু,আব্বু আম্মু আর আমি ছিলাম।যাদের বাসায় ছিলাম তাদের এক মেয়ের নাম ছিল রূপা।তখন আমি ঐ রূপা আন্টির কাছে যেতাম।আমরা থাকতাম গ্রাউন্ড ফ্লোরে আর তারা দোতলায় থাকতো।যাইহোক আমি নাকি প্রায়ই সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতাম হামাগুড়ি দিয়ে।প্রায় প্রতিদিন দরজা খোলা পেলেই আমি তাড়াতাড়ি করেই বাইরে বেরিয়ে সিড়ি বেয়ে উঠতে চাইতাম।তখন আম্মু দেখলে নিয়ে আসতো আর না দেখলে উপরে উঠেই সেই রূপা আন্টির কাছে চলে যেতাম। উনিও বেশ আদর করতেন আমায়।
যাইহোক এবার আসি মূল কথায়।যদিও এরপরে সম্পূর্ণ কথাটা আমার আম্মুর কাছ থেকে শুনেছি। তবে সেই ছোট্ট বয়সের কথাটাও যে মনে ছিল বা এখনো আছে সেটাই ভাবি। একদিন দরজা খোলা পেয়ে আমি বেরিয়ে পড়লাম সিড়িতে উঠবো। তখন আমি অর্ধেক পর্যন্ত উঠলাম,উপরের দিকে তাকিয়েই দেখি রক্তাক্ত অবস্থা,একজনের হাতে দা আর অন্যজন বোরকা পরে কি যে কান্নাকাটি। সবাই মিলে চিৎকার চেঁচামেচি করছিলো। আর ইতোমধ্যেই আমার আম্মু আমায় খুঁজতে গিয়ে দেখে আমি সেই অর্ধেক সিড়িতে উঠেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাদের কর্মকান্ড দেখছি আর মুখে ২আঙ্গুল দিয়েই রয়েছি, আবার ঝগড়া দেখে হাসছি।আমার আম্মু বলছিলো আমি নাকি হাসতে হাসতে আবার সেখানে বসে গেছি,তাদের ঝগড়া দেখে হয়তো আমার মনে হয়েছিল তারা খেলা করছে, হাহাহাহা।
তবে পরে যখন কিছুটা বড় হলাম তখন মাঝে মাঝেই আমার ঐদিনের কথা মনে পড়তো,ঐ লোকটা নাম ছিল জিদান, তার হাতে অনেক লম্বা আকারের দা ছিল আর মহিলাটি কান্না করছিল খুব,সাথে উচ্চস্বরে ঝগড়া করছিলো।আমি যদিও তখন হাসছিলাম কারণ তখন তো আমার কোনো বুঝ-জ্ঞান হয়নি।ছোট্ট একটা বাচ্চা মেয়ে আমি তখন।পরে শুনলাম সেদিন নাকি মা আর ছেলে ঝগড়া করেছিলো।মা প্রতিনিয়তই ঝগড়াঝাঁটি করে সকলের সাথে, ছেলের সাথেও নাকি বিভিন্ন রকম ঝামেলা। আর তখন মা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবে দেখে ছেলে দা নিয়ে সব ভাঙতে লাগলো এবং সে নিজের হাতও কেটেছিল তাই সিড়িতে রক্ত ছিল। পরে বাসার অন্যান্যরা এসে থামালো।কি জঘন্য একটা সময় ছিল সেটা,আমার মাঝে মাঝেই চোখে ভাসে সেই ঘটনাটা।
তবে আমার যখন সেই কথাটা মনে পড়ে তখন আমি চোখের সামনেই যেন সেটা দেখতে পাই।সেই দোতলায় তাদের ঘরের অবস্থান,বোরকা পরা মহিলা আর দা হাতে লোকটা। এখনো লিখতে লিখতে যেন তাদেরকে দেখছি, জানিনা কেনইবা এত্ত ছোট্ট বয়সের স্মৃতি আমার এখনো মনে আছে।তবে এমন আরো কিছু ঘটনা আছে সেই ছোট্ট বেলার যেগুলো আবছা আবছা মনে আছে। কিছু আনন্দের সাথে বেদনাময়ও।তবে আমার এই শৈশবের ছোট মুহূর্তটা আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে পেরেছি শুধুমাত্র @rme দাদার অনুপ্রেরণায়।কারণ তিনিও ইতোমধ্যেই শৈশবের স্মৃতি নিয়ে সিরিজ শুরু করে দিয়েছেন।আমিও চেষ্টা করব আমার স্মৃতিময় মুহূর্তগুলো শেয়ার করার জন্য।আজকের মত এখানেই শেষ করছি।
সবাই অনেক অনেক ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন। সবার জন্য আন্তরিক ভালোবাসা রইল। সম্পূর্ণ পোস্টে আমার ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। |
|---|
♥️আল্লাহ হাফেজ♥️ |
|---|
মোবাইল ও পোস্টের বিবরণ
| ক্যামেরা | স্যামসাং গ্যালাক্সি |
|---|---|
| ধরণ | শৈশব স্মৃতি |
| ক্যামেরা.মডেল | জে৫ প্রাইম |
| ফটোগ্রাফার | @bristy1 |
| লোকেশন | ফেনী |
আমি তাহমিনা আক্তার বৃষ্টি। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি বাংলায় কথা বলি,আমি বাংলায় নিজের মনোভাব প্রকাশ করি। আমি নিজের মত করে সবকিছু করার চেষ্টা করি। আমি অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী। পড়ালেখার পাশাপাশি আমি বিভিন্ন জিনিস আঁকতে পছন্দ করি। বিভিন্ন ধরনের ছবি আঁকা, রঙ করা, নতুন নতুন কিছু তৈরি করা আমার পছন্দের কাজ। তবে রান্নাবান্না আমার ভালোলাগা, চেষ্টা করি সবসময় নিজে নতুনভাবে কিছু রান্না করার। ভ্রমণপ্রেমীদের মত আমিও ঘুরতে পছন্দ করি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে,।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
🌹🌹🌱🌱
শৈশবের স্মৃতিময় স্মৃতি লিখতে গিয়ে বেশ করুন একটি ঘটনা সুন্দর করে আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। ঘটনাটি শুনে তো আমারই গা শিউরে উঠছে। আর আপনি নাকি হাসছিলেন। আর হাসবেন নাই বে কেন তখন তো আপনি অনেক ছোট একটি মেয়ে । যাই হোক অপেক্ষায় রইলাম আর ও এমন গল্প শোনার জন্য।
পুরো পোস্ট পড়ে মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ আপু।,
আসলে আপু শৈশবের স্মৃতি লেখে শেষ করা যায় না। আপনার পোস্ট পড়ে অনেক ভালো লাগলো।সত্যি আপু ছোট বেলা এমন দৃশ্য দেখলে ভয় পাওয়ার কথা। আর আপনি বসে বসে হাসছিলেন। তাহলে তো আপনার অনেক সাহস ছিল মনে হচ্ছে। ধন্যবাদ আপু পোস্টটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ আপু পোস্টটি পড়ার জন্য।
আপু আপনি আপনার শৈশবের স্মৃতি নিয়ে দারুন একটি পোস্ট লিখে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। সত্যি বলতে শৈশবের স্মৃতি নিয়ে যদি পোস্ট লেখা যায় লিখে শেষ করা যাবে না। আসলে আপু এমন ঘটনা এখন প্রায় সমাজে ঘটে থাকে ঝগড়া শেষে হাসাহাসির বিষয়টি। ঘটনাটি আপনার অনেক ছোটবেলার ঘটনার পরবর্তীতে আপনি আপনার মায়ের কাছ থেকে আবারও শুনেছেন জেনে বেশ ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল ভাইয়া।
অনেক সুন্দর একটি গল্প আপু আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। আসলে এরকম ঝগড়াঝাঁটি প্রায় সমাজে হয়ে থাকে। ঝগড়াঝাঁটির পরে দেখা যাচ্ছে মানুষের এগুলো নিয়ে হাসাহাসি করছে। তবে আপনার ছোটবেলার কথাটা এখনো মনে আছে এটা ভেবে ভালো লাগলো। যদিও এটা আপনার মায়ের কাছ থেকে অনেকটাই শোনা।
শুভকামনা রইল আপনার জন্য।।
এতো ছোটবেলার ঘটনা যে আপনার এতোটুকু মনে আছে সেটাই অনেক। এমন ঝগড়াঝাটি বর্তমানে প্রায়ই হয়ে থাকে। আপনি তো তখন অনেক ছোট ছিলেন, তাই ভালোমন্দ বুঝার কথা না। তবে আপনার ব্রেন খুব তীক্ষ্ণ, এটা বলতেই হয়। তখনও কিন্তু আপনার বেশ সাহস ছিলো। যাইহোক ছোটবেলার স্মৃতি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপু। (সবাইকে এই জাতীয় পোস্টে মাইচাইল্ডহুড ট্যাগ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে আপু। তাহলে ট্রেন্ডিংয়ে যাবে।)
আগে জানতাম না ভাইয়া এখন থেকে করবো।